সব ভিগানই নিরামিষাশী, কিন্তু সব নিরামিষাশী ভিগান নন

সব ভিগানই নিরামিষাশী, কিন্তু সব নিরামিষাশী ভিগান নন

আমিষ আর নিরামিষ নিয়ে দ্বন্দ্ব যেন থামার নয়। যাঁরা কেবল শাকসবজি খেয়ে জীবন যাপন করেন, তাঁদের বলা হয় ভেজিটেরিয়ান। কিন্তু ‘ভিগান’ শব্দটির সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। আমিষ, নিরামিষের দ্বন্দ্বে ভিগান যুক্ত হয়েছে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে।
বিশ্বব্যাপী এখন ভিগান বা ভিগানিজম নতুন প্রজন্মের এক নতুন ট্রেন্ড। ১৯৪৪ সালে ডোনাল্ড ওয়াটসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ভিগান সোসাইটি। ২০১০ সালে জাতিসংঘ ভিগান ডায়েট নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে সাড়া ফেলে দেয়। তখন থেকেই ভিগান ডায়েট নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় মাতামাতি। বিশ্বে ভিগানিজম দিন দিন নিজের জায়গা শক্ত করে নিচ্ছে। প্রায়ই ভিগান আর ভেজিটেরিয়ানদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে কনফিউশান। দেখে নেওয়া যাক ভিগান ডায়েট ও ভেজিটেরিয়ানদের কথা।

ভিগান ডায়েট

ভিগানিজম এমন একটি জীবনধারা, যেখানে প্রাণী ও প্রাণিদেহের দ্বারা তৈরি সব খাবার ও ব্যবহার্য পণ্য বর্জন করা হয়। এককথায়, নিরামিষাশীরা যখন প্রাণিজাত সমস্ত খাবারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, তখন তাঁদের ভিগান বলে। মাছ-মাংস তো নয়ই, ভিগানরা ডিম, দুধ আর দুধের তৈরি কোনো খাবার, যেমন ছানা, দই, পনির, সন্দেশ, রসগোল্লা এসব কিছু চেখেও দেখেন না।

ভিগানরা কত প্রকার

দিন দিন ভিগানরাও বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়েছেন।
• হোল ফুড ভিগান। তাঁরা ফলমূল, শাকসবজি, শস্য, বাদাম ও বীজ–জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন।
• জাঙ্ক ফুড ভিগান। তাঁরা প্রক্রিয়াজাত ভিগান খাবার খান। যেমন: ভিগান মাংস, ফ্রোজেন ডিনার, নন–ডেয়ারি আইসক্রিমের মতো ডেজার্ট ইত্যাদি।
• র ফুড ভিগান। এই ব্যক্তিরা কেবল কাঁচা খাবার অথবা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিচের তাপমাত্রায় রান্না করা খাবার খান।
• লো ফ্যাট, র ফুড ভিগান। তাঁদের ডায়েটে বাদাম, অ্যাভোকাডো, নারকেলসহ উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার সীমিত রাখেন। এর বদলে ফলের ওপর নির্ভর করেন। তাই তাঁদের ‘ফ্রুটারিয়ানস’ও বলা হয়।

কীভাবে ভিগান ডায়েটে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে

ভিগান ডায়েটের ধারণাটি একেবারেই নতুন। ভিগানদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, লং-চেইন ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক না–ও থাকতে পারে। এটা এড়াতে তাঁরা দুধ, চা-কফি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। তার বদলে শোষণক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় বেশি করে ভিটামিন সি ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন। আয়রনের শোষণে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ভিটামিন সি। অঙ্কুরিত বীজ, উদ্ভিজ্জ দুধসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ভালো রাখেন তাঁরা।

ভিগানদের খাদ্যতালিকায় যা থাকে, যা থাকে না

প্রাণিজাত যেকোনো জিনিসই ভিগানদের খাদ্যতালিকায় থাকে না। মাংস, মাছ, শেলফিশ, ডিম, মধু, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কিছুই খান না ভিগানরা। তাঁরা প্রাণিজ প্রোটিন বর্জন করে কেবল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খান। ভিগানদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল, টফু, বাদাম, বীজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এমনকি প্রাণিজ দুধের বদলে, উদ্ভিদজাত দুধ এবং মধুর বদলে ম্যাপল সিরাপ খান তাঁরা। ভিগানরা প্রধানত তাঁদের খাদ্যতালিকা প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্যের ওপর ভিত্তি করে বানান।

ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানের মধ্যে পার্থক্য

ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানরা উভয়ই নিরামিষাশী হলেও, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। ভেজিটেরিয়ানরা মাছ-মাংস না খেলেও তাঁদের খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য, মধু, ডিম এবং বিভিন্ন প্রাণিজ দ্রব্য থাকে। এমনকি প্রাণী জাতীয় পণ্য, যেমন চামড়ার তৈরি জুতা অথবা জামাকাপড় প্রভৃতি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ভিগানরা তাঁদের জীবন থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রাণিজ দ্রব্য ও পণ্য বর্জন করেন। উল, চামড়া বা সিল্কের পোশাকও পরেন না তাঁরা।

