চোখ দিয়ে পানি পড়া সমস্যা, সমাধান আকুপ্রেসারে

0
150

সুন্দর সুস্থ চোখ কার না কাম্য? কিন্তু সেই চোখ হতে কান্না ব্যতিত অনবরত পানি পড়তে থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এই সমস্যা থেকে সহজেই তিন থেকে ছয় মাস আকুপ্রেসার করলে পানি পড়া বন্ধ হবে, দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকবে, চোখের কার্যক্ষমতা অটুট থাকবে।

চোখ দিয়ে পানি পড়ার কারণ
স্বাভাবিক চোখ সবসময় একটু ভেজা থাকে। অতিরিক্ত পানি চোখের ভেতরের কোনায় অবস্থিত নল (নেত্রনালী) দিয়ে নাকে চলে যায় এবং শোষিত হয়। কোন কারণে চোখে অতিরিক্ত পানি তৈরী হলে, অথবা নেত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে চোখের পানি উপচে পড়ে, একে লেক্রিমেশন বা এপিফোরা বলে। শিশুর জন্মের পর পর যদি নেত্রনালী বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত: এক বছরের মধ্যে আপনি আপনিই নেত্রনালী খুলে গিয়ে পানি পড়া ভাল হয়ে যায়।

তরুণ বয়সে নেত্রনালীর প্রদাহজনিত কারণে নেত্রনালী সরু হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এইক্ষেত্রে নেত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে পূঁজ জমতে পারে। চোখের ভেতরের কোনায় চাপ দিলে পানি ও পূঁজ বের হতে পারে। বয়স্ক লোকের নেত্রনালী বয়সজনীত পরিবর্তনের কারণে সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বয়সের কারণে চোখের চারদিকের মাংশপেশী দূর্বল হবার কারণেও নেত্রনালী অকার্যকর হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে।এছাড়াও নেত্রনালীর সমস্যা ছাড়াও চোখের এ্যালার্জী, চোখ ওঠা রোগ, গ্লুকোমা, কর্ণিয়ার ঘা, চোখের আঘাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোন বয়স চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। অতিরিক্ত সর্দি হলে নাকের প্রদাহের কারণে নেত্রনালীর ছিদ্র মুখ বন্ধ হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে।

করণীয়
শিশুদের ক্ষেত্রে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে চোখের কোনায় মালিশ এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পানি পড়া বন্ধ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোবিং সার্জারীর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ড্রপ, কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক / স্টেরইড এর মিশ্রন ব্যবহার করলে এ সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হয়।

চোখের আকুপ্রেসারের 
Accu-points-for-eyes-optচোখের আকুপ্রেসার করা খুবই সহজ, প্রথমে সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখের চারপাশ হাড়ের মধ্যে ঘড়ি ঘোরা অনুযায়ী আস্তে আস্তে চাপ দিতে থাকবেন, হাতের মধ্যে ক্রিম জাতীয় কিছু নিয়ে করলে আরাম পাবেন, এমন ভাবে চোখের চাপপাশ ঘুরিয়ে চাপ দিবেন যাতে হাড়ের মধ্যে একটু চাপ অনুভূত হয় পাঁচ মিনিট এপাশ ওপাশ করে ঘুরিয়ে নিন, প্রথম এই কাজটি সকালে এবং রাতে ঘুমাবার আছে করতে থাকুন।

Eye [Converted]দ্বিতীয়ত হাতের দুই আঙ্গুল মধ্যমা ও এনডেক্স এই দুআগুলের প্রথম কড়ার চারপাশ টিপতে থাকুন, দেখবে আপনি কোথাও একটা ব্যথা অনুভব করছেন, যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন সেটাই আপনার পিন পয়েন্ট, সেই ব্যথাটি আপনাকে কমাতে হবে, প্রতিদিন নিয়মিত দুবেলা পাঁচ মিনিট করে আকুপ্রেসার করুন।
আপনার চোখের অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে,  তিন থেকে ছ মাসের মধ্যে, যে সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে থাকে তার মধ্যে দূর দৃষ্টি জণিত সমস্যা, পানি পড়া সমস্যা, চোখের এলার্জি, চোখের প্রেসার (গ্লুকোম না) ছাড়াও ছানিপড়া প্রতিরোধ করে, চোখের উজ্জলতা বাড়ায়, চোখের রক্ত চলা্চল স্বাভাবিক রাখে, চোখে প্রশান্তি আনে।

আকুপেসার না করলে যে চিকিৎসা করতে হবে।

চোখে জমে থাকা পূঁজ চোখের কোনায় চাপ দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন। ওষুধে ভাল না হলে ‘ডিসিআর’ অপারেশনের মাধ্যমে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব। বেশী বয়স্কদের নেত্রনালী সংকুচিত হওয়ার কারণে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে ডিসিটি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে পূঁজ জমা বন্ধ হয়, কিন্তু পানি পড়া বন্ধ হয়না। যে সব বয়স্ক লোকের ছানিরোগ আছে, আবার তাদের যদি নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি ও পূঁজ পড়ে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ছানি অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শে বয়সভেদে ডিসিআর অথবা ডিসিটি অপারেশন করতে হবে, না হলে চোখের কোনায় জমে থাকা জীবানু ছানি অপারেশনের সময় চোখের ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ইনফেকশন করতে পারে। নেত্রনালী সমস্যা ব্যতিত অন্য কারণে পানি পড়লে সে কারণ চিহ্নিত করে ডাক্তারের পরামর্শে তার চিকিত্সা করাতে হবে।

এই অবস্থায় আপনার সিদ্ধান্ত আপনার কাছে, আপনি সহজ উপায়ে আকুপ্রেসার করে চোখ ঠিক রাখবেন নাকি অপারেশ এবং প্বার্শপ্রতিক্রিয়া যুক্ত ঔষধ ব্যবহার করে চোখের সমস্যা সমাধান করবেন ?

SHARE

LEAVE A REPLY