আমজনতার আম

আমজনতার আম

কাঁচা বা পাকা দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো। কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, আম সব বয়সী মানুষের শরীরের জন্য ভালো। আমের আঁশে কিছু উপাদান, যেমন ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম। এ ছাড়া আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোয়েডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে; আছে বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিড, যেমন টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড। ভিটামিন এ, প্রোটিনসহ আরও অন্যান্য উপাদানও থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি এ ছাড়া ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে।

কাঁচা আমের গুণ

• বাইরে তীব্র রোদের ঝাঁজের সঙ্গে গা-পোড়ানো গরম, এ সময় কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত বানিয়ে খেলে সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি।
• যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ ফল কাঁচা আম। পাকা মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সহায়তা করে।
• বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যা, ঢেকুর ওঠা থেকে কাঁচা আম মুক্তি দিতে পারে; অম্লতা কমাতে কাঁচা আমের এক টুকরো মুখে দিতে পারেন।
• ঘুম থেকে সকালে উঠে বমি বমি ভাব হয়; বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বাদের। এ সমস্যা দূর করতে পারে কাঁচা আম এই অস্বস্তি কমাবে।
• লিভারজনিত সমস্যা প্রাকৃতিক বন্ধু কাঁচা আম। কাঁচা আম চিবিয়ে খেলে পিত্তরস বৃদ্ধি পায়। এতে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ রোধে কাজ করে।

• রক্তের আয়রন ঘাটতি পূরণে কাঁচা আম ভালো, রক্তাল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী।
• খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম এবং পাকা আম অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়।
• শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে।
• কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
• কাঁচা আম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি জোগায়, যা স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায়। আয়ুর্বেদ মতে, আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী। এ ছাড়া নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে।
• কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।

পাকা আমের গুণ

পাকা আম ত্বক সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
• পাকা আমের আঁশ ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে এনজাইম আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
• আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোয়েডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে, যা ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।
• বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• আমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখে। আমাদের শরীরকে সতেজ রাখে, যার কারণে আম খেলে ঘুম পায়, ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি আম খেলে ঘুমের সমস্যা দূর হবে।
• মৌসুমে প্রতিদিন আম খেলে শরীরে ভিটামিন এ-এর চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশ পূরণ হবে, যা চোখের জন্য খুবই উপকারী, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

• আমে প্রচুর পরিমাণে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড ও সাইট্রিক অ্যাসিড আছে, যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে, শরীরে লিপিড ঠিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
• পাকা আমের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো মারাত্মক ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
• পাকা আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখে ও রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণ করে।
• পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে দেয়।
• আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, সেই সঙ্গে আরও আছে ফাইবার, যা সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল, কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

কোন সময় খেলে ভালো

মানুষ আম খাওয়ার জন্য রাতকে বেছে নেয়; অথচ ওটাই আম খাওয়ার খারাপ সময়। সকাল থেকে বিকেল—যেকোনো সময় আম খাওয়া যায়। আম সলিড খাবার ভাত-রুটি খাওয়ার আগে খেতে পারলে ভালো। জুস খেলে পরেও খাওয়া যাবে। তবে কাঁচা আম কোনো অবস্থায় দুপুরের পর খাওয়া ঠিক না।

সতর্কতা

কথায় আছে, অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে ও পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

খেজুরের উপকারিতা

খেজুরের উপকারিতা

সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল খেজুর। যা ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়।

তাই এই ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এছাড়াও খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান। খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি। যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয়, চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ দশমিক ৮ গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।

দুর্বল হৃদপিণ্ড: হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ খেজুর।

মুটিয়ে যাওয়া রোধ: মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অল্পতেই শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে।

মায়ের বুকের দুধ: খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার, যা মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরো বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড় গঠন: ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে।

অন্ত্রের গোলযোগ: অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে খেজুর বেশ সহায়ক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি: খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে রাতকানা প্রতিরোধেও সহায়ক।

লেস্টেরল এবং ফ্যাট: খেজুরে কোন কলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না।

কোষ্ঠকাঠিন্য: খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

সংক্রমণ রোধ: যকৃতের সংক্রমণে খেজুর উপকারী। এ ছাড়া গলাব্যথা এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি ও ঠাণ্ডায় বেশ কাজ দেয়।

শিশুদের রোগবালাই: খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ করে। তাই শুধু রমজান মাসে কেন, বছরজুড়েই খাদ্যতালিকায় থাকুক খেজুর।

ক্যানসার প্রতিরোধ: খেজুর পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ন। এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যানসারে ঝুকিটাও কম থাকে।

১০০ গ্রাম খেজুরে যা থাকে : এনার্জি ২৭৭ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৯৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮১ গ্রাম, ফ্যাট ০.১৫ গ্রাম, ডায়েটরি ফাইবার ৬.৭ গ্রাম, ডায়েটরি সুগার ৬৩ গ্রাম।

খেজুর শুধু রমজান মাসেই না, সাড়া বছর জুড়েই কম বেশি খাওয়া উচিত।

তেঁতুলের উপকারিতা

তেঁতুলের উপকারিতা

ছবি দেখে নিশ্চয়ই জিভে জল চলে এসেছে? তেঁতুল এমনই এক ফল, যার নাম শুনলে সবারই জিভে জল চলে আসতে বাধ্য। টক এই ফলটির গুণ বেশ মিষ্টি। কারণ এটি খেলে শরীরে একইসঙ্গে অনেকরকম উপকার মেলে। তেঁতুল কাঁচা, পাকা, আচার কিংবা সস তৈরি করে বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। পাকা তেঁতুল সংরক্ষণ করে সারাবছর খাওয়া যায়।

তেঁতুলের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ২৮৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ৩.১ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৬৬.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১০.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম ও ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম।

তেঁতুলের কিছু উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে তেঁতুলের সাহায্য নিন। তেঁতুলের মধ্যে টার্টারিক অ্যাসিড‚ ম্যালিক অ্যাসিড এবং পটাশিয়াম আছে যা কোষ্ঠন্যকাঠিন্য দূর করে। এখনো আয়ুর্বেদে তেঁতুল পাতা ডায়েরিয়া সারাতে ব্যবহার হয়। এছাড়া তেঁতুল গাছের ছাল এবং শিকড় পেটের ব্যথা সারাতে ব্যবহার করা হয়।

তেঁতুলের বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এছাড়া এটি রক্তে চিনির মাত্রাও ঠিক রাখে। এতে উপস্থিত এক ধরণের এনজাইম রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

তেঁতুলে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার আছে আর একই সঙ্গে এটা সম্পূর্ণ ফ্যাট ফ্রি। রিসার্চ করে দেখা গেছে রোজ তেঁতুল খেলে ওজন কমে। এর জন্যে দায়ী এতে উপস্থিত flavonoids and polyphenols। এছাড়াও এতে উপস্থিত hydroxycitric acid ক্ষুধা কমায়।

তেঁতুলে উপস্থিত ফ্ল্যাভরনয়েড ব্যাড কোলেস্টেরল কমায় এবং গুড কোলেস্টেরল বাড়ায়। এছাড়াও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড (এক ধরণের ফ্যাট) জমতে দেয় না। এতে উপস্থিত উচ্চ পটাশিয়াম রক্ত চাপ কম করতে সাহায্য করে।

তেঁতুলে উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা কিডনি ফেলিওর এবং কিডনি ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে।

তেঁতুল গাছের পাতা এবং বাকল অ্যান্টি সেপটিক এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল‚ ফলে ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

নিয়মিত তেঁতুলের বীজের গুঁড়া খেলে পেপটিক আলসার সেরে যায়। তেঁতুলে উপস্থিত পলিফেনলিক কম্পাউন্ড আলসার সারিয়ে তোলে বা হতে দেয় না।

পাকা তেঁতুল ভিজিয়ে রেখে সকালে শুধু পানি খেলে হাত-পায়ের জ্বালা কমে।

তেঁতুল ক্ষতিকারক আলট্রা ভায়োলেট রে-র হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে সাহায্য করে। এছাড়াও যাদের ব্রণের সমস্যা তাদের জন্যেও উপকারী তেঁতুল। তেঁতুলে উপস্থিত হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বকের এক্সফলিয়েশন করতেও সাহায্য করে যার ফলে মরা কোষ উঠে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া যাবে কি?

গর্ভাবস্থায় নারীরা সাধারণত তেঁতুল খেতে পছন্দ করেন। চিকিৎসাগত দিক থেকেও রয়েছে এর উপকারিতা। তেঁতুলের টক উপাদান গর্ভবতী নারীদের মর্নিং সিকনেস থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ বলেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে তেঁতুল খাওয়া উচিত।

তেঁতুলে থাকা নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্লাড প্রেসার। তেঁতুলের পটাশিয়াম এবং আয়রন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তেঁতুল, শরীরে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের কাজে বাঁধা তৈরি করে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে খাওয়া উচিত।

ছোটখাটো সতর্কতা অবলম্বন করে তেঁতুল খেলে সেটা গর্ভাবস্থায় নিরাপদ খাবার হিসেবেই গণ্য হয়। তবে মনে রাখবেন, আপনার খাদ্য তালিকায় তেঁতুল রাখার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন।

আপেলের উপকারিতা

আপেলের উপকারিতা

‘প্রতিদিন একটি আপেল খান, ডাক্তারকে দূরে সরান’- অতি পুরানো কথা হলেও কথাটি মিথ্যা নয়। এখন প্রশ্ন আপেল খেলে ডাক্তারের প্রয়োজন কেন কম পড়বে? কী আছে আপেলে যে, এটি এত উপকারী দেহের জন্য। চলুন আপেলের গুনাগুন জেনে নিই-

ক্যান্সার প্রতিরোধে

আপেল ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আপেলের মধ্যে পেকটিন জাতীয় একটি উপাদান থাকে যা শরীরকে কোলন ক্যান্সার থেকে দূরে রাখে। ফুসফুসের ক্যান্সার ও লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধেও আপেলের ভূমিকা আছে। আপেল সবধরনের ক্যানসার রোধ করতেও সাহায্য করে থাকে।

হার্ট ভালো রাখে

আপেল কমায় হার্ট এট্যাকের ঝুঁকিও। আপেলের লৌহ রক্তশূন্যতায় উপকারী। পেকটিন আঁশ ক্ষতিকর কলেস্টেরল এলডিএল কমায়। হার্ট এট্যাক ও স্টোক প্রতিরোধ করে। আরো আপেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানসমূহ, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

আপেল খুবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। অ্যাপেল খেলে খাদ্যের চাহিদার সাথে ভিটামিনের ঘাটটি পূরণ হয়। ফলে মেদ জমে না এবং স্বাস্থ্য সঠিক থাকে। আর প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হয়।

দাঁত ভালো রাখে

ভিটামিন-সি দাঁতের মাড়ির জন্য উপকারী। আপেলের রস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ফলে দাঁত ভালো থাকে।

ত্বক ভালো থাকে

ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি শরীরের জন্য খুবই উপকারী, দু’টোই এন্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোর রক্ষাকবচ। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন-এ দরকার। ত্বক মসৃণ রাখতেও আপেলের গুনাবলি বলে শেষ করা যায় না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রতিদিন আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়।

হজম ক্ষমতা বাড়তে

আপেলের শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে-ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয় পেটে| ফলে হজম শক্তি বাড়ে।

বাতের ব্যথা দূর করতে

আপেলের ম্যালিক এসিড শরীরের ইউরিক এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে বাতের ব্যথা দূর করতে পারে। সুতরাং আপেল বাতের ব্যথাও উপকারী।

ফ্রি রেডিক্যাল দূরকরনে

আপেলের ছালে আছে কোয়ার্সিটির নামক এক এন্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া ফ্রি রেডিক্যাল দূর করে। কোয়ার্সিটিন আলজেইমার্স ডিজিজ ও পারকিনসনিজম নামক অসুখ প্রতিরোধেও সহায়ক। কোয়ার্সিটিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কমিয়ে দেয় পাকস্থলি ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা।

পানিশুন্যতা দূর করতে

আপেলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে। ফলে আপেল খেলে তৃষ্ণা ও পানিশুন্যতা দূর হয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়ক হয়। আমাদের পানিশূন্যতা পূরণ করতে অ্যাপেলের জুড়ি নেয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

আপেলে পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে। পেকটিন ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেল কোন অসুবিধা নয়।

রোগ-প্রতিরোধে

ভিটামিন-সি’র প্রয়োজন আরো নানান জায়গায় যেমন- কোলাজেন তৈরিতে, ক্ষত শুকাতে, খাদ্যনালী থেকে লৌহ শোষণ করতে। আপেলের প্রচুর গুনাগুন থাকাই দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অ্যালঝেইমার্স প্রতিরোধ

আজকাল শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণ সার ব্যবহার করার ফলে খুব কম সময়ে আমাদের বয়সের ছাপ পড়ে যাচ্ছে। ফলে এটা আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা। এর উপায় হিসেবে যদি প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়া হয়। তাহলে বয়সজনিত জটিল অ্যালঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

রক্তচাপ কমাতে

আপেলে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আঁশ যা রক্তচাপ কমাতে অনেক ভাবে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে

অ্যাপেল কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করতেও অনেক সাহায্য করে থাকে। সুতরাং প্রতিদিন অ্যাপেল খেলে আপনি সুস্থ থাকবেন।

হাড় শক্ত করতে

আপেলে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরন যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

পেয়ারার উপকারিতা

পেয়ারার উপকারিতা

কটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যা দেহের ভেতরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না বললেই চলে।      

পেয়ারার শরীরে এত মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আরও সব উপকারি উপাদান উপস্থিত রয়েছে যে, তা শরীরকে চাঙ্গা করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।   

সে সঙ্গে হাই ব্লাড প্রসারের কারণে আরও নানাবিধ রোগ যাতে মাথা চাড়া দিয়ে না ওঠে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। আমাদের দেশে যে হারে হাই ব্লাড প্রেসার এবং অন্যান্য নন- কমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে প্রত্যেকেরই যে পেয়ারা খাওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!

প্রসঙ্গত, অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন সি’র মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে একদিকে যেমন স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, ঠিক তেমনি ব্লাড ভেসেলের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। শুধু তাই নয়, একাধিক উপকার পাওয়া যায়। আর একথা তো সবারই জানা আছে যে, পেয়ারায় প্রচুর মাত্রায় রয়েছে ভিটামিন ‘সি’। তাই তো ডায়েটে আপাত ‘নন-এক্সপেনসিভ’ এই ফলটিকে জায়গা করে দিলে একাধিক শারীরিক উপকার পাওয়া যায়।   

১. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ থাকার কারণে নিয়মিত পেয়ারা খেলে দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লকোমার মতো রোগও দূরে থাকে।  

২. কিডনির ক্ষমতা বাড়ে:

একাধিক গবেষণার পর একথা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া শুরু করলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে তার প্রভাবে কিডনির ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে, শরীরের কিডনি সংক্রান্ত কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৩. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে:

শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম লেভেল ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় পেয়ারা। শুধু তাই নয়, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য় করে এই ফলটি। তাই যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা নিয়মিত পেয়েরা খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন উপকার মিলবে।   

৪. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন বি-৩ এবং বি-৬ মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেনের কগনেটিভ ফাংশন, অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি এবং মনোযোগের উন্নতি ঘটে।  

৫. ত্বক ফর্সা হয়:

অল্প পরিমানে পেয়ারার খোসা নিয়ে তার সঙ্গে ডিমের কুসুম মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন মুখটা। এইভাবে সপ্তাহে ২-৩ ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।

৬. ডায়াবেটিসের মতো রোগ দূরে পালায়: 

পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ফলটি যেহেতু গ্লাইকেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে আসে, তাই পেয়েরা খেলে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:  

আপনাদের কি জানা আছে পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এতটা মজবুত করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও ধরনের রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এখানেই শেষ নয়, নানা ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতেও ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো একেবারে ছোট বেলা থেকে বাচ্চাদের পেয়ারা খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

৮.কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমে:   

শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে থাকলে পেটের রোগ যেমন কমে, তেমনি কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও দূরে পালায়। আর ফলের দুনিয়ায় পেয়ারায় মধ্যেই রয়েছে সব থেকে বেশি মাত্রায় ফাইবার। তাহলে আজ থেকেই পেয়ারাকে রোজের সঙ্গী বানান। দেখবেন কষ্ট একেবারে কমে যাবে। 

৯. ক্যান্সার প্রতিরোধ :

মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো রোগকে থামাতে পারে একমাত্র প্রকৃতি। কারণ প্রকৃতির অন্দরেই রয়েছে সেই শক্তি, যা আমাদের ক্যান্সার রোগ থেকে দূরে রাখতে পারে। যেমন পেয়ারায়, এতে আছে লাইকোপেন, কুয়েরসেটিন, ভিটামিন সি এবং পলিফেনল শরীরে জমতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে পেয়ারার কোন বিকল্প হয় না। 

বাঙ্গির উপকারিতা

বাঙ্গির উপকারিতা

বাঙ্গি বা কাকড় এক রকমের শশা জাতীয় ফল। ইংরেজীতে একে বলা হয় mask melon। এর বৈজ্ঞানিক নাম cucumis melo। আমরা অনেকেই এই ফলটিকে পছন্দ করিনা বা অন্যান্য বিদেশী ফলকে এর থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। কিন্তু এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। রমজানে সতেজতা আনতে এ ফলের জুড়ি নেই।

দ্রুত সতেজতা ফেরাতে:

এটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি যা দেহের সতেজতা বজায় রাখে। রমজানে আমাদের ইফতারের টেবিলে এই ফলটি থাকা অবশ্যই জরুরি কারন এটি দ্রুত দেহের পানির চাহিদা পুরন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।তাছড়াও এতে রয়েছে মিনারেল যেমন: পটাশিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি। এগুলো ইলেকট্রলাইটস্ এর ভারসম্য ঠিক করে এবং সতেজতাও ফেরায়।

উচ্চরক্তচাপ কমাতে:

যেহেতু এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম তাই এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে।

চোখের জ্যোতী বাড়াতে:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ এবং বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে:

ফুটির বীজ এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। আর যেহেতু এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম এটি পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

গর্ভবতী মায়ের জন্য:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফলেট যা দেহে পানি জমতে দেয়না যেহেতু অতিরিক্ত সোডিয়াম দেহ থেকে বের করতে সাহায্য করে।

সুন্দর ঘুমের জন্য:
এটি স্নায়ু ও দেহের কোষকলাকে এমনভাবে বিশ্রাম দেয় যা সুন্দর ঘুমের জন্য সহায়ক।

আলসার এর চিকিৎসায়:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন- সি যা আলসার প্রতিরোধে ও এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

কিডনি এর পাথর প্রতিরোধে:

বাঙ্গি এর একটি উপাদান অক্সিকাইন কিডনি এর পাথর হতে বাধা দেয় এবং কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার এর ঝুকি কমাতে:

এর ভিটামিন-সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুকি কমাতে:

বাঙ্গিতে রয়েছে অ্যাডিনোসিন যা রক্তকে পাতলা করে ফলে হৃদরোগের ঝুকি কমে যায়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে:

যেহেতু এটি ভিটামিন-সি তে ভরপুর তাই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও শ্বেতরক্ত কনিকার পরিমান বাড়ায় যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

ধুমপান ছাড়তে:

এটি ফুসফুসকে পরিস্কার করে এবং নিকোটিন এর নেশা কাটাতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করতে:

যেহেতু এতে প্রচুর পরিমানে খাদ্য আশ রয়েছে তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করতে সাহায্য করে।

যেহেতু ফুটির এত গুন তাই সুস্থ থাকতে এই রমজানে ইফতারে অবশ্যই এই ফলটি আমাদের রাখা উচিৎ।