ভিগানদের মতে, খাদ্য ও পণ্যের জন্য প্রাণী হত্যা করা অন্যায়। পশুসমাজের ওপর নির্মম অত্যাচার। এসবের ঘোরতর বিরোধী ভিগানরা। এককথায় বলা যায়, সব ভিগান ভেজিটেরিয়ান হলেও, সব ভেজিটেরিয়ান ভিগান নন। ভিগানরা আরও স্বকীয়।
অনেকের প্রশ্ন থাকে, তাহলে ভিগানরা আমিষের ঘাটতি পূরণ করেন কী করে? পৃথিবীতে ভিগানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে ভিগানরা প্রমাণ করছেন যে প্রাণিজ আমিষ ছাড়াও মানুষ ভালোভাবেই বাঁচতে পারে। সে সঙ্গে প্রাণী রক্ষা আন্দোলনটাও প্রাণ পায়। ভিগানরা মনে করেন, পৃথিবীতে সব প্রাণীর সমান অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশেও ভিগান আন্দোলন চলছে। দিন দিন এর সদস্যসংখ্যাও বাড়ছে।

লেখক: আলমগীর আলম, খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

আকুপ্রেশার করে লিভার ভালো রাখুন

আকুপ্রেশার করে লিভার ভালো রাখুন

মানুষের রক্তের মধ্যে কোয়াগুলেশন ফ্যাক্টর হিসেবে আছে অসংখ্য কেমিক্যালস, যা রক্তকে সঞ্চালন অব্যাহত রাখে। সব কটি কোয়াগুলেশন ফ্যাক্টর শুধু লিভার থেকে তৈরি হয়। রক্তের সঞ্চালন এবং জমাট বাঁধার ক্ষমতা একমাত্র লিভারের কার্যক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। আমরা যা কিছু খাই, সেই খাবারগুলো পরিপাকতন্ত্রে প্রাথমিক হজমের জন্য পিত্তরস অপরিহার্য। পিত্তরস ছাড়া খাদ্যবস্তু হজম সম্ভব নয়। এই পিত্তরস শুধু লিভার কোষ তৈরি করে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পর ফ্যাটি লিভারই এখন এ দেশে ক্রনিক লিভার ডিজিজের প্রধান কারণ। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের হার্ট ডিজিজ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেশি থাকে। তবে আমাদের দেশে অ্যাকিউট হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই, এ এবং বি ভাইরাস। এর মধ্যে পানি ও খাদ্যবাহিত আর তৃতীয়টি ছড়ায় মূলত রক্তের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রধানত শিশুদের জন্ডিসের কারণ, তবে যেকোনো বয়সের মানুষই হেপাটাইটিস ই ও বি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

লিভার ঠিক রাখার প্রধানত শর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি গ্রহণ, সেই সঙ্গে নিয়মিত আকুপ্রেশার করা হলে লিভার ভালো থাকবে, সেই সঙ্গে লিভারে আক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও সেরে যাবে। এই প্রচীন চিকিৎসা পদ্ধতি আকুপ্রেশারচর্চা নিজে নিজের চিকিৎসা করে জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

লিভার ঠিক রাখতে ও ফ্যাটি লিভার ঠিক করতে এই পয়েন্টগুলোতে আকুপ্রেশার করতে হবে।

আমাদের দেশে লিভারের যে রোগগুলো হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো:
• ফ্যাটি লিভার
• ভাইরাল হেপাটাইটিস (যা জন্ডিস নামে পরিচিত)
• লিভার সিরোসিস
• লিভার ক্যানসার
• লিভারের ফোড়া
• পিত্তথলির বা পিত্তনালির রোগ
• লিভারের জন্মগত ও মেটাবলিক রোগ ইত্যাদি
এই সব রোগ হলেও আজ আমরা শুধু ফ্যাটি লিভারের জন্য কীভাবে আকুপ্রেশার করব এবং সুস্থ মানুষ কী করে লিভারকে রোগমুক্ত রাখতে পারব, সেটাই জানানো হচ্ছে।

যেভাবে বুঝবেন ফ্যাটি লিভার হচ্ছে

• হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি সমস্যা হতে পারে
• লিভারে চর্বি জমলে স্বাভাবিক কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়
• খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, খাবারে অরুচি হয়
• দ্রুত ওজন কমা
• বমি বমি ভাব, বমিও হওয়া, খুব দুর্বল লাগা ও কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না
• কখনো কখনো বিলিরুবিন বেড়ে যায়
• ফ্যাটি লিভারের সব থেকে বড় লক্ষণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি কোমরের মাপ বেড়ে যায় তথা ভুঁড়ি বেড়ে যায়
• ফ্যাটি লিভার হলে মাথাব্যথা, মন খারাপ ও ডিপ্রেশন, আচমকা কাঁপুনিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়

