পিঠ ব্যথা ঘরে ঘরে কেন ? কি করনীয়।

পিঠ ব্যথা ঘরে ঘরে কেন ? কি করনীয়।

মেরুদন্ডের ব্যথা একটি বিশেষ পরিচিত উপসর্গ । মেমূলত কোমর , ঘাড় ও পিঠের ব্যথাকে মেরুদন্ডের ব্যথা হিসেবে ধরা হয় । সমীক্ষায় দেখা গেছে , সারাজীবনে কোনো না কোনো সময় এই ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষের সংখ্যা নগণ্য , মাত্র কুড়ি শতাংশ । অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা সাধারণ চিকিৎসায় যেমন ব্যথা কমাবার ওষুধ প্রয়ােগে বা ফিজিওথেরাপিতে কমে গেলেও প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যাটা বারে বারে ফিরে আসে । বারবার অসুবিধা হয় এমন অর্ধেকেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের ব্যথা তেমন কষ্টদায়ক নয় । তবে বাকি রোগীদের ২৫ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ কিন্তু যথাক্রমে তীব্র কোমর ও ঘাড়ের যন্ত্রণা ভোগ করে থাকেন ।

আমাদের শিরদাঁড়া তৈরি ৩০টি ক্যারামের খুঁটির মতো হাড় দিয়ে যা সাজানো থাকে একটির । ওপর একটি । এই হাড়গুলোকে বলে ভার্টিব্রা বা কশেরুকা । মোট ৭টি ভার্টিব্রা থাকে ঘাড়ে , যাদের বলে সারভাইকাল ভার্টিব্রা বা ঘাড়ের হাড় । বুকের কাছে থাকে ১২টি , যাদের বলে থোরাসিক ভার্টিব্রা । কোমরে থাকে ৫টি , যাদের বলে লাম্বার ভার্টিব্রা । কোমরের নীচে থাকে আরও পাঁচটি ভার্টিব্রা যারা একসঙ্গে জুড়ে তৈরি করে স্যাক্রাম । এই স্যাক্রামের শেষে আঙুলের ডগার মতো ক্ষয়গ্রস্ত একটি ভার্টিব্রা থাকে যা আসলে কয়েকটি ছােট হাড়ের সমষ্টি । এই ছোট হাড়গুলিকে একটি হাড় ধরে নিলে আমাদের শিরদাঁড়ার মোট হাড়ের সংখ্যা ত্রিশটি । দুটি ভার্টিব্রার মধ্যে থাকে ইন্টার ভাটিব্রাল ডিস্ক । এগুলি দেখতে অনেকটা জেলি ভরা চাকতির মতো । এই ডিস্কগুলো থাকার জন্য আমরা সামনে পিছনে ঝুঁকে এপাশ – ওপাশ করতে পারি ।

প্রত্যেকটি ভার্টিব্রার মধ্যে থাকে গোলাকার একটি ফাঁকা অংশ । এই ফাপা অংশগুলো মিলিয়েই তৈরি হয় স্পাইনাল ক্যানাল । যার মধ্যে দিয়ে নেমে আসে স্পাইনাল কর্ড বা সুষুম্না কান্ড । আর এই স্পাইনাল কর্ড থেকেই অসংখ্য স্নায়ুর শাখা – প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ।

শিরদাড়া শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । শুধু ভার্টিব্রা তো নয় , বিভিন্ন পেশি , লিগামেন্ট সবাই মিলে শিরদাঁড়ার কাজ করে । দাড়ানো, হাঁটা, বসা, পাশ ফেরা ছাড়াও পুরো শরীরের ভার বহন করা , ছন্দমাফিক চালনা ,করা , এসবই শিরদাড়ার কাজ । এর সাহায্যেই আমরা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখি । একদিকে ঝোকার সময়ে যেমন সেদিকেই পেশিগুলোর ক্রমশ সংঙ্কোচন হয় , তেমনি উল্টোদিকের পেশিগুলো ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকে । এভাবেই ভারসাম্য রক্ষার ফলে স্পাইনাল কর্ড ও বিভিন্ন নার্ভ নানা আচমকা আঘাত থেকে বাঁচে , তাই শিরদাঁড়া সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

শিরদাড়ার সমস্যা ও উপশম

 শিরদাঁড়ার কোনও অংশে সমস্যা দেখা দিলে ঘাড় , পিঠ , কোমর , পা নানা অংশে ব্যথা হতে পারে । ঘাড়ে ব্যথা হল শিরদাঁড়া নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যা । প্রধানত চারটি কারণে এটি হয় স্পন্ডাইলোসিস , ফাইব্রোসাইটিস , হাইপারটেনশন ও অ্যাংজাইটি । এছাড়া আরও নানা কারণ থাকতে পারে ।

সটকা লাগা: এটি খুব প্রচলিত সমস্যা পরিভাষায় রোগটির নাম অ্যাকিউট সারভাইকাল ডিস্ক সিনড্রোম । এই সমস্যা ঘাড়েই বেশি দেখা যায় । হঠাৎ ঘাড় ঘােরাতে গিয়ে কিংবা কোনো ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে সমস্যা আসতে পারে । ডিস্কের মধ্যে জেলির মতো যে পদার্থ থাকে তা সামান্য বাইরে এসে নার্ভে চাপ দিলে এই সমস্যা দেখা দেয় । গরম সেঁক ও বিশ্রাম নিলে এই ধরনের ব্যথা দিন সাতেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায় ।

শিরদাঁড়ার জন্মগত ত্রুটি

শিরদাড়ার সাধারণত চার ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা যায় ।

স্পাইনাবাহফিডা: এক হাজার জন শিশুর মধ্যে একজনের হয় । কোমরের লাম্বার ও স্যাক্রাল ভাটিব্রায় নিউরাল আর্চে গ্যাপ থাকে । এতে কোমরে ব্যথা থেকে নিম্নাঙ্গে প্যারালিসিস হতে পারে । রোগ নির্ণয় করে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করা উচিত ।

স্যাক্রালাইজেশন: ৫ নম্বর ভার্টিব্রার দু ‘ পাশে কিংবা একপাশে দাড়া বেড়ে গিয়ে কোমরে অসহ্য ব্যথা হতে পারে । সেক্ষেত্রে ট্রাকশন , ওষুধ দিয়ে , অপারেশন করে সারিয়ে তোলা হয় ।

 স্পন্ডাইলোলিসথেসিস: কোমরের লাম্বার ৪ বা ৫ নম্বর ভার্টিব্রা অন্যগুলো থেকে এগিয়ে কিংবা সরে আসে । এই ধরনের জন্মগত চোট লেগে ব্যথা বাড়তে পারে ।

স্কোলিওসিস: অনেক সময় শিরদাঁড়া একেবেঁকে থাকে জন্ম থেকে । তাকে বলে স্কোলিওসিস । বাচ্চারা কোমর বা পিঠে ব্যথার কথা বললে অবহেলা না করে এক জন অর্থোপেডিক্সের পরামর্শ নিন ।

শিরদাড়ার অন্যান্য রোগ

 নানা ধরনের সংক্রমণের ফলে শিরদাঁড়ায় অস্টিওমাইলাইটিস রোগটি হতে পারে পায়োজেনিক , টিবি বা সিফিলিস হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করালে দিন দশেকের মধ্যেই রোগটি সেরে যায় । এছাড়া শিরদাঁড়ার ভার্টিব্রায় বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট যেকোনো টিউমার হতে পারে । টিউমার হলে জায়গাটি প্রথমে ফুলে উঠবে । তাই শিরদাঁড়ার কোনও অংশ ফুলে উঠলে একদমই অবহেলা করবেন না ।

অস্টিওপোরোসিস: একটু বেশি বয়সে শিরদাঁড়ায় অস্টিওপোরোসিস হতে পারে , যার ফলে হাড ফাপা ও দুর্বল হয়ে যায় । এছাড়া বয়স হলে মানুষ কুঁজো হয়ে যায় । শিরদাঁড়ার হাড় ক্ষয়ে গিয়ে নরম হয়ে যাওয়ার কারণে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে । তবে বেল্ট ব্যবহার করলে ঝুঁকে পড়া ভাবটা অনেকটা কমে যায় ।

শিরদাঁড়ার টিবি: কোমরের উপর দিকে দুটো ভার্টিব্রা অনেক সময়ে টিবির জীবাণু মাইক্রোব্যাক্টেরিয়ামের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে । এই রোগ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় । বাচ্চারা খেলাধুলাের পর এই ধরনের পিঠে ব্যথার কথা বলে । বাচ্চাদের ওজন কমতে পারে , খিদে কমে যায় । রোগ অবহেলা করলে প্যারালিসিস হতে পারে । শিরদাঁড়ার টিবি বছরখানেকের চিকিৎসায় খুব সহজেই সারে ।

সায়টিকা: শিরদাড়ার একদম নীচের ভার্টিব্রা স্যাক্রাম দিয়ে যেনার্ভ রুটগুলো বার হয় সেগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় সায়টিকা নার্ভ । এটি আবার নানা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে ছড়িয়ে পড়েছে কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি অবধি পেশির অংশতে । কোনো কারণে শিরদাঁড়ায় কোনো আঘাত লাগলে , ডিস্ক প্রোলান্স হলে , শিরদাঁড়ায় টিউমার হলে , নার্ভে চাপ পড়লে সায়টিকা পেন হতে পারে । সায়টিকার উপসর্গ হল কোমরে ব্যথা । এইব্যথা ক্রমশ পায়ের দিকে নামে । অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাহায্যে চিকিৎসা করলে রোগ সারে ।

স্লিপ ডিস্ক: ডিস্কের দুটিঅত্যন্ত প্রয়ােজনীয় অংশ যেমন অ্যানিউলাম ফ্রাইবোসাস অনেক কারণে ক্ষয়ে যেতে পারে । পুষ্টির অভাব , ধূমপান সহ নানা নেশা , পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিরদাড়ায় চাপ , অতিরিক্ত দেহের ওজন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে ডিস্কের জেলির মতো অংশ বেরিয়ে আসতে পারে । আর একবার বেরিয়ে এলে স্বাভাবিক হয় না । এটা অনেকটা টিউব থেকে টুথপেস্টের বেরিয়ে আসার মতো । একে বলে স্লিপড ডিস্ক । এই জেলি শিরদাঁড়ার চারপাশের নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে । শুরু হয় ব্যথা । ঘাড়ে , পিঠে , কোমরে — শিরপাড়ার । যেকোনো জায়গাতেই এটা হতে পারে । ব্লিউ ডিস্কের চিকিৎসায় শিরদাঁড়ার ওপর চাপ কমাতে হবে । ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পিঠের মাংসপেশিগুলোকে সবল করতে হবে । স্লিড ডিস্কের ক্ষেত্রে অনেকসময় হাতের বা পায়ের আঙুলে টান ধরে ঝিনঝিন করে । কারণ নার্ভ রুটের ওপর চাপ পড়ে । তার ফলে দেখা দেয় সমস্যা ।

স্পন্ডাইলোসিস: এই রোগের ক্ষেত্রে হাড়ের ক্ষয় দেখা যায় । ঘাড়ে হলে বলে সারভাইকাল এবং কোমরে হলে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস । শিরদাঁড়ার এই দুটো অংশ সব থেকে বেশি নড়াচড়া করে বলে এখানেই হাড়ের ক্ষয় বেশি হয় । শিরদাঁড়ায় ক্রমাগত চাপ পড়ার ফলে একটু একটু করে বিভিন্ন ভার্টিব্রা ক্ষয়ে যেতে থাকে । বিশেষ করে যারা লেখাপড়ার কাজ করেন । যেমন ক্লার্ক , টাইপিস্ট , লেখক ,টেলারিং কর্মী এইসব মানুষের ঘাড়ের পেশিতে , হাড়ে চাপ পড়ে । ক্ষয়ে যেতে থাকে পেশি ও হাড় । ভারী মাল বইতে গিয়ে মুটে – মজুরদের মধ্যেও এটা হতে পারে । এই রোগের উপসর্গ ঘাড় , কাধ , পিঠ ও কোমরে অসহ্য ব্যথা হয় ঘাড় থেকে হাতে এবং কোমর থেকে ব্যথা ছড়াতে পারে । অনেক সময় আচমকা মাথা ঘুরে যায় , ঘাড় ঘোরাতে শরীর বাঁকাতে ও হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয় । হাত – পা মাঝে মাঝে ঝিনঝিন করে । রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজন শিরদাড়ার যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখানকার এক্স-রে , রক্তের টিসি , ডিসি , ই.এস . আর , সুগার ইত্যাদির পরীক্ষা । বিশেষ ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এম . আর . আই . ।

স্পন্ডাইলোসিস এড়াতে সতর্ক হতে হবে । যেমন টেবিলে বসে ঝুঁকে পড়াশোনা অন্য কাজ করবেন না । দেহের মেদ কমান । খেয়াল রাখতে হবে শিরদাঁড়ায় যেন বার বার চোট না লাগে , টেনশন কমাতে হবে , প্রতিদিন হালকা কিছু ব্যায়াম , কায়িক পরিশ্রম অবশ্যই করা দরকার ।

শিরদাড়ার সমস্যা এড়াতে কীভাবে বসে কাজ করবেন

 টেবিল এবং চেয়ারের হাইট এমন করুন যেন ঝুঁকে বসতে না হয় । কোনো কিছু পড়বার বা লিখবার সময় ঘাড় সোজা রাখুন । ইজিচেয়ার নয় , কাঠের শক্ত সোজা চেয়ারে বসতে হবে । একটানা কাজ না করে ঘণ্টাখানেক বাদে বাদে মিনিট পাঁচেক রিল্যাক্স করুন । বসে বসেই ঘাড়টাকে এপাশ – ওপাশ , সামনে – পিছনে বার কয়েক করুন । কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের সামনে মনিটর রাখুন , যাতে ঘাড় উঁচু করে কাজ না করতে হয় । ।

কীভাবে গাড়ি চালাবেন: হেলানো সিট চলবে না । সিট থাকবে সোজা । ড্রাইভার ঘাড় সোজা রেখে গাড়ি চালাবেন । স্কুটার বা বাইক চালাবার সময় কুঁজো হবেন না । হেলমেটটা যেন একটু হালকা হয় ।

কীভাবে শোবেন: বালিশ যেটা আপনি মাথায় দেবেন তা নরম হতে হবে । কিন্তু যে গদিতে আপনি শশাবেন সেটাও এমন হবে যা শক্ত ও নরমের মাঝামাঝি । বুকের নীচে বালিশ রেখে ঘাড় নীচু করে কিংবা চিত হয়ে শুয়ে বই পড়বেন না ।

চোখের স্ট্রেন থেকে: আলোতে যারা ঝুঁকে পড়েন , ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভির খুব সামনে থেকে খেলা বা সিরিয়াল দেখেন , যাদের চোখ । ট্যারা চোখে কোনো অসুখ আছে তাদের ঘাড় । ব্যথা করতে পারে । একটানা টেবিল ল্যাম্পের আলোতে পড়বেন না । বরং ৬০ ওয়াটের বালব । টেবিল থেকে চার ফুট উঁচুতে ঝুলিয়ে সেই আলোতে পড়ুন । সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে টিভি দেখবেন না । ঘরে অন্তত ৪০ ওয়াটের বালব জ্বলবে এবং সেটা থাকবে দর্শকদের পিছনে , টিভি থেকে অন্তত দশ ফুটের দূরত্ব থাকতে হবে ।

ঘরকন্নার কাজ: দাঁড়িয়ে রান্না করতে হবে । মশলা বাটা , কুটননা কাটা টেবিলে রেখে করুন । কাপড় কাচা বসেই করুন , কিন্তু ঘর ঝট দেওয়া – মোছা দাঁড়িয়ে ঝুঁকে না করে বসে বসেইকরা ভালো । কারণ এর ফলে যে ব্যায়ামটা হয় তাতে পেটের চর্বি কমে যায় । ঠাকুর ঘরে পদ্মাসনে বসে ঘাড় সােজা করে পুজো করুন । অল্প সময় নিয়ে প্রণাম করুন । কারণ বেশিক্ষণ ঝুঁকলে ভার্টিব্রায় চাপ পড়ে । ভারী জিনিস তােলার সময় একদম কোমর ভাজ করবেন না । ঝুঁকবেন না , পারলে জিনিসটা দুভাবে ভাগ করে ক্যারি করুন । অনেকসময় জল ভর্তি বালতি অথবা অন্য কোনো জিনিস তুলতে গিয়ে সটকা লাগে ।

পরিবেশ: স্যাঁতাস্যাঁতে  পরিবেশ , অতিরিক্ত ঠান্ডার প্রকোপ , এয়ারকন্ডিশনে অভ্যস্ত থাকতে থাকতে ঘাড়ে ব্যথা ও পেশির আড়ষ্টতা দেখা যায় ।

কী খাবেন না : সব ধরণের রেড মিট , শিম , মিষ্টি পাউরুটি , পালংশাক , মুসুর ডাল , ঘি – মাখনযুক্ত ফ্যাটি ফুড কম খেতে হবে ।

ওজন কমাতে হবে: কোনো জিমে ভর্তি হয়ে যান । ওখানে ফ্রিহ্যান্ড ও মেশিনপত্রের সাহায্যে ব্যায়াম করতে পারবেন । ওরা আপনার ওজন , উচ্চতা , বয়স ও কাজের ধরন অনুযায়ী ডায়েট চার্ট করে দেবেন ।

শিশুদের বেলায় ঘাড় সোজা করে শশায়াবেন । কোলে নেওয়ার সময় অবশ্যই ঘাড়ের তলায় হাত রাখবেন । বেশি জোরে জোরে ম্যাসাজ করবেন না । কারণ এতে মাংসপেশি ছিড়ে যেতে পারে ।

সেলুনে ম্যাসাজ: অনেকে সেলুনে চুল কাটার সময় ম্যাসাজ করান । কিন্তু যারা চুল কাটে তারা ঠিকমতো ঘাড়ের অ্যানাটমি না জানার কারণে মাংসপেশি ছিড়ে হতে পারে ফাইব্রোসাইটিস ।

শিরদাঁড়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিন আসন করুন । ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘরের মেঝেতে শতরঞ্চি পেতে ট্রেনারের । সহায়তায় আসন করুন । আসনের মধ্যে শলভাসন , ভুজঙ্গাসন , পবনমুক্তাসন , ধনুরাসন , বজ্ৰাসন ইত্যাদি । শিরদাড়ার সমস্যায় ম্যাসাজ ভালো কাজ দেয় ঠিক কথা , কিন্তু খুব বেশি ফোলা অংশে ম্যাসাজ কখনোই নয় ।

নানা ধরনের তাপ দেওয়া হয় , শুকনো গরম সেকে অনেকের ভীষণ ভালো কাজ হয় । গরম ও ঠান্ডা জলের সেঁকেও কিন্তু ব্যথা নিরাময় হয় । হটপ্যাডও পাওয়া যায় । নানা মডেলে এই প্যাড পাওয়া যায় ।

শিরদাড়ার ব্যথায় আকুপ্রেসার ও আকুপাংচার করলে ভালো ফল পাওয়া যায় । শিরদাড়ার চোটে যদি হাড় না ভেঙে থাকে , আকুপ্রেসার ও আকুপাংচার করলে দ্রুত ব্যথা কমে যায় ।

তবে সবসময় খেয়াল রাখা উচিত যেকোনো ওষুধ কিবা ব্যবস্থা নিজের খেয়াল – খুশিমতো নয় , অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চলা উচিত ।

শিগেলোসিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

শিগেলোসিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত শিগেলোসিস বা রক্ত আমাশয় আমাদের হজম ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। এটি শিগেলা নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার গোষ্ঠীর দ্বারা হয়। শিগেলা দূষিত জল এবং খাবার বা দূষিত মলের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শিগেলা সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, যদিও এটি যেকোনও বয়সেই হতে পারে। সাধারণত ছোটো বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায় কারণ তারা প্রায়ই নিজেদের আঙ্গুলগুলি মুখে ঢুকিয়ে রাখে। তাই, ব্যাকটিরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

শিগেলোসিসের লক্ষণসমূহ
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল ডায়রিয়া। ব্যাকটেরিয়া সংস্পর্শে আসার এক বা দুই দিন পর থেকে লক্ষণগুলি দেখা দেয়। তবে, এটি বিকাশ হতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

শিগেলোসিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলি হল-
ক) ডায়রিয়ার সাথে প্রায়ই রক্ত ​​বা শ্লেষ্মা বেরোয়
খ) জ্বর
গ) পেটে ব্যথা বা টান অনুভব করা
ঘ) বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

শিগেলোসিসের কারণ
ব্যাকটিরিয়া যখন আমাদের পাচন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে তখন সংক্রমণটি বিকাশ লাভ করে। ব্যাক্টেরিয়াগুলি বিষক্রিয়া ছড়াতে থাকে যার কারণে অন্ত্র জ্বালা করে। এর কারণগুলি হল –
ক) হাত না ধুয়ে খাওয়া বা মুখে ছোঁয়া
খ) দূষিত খাবার খাওয়া
গ) দূষিত জল পান করা

শিগেলোসিসের ঝুঁকির কারণ
ক) বয়স
খ) শিগেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সংস্পর্শে আসার ফলে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গ) বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া হয় এইরকম কেন্দ্রগুলিতে, কমিউনিটি ওয়েডিং পুল, নার্সিংহোম, জেল ইত্যাদিতে শিগেলার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।
ঘ) স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে এমন অঞ্চলে থাকা।

শিগেলোসিসের নির্ণয়
এই অবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ হল ডায়রিয়া, যা অন্যান্য ডিজিজকেও চিন্হিত করতে পারে। রোগীর শিগেলোসিস হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস ও বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। শিগেলা ব্যাকটিরিয়া বা টক্সিনের উপস্থিতির জন্য চিকিৎসক রোগীর মল পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন।

শিগেলোসিসের চিকিৎসা
এই সংক্রমণ সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে চলে। এর চিকিৎসাগুলি হল –
ক) তীব্র শিগেলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে, অ্যান্টিবায়োটিকগুলি অসুস্থতার সময়কাল হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেন কারণ কিছু শিগেলা ব্যাকটিরিয়া ড্রাগ-প্রতিরোধী তাই কেবল সংক্রমণ তীব্র হলেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
খ) স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, ডায়রিয়ার নানান প্রভাবগুলি প্রতিরোধ করার জন্য জল পান করা যথেষ্ট। বাচ্চারা ওরাল রি-হাইড্রেশন সমাধান থেকে উপকৃত হতে পারে। গুরুতরভাবে ডিহাইড্রেটেড ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন।

শিগেলোসিস প্রতিরোধ
শিগেলার ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এখনও গবেষণা চালানো হচ্ছে।
তবে, এইমূহূর্তে চিকিৎসকরা এই অবস্থার সূত্রপাত রোধ করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলির পরামর্শ দেয়-
ক) ছোটো বাচ্চাদের হাত ধোওয়ার সময় খেয়াল রাখুন
খ) ঘন ঘন, ভাল ভাবে হাত ধোবেন
গ) দূষিত পুকুর, সুইমিং পুল এড়িয়ে চলুন
ঘ) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এমন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে চলুন
ঙ) আপনার ডায়রিয়া হলে অন্যের জন্য খাবার প্রস্তুত করবেন না
চ) ব্যবহৃত ডায়াপার সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করুন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে।

জেরোসিস কাটিসের কারণ
ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়। যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়, সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত

বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর।
ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে। ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে।
জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে –
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা

জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়। এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

এ বিষয়ে পরামশের্র জন্য যোগাযোগ করুন :
আলমগীর আলম, 29 বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা, কল – 01611010011

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস হল সাধারণ বেদনাদায়ক ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ যা সাধারণত পায়ের নীচের ত্বকে প্রভাব ফেলে। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মুখ, বাহু বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। এক্ষেত্রে, ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের কারণে ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং স্পর্শে বেশ বেদনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সেলুলাইটিস সাধারণত ত্বকের পৃষ্ঠদেশে বিকাশ করে এবং সংক্রমণটি লিম্ফ নোড এবং রক্ত ​​প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে।

কারণ
সেলুলাইটিস তখনই দেখা দেয়, যখন স্টাফিলোকক্কাস এবং স্ট্রেপ্টোকোকাসের মতো নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়াগুলি কোনও কাটা, আঁচড় বা সার্জিকাল ক্ষতের মাধ্যমে ত্বকের সংস্পর্শে আসে। পশুর কামড়ও সেলুলাইটিসের কারণ হতে পারে।

সেলুলাইটিসের প্রকার
স্তন সেলুলাইটিস – এটি একটি জটিলতা যা স্তন ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপির পরে বিকাশ করতে পারে।
পেরিঅরবিটাল সেলুলাইটিস – এই ধরনের সেলুলাইটিস চোখের চারপাশে বিকাশ করে। ফেসিয়াল সেলুলাইটিস – ফেসিয়াল সেলুলাইটিস নাক, গাল এবং চোখের চারপাশে বিকাশ করে।
পেরিয়েনাল সেলুলাইটিস – এটি মলদ্বারে সংক্রমিত হয়।

সেলুলাইটিসের লক্ষণসমূহ
ক) ত্বকে ফোলা এবং লালচে ভাব
খ) নরম ভাব অনুভূত হওয়া এবং ব্যথা
গ) আক্রান্ত জায়গায় গরমভাব
ঘ) জ্বর
ঙ) বমি বমি ভাব
চ) ঠান্ডা ঘাম
ছ) অবসাদ
জ) মাথা ঘোরা
ঝ) পেশী ব্যথা
ঞ) পুঁজযুক্ত ত্বকের ঘা

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, চিকিৎসকরা সংক্রমিত ত্বকটি পরীক্ষা করে সেলুলাইটিস নির্ণয় করে এবং রোগীর ত্বকে সাম্প্রতিক কোনও আঘাত আছে কি না, তার মেডিকেল অবস্থা রয়েছে এবং রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন তা জিজ্ঞাসা করে।
এর চিকিৎসা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সেলুলাইটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫ – ১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কয়েকদিন পরেই, উপসর্গগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়। যদি সংক্রমণটি গুরুতর হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি ইন্ট্রাভেনাসের মাধ্যমে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শও দিতে পারেন।

সেলুলাইটিস প্রতিরোধ
ক) সংক্রমণ রোধ করতে পোকামাকড়ের কামড়, আঁচড় থেকে এড়িয়ে চলুন।
খ) ত্বকে ফাটল রোধ করতে ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখুন।
গ) স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
ঘ) ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমাবদ্ধ করুন।

এ বিষয়ে পরামশের্র জন্য যোগাযোগ করুন : আলমগীর আলম, 29 বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা, কল – 01611010011

নিউমোনিয়া : লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

নিউমোনিয়া : লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

মানব সভ্যতার যুগের উন্নতি, আদি বন্য শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষে রূপান্তর। জাগতিক নিয়ম মেনে সময় চক্রে বিবর্তন ও পরিবর্তন হলেও মানবজীবনে পিছু ছাড়ছে না মারণ রোগ। কোনও না কোনও ক্ষেত্রেই রোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে মানব জাতিকে। ক্যান্সার যক্ষা থেকে কঠিন ব্যাধি মৃত্যুশয্যায় ঠেলে দিচ্ছে বহু প্রাণকে। তেমনই এক রোগ নিউমোনিয়া।

বর্তমান দিনে এই রোগের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সমস্ত বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে এই রোগে। পৃথিবীতে মৃত্যুর অষ্টম কারণ হিসেবে চিহ্নিত এই রোগ। কি এই নিউমোনিয়া? চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক।

নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া হলো মানব শরীরের ফুসফুসের সংক্রমণজনিত বা প্রদাহ জনিত একটি রোগের নাম। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণে এই রোগের সৃষ্টি হয়। অ্যাডেনো ভাইরাস, রাইনো ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং প্যারেনোফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে দেখা দেয় এই রোগ।

রোগের কারণ
ফুসফুসে স্ট্রেপ্টোকোকাস ব্যাকটেরিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের আর এস ভি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে এই রোগের উৎপত্তি। এই সংক্রমণের ফলে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে, অক্সিজেন গ্রহণে সমস্যায় পড়তে হয়। এই রোগ মূলত শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। কারণ এই বয়সে শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেকটাই কম থাকে। যার ফলে অতি সহজেই এই রোগ আক্রমণ করে। তবে তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই রোগের প্রবণতা দেখা যায়।

রোগের লক্ষণ
এই রোগের লক্ষণ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত শীতকালে এই রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। শীতকালে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা কম থাকায় নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ সহজেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

সাধারণ লক্ষণগুলো হল
১) জ্বর
২) ক্লান্তি অনুভব করা
৩) মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হওয়া
৪) কাশি
৫) শ্বাসকষ্ট
৬) শরীরে কাঁপুনি
৭) বুকে ব্যথা
৮) শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট
৯) মাথাব্যথা
১০) শরীরের মাংস পেশী ব্যথা
১১) খাওয়ার প্রতি অনীহা
১২) বমি বমি ভাব
তবে, এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি থেকে এই রোগের জীবাণু অন্য ব্যক্তির মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। তাই রোগীর কাছে যাওয়ার সময় বা কোনও হাসপাতালে যাওয়ার সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

রোগের চিকিৎসা
এই রোগের চিকিৎসা সাধারণত নির্ভর করে কী ধরনের নিউমোনিয়া রোগীকে আক্রমণ করেছে তার উপর। জ্বর, সর্দি, কাশি হলে ঘরোয়া বা সামান্য কিছু ঔষধের সাহায্যে তা সারিয়ে তোলা যায় কিন্তু এই রোগের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। এই রোগের নির্ণয় সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। প্রাথমিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা করা উচিত।
১) জ্বর সর্দি কাশি হলে যদি কমতে না চায় তবে দুই থেকে তিন দিনের মাথায় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
২) ডাক্তারের পরামর্শে সিটিস্ক্যান এবং বুকের এক্সরে করাতে হবে।
৩) সঠিক রক্ত পরীক্ষা এবং কফ বা শ্লেষ্মা পরীক্ষা করতে হবে
৪) ওষুধ চলাকালীন পাঁচ থেকে ছয় দিনের মাথায় চিকিৎসায় সাড়া না পেলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
৫) চিকিৎসা চলাকালীন অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স গ্রহণ করবেন ,তা না করলে ভবিষ্যতে এই রোগের চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
৬) ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ছত্রাক জাতীয় নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করুন। এটি কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারে সংক্রমণটি ধীরে ধীরে নির্মূল হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধ
১) ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা নিউমোনিয়া রোগের ক্ষেত্রে খুবই খারাপ। তাই প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।
২) ঠান্ডা লাগা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
৩) নিউমোনিয়া প্রতিরোধক টিকা সময়মতো নিতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪) যারা ফুসফুস ,লিভারে ও হৃদযন্ত্রের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রয়েছেন তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিউমোনিয়ার ‘বুস্টার ডোজ’ টিকা নিতে পারেন।
৫) ধুমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
৬) নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বজায় রাখতে হবে।
৭) এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে এবং শরীরকে বিশ্রাম দিতে হবে।
৮) অন্যের সামনে হাঁচি বা কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৯) ডায়াবেটিস ও এইডস-এ আক্রান্ত রোগীদের নিয়মমাফিক চিকিৎসা করাতে হবে।

এ বিষয়ে পরামশের্র জন্য যোগাযোগ করুন : আলমগীর আলম, 29 বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা, কল – 01611010011