সারা বিশ্বের মধ্যে যে কটা দেশে প্রথম বারের জন্য চা পানের রেওয়াজ শুরু হয়েছিল তার মধ্যে এদেশের স্থান ছিল একেবারে উপরের দিকে। কারণ চা নামক যে একটা পানীয় রয়েছে সে নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছিল ভারতের মাটি থেকেই। তাই প্রতিটি ভারতীয়ের সঙ্গেই চায়ের সম্পর্কটা যে বেশ গভীর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই কারণেই শুধু বাঙালির নয়, প্রতিটি ভারতবাসীরই হুলদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চায়ের উপরকারিতা সম্পর্কে জানা উচিত। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এক কাপ ফোটানো জলে পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো, তার সঙ্গে মধু এবং অল্প করে আদা মিশিয়ে পান করলে শরীরে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য ভিটামিনের প্রবেশ তো ঘটেই। সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম সহ আরও নানাবিধ মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। ফলে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় একাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন…

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা শুরু করলে শরীরে কার্কিউমিন নামক উপাদানের প্রবেশ ঘটে, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদের বার করে দেওয়ার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দেহের ইতিউতি জমে থাকা মেদকে ঝরিয়ে ফলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প সময়ে যদি মেদ ঝরাতে চান, তাহলে রোজের ডায়েটে টার্মারিক টিকে জায়গা করে দিতে ভুলবেন না যেন!

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! চোখের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাস্তবিকই টার্মারিক টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে হলুদের অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে রেটিনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি চোখে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে যাতে অন্ধত্বের মতো ভয়ঙ্কর কিছু না ঘটে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাই তো বলি বন্ধু, যারা দিনের মধ্যে ৮-৯ ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করুন, তাদের নিয়ম করে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা উচিত।

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন রক্তে জমতে থাকা এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে স্বাভাবিভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আসলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমতে শুরু করে, তত হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে:

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে হলুদে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, শরীরে যাতে ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে না পারে সেদিকে খেয়াল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন হলুদ চা খাওয়া কতটা প্রয়োজন।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে: নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরের অন্দরে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে থাকে, যার প্রভাবে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়ার স্বপ্ন একেবারে হাতের মুঠোয় চলে আসে।

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে:

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে: নিয়মিত হলুদ মেশানো চা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে ছোট-বড় সব ধরনের স্কিন ডিজিজের প্রকোপই কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো মারাত্মক ত্বকের রোগের চিকিৎসাতেও এই বিশেষ পানীয়টি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক, আর পেটুক মানেই বদহজম রোজের সঙ্গী! তাই তো প্রতিটি বাঙালির নিয়ম করে হলুদ চা খাওয়া উচিত। কারণ হলুদে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান পাকস্থলিতে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়ার শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে হজন ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে বদ-হজম দূরে পালায়।

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে:

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে: হলুদে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের শরীরে থেকে বার করে দেয়। ফলে ব্রেন সেল ড্যামেজের আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে কার্কিউমিন মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে বুদ্ধির জোরও বাড়তে থাকে।

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে হার্টে রক্ত সরবরাহকারি আর্টারিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার বা হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, স্ট্রোকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতেও হলুদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হার্টকে যদি দীর্ঘদিন চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া মাস্ট!

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে:

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন নামক উপাদান ব্রেন সেলের যাতে কোনও ভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখে। তাই তো নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া শুরু করলে ব্রেন পাওয়ার এতটা বৃদ্ধি পায় যে মস্তিষ্ক সম্পর্কিত কোনও রোগই ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। তাই তো বলি বন্ধু যাদের পরিবারে এই ভয়ঙ্কর রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত হলুদ চা খাওয়া শুরু করা উচিত। এবার নিশ্চয় বুজে গেছেন বন্ধু, সাধারণ চায়ের পরিবর্তে টার্মারিক টি খাওয়ার প্রয়োজন কতটা…!