ফ্যাটি লিভারের জন্য আকুপ্রেশার কীভাবে করবেন

ফ্যাটি লিভারের আকুপ্রেশার শুরু করতে হলে প্রথমে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো যে কারণে আপনি আক্রান্ত হয়েছেন, সেই ছিদ্রটা প্রথমে বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ খাদ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে। লিভারের বিভিন্ন রোগের খাবারের ব্যাপারে বিভিন্ন রকম বাছ-বিচার আর সতর্ক থাকা, এসব রোগীকে ভালো থাকতে যেমন অনেকখানি সাহায্য করে তেমনি অজ্ঞতা বা ভুল ধারণার কারণে অনেক সময়েই লিভারের রোগীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন। এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান খুবই জরুরি।

ডান হাতের এই পয়েন্ট লিভারের, এখানে চাপ দিন ১০০ বার করে।

ডান হাতের এই পয়েন্ট লিভারের, এখানে চাপ দিন ১০০ বার করে।

আকুপ্রেশার শুরু করার প্রথম ধাপটি হচ্ছে দুই হাতের তালুতে ঘষতে হবে দুই মিনিট, এমনভাবে ঘষতে হবে যেন দুই হাতের তালু গরম হয়ে যায়।

তারপর ডান হাতে কড়ে আঙুলের নিচের রেখা যে পয়েন্টটি দেখানো হয়েছে, তাতে প্রথম পয়েন্ট ১০০ বার করে চাপ দিন, চাপ এমনভাবে দেবেন যেন খুব বেশি জোরেও না আবার আস্তেও না। সঠিক স্থানে চাপ দিলে হাতের পয়েন্টে মৃদু ব্যথা অনুভূত হবে। তারপর আরেকটু নিচের পয়েন্ট চাপ দিন, এটা আমাদের গলব্লাডারের পয়েন্ট, গলব্লাডার লিভারের পরম বন্ধু, তাই লিভার সমস্যায় গলব্লাডারও ভালো রাখতে হবে।

লিভার ঠিক রাখার জন্য গলব্লাডার ঠিক করতে হলে এখানে ১০০ চাপ দিন।

লিভার ঠিক রাখার জন্য গলব্লাডার ঠিক করতে হলে এখানে ১০০ চাপ দিন।

এরপরে এর নিচে অ্যাপেন্ডিক্স পয়েন্টে ও ঠিক একইভাবে চাপ দিতে হবে। প্রতিটি পয়েন্টে ১০০ করে চাপ দিয়ে এবার স্টমাক পয়েন্ট লম্বালম্বিভাবে বুড়ো আঙুলের নিচের রেখা থেকে কবজির মাঝ বরাবর স্থানে চাপ দিতে হবে, এখানে লম্বালম্বিভাবে তিনটা স্থানে চাপ দিতে হবে, যাতে ওপর–নিচ থেকে মাঝেও একটি চাপ পড়ে। খেয়াল করবেন যে এখান আপনি তীব্র ব্যথা অনুভব করতে পারেন। যদি ব্যথা পান তাহলে বুঝতে হবে আপনার হজমে গন্ডগোল আছে।

এরপর আপনি বাঁ হাতের স্টমাক পয়েন্টে (প্রথম ছবিতে দেওয়া পয়েন্ট) চাপ দিন; এখানেও ১০০ বার করে চাপ দিন, এখানে চাপ শেষ হলেই কবজির নিচে পয়েন্ট দুই হাতেই একশবার করে করে চাপ দিন।

পেটের সমস্যা থাকলে এখানে চাপ দিলে পেটের সমস্যা কমবে।

পেটের সমস্যা থাকলে এখানে চাপ দিলে পেটের সমস্যা কমবে।

মনে রাখতে হবে সব কটি পয়েন্টেই ১০০ করে চাপ দিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেই আকুপ্রেশার করা উত্তম। তারপর রাতে শোয়ার আগে রাতের খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা পর আকুপ্রেশার করা উত্তম। সপ্তাহে ছয় দিন নিয়মিত আকুপ্রেশার করবেন, সপ্তাহে এক দিন বিরতি দেবেন। এভাবে এক মাস আকুপ্রেশার করেই দেখুন, এতে আপনি কী কী উপকার পান। নিয়মিত ও সঠিক উপায়ে আকুপ্রেশার করা গেলে আপনি এই ফ্যাটি লিভারসংক্রান্ত সমস্যায় উপকার পাবেন।

লিম্ফ গ্রন্থি আমাদের শরীরে জমে থাকা বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে, এটাই লিম্ফ পয়েন্ট।

লিম্ফ গ্রন্থি আমাদের শরীরে জমে থাকা বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে, এটাই লিম্ফ পয়েন্ট।

ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী খাবেন না

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার প্রধান দিকটাই হচ্ছে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনা। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম করা এবং পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। শুধু যে রেড মিট যেমন খাসি বা গরুর মাংস, ডিমের কুসুম, চিংড়ি মাছ, পনির, মাখন, বিরিয়ানি ইত্যাদি হাই-ফ্যাট খাবার পরিহার করতে হবে তা–ই নয়, পাশাপাশি অতিরিক্ত শর্করা যেমন ভাতের ব্যাপারেও খুব সাবধান থাকতে হবে।

কারণ, অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার খেলে তা লিভারে গিয়ে চর্বি হিসেবেই জমা হতে থাকে। একইভাবে সাবধান থাকতে হবে বাইরের খাবার, প্যাকেট খাবার, ফাস্ট ফুড এবং জাঙ্ক ফুডের ব্যাপারেও। পাশ্চাত্যের মতো ফাস্ট ফুড কালচারের ব্যাপক প্রসারের ফলে এ দেশেও এখন বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি, শিশুদের অবিসিটি বেড়ে গেছে।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

প্রথম আলোয় প্রকাশিত: আকুপ্রেসার করে লিভারকে ভালো রাখুন

প্রতিদিন যতটুকু লবণ গ্রহণ করা উচিত

প্রতিদিন যতটুকু লবণ গ্রহণ করা উচিত

রান্নায় লবণ কম হলে যেমন খাওয়া যায় না, তেমনই লবণ বেশি হলেও মুখে তোলা দায়। কম বা বেশি লবণ খাবারের স্বাদ একেবারেই নষ্ট করে দেয়, আবার পরিমাণমতো লবণ সেই খাবারকেই সুস্বাদু করে তোলে। লবণের মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড, আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, আমাদের শরীরে ঠিক কতটা লবণের প্রয়োজন, আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দরুন না বুঝেই দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ গ্রহণ করে ফেলি। অত্যধিক লবণ শরীরে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা তৈরি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দৈনিক মাত্র পাঁচ গ্রাম লবণ গ্রহণ করার কথা বলছে। পাঁচ গ্রাম আসলে চা–চামচের সমান পরিমাণ।

লবণ নিয়ে আমাদের কেউ প্রশ্ন করলেই আমরা সাফ বলে দিই আমি লবণ খাই না! কিন্তু আমাদের খাদ্যাভ্যাসই হচ্ছে লবণনির্ভর। ভাত, তরকারি, ডাল, শাক, মাছ, মাংস, ভর্তা সবকিছুতেই লবণ আধিক্য। এমনকি আমরা সালাদ, কাঁচা ফল লবণ দিয়ে খাই। সকালে নাশতা, বিকেলের নাশতা রুটি, পুরি, সমুচা, শিঙাড়া, বড়া, নুডলস সুপ সবই লবণে তৈরি। সব মিলিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন থেকে দুই থেকে তিন গুণ খেয়ে থাকি।

একটি পরিবারের চারজনের মাসে ১ কেজির বেশি লবণ লাগে অর্থাৎ প্রতিজন ২৫০-৩০০ গ্রাম, দৈনিক হিসাবে ৯-১০ গ্রাম লবণ গ্রহণ করি, যা গাইডলাইন থেকে দ্বিগুণ। আর যদি সপ্তাহান্তে পোলাও, বিরিয়ানি, হালিম, নুডলস খেয়ে থাকি, তাহলে লবণ গ্রহণের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এটা অতি সাধারণ চিত্র আমাদের সব পরিবারে। আর ফাস্ট ফুডে লবণের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। লবণের ভালো–মন্দ, লবণের গুণাগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমরা সবাই কি জানি? লবণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি অপরিহার্য অংশ।

লবণ ছাড়া প্রায় প্রতিটি খাবারই অসম্পূর্ণ, লবণ যে শরীরকে শুধু হাইড্রেটেড রাখে তা নয়, থাইরয়েড গ্রন্থি যাতে সঠিকভাবে কাজ করে, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, শুধু তা–ই নয়. ব্লাডপ্রেশার কম থাকলে বা শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে লবণ বিশেষভাবে সাহায্য করে। এমনকি লবণের মাধ্যমেই শরীরে আয়োডিনের চাহিদা পূরণ হয়, দেহের মোট তরলের পরিমাণ, অ্যাসিড ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য এবং সাধারণ কোষের কার্যকারিতা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

লবণ খাবার নয়! এর রন্ধন সম্পর্কিত ব্যবহারের আর কোনো ন্যায়সঙ্গতা নেই। পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, বেরিয়াম ক্লোরাইডের চেয়ে বেশি বা ড্রাগজিস্টের অন্য কোনো রাসায়নিক। শরীরের দ্বারা লবণ হজম করা যায় না, লবণের নেই পুষ্টির মূল্য! লবণের কোনো ভিটামিন নেই, জৈব খনিজ নেই! পরিবর্তে, এটি ক্ষতিকারক এবং এতে সমস্যা সৃষ্টি করে কিডনি, মূত্রাশয়, হার্ট, ধমনি, শিরা ও রক্তনালিগুলো।

লবণে জলাবদ্ধ হয়ে টিস্যুগুলোর ফোলা ভাব এবং এডিমা সৃষ্টি করে। লবণ গুরুতর চিকিৎসা সমস্যা সৃষ্টি করে এবং হার্টের বিষ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটা স্নায়ুতন্ত্রকেও জ্বালাতন করে। লবণ শরীর, হাড় ইত্যাদি থেকে ক্যালসিয়াম ছিনিয়ে নেওয়ার কাজ করে এবং শ্লেষ্মা আক্রমণ করে শরীরজুড়ে আস্তরণ তৈরি করে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে নানা ধরনের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন: হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড, স্নায়ুর সমস্যা, কিডনি সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মানুষ বুঝে ওঠার আগেই অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, ইদানীং লক্ষ করবেন যে আমাদের আশপাশে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগী তো ঘরে ঘরে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়ে।
দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ কমানো উচিত কেন? অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ, মূলত লবণের মাধ্যমে এবং অপর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী।

গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দৈনিক পাঁচ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতির ঝুঁকি কমায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বেশির ভাগ মানুষই প্রতিদিন গড়ে ৯-১২ গ্রাম লবণ গ্রহণ করে, যদি বিশ্বব্যাপী লবণ গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়, তাহলে বছরে আনুমানিক ২৫ লাখ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

নতুন গাইডলাইন কেন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী লবণ গ্রহণের পরিমাণ ৩০ শতাংশ হ্রাস করার জন্য বলা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার প্রতিদিনের সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ দ্রুত বাড়াচ্ছে। এই নতুন গাইডলাইন, সব দেশের বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোতে সোডিয়াম হ্রাস করার জন্য নির্দেশিকা দেবে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন, দ্রুত নগরায়ণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলো খাদ্যতালিকা রূপান্তরে সহায়তা করছে।

বিশ্বজুড়ে মানুষ বেশি পরিমাণে শক্তি-ঘন খাবার গ্রহণ করে, যা স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের পরিমাণ বেশি। লবণ সোডিয়ামের প্রাথমিক উৎস এবং সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত এবং কিডনি, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

খাদ্যতালিকায় লবণ বেশি আছে এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ না করার জন্য বলা হয়েছে। কারণ, সেগুলোতে বিশেষত লবণ বেশি থাকে (যেমন প্রস্তুত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বেকন, হ্যাম ও সালামি, পনির, নোনতা খাবার এবং ইনস্ট্রান নুডলস, বড় পরিমাণে প্রায়ই খাওয়া হয়, রুটি ও প্রক্রিয়াজাত সিরিয়াল পণ্য। রান্নার সময় টেবিলে সয়া সস, ফিশ সস ও টেবিল লবণ।

কৌশল করে লবণ গ্রহণের মাত্রা কমানো যেতে পারে, বিশেষ করে সকালে নাশতা যদি ফল দিয়ে করা যায়, সে ক্ষেত্রে কমে গেল, দ্বিতীয়ত, দুপুরে ও রাতে যদি খাওয়ার সঙ্গে অর্ধেক সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করা যায়, তাহলে লবণ কমে যাবে। তাতে শরীর ভালো থাকবে এবং লবণের দ্বারা যে ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা–ও কমে আসবে।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ।

প্রথম আলো লিংক: প্রতিদিন যতটুকু লবণ গ্রহণ করা উচিত

হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

বিবিএসের জরিপ, করোনার চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি মৃত্যু হয় হৃদ্‌রোগে। আমাদের সবার মধ্যে একটা উপলব্ধি কাজ করে এমন যে করোনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু পারসেপশন সব সময় সঠিক হয় না। করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে হৃদ্‌রোগে। আপনি কতটুকু সচেতন, আপনি কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন? যদি ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে হয়, তাহলে কী করবেন? সাধারণ হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। হৃদ্‌রোগে বিকল্প চিকিৎসা আকুপ্রেশার এখন বেশ সাড়া ফেলেছে। আপনি আপনার হাত চেপে জেনে নিতে পারবেন, আপনি হৃদ্‌রোগের কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে যদি কোনো উপসর্গ না–ও থাকে।

করোনারি হৃদ্‌রোগ কী

করোনারি হৃদ্‌রোগ (সিএইচডি) করোনারি ধমনির মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে বা পাতলা হয়ে যায়, সাধারণত যা অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের দ্বারা সৃষ্ট। ধমনির অভ্যন্তরীণ দেয়ালে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে যায়, তাকে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস (ধমনির ‘শক্ত হয়ে যাওয়া’ বা ‘ক্লগিং’ নামেও পরিচিত) বলা হয়ে থাকে। এই চর্বি ধমনিতে রক্ত চলাচলের গতি কমিয়ে দিয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস হৃৎপিণ্ডে পৌঁছাতে পারে না। এ কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে। যদি হৃৎপিণ্ডের একটি পেশিতে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, অথবা শরীর থেকে যে পরিমাণ শক্তি হৃৎপিণ্ডে যাওয়ার কথা, সেগুলো না গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

সাধারণভাবে হার্ট–সংক্রান্ত যেকোনো অসুখকেই হৃদ্‌রোগ বলা হয়ে থাকে। যেটাকে এখন বর্তমান সভ্যতার রোগ বলা হয়। এ রোগের কয়েকটি ধাপ আছে, তেমনি আলাদা নামও রয়েছে, যেমন করোনারি হৃদ্‌রোগ, কার্ডিও মায়োপ্যাথি, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদ্‌রোগ, হার্ট ফেইলিউর, হৃৎপিণ্ডের ডান পাশ অচল হয়ে যাওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হওয়া, ভালভুলার ডিজিজ ইত্যাদি হার্টের অসুখের মধ্যে পড়ে।

মানুষের হৃৎপিণ্ডের মধ্যে করোনারি আর্টারি নামে দুটি ছোট ধমনি থাকে। এই ধমনিই হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে বা হৃৎপিণ্ডকে পুষ্টির জোগান দেয়। কোনো কারণে এই করোনারি আর্টারি যদি ব্লক হয়ে যায়, তাহলে যে এলাকায় ওই আর্টারি বা ধমনি রক্তের পুষ্টি পৌঁছে দিতে পারে না, সেই জায়গার হৃদ্‌পেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সমস্যা যেকোনো সময় যে কারও হতে পারে। কাজ করতে করতে, ঘুমের ঘোরে সকাল-রাতে যেকোনো সময় হতে পারে। হঠাৎ ভারী কোনো কাজ করলে, বাইরে ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকলেও এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যাগুলো নিঃশব্দে দানা বাঁধে।

হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে, তখন যে লক্ষণ থাকে

সাধারণভাবে হার্টের অসুখ থাকলে বুকে অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। সেই সঙ্গে ঘাম হয় এবং শরীর খারাপ ও অস্বস্তি লাগে। ক্রমাগত শরীর খারাপ করতে থাকলে হার্টের অসুখ হতে পারে। হার্টের করোনারি আর্টারি বা ধমনি ব্লকেজ থাকলে মানুষের শরীরে নানা সমস্যা হয়। বুকে ব্যথা, ঘাম, নিশ্বাসে কষ্ট, মাথা ধরা—এসব লক্ষণ দেখলে বোঝা যায়, রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হাতে-পায়ে ঝিনঝিনও করতে পারে। মূলত রক্তে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের (ভালো) মাত্রা কমে গেলে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়।

এমন সমস্যা হলে আপনি নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন। সেই সঙ্গে খাদ্য ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ফেলুন। তাতে আপনার সমস্যাগুলো আস্তে আস্তে দূর হবে এবং সেই সঙ্গে উপসর্গগুলো থাকবে না।

কীভাবে আকুপ্রেশার শুরু করবেন

হার্টের যে সমস্যাই হোক, আপনি আকুপ্রেশার শুরু করার আগে আপনার জীবনধারায় একটু পরিবর্তন আনার চেষ্ট করুন। বিশেষ করে খাদ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে। আপনার খাবার হবে ফল ও সবুজ শাকসবজিনির্ভর। সেই সঙ্গে দানাদার শস্য ও বাদাম খেতে পারবেন। তারপর প্রতিদিন সকালে ২০ থেকে ২৫ মিনিট আকুপ্রেশার করবেন।

আকুপ্রেশার শুরু করার প্রথম নিয়ম হচ্ছে আপনি আপনার দুই হাত ঘষুন। দুই মিনিট এমনভাবে হাতের তালু ঘষবেন, যেন হাত লাল ও গরম হয়ে ওঠে। তারপর ছবিতে দেওয়া পয়েন্টেগুলোর প্রতিটিতে ১০০ বার করে আকুপ্রেশার করুন। হার্টের পয়েন্টগুলো মূলত আমাদের হাতের বাঁ হাতে হয়ে থাকে। আকুপ্রেশার করার জন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আপনার বাঁ হাত ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন।

ছবি– ৪ ক্যাপশন:
বাঁ হাতের সাতটি স্থানে ও ডান হাতের চারটি স্থানে আকুপ্রেশার করবেন। প্রেশার হবে খুব হালকাও না বেশি জোরেও না। আপনি যখন আঙুল দিয়ে বাঁ হাতের পয়েন্টগুলোতে চাপ দেবেন, তখন আপনি হালকা ব্যথা অনুভব করবেন। যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন, সেখানেই আপনার পিনপয়েন্ট। প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই খালি পেটে আকুপ্রেশার করতে হবে। সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন, আর এক দিন বিরত থাকুন।

সব কটি পয়েন্টে আপনি এক সপ্তাহ আকুপ্রেশার করলেই টের পাবেন, আপনার শরীরে কিছুটা পরির্বতন আসছে, বিশেষ করে বুকটা হালকা লাগবে, শ্বাস ফেলতে তেমন কষ্ট হবে না, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যে কষ্ট হতো, তা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকবে। এই নিয়ম তিন মাস করা উচিত। যাঁরা অসুস্থ আছেন, তাঁরাই যে আকুপ্রেশার করবেন, তেমনটি নয়; বরং আপনিও হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন।

হার্ট ভালো রাখার জন্য খাবারের মধ্যে আমাদের মৌসুমি ফল অনেক ভালো। সেই সঙ্গে আপেল আর নিয়মিত কলা, পেঁপে খেয়ে শরীরকে সচল রাখা জরুরি। বিশেষ করে সারা দিনে আপনার খাবারে তেল ও লবণের পরিমাণ কমানো আবশ্যক। এ জন্য ফল ও কাঁচা সবজির সালাদ হতে পারে আদর্শ খাবার।

হার্টের সমস্যাগুলো শরীরে ধীরে ধীরে জন্মালেও অ্যাটাক হয় খুব দ্রুত। এ কারণে মানুষের বিপদ বেড়ে যায়। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় আপনি আকুপ্রেশার করে আপনার পরিবারকে বিপদমুক্ত রাখতে পারবেন।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

ছবি: লেখক

Prothom Alo link: হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

আমজনতার আম

আমজনতার আম

কাঁচা বা পাকা দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো। কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, আম সব বয়সী মানুষের শরীরের জন্য ভালো। আমের আঁশে কিছু উপাদান, যেমন ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম। এ ছাড়া আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোয়েডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে; আছে বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিড, যেমন টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড। ভিটামিন এ, প্রোটিনসহ আরও অন্যান্য উপাদানও থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি এ ছাড়া ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে।

কাঁচা আমের গুণ

• বাইরে তীব্র রোদের ঝাঁজের সঙ্গে গা-পোড়ানো গরম, এ সময় কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত বানিয়ে খেলে সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি।
• যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ ফল কাঁচা আম। পাকা মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সহায়তা করে।
• বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যা, ঢেকুর ওঠা থেকে কাঁচা আম মুক্তি দিতে পারে; অম্লতা কমাতে কাঁচা আমের এক টুকরো মুখে দিতে পারেন।
• ঘুম থেকে সকালে উঠে বমি বমি ভাব হয়; বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বাদের। এ সমস্যা দূর করতে পারে কাঁচা আম এই অস্বস্তি কমাবে।
• লিভারজনিত সমস্যা প্রাকৃতিক বন্ধু কাঁচা আম। কাঁচা আম চিবিয়ে খেলে পিত্তরস বৃদ্ধি পায়। এতে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ রোধে কাজ করে।

• রক্তের আয়রন ঘাটতি পূরণে কাঁচা আম ভালো, রক্তাল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী।
• খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম এবং পাকা আম অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়।
• শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে।
• কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
• কাঁচা আম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি জোগায়, যা স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায়। আয়ুর্বেদ মতে, আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী। এ ছাড়া নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে।
• কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।

পাকা আমের গুণ

পাকা আম ত্বক সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
• পাকা আমের আঁশ ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে এনজাইম আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
• আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোয়েডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে, যা ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।
• বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• আমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখে। আমাদের শরীরকে সতেজ রাখে, যার কারণে আম খেলে ঘুম পায়, ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি আম খেলে ঘুমের সমস্যা দূর হবে।
• মৌসুমে প্রতিদিন আম খেলে শরীরে ভিটামিন এ-এর চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশ পূরণ হবে, যা চোখের জন্য খুবই উপকারী, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

• আমে প্রচুর পরিমাণে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড আছে, যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে, শরীরে লিপিড ঠিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
• পাকা আমের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো মারাত্মক ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
• পাকা আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখে ও রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণ করে।
• পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে দেয়।
• আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, সেই সঙ্গে আরও আছে ফাইবার, যা সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল, কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

কোন সময় খেলে ভালো

মানুষ আম খাওয়ার জন্য রাতকে বেছে নেয়; অথচ ওটাই আম খাওয়ার খারাপ সময়। সকাল থেকে বিকেল—যেকোনো সময় আম খাওয়া যায়। আম সলিড খাবার ভাত-রুটি খাওয়ার আগে খেতে পারলে ভালো। জুস খেলে পরেও খাওয়া যাবে। তবে কাঁচা আম কোনো অবস্থায় দুপুরের পর খাওয়া ঠিক না।

সতর্কতা

কথায় আছে, অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে ও পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হজম সমস্যায় আকুপ্রেশার

হজম সমস্যায় আকুপ্রেশার

পেটের সমস্যা শুরু হয় মূলত অতি ভোজন, ভুল ভোজন ও কম ভোজনের কারণে। মূল খাদ্য গ্রহণের নানা অনিয়ম, একটার পর আরেকটা খাওয়া, একসঙ্গে অনেক রকম খাওয়া, দ্রুত খাওয়া, টক-মিষ্টি একসঙ্গে খাওয়া, খাওয়ার সঙ্গে পানি পান করা, কম চিবিয়ে খাওয়া এবং যে খাদ্য যখন খাওয়া নিষেধ তখন তা খাওয়ার জন্য পেটের সমস্যা শুরু হতে থাকে। প্রধানত, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত অ্যাসিড পাকস্থলীর মিউকোসার পর্দা নষ্ট করে পাকস্থলীর সংস্পর্শে আসে এবং প্রদাহ তৈরি করতে পারে। আর হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াও মিকোসাল পর্দা নষ্ট করে দেয়।

এ কারণে অ্যাসিড পাকস্থলীর সংস্পর্শে এসে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া কারও পৌষ্টিকতন্ত্র থেকে যদি বেশি পরিমাণে অ্যাসিড ও প্রোটিন পরিপাককারী একধরনের এনজাইম (পেপসিন নামে পরিচিত) নিঃসৃত হতে থাকে, তবে এটি হতে পারে। আবার জন্মগতভাবে কারও পৌষ্টিকতন্ত্রের গঠনগত কাঠামো দুর্বল থাকে, তাহলেও পেপটিক আলসারসহ পেটের হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

আমাদের সমাজে মানুষ পেটের যেকোনো সমস্যাকেই গ্যাস্ট্রিক মনে করে। তবে পেপটিক আলসার এবং নন-আলসার ডিসপেপসিয়া নামে দুটি সমস্যা আছে, যেগুলোকেও অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বলে অভিহিত করে। এগুলো কেন হয় আর এ থেকে রেহাই কীভাবে পেতে হয়, তা না জেনে কেবল মুড়িমুড়কির মতো গ্যাসের ওষুধ খেলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদে টানা গ্যাস্ট্রিকের বড়ি খাওয়ার নানা জটিলতা আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যদি পাকস্থলীতে এই বিশেষ জীবাণু হেলিকোব্যাকটার পাইলোরির সংক্রমণ থাকে, তবে সাধারণ গ্যাসের ওষুধে সেটা পুরোপুরি সেরে যাবে না এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও মিটবে না।

পেটের হজমজনিত সমস্যার বিকল্প সমাধান হিসেবে আকুপ্রেশার বেশ কার্যকর একটি পদ্ধতি। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আসুন শিখে নিই পেটের সমস্যা জন্য কীভাবে আকুপ্রেশার করব!

আকুপ্রেশার প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করা উত্তম। সে জন্য ঘুম থেকে উঠে তিন গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ুন। তারপর আকুপ্রেশার করতে বসুন। প্রথমে দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষুন। এমনভাবে ঘষুন যেন তালু গরম হয়ে ওঠে। দুই মিনিট দুই হাতের তালু ঘষলেই যথেষ্ট গরম হয়ে ওঠে।

তারপর ছবিতে দেওয়া পয়েন্টে একবার চাপ দিন। প্রতিটি চাপের স্থায়ীত্ব হবে দুই সেকেন্ড। এভাবে একটি পয়েন্টে ১০০ বার করে চাপ দিন। খেয়াল করে দেখবেন, আপনি যেখানে চাপ দিয়ে ধরবেন, সেখানে ব্যথা অনুভূত হবে। আকুপ্রেশারের নিয়মই হচ্ছে যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন, সেটা আপনার জন্য পিনপয়েন্ট। নিয়মিত আকুপ্রেশার করলেই ব্যথা কমে আসবে। একসময় ব্যথাই থাকবে না। তখন সমস্যাও থাকবে না।
দ্বিতীয় ছবিতে দেওয়া চারটি পয়েন্টেই আকুপ্রেশার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চারটি পয়েন্টে এক, দুই, তিন গুনে ওপর থেকে নিচে নামুন। চারটি পয়েন্টে একবার করে চাপ দিয়ে এক চাপ হিসাবে কাউন্ট করুন। এই হিসাবে আপনি ১০০ বার করে চাপ দিন ঠিক আগের নিয়মেই।

সবার শেষে এই দুটো পয়েন্টে আগের নিয়মেই আকুপ্রেশার করে সকালের কাজটি শেষ করুন। দিনে দুবার আকুপ্রেশার করা যাবে। সকালে খালি পেটে আর রাতে ঘুমানোর আগে এবং খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর। এই নিয়মে সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন। একদিন বিরতি দিন। তারপর আবার শুরু করুন।
এক সপ্তাহেই আপনি উপকার পাওয়া শুরু করবেন। যাঁদের প্রচুর গ্যাসজনিত সমস্যা ছিল, তাঁদের গ্যাস হওয়ার প্রবণতা কমতে থাকবে। যাঁরা আইবিএস ও কনস্টিপেশনজনিত সমস্যায় আকুপ্রেশার করবেন, তাঁদের একটু সময় লাগবে। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যেই উপকার পাওয়া শুরু করবেন।

পেটের যেকোনো সমস্যা সমাধানে খাদ্যবিধি মানা জরুরি। প্রথমত, সকালে কুসুম গরম পানি ও লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সকালে নাশতায় তাজা মৌসুমি ফল থাকা জরুরি। তাতে পেটের অস্বস্তি ভাব কমতে শুরু করবে। দুপুর ও রাতে এক কাপ আদাজল হজমের জন্য উত্তম পথ্য। চা–কফি না খেয়ে আদাজল খাওয়া যেতে পারে।

পেট পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই ‘অনেক কিছু’ করে থাকেন। কিন্তু অনেক কিছু না করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি, বিশেষ করে ময়দাজাতীয় খাবার বর্জন করতে পারলে খুব দ্রুতই পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

লেখক: খাদ্য–পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন