আড্ডার মধ্যমণি, স্বাস্থ্যেও সমান

আড্ডার মধ্যমণি, স্বাস্থ্যেও সমান

প্রথম জাতীয় চা দিবসের বিশেষ আয়োজন

পানির পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক উপভোগ্য পানীয়। যেকোনো আড্ডা ও আপ্যায়নে চা প্রধানতম পানীয়; যা দিয়ে মানুষ স্বচ্ছন্দে আপ্যায়িত হয় এবং আপ্যায়ন করতে মানুষ পছন্দ করে। এর একধরনের স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ রয়েছে এবং মানুষ এটি উপভোগ করে। ক্লান্তি ও অবসাদে চা মানুষের মধ্যে প্রশান্তি এনে দেয়। চা শুধু আপ্যায়নের উপচার নয়, স্বাস্থ্যরক্ষায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য খারাপ গুণ থাকলেও চায়ে পুষ্টিগুণ যা আছে, তাতে চা খাওয়াই যেতে পারে।

চা–গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। চায়ে পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ক্যাটেচিন পলিফেনলস এবং ক্যাটেচিন থাকে, যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ কারণে চা ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চায়ে উপস্থিত পলিফেনলসের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি, যা দেহের অভ্যন্তরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। চায়ে ৭ শতাংশ থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন রয়েছে, যা শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির জন্য বিশেষ উপকারী।

আমাদের এ অঞ্চলে চায়ের একটি ইতিহাস আছে, চা খাওয়ার প্রচলন চীন করলেও একে বহির্বিশ্বে পরিচয় করিয়েছে ইউরোপ, বিশেষ করে ব্রিটিশ ও ওলন্দাজরা। এই অঞ্চলে উপনিবেশ করার সঙ্গে চায়ের আমদানি হয়। বিশেষত ব্রিটিশরা স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠার করার পর এখানে চাষ করা শুরু করে, বিশেষ করে বৃষ্টিপ্রধান এলাকা দার্জিলিং ও সিলেট অঞ্চলে চায়ের বাগান করে। এখানে প্রচুর পরিমাণে জন্মানো চা–গাছ ছিল ক্যামেলিয়া সিনেনসিস অসমিকা নামে একটি উপপ্রজাতির। গ্রিন টির চেয়ে আসাম টি বেশি স্বাদযুক্ত কালো রঙের ছিল।

সাধারণভাবে প্রাথমিক ইংলিশ ব্রেকফাস্টের অন্তর্ভুক্ত আসা রং কড়া থাকায় তা লোকজন দুধসহকারে পান করত। বর্তমানে ব্রিটেনে সাধারণ ইংলিশ ব্রেকফাস্ট বা প্রাতরাশের সঙ্গে দেওয়া চা দুধসহকারে পান করা হয় কিন্তু ইউরোপ মহাদেশের অন্যান্য স্থানে চায়ের সঙ্গে দুধ খুব কমই পরিবেশন করা হয়। এর কারণ মূলত ইন্দোনেশিয়ার জাভা থেকে নেদারল্যান্ডসে যে চা যেত, তা ছিল অনেক হালকা এবং তার সঙ্গে দুধ যোগ করার প্রয়োজন হতো না। এর ফলে ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে এই চা–কে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

যেহেতু চা আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের নিত্যসঙ্গী, সেহেতু এই চা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী এবং কতটুকু অপকারী, তা জেনে রাখা শ্রেয়।

আমাদের হরেক রকম চা ও তার উপকারিতা

আদা চা: আদা চা খুবই উপকারী; বিশেষ করে সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে এটি ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। গরম আদা–চা পান করলে গলাব্যথা কমে যায়। অ্যাসিডিটির বিরুদ্ধেও আদা–চা কাজ করে। এমনকি আদা–চা পান করলে হজমের সমস্যা কমে।

দুধ–চা: ক্লান্তি দূরীকরণে খুবই কার্যকর। নিয়মিত চা পানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। চা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫ গুণ কমিয়ে দেয়।

লাল–চা: এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ ও অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধ করে দেহকে সুরক্ষা দেয়। লাল–চা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। হজম ভালো করে। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে। লাল–চা অন্ত্রের প্রদাহ রোধেও কাজ করে।

গবেষণায় বলা হয়, লাল–চা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। তা ছাড়া এর মধ্যে থাকা ফ্লোরাইড মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে, এটি স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে। আমেরিকার ন্যাশনাল টি ইনস্টিটিউটের ‘টি অ্যান্ড ক্যানসার’বিষয়ক একটি নিবন্ধ জানিয়েছে, চায়ের উপকারিতা ক্যানসারের মতো সমস্যায় উপকারী। নিয়মিত এক কাপ রং–চা খেলে স্তন ক্যানসার, কোলোন ক্যানসার ও অন্যান্য আরও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট–সমৃদ্ধ হলেও এতে রয়েছে ক্যাফেইন নামক উত্তেজক পদার্থ, সাধারণত চায়ে ক্যাফেইন রয়েছে, বস্তুত ক্যাফেইনের কারণেই ঘুম কম হওয়া, হজমে ব্যাঘাত ঘটা ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

চা সম্পর্কে ভুল ধারণা

চা সম্পর্কে আমাদের অনেকের ভুল ধারণা আছে। যেমন চা খেলে রাতে ঘুম আসে না, চা লিভারের ক্ষতি করে, চা চামড়া কালো করে ইত্যাদি। যদিও চা খেলে গায়ের রং কালো হবে না, কারণ ত্বকের রং নির্ভর করে ম্যালানোসাইট কোষের সক্রিয়তার ওপর। চা পান করলে লিভারের কোনো ক্ষতি হয় না, তবে এটা মনে রাখতে হবে যে অতিরিক্ত চা পান করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে; যেমন অবসাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। ইদানীং বিভিন্ন স্থানে হরেক রকম চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানে দুধের সর দিয়ে চা বানানো হয়, তা কিন্তু চা আর থাকে না, বরং সেটা দুধের পদ হয়ে যায়। ওটা মোটেও চা নয়।

চা বানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, প্রথমে পানি বেশ কিছুক্ষণ ফুটতে দিতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে পানিতে প্রতি কাপের জন্য এক চা-চামচ করে পাতা দিয়ে কেটলি ঢেকে রাখতে হবে, যাতে চা ঠান্ডা হয়ে না যায়। চার থেকে পাঁচ মিনিট পর কাপে ঢেলে নিয়ে পান করতে হবে।

আড্ডা হোক আর আপ্যায়ন, কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে চা খাওয়ার প্রচলন কোনো অবস্থায় ভালো কিছু নয়। তাই এটা পরিহার করা উচিত। আর চিনি খাওয়াও ক্ষতিকর। তাই যতটা পারা যায় চিনি পরিহার করেই চায়ের আসল স্বাদ গ্রহণ করা।

জাতীয় চা দিবসে চা হয়ে উঠুক আড্ডার মধ্যমণি!

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

গাঁজানো রসুন-মধু : উত্তম ভেষজ প্রতিকার

গাঁজানো রসুন-মধু : উত্তম ভেষজ প্রতিকার

রসুন ও মধুর মিশ্রণ হলো এক উত্তম ভেষজ প্রতিকার, যা সর্দি-কাশি নিরাময়ের পাশাপাশি ওজন হ্রাস করতে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই মিশ্রণের প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রসুন ও মধু

রসুনে অ্যালিসিন রয়েছে, একটি অর্গানসালফার যৌগ, যা প্রতিরোধের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক গবেষণায় বলা হয়, রসুন থেকে অর্গানসালফার যৌগিক সম্ভাব্যভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ ক্রিয়াকলাপগুলো থাকে।

মধুতেও এমন জৈব যৌগ থাকে, যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। ফলে রসুন ও মধু—এ দুটি উপাদান একত্র হলে শরীরে প্রতিরোধব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এ জন্য এই মিশ্রণ একটি শক্তিশালী ঘরোয়া উপায় হিসেবে বিবেচিত। ভেষজ প্রতিকার হিসেবে রসুন ও মধু রাখার সর্বাধিক সাধারণ উপায় সম্পর্কে জানানো হলো।

গাঁজানো রসুন-মধুর রেসিপি

উপকরণ

রসুনের কোয়া ১২টি, মধু ২৫০ গ্রাম
(পরিমাণ বেশিও করতে পারেন কিন্তু এই অনুপাতে করতে হবে।)

প্রণালি

গাঁজানো রসুনের মধু তৈরি করতে একটি পরিষ্কার হিটারপ্রুফ গ্লাস জার নিন। সেই জারে খোসা ছাড়ানো রসুনের কোয়া দিন। এবার এর মধ্যে মধু ঢেলে দিন। মুধ এমনভাবে ঢালুন, যাতে রসুনের কোষগুলো যেন মধুতে ডুবে যায়। এরপর জারের মুখটি ভাল সুতি কাপড় দিয়ে বেঁধে তিন দিন রেখে দিন।

তিন দিন পর জারের কাপড় খুলে চা–চামচ দিয়ে রসুনগুলো নেড়ে দিন। আবার মুখ বেঁধে রেখে দিন আরও এক সপ্তাহ। এরপর আবারও জারের মুখ খুলে রসুনগুলো নেড়ে দিন। এভাবে আরও তিন সপ্তাহ করুন। মোট এক মাস সময় হলেই রসুন-মধু ফারমান্টেড হয়ে খাবার উপযুক্ত হয়ে যাবে। এই গাঁজানো রসুন-মধুর জারটিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই গরম করা যাবে না, গরম জায়গায় রাখা যাবে না, এমনকি ফ্রিজেও রাখা যাবে না।

ব্যবহারবিধি

গাঁজানো রসুন-মধু টনিকটি দিনের যেকোনো সময় খেতে পারবেন। দিনে এক কোয়া রসুনসহ এক চা–চামচ মধু সেবনযোগ্য।

উপকারিতা

বিকল্প প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ড্রাগ

২০১৩ সালের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে তাজমা মধুর (স্টিংলেস মৌমাছির ইথিওপিয়ায় উত্পাদিত মধু) সঙ্গে মিশ্রণে রসুনের যে শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে, তা গবেষকেরা উদ্ঘাটন করেন। তাঁরা দেখতে পান যে রসুন-মধুর মিশ্রণ সালমোনেল্লা, স্টাফিলোকক্কাস অরিয়াস, লায়রিয়া মনসিটিজেনস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর।

ভেষজ টনিক এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে, যা প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণ করে। অন্য একটি গবেষণায় এই ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং এ–ও প্রমাণ করেছে যে যখন গাঁজানো রসুন-মধু একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়, তখন তারা একে অপরের জীবনযাত্রাকে দীর্ঘায়িত বা উন্নত করে, নিজের গুণকে বৃদ্ধি করে।

গাঁজানো রসুন-মধু সংগ্রহ করতে এখানে ক্লিক করুন

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস

রসুন, তাজা, গুঁড়া—বিভিন্নরূপে দীর্ঘকাল ধরে শক্তিশালী প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা যায়, রসুন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে। একইভাবে মধু ফিনলিক যৌগে সমৃদ্ধ, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ও কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। এ কারণে হৃদরোগজনিত সমস্যায় গাঁজানো রসুন-মধু অনেক বেশি ঔষধি হিসেবে কাজ করে, রক্ত সাবলীল থাকার কারণে হার্টে ব্লক হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। যাদের ব্লক আছে, তা আর বাড়তে দেয় না। হার্টরেট ঠিক রাখে, যাতে শরীরে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।

প্রাকৃতিক ঠান্ডা ও ফ্লু থেকে মুক্তি দেয়

মধুর শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রসুনের প্রধান উপাদান অ্যালিসিন শরীরের শ্বেত রক্ত কোষে রোগ প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। বিশেষত, যখন তাদের মধ্যে সাধারণ সর্দি ও ফ্লু হওয়ার কারণ রয়েছে, এমন ভাইরাসের মুখোমুখি হয়। গাঁজানো রসুন, বিশেষত সর্দি ও ফ্লুর তীব্রতা হ্রাস করতে সহায়তা করে। যাঁরা বছর ধরে ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত থাকেন, তাঁদের জন্য এটা বিকল্প ওষুধ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত খেলে আস্তে আস্তে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে আসবে। শিশুদের ঠান্ডা লাগার ক্ষেত্রেও বিশেষ উপকারী।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে
আমরা জানি, আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার একটি বড় আশ্রয় হলো আমাদের শরীরে ইমিউন সিস্টেম। এই ইমিউন সিস্টেমকে সঠিক রাখার জন্য গাঁজানো রসুন-মধু বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের শরীরে রক্তপ্রবাহ ও শরীরে পিএইচের মাত্রা স্থিতিশীল রেখে ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের দুর্গ তৈরি করতে সহায়তা করে।

অন্যান্য স্বাস্থ্যসুবিধার মধ্যে রয়েছে

• ওজন হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারে।
• মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে।
• ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবেও কাজ করে।
• মুড ভালো রাখে।
• শরীরে কফ জমতে পারে না, যা শিশুদের খুবই প্রয়োজন।
• রক্তে চিনির প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে মাথা ঠান্ডা রাখে।
• স্মরণশক্তি হ্রাসের প্রবণতা কমায়।
• এনার্জি লেবেল বজায় রাখে।

আরেকটা দিক দেখে নেওয়া ভালো

সাধারণত, ভেষজ প্রতিকার হিসেবে মধুতে রসুন অল্প পরিমাণে থাকে। এই মিশ্রণ ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে না। আপনার নিশ্বাসে দুর্গন্ধ বা সম্ভবত শরীরের গন্ধ থাকতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে, কাঁচা রসুন অম্বল বা অস্থির পেটের কারণ হতে পারে। রসুন ও মধু উভয়ই নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। পরাগজনিত অ্যালার্জি যাদের আছে, তাদের মধু খাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মধুতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে; তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পরিমিত খাওয়া উচিত।

এই গাঁজানো রসুন-মধুর উপকার পেতে হলে খাঁটি মধুর বিকল্প নেই। আর দেশি এক কোয়া রসুন আদর্শ।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ

গাঁজানো রসুন-মধু সংগ্রহ করতে এখানে ক্লিক করুন

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

স্বাস্থ্যকর নয় ঠান্ডা পানি

স্বাস্থ্যকর নয় ঠান্ডা পানি

এই গরমে ঠান্ডা পানি যেন সুহৃদ। বাইরে থেকে ফিরে ঘর্মাক্ত অবস্থায় ফ্রিজ থেকে বের করে ঢক ঢক করে পান করে ফেলি ঠান্ডা পানি। অথচ এর কুফল সম্পর্কে আমরা অবহিত থাকি না।

ব্যথা উপশমে আকুপ্রেশার

ব্যথা উপশমে আকুপ্রেশার

ব্যথা কমানোর বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি আকুপ্রশার। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা যেতে পারে দিনে ও রাতে। তাতে সমস্যা সমাধান হবে। উপশম হবে ব্যথার।

আমাদের সমাজে এখন প্রধান ব্যাধি শরীরজুড়ে ব্যথা; কারও কোমরব্যথা, কারও হাঁটুব্যথা কিংবা ঘাড়, গোড়ালি, পিঠ, পেশির ব্যথা। তার সঙ্গে কমন একটি ব্যথা হচ্ছে মাথাব্যথা। ব্যথা কমানোর জন্য ভূরি ভূরি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া আর নানা ধরনের প্রলেপ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা নানা নামের মলম। যতক্ষণ ওষুধের কার্যক্ষমতা আছে, ততক্ষণ ভালো। কিন্তু সেটা কমে গেলে ব্যথা আবার ফিরে আসে। মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়ে আর ব্যথা বাড়তে থাকে। নানা ধরনের ব্যায়াম করার চেষ্টায়ও কমতি থাকে না। কিন্তু ব্যথা থেকেই যায়।

ব্যথার জন্য প্রচলিত চিকিৎসা ছাড়াও বিকল্প চিকিৎসা আকুপ্রেশার দিয়ে ব্যথা কমানো যায়। এর ভালো দিক হচ্ছে নিজে নিজেই ব্যথা কমানোর আকুপ্রেশার করা যায়। শুধু হাত দিয়ে নিজেই আকুপ্রেশার করে অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব!

কোমর ব্যথার নানা কারণ

আমরা সাধারণত দেখে থাকি মেরুদণ্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, মেরুদণ্ডের মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, ডিস্কের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কোমরব্যথা হয়ে থাকে। চলাফেরা, খুব বেশি ভারী ওজন তোলা, মেরুদণ্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, কম্পিউটার ও মোবাইল অধিক হারে ব্যবহার, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া, সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য এ ব্যথা দেখা যায়।

অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে বয়সজনিত মেরুদণ্ডের ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরেসিস, এনকাইলজিং স্পন্ডেইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার, ক্যানসার, বোন টিবি, কোমরের মাংসে সমস্যা, বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন প্রভৃতি।

কোমরব্যথার লক্ষণ

কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদণ্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিন-শিন বা ঝিন-ঝিন জাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিঁচ ধরে আসে বা কোমর আটকে (লক) যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোনো এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
মুক্তি দিতে পারে আকুপ্রেশার।

আকুপ্রেশার হচ্ছে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবহমান জৈব বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত একটি চিকিৎসাপদ্ধতি; রোগী নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে পারবেন শুধু নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে চাপ দিলেই ঠিক নির্দিষ্ট স্থানের ব্যথা কমে আসে। এখনো এটা নিয়ে বিস্তর ট্রায়াল হয়নি, তবে নানা উপায়ে স্বীকার করা হচ্ছে, আকুপ্রেশার কার্যকর একটি চিকিৎসাপদ্ধতি বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত পেইন ম্যানেজমেন্ট থেরাপি। উন্নত বিশ্বে এখন বিভিন্ন থেরাপি সেন্টারে আকুপ্রেশার স্থান করে নিয়েছে।

কীভাবে আকুপ্রেশার শুরু করব?

আপনার শরীরে যে ব্যথাই থাকুক, দুহাতের তালুতে দুই মিনিট ঘষতে হবে যাতে করে হাতের তালু দুটো গরম হয়ে যায়, তারপর গরম হাত দুটো এক হাত অন্য হাতে চাপ দিতে হবে, এতে সময় নেবেন তিন মিনিট। এবার কোমরের ব্যথার জন্য তর্জনী বা ইনডেক্স ফিঙ্গারের উপরিভাগে কবজি থেকে আঙুলের নখ পর্যন্ত আস্তে আস্তে করে চাপ দিতে হবে, বিশেষ করে থাম্ব বা বুড়ো আঙুল আর তর্জনী যেখানটা মিলেছে সেটায় চাপ দিলে ব্যথা অনুভব হবে, যেখানে ব্যথা হবে সেখানে নিয়মিত ১০০ বার চাপ দিতে হবে। একটি চাপের সঙ্গে আরেকটি চাপের মধ্যে দুই সেকেন্ড বিরতি দিয়ে চাপ দিতে হবে। ঠিক ছবিতে দেওয়া চিহ্নে চাপ দিতে হবে। দুই হাতে একই নিয়মে আকুপ্রেশার করতে হবে, সারা দিনে দুবার খালি পেটে নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।

যাদের হাঁটুতে ব্যথা আছে তারা কোমরের পয়েন্ট ছাড়াও কড়ে আঙুলের নখের সাইড থেকে কবজির হাড় পর্যন্ত পাশ দিয়ে বৃদ্ধ আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ব্যথা পাওয়া যাবে, যা হাঁটুর পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়, বিশেষ করে কবজির উপরিভাগে এবং ঠিক কড়ে আঙুলের শুরু হয়েছে, এমন স্থানে চাপ দিলে কাঁধে ব্যথা আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ঠিক এই সাইডে ওপর থেকে নিচে প্রতিটি স্থানে চাপ দিয়ে নামতে হবে, এভাবে ১০০ বার করে দুই হাতে চাপ দিলে হাঁটু, হাতের কনুই ও কাঁধের ব্যথা কমে আসবে। এটাও দুই হাতে সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে শোয়ার আগে নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে হবে।

আকুপ্রেশার করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হয়

যেহেতু আক্রান্ত হাতও আপনার, মুক্তির হাতও আপনার, তাই বলে সারা দিন হাত চাপা যাবে না। নিয়মিত ডোজের মতো করে সকালে খালি পেটে এবং রাতে শোয়ার আগে উত্তম সময়। অফিসে যাওয়া এবং আসার সময় গাড়িতে বসে আকুপ্রেশার করতে পারবেন। দিনে দুবেলার বেশি নয় এবং সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন এক দিন বিরতি দিন, তাতে উপকার বেশি পাবেন। নিয়মিত আকুপ্রেশার করলে হাত ঝিনঝিন করা, অবশ হয়ে যাওয়া ও স্নায়ুজনিত সমস্যায় অনেক উপকারে আসে।
প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যথা কমানোর জন্য আদাজল উত্তম পথ্য
প্রতিদিন দুবেলা খাওয়ার আধঘণ্টা পরে এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ আদার রস দিয়ে জ্বাল দিতে হবে, সেই আদাজল চায়ের মতো করে খেলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, সেই সঙ্গে হজমের সমস্যারও উপকার হয়।
এই আধুনিক যুগেও কোমরব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

লেখক: আলমগীর আলম
খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

বিলম্বের ঘুমে জীবনীশক্তি ক্ষয় হয়

বিলম্বের ঘুমে জীবনীশক্তি ক্ষয় হয়

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক চার লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন, যারা রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান, সকালে ঘুম থেকে দেরি করে ওঠেন, তারা কোনো না কোনোভাবে নানান মানসিক রোগে আক্রান্ত। এমন তথ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যে বেশ সাড়া পড়েছে, বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে—যারা এ কাজটি প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, পড়াশোনার কারণে হোক বা কাজের কারণে কিংবা নিছক আড্ডার কারণেই যারা বেশি রাতে ঘুমাতে যান, তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৩৩ হাজার যুক্তরাজ্যবাসীর ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী যারা বেশি রাতে ঘুমান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের মধ্যে যে সমস্যাগুলো দেখা যায়, সেগুলো হলো—

  • অকালমৃত্যুর ঝুঁকি
  • গড় আয়ু কমে যাওয়া: ৬.৫ বছর কম গড় আয়ু
  • বিভিন্ন মানসিক রোগ: ৯০ ভাগের
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা: ৩০ ভাগ মানুষের
  • হজমশক্তিতে ব্যাঘাত
  • নার্ভাস সিস্টেমে জটিলতাঅন্ত্রের জটিলতা

যুক্তরাজ্যের এই গবেষণা রিপোর্টের ফলে সে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখন চাকরি নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, রাতে কয়টায় ঘুমাতে যান এবং সকালে কয়টায় ঘুম থেকে ওঠেন?

আমাদের দেহ ঘড়ি সূর্যের সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত। ছবি: জোহানেস প্লেনিও, পেকজেলস ডট কম

যুক্তরাজ্যের এই অবস্থা আমাদের সমাজে এখন ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য। এখন গ্রামগঞ্জেও মধ্যরাতে চা পাওয়া যায়, অর্থাৎ চা খাওয়ার লোক থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। আর শহুরে মানুষের জীবনব্যবস্থা আরও বেশি রাত জাগানির্ভর। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষ অফিস বা কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরেন ৯টা থেকে ১০ টায়, নিম্ন আয়ের মানুষ আরও দেরিতে ফেরেন ঘরে। রাতে খাবারের রেস্টুরেন্ট বেশি ব্যস্ত থাকে। বিরিয়ানি খাওয়া নতুন প্রজন্ম রাত গভীর হলেই খেতে যায়। ঢাকা শহরে এখন অনেক রেস্টুরেন্ট পাড়ার মতো কিছু এলাকা গড়ে উঠেছে, সেখানে রাত ২টা–৩টা পর্যন্ত খাবার পাওয়া যায় এবং রীতিমতো ভিড় থাকে।

নতুন প্রজন্ম আরেকটি রোগে আক্রান্ত, তা হচ্ছে মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটারে বেশি রাত কাটানোর অভ্যাস। এটি যে কী পরিমাণে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা হয়তো আমরা এখন বুঝতে পারছি না। কিন্তু সময়ে যখন বুঝব, হয়তো তখন আর কিছুই করার থাকবে না। একটি ভঙ্গুর সমাজ, মানসিক রোগীভরা একটি সমাজ বিশাল সংখ্যায় রাষ্ট্রের কল্যাণ করা থেকে বঞ্চিত হয়ে উঠবে।

আমাদের দেহে একটি ঘড়ি আছে, যা সূর্যের সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত। সেই ঘড়ির সময় অনুসারে রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত হজম করার চুল্লি সচল থাকে, তারপর আস্তে আস্তে নিভে যায়। গভীর রাতে খাবার খেলে সে খাবার শরীরের স্বয়ংক্রিয় হজম চুল্লি বন্ধ থাকার কারণে ঠিকমতো হজম না হয়ে পাকস্থলীতে পচতে থাকে। ফলাফল হলো স্বাস্থ্যহীনতা, ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া, হজমের গন্ডগোল থেকে ক্রনিক আইবিএসে রূপ নেওয়া, যার চিকিত্সা অনেক জটিল। লাইফস্টাইল পরিবর্তন ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বন্ধ থাকে। এতে যারা আক্রান্ত হন, তাদের মানসিক বিপর্যয় ছাড়াও ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে জীবন যাপন করতে হয়।

রাতে আমাদের শরীর কোনো কিছু গ্রহণ করার কাজ করে না বরং ত্যাগ করার কাজ করে, যেমন রাত ১১টা থেকে লিভার তার কাছে জমে থাকা বর্জ্য বা টক্সিন অটো ডিটক্সিফিকেশন করতে থাকে। রাত এগারোটায় যদি আমরা ঘুমের মধ্যে না থাকি, তাহলে লিভার অটো ডিটক্সিফিকেশন করতে পারে না। এর ফলাফল হজমের গন্ডগোল এবং ত্বকের রং কালো হয়ে যাওয়া। তেমনি রাতে হার্ট, ফুসফুস, গলব্লাডার, পাকস্থলী, কিডনি অটো ডিটক্সিফিকেশন করতে থাকে। যদি আমরা রাতে না ঘুমাই, তখন শরীর অটো ডিটক্সিফিকেশন করতে পারে না। পরিণতিতে শরীরের টক্সিন না বেরিয়ে শরীরে থেকে যায়, যা আমাদের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত করে। এতে শেষ পর্যন্ত শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের উপসর্গ তৈরি হয়, যার ফলে মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

এ থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে, সকালে ঘুম থেকে উঠে মুক্ত বাতাসে হাঁটলে নির্মল বায়ু পাওয়া যায়, যা সকালে ওজন স্তরে থাকে বলে হালকা থাকে। সে বায়ু থেকে শ্বাস নিলে শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, শরীরের ভেতরে অক্সিজেন নিজেই অনেক বিচ্যুতি দূর করে দেয়। ভোরের আলো ভিটামিন ডি ভরা। সকালের সে সূর্যকিরণ শরীরে হাড় মজবুত করে, শরীরে কোনো ধরনের ব্যথা হয় না। সকালে হাঁটতে পারলে শরীরের সব অর্গান সচল হয়। কায়িক পরিশ্রম শরীরে কোনো ধরনের চর্বি জমতে দেয় না; ফলে ওজন বাড়ে না, ডায়াবেটিস হয় না, হার্টের সমস্যা হয় না, মস্তিষ্ক শক্তিশালী থাকে—কঠোর পরিশ্রমেও তা ঠিকমতো কাজ করে এবং স্মরণশক্তি অটুট থাকে। এ ছাড়া দিনে কর্মঘণ্টা বেড়ে যায় এবং রাতে ঘুম তাড়াতাড়ি ঘুমানো সম্ভব হয়।

ভোরের আলোয় ভিটামিন ডি থাকে। ছবি: জিল ওয়েলিংটন, পেকজেলস ডট কম

দেহঘড়ি ঠিক রাখুন

আমাদের দেহঘড়িকে সঠিক উপায়ে চলতে দেওয়ার জন্য সূর্যের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। রাত যেহেতু ঘুমানোর জন্য, তাই ঘুমাতে হবে রাতে, দিন জেগে থাকার জন্য; তাই জেগে থাকতে হবে, কর্মময় থাকতে হবে। এটিই সাধারণ সূত্র।

রাত জাগার অভ্যাস পরিবর্তন করে সকালে ঘুম থেকে উঠে কর্মময় হওয়ার অভ্যাস গড়লে শরীরও ভালো থাকবে এবং অনেক কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। তাই রাতকে ঘুমানোর জন্য রেখে সকালে কর্মময় থাকুন।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ

সরাসরি প্রথম আলো থেকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন