আপনি কি অহেতুক ভয় পান? সহজেই ভয় দূর করার উপায় জেনে নিন।

আপনি কি অহেতুক ভয় পান? সহজেই ভয় দূর করার উপায় জেনে নিন।

ভয় দূর করার উপায় খুঁজতে গিয়ে আমরা কত কি-ই না করি। মানুষ হিসেবে আমাদের কোন না কোন ক্ষেত্রে কমতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্নার মতো ভয়ও আমাদের অতি প্রাকৃতিক একটি বিষয়। তবে কখনও কখনও আমরা অহেতুক ভয় পাই। আমার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে সহজে ভয় দূর করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। দুঃখজনক হলেও সত্য বেশিরভাগ মানুষই শুধু ঔষধ খোঁজে, যেকোন সমস্যায় তারা ঔষধের বাইরে কিছু চিন্তাও করতে পারে না। কিন্তু অহেতুক ভয় দূর করার সহজ উপায়ে কোন ঔষধই সত্যিকার অর্থে কাজ করে না।

Ankle Incline Slant Board (Plastic) | সায়েটিকা ও হিপ পেইন রিমুভার

ভয় দূর করার উপায়

ভয় দূর করার উপায়

আমি ন্যাচারোপ্যাথি ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ, তাই সহজ উপায়ে ভয় দূর করতে ন্যাচারোপ্যাথি ও আকুপ্রেসার পয়েন্ট নিয়েই আলোচনা করে থাকি। তবে আশার সংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার আকুপ্রেসার পয়েন্টে আকুুপ্রেসার করে সমাধান পেয়েছে এবং তারা আমাকে কখনও কল করে, কখনওবা এসএমএস করে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। আবার কেউ কেউ তো সরাসরি কমেন্ট করেই ধন্যবাদ জানাচ্ছে। সময়ের স্বল্পতায় সবার মন্তব্য আসলে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

আপনাদের যাদের অহেতুক ভয় পাওয়া জনিত সমস্যা রয়েছে, তারা আকুপ্রেসার ট্রাই করে দেখতে পারেন। আপনি যদি সঠিক উপায়ে আকুপ্রেসার করতে পারেন, আপনার অহেতুক ভয় পাওয়ার সমস্যা শতভাগ সমাধান হয়ে যাবে। আপনার অহেতুক ভয় পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নাই, নিয়মিত আকুপ্রেসার করুন এবং ভিডিওতে দেয়া আমার পরামর্শগুলো মেনে চলুন। আপনার ভয় সহজ উপায়েই দূর হয়ে যাবে।

সহজ উপায়ে ভয় দূর করার উপায় জেনে নিন (ভিডিও): https://youtu.be/JbImB43fjPI

কিডনি ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

কিডনি ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

বিজ্ঞাপন

কিডনি সমস্যার লক্ষণ

মানুষের শরীরে ৭০ শতাংশই পানি। ফলে কিডনি সমস্যা বোঝা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এই সমস্যার প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাই যখন আমরা টের পাই তখন অনেকের কিছুই করার থাকে না ডায়ালাইসিস ছাড়া। আর ডায়ালাইসিস কোনো চিকিৎসা নয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, বমি, পায়ে পানি আসা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিংবা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের মতো কোনো একটি সমস্যা দিয়ে কিডনি সমস্যার শুরুটা অনুমান করা হয়। অনেকেরই কোনো ধরনের উপসর্গ থাকে না, হঠাৎ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, পা ফুলে যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে এটা বেশি দেখা যায়। মনে রাখতে হবে, দেহের দুই কিডনিতে আছে ২০ লাখ ছাঁকনি যন্ত্র। ২৪ ঘণ্টায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে বের করে দেড় লিটার বর্জ্য। সেটাই আসলে মূত্র। আর এই ছাঁকনিতে সমস্যা হলেই রক্তে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। সেটাই অসুস্থতা।

কিডনি সমস্যা যাঁদের বেশি হতে পারে

কিডনির একটি প্রধান কাজ দেহের পানি ও খনিজের ভারসাম্য ঠিক রাখা, দুর্বল কিডনি তা করতে পারে না। তাই দেহে দেখা দেয় পানি ও খনিজের ভারসাম্যহীনতা। পানির তারতম্য হলে শরীর অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সঠিক উপায়ে পানি পান না করা, অতিরিক্ত পানি পান করা, লবণ বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, কোল্ডড্রিংকস খাওয়া, বিশেষ করে বোতলজাত নানান এনার্জি ড্রিংকসে আসক্তি ইত্যাদি।

তা ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘ দিনের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির প্রদাহ কিংবা মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো সমস্যা থাকলে কিডনির রোগ হতে পারে। অনেকের জন্মগত কিছু সমস্যার কারণেও এ রোগ দেখা দেয়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনির সমস্যা হতে পারে, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ, নানা ধরনের শক্তিবর্ধক ওষুধেও কিডনির সমস্যা হতে পারে। হঠাৎ তীব্র বমি বা পাতলা পায়খানা হলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যদি বমি বা পায়খানার সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ না করেন। অতিরিক্ত আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণের কারণেও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আকুপ্রেশার

কিডনি সমস্যা থাকুক বা না থাকুক, নিয়মিত আকুপ্রেশার করা যাবে। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, আবার অনেকের প্রস্রাব ঘন রঙের হয়ে থাকে, তাঁরা নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে এমন উপসর্গ থাকলেও তা দূর হবে। আর যাঁদের উপসর্গ নেই, তাঁদের কিডনি ভালো থাকবে।

কিডনির আকুপ্রেশার করার আগে দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষে নিন, দুই হাত এমনভাবে ঘষবেন, যেন দুই হাত গরম হয়ে ওঠে। তারপর ছবিতে দেখানো পয়েন্টে আকুপ্রেশার করুন। ছবিতে দেখানো পয়েন্টে একশবার চাপ দিন, চাপ এমন হবে যে আপনি যেন তালুতে একটু ব্যথা অনুভব করেন।

এখানে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে কিডনির ফিল্টার ভালো থাকবে; কারও শরীরে ইউরিয়া বেশি থাকলে সেটাও কমতে শুরু করবে

এখানে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে কিডনির ফিল্টার ভালো থাকবে; কারও শরীরে ইউরিয়া বেশি থাকলে সেটাও কমতে শুরু করবে

প্রথম পয়েন্টের ঠিক এক ইঞ্চি নিচের দিকে কিডনির পয়েন্ট, এই পয়েন্ট ঠিক বুড়ো আঙুলের শেষ ও মধ্যমা আঙুলের শেষে যেখানে মিশেছে। এখানেও একশবার করে চাপ দিন, এখানে চাপ দিলে অনেকেই ব্যথা অনুভব করতে পারেন, যাঁরা ব্যথা অনুভব করবেন, তাঁরা এক সপ্তাহ আকুপ্রেশার করলে হাতের ব্যথা কমে যাবে।

এই পয়েন্টটা কিডনির পয়েন্ট, যাঁদের সেরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল একটু বেশি, তাঁরা এখানে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে লেভেল ঠিক থাকবে বরং বাড়তি থাকলে কিছুটা কমবে

এই পয়েন্টটা কিডনির পয়েন্ট, যাঁদের সেরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল একটু বেশি, তাঁরা এখানে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে লেভেল ঠিক থাকবে বরং বাড়তি থাকলে কিছুটা কমবে

কিডনির সহযোগী পয়েন্ট হিসেবে লিম্ফ পয়েন্ট আকুপ্রেশার করা উত্তম, আমাদের শরীরে লিম্ফ সক্রিয় থাকলে কোষের বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে, তাই ছবিতে দেওয়া পয়েন্টে একশবার আকুপ্রেশার করুন, লক্ষ করুন প্রথমে যে পয়েন্টে আকুপ্রেশার করেছেন, তা মধ্যমা আঙুলের নিচে দ্বিতীয়টিও মধ্যমা আঙুল বরাবর এবং এই তৃতীয় পয়েন্টটা একই লাইনে নিচের দিকে নেমে আসবে।

এই পয়েন্টে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে শরীরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো থাকবে; শরীরে ফোড়া টিউমার থাকলে কমতে শুরু করবে

এই পয়েন্টে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে শরীরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো থাকবে; শরীরে ফোড়া টিউমার থাকলে কমতে শুরু করবে

আকুপ্রেশার প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে শোয়ার আগে করবেন। দুই হাতে তিনটি পয়েন্টে একশবার করে সপ্তাহে ছয় দিন করবেন। এক দিন বিরতি দিয়ে আবার শুরু করবেন। এতে ফল পাবেন।

আমাদের বর্তমান জীবনযাপনে কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে ভেজাল খাদ্য, প্যাকেটজাত লবণাক্ত খাবার আমাদের চারপাশে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। শুরু থেকে সচেতনভাবে জীবনযাপন করলে এই কিডনি সমস্যা জটিলতর পর্যায়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করা যায়। আজীবন সুস্থ থাকা যায় কিডনির রোগ নিয়েই। খাবারের বেলায় কিডনি রোগীকে সতর্ক থাকতে হয়।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যায় পানি, লবণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমিষজাতীয় খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, নির্ধারিত পরিমাণ মাছ, মাংস ও ডাল খেতে হয়, ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত কিছু ফল কম পরিমাণে খেতে বলা হয় এবং কারও ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে লাল মাংস, কলিজা, মগজ, সামুদ্রিক মাছ প্রভৃতি খাবার খেতে নিষেধ করা হয়। নিয়মিত শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। অন্য ব্যায়াম করতে না পারলেও অবশ্যই হাঁটুন রোজ।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে দরকার সুস্থ জীবনধারা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। কোনো পুষ্টি উপাদান বেশি গ্রহণ করা এবং পরিহার করার বিষয়ে নজর দিতে হয়। ৪০ বছর বয়সের পর কিডনির কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই একটু একটু করে কমতে থাকে। ব্যথার ওষুধ যতটা সম্ভব কম সেবন করা যায়, ততই কিডনির জন্য ভালো।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

Prothom Alo Link: কিডনি ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

সব ভিগানই নিরামিষাশী, কিন্তু সব নিরামিষাশী ভিগান নন

সব ভিগানই নিরামিষাশী, কিন্তু সব নিরামিষাশী ভিগান নন

আমিষ আর নিরামিষ নিয়ে দ্বন্দ্ব যেন থামার নয়। যাঁরা কেবল শাকসবজি খেয়ে জীবন যাপন করেন, তাঁদের বলা হয় ভেজিটেরিয়ান। কিন্তু ‘ভিগান’ শব্দটির সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। আমিষ, নিরামিষের দ্বন্দ্বে ভিগান যুক্ত হয়েছে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে।
বিশ্বব্যাপী এখন ভিগান বা ভিগানিজম নতুন প্রজন্মের এক নতুন ট্রেন্ড। ১৯৪৪ সালে ডোনাল্ড ওয়াটসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ভিগান সোসাইটি। ২০১০ সালে জাতিসংঘ ভিগান ডায়েট নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে সাড়া ফেলে দেয়। তখন থেকেই ভিগান ডায়েট নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় মাতামাতি। বিশ্বে ভিগানিজম দিন দিন নিজের জায়গা শক্ত করে নিচ্ছে। প্রায়ই ভিগান আর ভেজিটেরিয়ানদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে কনফিউশান। দেখে নেওয়া যাক ভিগান ডায়েট ও ভেজিটেরিয়ানদের কথা।

ভিগান ডায়েট

ভিগানিজম এমন একটি জীবনধারা, যেখানে প্রাণী ও প্রাণিদেহের দ্বারা তৈরি সব খাবার ও ব্যবহার্য পণ্য বর্জন করা হয়। এককথায়, নিরামিষাশীরা যখন প্রাণিজাত সমস্ত খাবারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, তখন তাঁদের ভিগান বলে। মাছ-মাংস তো নয়ই, ভিগানরা ডিম, দুধ আর দুধের তৈরি কোনো খাবার, যেমন ছানা, দই, পনির, সন্দেশ, রসগোল্লা এসব কিছু চেখেও দেখেন না।

ভিগানরা কত প্রকার

দিন দিন ভিগানরাও বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়েছেন।
• হোল ফুড ভিগান। তাঁরা ফলমূল, শাকসবজি, শস্য, বাদাম ও বীজ–জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন।
• জাঙ্ক ফুড ভিগান। তাঁরা প্রক্রিয়াজাত ভিগান খাবার খান। যেমন: ভিগান মাংস, ফ্রোজেন ডিনার, নন–ডেয়ারি আইসক্রিমের মতো ডেজার্ট ইত্যাদি।
• র ফুড ভিগান। এই ব্যক্তিরা কেবল কাঁচা খাবার অথবা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিচের তাপমাত্রায় রান্না করা খাবার খান।
• লো ফ্যাট, র ফুড ভিগান। তাঁদের ডায়েটে বাদাম, অ্যাভোকাডো, নারকেলসহ উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার সীমিত রাখেন। এর বদলে ফলের ওপর নির্ভর করেন। তাই তাঁদের ‘ফ্রুটারিয়ানস’ও বলা হয়।

কীভাবে ভিগান ডায়েটে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে

ভিগান ডায়েটের ধারণাটি একেবারেই নতুন। ভিগানদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, লং-চেইন ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক না–ও থাকতে পারে। এটা এড়াতে তাঁরা দুধ, চা-কফি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। তার বদলে শোষণক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় বেশি করে ভিটামিন সি ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন। আয়রনের শোষণে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ভিটামিন সি। অঙ্কুরিত বীজ, উদ্ভিজ্জ দুধসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ভালো রাখেন তাঁরা।

ভিগানদের খাদ্যতালিকায় যা থাকে, যা থাকে না

প্রাণিজাত যেকোনো জিনিসই ভিগানদের খাদ্যতালিকায় থাকে না। মাংস, মাছ, শেলফিশ, ডিম, মধু, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কিছুই খান না ভিগানরা। তাঁরা প্রাণিজ প্রোটিন বর্জন করে কেবল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খান। ভিগানদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল, টফু, বাদাম, বীজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এমনকি প্রাণিজ দুধের বদলে, উদ্ভিদজাত দুধ এবং মধুর বদলে ম্যাপল সিরাপ খান তাঁরা। ভিগানরা প্রধানত তাঁদের খাদ্যতালিকা প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্যের ওপর ভিত্তি করে বানান।

ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানের মধ্যে পার্থক্য

ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানরা উভয়ই নিরামিষাশী হলেও, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। ভেজিটেরিয়ানরা মাছ-মাংস না খেলেও তাঁদের খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য, মধু, ডিম এবং বিভিন্ন প্রাণিজ দ্রব্য থাকে। এমনকি প্রাণী জাতীয় পণ্য, যেমন চামড়ার তৈরি জুতা অথবা জামাকাপড় প্রভৃতি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ভিগানরা তাঁদের জীবন থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রাণিজ দ্রব্য ও পণ্য বর্জন করেন। উল, চামড়া বা সিল্কের পোশাকও পরেন না তাঁরা।

ভিগানদের মতে, খাদ্য ও পণ্যের জন্য প্রাণী হত্যা করা অন্যায়। পশুসমাজের ওপর নির্মম অত্যাচার। এসবের ঘোরতর বিরোধী ভিগানরা। এককথায় বলা যায়, সব ভিগান ভেজিটেরিয়ান হলেও, সব ভেজিটেরিয়ান ভিগান নন। ভিগানরা আরও স্বকীয়।
অনেকের প্রশ্ন থাকে, তাহলে ভিগানরা আমিষের ঘাটতি পূরণ করেন কী করে? পৃথিবীতে ভিগানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে ভিগানরা প্রমাণ করছেন যে প্রাণিজ আমিষ ছাড়াও মানুষ ভালোভাবেই বাঁচতে পারে। সে সঙ্গে প্রাণী রক্ষা আন্দোলনটাও প্রাণ পায়। ভিগানরা মনে করেন, পৃথিবীতে সব প্রাণীর সমান অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশেও ভিগান আন্দোলন চলছে। দিন দিন এর সদস্যসংখ্যাও বাড়ছে।

লেখক: আলমগীর আলম, খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

বিবিএসের জরিপ, করোনার চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি মৃত্যু হয় হৃদ্‌রোগে। আমাদের সবার মধ্যে একটা উপলব্ধি কাজ করে এমন যে করোনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু পারসেপশন সব সময় সঠিক হয় না। করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে হৃদ্‌রোগে। আপনি কতটুকু সচেতন, আপনি কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন? যদি ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে হয়, তাহলে কী করবেন? সাধারণ হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন। হৃদ্‌রোগে বিকল্প চিকিৎসা আকুপ্রেশার এখন বেশ সাড়া ফেলেছে। আপনি আপনার হাত চেপে জেনে নিতে পারবেন, আপনি হৃদ্‌রোগের কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে যদি কোনো উপসর্গ না–ও থাকে।

করোনারি হৃদ্‌রোগ কী

করোনারি হৃদ্‌রোগ (সিএইচডি) করোনারি ধমনির মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে বা পাতলা হয়ে যায়, সাধারণত যা অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের দ্বারা সৃষ্ট। ধমনির অভ্যন্তরীণ দেয়ালে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে যায়, তাকে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস (ধমনির ‘শক্ত হয়ে যাওয়া’ বা ‘ক্লগিং’ নামেও পরিচিত) বলা হয়ে থাকে। এই চর্বি ধমনিতে রক্ত চলাচলের গতি কমিয়ে দিয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস হৃৎপিণ্ডে পৌঁছাতে পারে না। এ কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে। যদি হৃৎপিণ্ডের একটি পেশিতে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, অথবা শরীর থেকে যে পরিমাণ শক্তি হৃৎপিণ্ডে যাওয়ার কথা, সেগুলো না গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

সাধারণভাবে হার্ট–সংক্রান্ত যেকোনো অসুখকেই হৃদ্‌রোগ বলা হয়ে থাকে। যেটাকে এখন বর্তমান সভ্যতার রোগ বলা হয়। এ রোগের কয়েকটি ধাপ আছে, তেমনি আলাদা নামও রয়েছে, যেমন করোনারি হৃদ্‌রোগ, কার্ডিও মায়োপ্যাথি, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদ্‌রোগ, হার্ট ফেইলিউর, হৃৎপিণ্ডের ডান পাশ অচল হয়ে যাওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হওয়া, ভালভুলার ডিজিজ ইত্যাদি হার্টের অসুখের মধ্যে পড়ে।

মানুষের হৃৎপিণ্ডের মধ্যে করোনারি আর্টারি নামে দুটি ছোট ধমনি থাকে। এই ধমনিই হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে বা হৃৎপিণ্ডকে পুষ্টির জোগান দেয়। কোনো কারণে এই করোনারি আর্টারি যদি ব্লক হয়ে যায়, তাহলে যে এলাকায় ওই আর্টারি বা ধমনি রক্তের পুষ্টি পৌঁছে দিতে পারে না, সেই জায়গার হৃদ্‌পেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সমস্যা যেকোনো সময় যে কারও হতে পারে। কাজ করতে করতে, ঘুমের ঘোরে সকাল-রাতে যেকোনো সময় হতে পারে। হঠাৎ ভারী কোনো কাজ করলে, বাইরে ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকলেও এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যাগুলো নিঃশব্দে দানা বাঁধে।

হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে, তখন যে লক্ষণ থাকে

সাধারণভাবে হার্টের অসুখ থাকলে বুকে অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। সেই সঙ্গে ঘাম হয় এবং শরীর খারাপ ও অস্বস্তি লাগে। ক্রমাগত শরীর খারাপ করতে থাকলে হার্টের অসুখ হতে পারে। হার্টের করোনারি আর্টারি বা ধমনি ব্লকেজ থাকলে মানুষের শরীরে নানা সমস্যা হয়। বুকে ব্যথা, ঘাম, নিশ্বাসে কষ্ট, মাথা ধরা—এসব লক্ষণ দেখলে বোঝা যায়, রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হাতে-পায়ে ঝিনঝিনও করতে পারে। মূলত রক্তে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের (ভালো) মাত্রা কমে গেলে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়।

এমন সমস্যা হলে আপনি নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন। সেই সঙ্গে খাদ্য ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ফেলুন। তাতে আপনার সমস্যাগুলো আস্তে আস্তে দূর হবে এবং সেই সঙ্গে উপসর্গগুলো থাকবে না।

কীভাবে আকুপ্রেশার শুরু করবেন

হার্টের যে সমস্যাই হোক, আপনি আকুপ্রেশার শুরু করার আগে আপনার জীবনধারায় একটু পরিবর্তন আনার চেষ্ট করুন। বিশেষ করে খাদ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে। আপনার খাবার হবে ফল ও সবুজ শাকসবজিনির্ভর। সেই সঙ্গে দানাদার শস্য ও বাদাম খেতে পারবেন। তারপর প্রতিদিন সকালে ২০ থেকে ২৫ মিনিট আকুপ্রেশার করবেন।

আকুপ্রেশার শুরু করার প্রথম নিয়ম হচ্ছে আপনি আপনার দুই হাত ঘষুন। দুই মিনিট এমনভাবে হাতের তালু ঘষবেন, যেন হাত লাল ও গরম হয়ে ওঠে। তারপর ছবিতে দেওয়া পয়েন্টেগুলোর প্রতিটিতে ১০০ বার করে আকুপ্রেশার করুন। হার্টের পয়েন্টগুলো মূলত আমাদের হাতের বাঁ হাতে হয়ে থাকে। আকুপ্রেশার করার জন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আপনার বাঁ হাত ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন।

ছবি– ৪ ক্যাপশন:
বাঁ হাতের সাতটি স্থানে ও ডান হাতের চারটি স্থানে আকুপ্রেশার করবেন। প্রেশার হবে খুব হালকাও না বেশি জোরেও না। আপনি যখন আঙুল দিয়ে বাঁ হাতের পয়েন্টগুলোতে চাপ দেবেন, তখন আপনি হালকা ব্যথা অনুভব করবেন। যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন, সেখানেই আপনার পিনপয়েন্ট। প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই খালি পেটে আকুপ্রেশার করতে হবে। সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন, আর এক দিন বিরত থাকুন।

সব কটি পয়েন্টে আপনি এক সপ্তাহ আকুপ্রেশার করলেই টের পাবেন, আপনার শরীরে কিছুটা পরির্বতন আসছে, বিশেষ করে বুকটা হালকা লাগবে, শ্বাস ফেলতে তেমন কষ্ট হবে না, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যে কষ্ট হতো, তা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকবে। এই নিয়ম তিন মাস করা উচিত। যাঁরা অসুস্থ আছেন, তাঁরাই যে আকুপ্রেশার করবেন, তেমনটি নয়; বরং আপনিও হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন।

হার্ট ভালো রাখার জন্য খাবারের মধ্যে আমাদের মৌসুমি ফল অনেক ভালো। সেই সঙ্গে আপেল আর নিয়মিত কলা, পেঁপে খেয়ে শরীরকে সচল রাখা জরুরি। বিশেষ করে সারা দিনে আপনার খাবারে তেল ও লবণের পরিমাণ কমানো আবশ্যক। এ জন্য ফল ও কাঁচা সবজির সালাদ হতে পারে আদর্শ খাবার।

হার্টের সমস্যাগুলো শরীরে ধীরে ধীরে জন্মালেও অ্যাটাক হয় খুব দ্রুত। এ কারণে মানুষের বিপদ বেড়ে যায়। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় আপনি আকুপ্রেশার করে আপনার পরিবারকে বিপদমুক্ত রাখতে পারবেন।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

ছবি: লেখক

Prothom Alo link: হার্ট ভালো রাখতে আকুপ্রেশার

আড্ডার মধ্যমণি, স্বাস্থ্যেও সমান

আড্ডার মধ্যমণি, স্বাস্থ্যেও সমান

প্রথম জাতীয় চা দিবসের বিশেষ আয়োজন

পানির পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক উপভোগ্য পানীয়। যেকোনো আড্ডা ও আপ্যায়নে চা প্রধানতম পানীয়; যা দিয়ে মানুষ স্বচ্ছন্দে আপ্যায়িত হয় এবং আপ্যায়ন করতে মানুষ পছন্দ করে। এর একধরনের স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ রয়েছে এবং মানুষ এটি উপভোগ করে। ক্লান্তি ও অবসাদে চা মানুষের মধ্যে প্রশান্তি এনে দেয়। চা শুধু আপ্যায়নের উপচার নয়, স্বাস্থ্যরক্ষায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য খারাপ গুণ থাকলেও চায়ে পুষ্টিগুণ যা আছে, তাতে চা খাওয়াই যেতে পারে।

চা–গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। চায়ে পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ক্যাটেচিন পলিফেনলস এবং ক্যাটেচিন থাকে, যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ কারণে চা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চায়ে উপস্থিত পলিফেনলসের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি, যা দেহের অভ্যন্তরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। চায়ে ৭ শতাংশ থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন রয়েছে, যা শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য বিশেষ উপকারী।

আমাদের এ অঞ্চলে চায়ের একটি ইতিহাস আছে, চা খাওয়ার প্রচলন চীন করলেও একে বহির্বিশ্বে পরিচয় করিয়েছে ইউরোপ, বিশেষ করে ব্রিটিশ ও ওলন্দাজরা। এই অঞ্চলে উপনিবেশ করার সঙ্গে চায়ের আমদানি হয়। বিশেষত ব্রিটিশরা স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠার করার পর এখানে চাষ করা শুরু করে, বিশেষ করে বৃষ্টিপ্রধান এলাকা দার্জিলিং ও সিলেট অঞ্চলে চায়ের বাগান করে। এখানে প্রচুর পরিমাণে জন্মানো চা–গাছ ছিল ক্যামেলিয়া সিনেনসিস অসমিকা নামে একটি উপপ্রজাতির। গ্রিন টির চেয়ে আসাম টি বেশি স্বাদযুক্ত কালো রঙের ছিল।

সাধারণভাবে প্রাথমিক ইংলিশ ব্রেকফাস্টের অন্তর্ভুক্ত আসা রং কড়া থাকায় তা লোকজন দুধসহকারে পান করত। বর্তমানে ব্রিটেনে সাধারণ ইংলিশ ব্রেকফাস্ট বা প্রাতরাশের সঙ্গে দেওয়া চা দুধসহকারে পান করা হয় কিন্তু ইউরোপ মহাদেশের অন্যান্য স্থানে চায়ের সঙ্গে দুধ খুব কমই পরিবেশন করা হয়। এর কারণ মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা থেকে নেদারল্যান্ডসে যে চা যেত, তা ছিল অনেক হালকা এবং তার সঙ্গে দুধ যোগ করার প্রয়োজন হতো না। এর ফলে ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে এই চা–কে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

যেহেতু চা আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের নিত্যসঙ্গী, সেহেতু এই চা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী এবং কতটুকু অপকারী, তা জেনে রাখা শ্রেয়।

আমাদের হরেক রকম চা ও তার উপকারিতা

আদা চা: আদা চা খুবই উপকারী; বিশেষ করে সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে এটি ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। গরম আদা–চা পান করলে গলাব্যথা কমে যায়। অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধেও আদা–চা কাজ করে। এমনকি আদা–চা পান করলে হজমের সমস্যা কমে।

দুধ–চা: ক্লান্তি দূরীকরণে খুবই কার্যকর। নিয়মিত চা পানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। চা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫ গুণ কমিয়ে দেয়।

লাল–চা: এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ ও অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধ করে দেহকে সুরক্ষা দেয়। লাল–চা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। হজম ভালো করে। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে। লাল–চা অন্ত্রের প্রদাহ রোধেও কাজ করে।

গবেষণায় বলা হয়, লাল–চা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। তা ছাড়া এর মধ্যে থাকা ফ্লোরাইড মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে, এটি স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে। আমেরিকার ন্যাশনাল টি ইনস্টিটিউটের ‘টি অ্যান্ড ক্যানসার’বিষয়ক একটি নিবন্ধ জানিয়েছে, চায়ের উপকারিতা ক্যানসারের মতো সমস্যায় উপকারী। নিয়মিত এক কাপ রং–চা খেলে স্তন ক্যানসার, কোলোন ক্যানসার ও অন্যান্য আরও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট–সমৃদ্ধ হলেও এতে রয়েছে ক্যাফেইন নামক উত্তেজক পদার্থ, সাধারণত চায়ে ক্যাফেইন রয়েছে, বস্তুত ক্যাফেইনের কারণেই ঘুম কম হওয়া, হজমে ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

চা সম্পর্কে ভুল ধারণা

চা সম্পর্কে আমাদের অনেকের ভুল ধারণা আছে। যেমন চা খেলে রাতে ঘুম আসে না, চা লিভারের ক্ষতি করে, চা চামড়া কালো করে ইত্যাদি। যদিও চা খেলে গায়ের রং কালো হবে না, কারণ ত্বকের রং নির্ভর করে ম্যালানোসাইট কোষের সক্রিয়তার ওপর। চা পান করলে লিভারের কোনো ক্ষতি হয় না, তবে এটা মনে রাখতে হবে যে অতিরিক্ত চা পান করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে; যেমন অবসাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। ইদানীং বিভিন্ন স্থানে হরেক রকম চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানে দুধের সর দিয়ে চা বানানো হয়, তা কিন্তু চা আর থাকে না, বরং সেটা দুধের পদ হয়ে যায়। ওটা মোটেও চা নয়।

চা বানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, প্রথমে পানি বেশ কিছুক্ষণ ফুটতে দিতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে পানিতে প্রতি কাপের জন্য এক চা-চামচ করে পাতা দিয়ে কেটলি ঢেকে রাখতে হবে, যাতে চা ঠান্ডা হয়ে না যায়। চার থেকে পাঁচ মিনিট পর কাপে ঢেলে নিয়ে পান করতে হবে।

আড্ডা হোক আর আপ্যায়ন, কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে চা খাওয়ার প্রচলন কোনো অবস্থায় ভালো কিছু নয়। তাই এটা পরিহার করা উচিত। আর চিনি খাওয়াও ক্ষতিকর। তাই যতটা পারা যায় চিনি পরিহার করেই চায়ের আসল স্বাদ গ্রহণ করা।

জাতীয় চা দিবসে চা হয়ে উঠুক আড্ডার মধ্যমণি!

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