সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার হাতেই

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার হাতেই

নিজের হাতের তালু ও আঙুলগুলির দিকে ভাল করে তাকান। কী দেখতে পাচ্ছেন? উত্তরে যদি বলেন, শুধু হাতটাই দেখছেন, তাহলে ভুল দেখেছেন। কারণ আপনার হাতেই লুকিয়ে রয়েছে জাদু। না, সেই জাদু প্রয়োগের জন্য আপনাকে পেশাদার জাদুকর হতে হবে না। খাবার খাওয়া, লেখালিখি, বুনন ইত্যাদির জন্য যেমন নিজের হাতকে ব্যবহার করেন, তেমনভাবে একে কাজে লাগিয়ে মুক্তি পেতে পারেন বিভিন্ন রোগ যন্ত্রণা থেকেও। অর্থাৎ হাতের সঠিক ব্যবহার জানা থাকলে কথায় কথায় আর ওষুধ খেতে হবে না। রাতবিরেতে ডাক্তারের কাছেও ছুটতে হবে না। গবেষণা বলছে, নিখরচায় সুস্থ জীবনযাপন করতে আপনার হাত বড় ভূমিকা নিতে পারে। ভাবছেন তো, এমনটা কীভাবে সম্ভব?

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

বুড়ো আঙুল: মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা? কোনও কারণে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে আছেন? এর কারণ হতে পারে আপনার বুড়ো আঙুল। বাঁ-হাতে বুড়ো আঙুলকে ডান হাত দিয়ে (অথবা উলটোটা) পাঁচ মিনিটের জন্য চেপে ধরে থাকুন। পাঁচ মিনিট পর যন্ত্রণা অনেকটাই কম অনুভূত হবে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

তর্জনি: হতাশা, ভয় এবং লজ্জা দূর করতে এই আঙুলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পেশির কোনও অংশে ব্যথাও দূর করতে পারে হাতের এই আঙুল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, রোগীদের পিঠ ও পেশির ব্যথার দারুণ কাজ দেয় আঙুলের রিফ্লেক্স থেরাপি। এর জন্য একইভাবে পাঁচ মিনিটের জন্য তর্জনিকে চেপে ধরে রাখতে হবে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

মধ্যমা: ধরুন, প্রেমিকের সঙ্গে মন কষাকষি বা দাম্পত্য কলহে বেশ মেজাজ গরম। অথবা অন্যান্য দিনের থেকে বেশি খাটনি হওয়ায় বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। গবেষণা বলছে, এর থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন মধ্যমার এক্সারসাইজ। পাঁচ মিনিট মধ্যমা চেপে ধরে রাখলে রক্তচাপ খানিকটা কমে। যা আপনার মাথা ঠান্ডা করে আপনাকে শান্ত করে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

অনামিকা: দুশ্চিতা ও দুঃখ দূর করতে দারুণ কাজ দেয় রিফ্লেক্স থেরাপি। যা প্রয়োগ করতে হয় অনামিকার উপর। পাঁচ মিনিট আঙুলটি চেপে ধরে রাখলেই অনেকটা স্বস্তি বোধ করবেন আপনি। পরীক্ষা করে দেখুন, আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

কনিষ্ঠা: খারাপ চিন্তা, ক্লান্তি দূর করতে পারে কনিষ্ঠা। পাঁচ মিনিট কনিষ্ঠা চেপে রাখার সময় অবশ্যই মনে মনে ভাল কিছু চিন্তা করুন।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

হাতের তালু: এক হাত দিয়ে অন্য হাতের তালুতে রাখুন। এবার খুব ধীরে ধীরে গোল করে তালুতে মাসাজ করুন। এই প্রক্রিয়ার সময় জোরে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিন। রিফ্লেক্সোলজিস্টদের মতে, আপনার আবেগ ও অনুভূতি তালুতে বন্দি থাকে। গবেষণা বলছে, নিয়মিত তালুতে মাসাজ করলে ক্লান্তি, ডায়রিয়া এমনকী কোষ্ঠকাঠিন্যও দূরে থাকে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

জোড়া তালু: সাধারণত ধ্যান করার সময় হাত জড়ো করা হয়ে থাকে। এতে মনোসংযোগ বাড়ে। হাতের তালু পরস্পরের সঙ্গে চাপলে শরীরের রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক থাকে।

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

সূর্য মুদ্রা: হাত সোজাভাবে রেখে শুধু অনামিকা তালুতে ঠেকিয়ে রাখা সূর্য মুদ্রা হিসেবে পরিচিত। এই প্রক্রিয়া হজম শক্তি ও খিদে বাড়ায়।

Alamgir Alam
Expert of Acupressure and Naturopathy
29 Bangabandhu Avenue, 2nd Floor, Dhaka

হাতে তালি, উপকারের থালি !

হাতে তালি, উপকারের থালি !

দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই আমরা যখন উৎসাহব্যঞ্জক কোনো কিছু শুনি তখন হাততালি দেই। এটা অতি সাধারণ ব্যাপার। আপনি জানলে অবাক হবেন প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট হাততালি দিলে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আগের চেয়ে সক্রিয় ও সচল হয়ে উঠবে। নানারকম রোগব্যাধি থেকে মুক্ত হয়ে দেহ-মনে অনুভব করবেন প্রাণবন্ততা।

হাস্যকর শোনালেও আকুপ্রেশারের এ তত্ত্বটি দারুণ কাজের। হাততালি দিলে শরীরের রক্তচলাচলে বাধা দূর হয়ে যায়। সব বয়সি নারী-পুরুষের রক্তচলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এমনকি অনেক রোগ সারাতেও হাততালি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন আধঘণ্টা করে হাততালি দিলে নানা উপকার পাওয়া যায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, মাথাব্যথা, বাত ও কোষ্ঠকাঠিন্যর মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত হাততালি দেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এমন আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে হাততালির মধ্যে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে হাততালি। এছাড়া অ্যাজমার মতো নানা সমস্যায় হাততালি দিলে উপকার পাওয়া যায়।

বিভিন্ন প্রোগ্রামে দেখা যায়, হাততালি দেয়ার সময় কারো কারো ক্ষেত্রে এক হাতের সঙ্গে আরেক হাতের তালুর স্পর্শ হলেও সেখানে কোনো শব্দ হয় না। এ ধরনের হাততালির কোনো উপকারিতা নেই। আর তাই হাততালি দেওয়ার সময় এমন ভাবে দিন যাতে আশপাশের মানুষ বুঝে এখানে কিছু একটা হচ্ছে। বিষয়টাকে আবার অন্যভাবে বুঝলে ভুল করবেন। লিঙ্গ প্রতিবন্ধীদের একটি সংকেত হচ্ছে এভাবে তালি দেওয়া। এটা তাদের একটি যোগাযোগের মাধ্যমে। সেই দিকে না যাই। একা একা হাততালি দেওয়ার চেয়ে একসঙ্গে কয়েকজন মিলে হাততালি দিলে অবশ্য কেউ তেমন কিছু মনে করবে না।

চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি আকুপ্রেশারের সময় হাতের তালুর বিভিন্ন অংশে চাপ দেওয়া হয়। কখনো খালি হাতে আবার কখনো একটি বিশেষ ধরনের কাঠি ব্যবহার করে। এতে করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ হয়ে ওঠে। একইভাবে শুধুমাত্র হাততালির মাধ্যমেও হাতের বিভিন্ন পয়েন্টে চাপ পড়ে। এতে করে আপনি আকুপ্রেশারের মতো সমানভাবে উপকৃত হতে পারেন। আর তাই প্রতিদিন যেকোনো খুশির সংবাদে সবাই মিলে একসঙ্গে হাততালি দিতে পারেন। একা একা হাততালি দিতে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। তাই বলে কি নিজের সুস্থতার জন্য হাততালি দেবেন না?

* কোনো খুশির খবর, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীতে সবাই মিলে একসঙ্গে মিনিটখানেক হাততালি দিতে পারেন। সবাই মিলে একসঙ্গে হাততালি দিলে সেখানে এক ধরনের শব্দতরঙ্গ তৈরি হবে। পাশাপাশি আপনার শরীরের স্নায়ুগুলো আগের চেয়ে সক্রিয় হয়ে উঠবে। আপনি অনুভব করবেন দুই হাতের ঘর্ষণের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। মনে ফুরফুরে অনুভূতি তৈরি হবে। স্ট্রেস থেকেও মুক্তি পাবেন।

* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের/কাজের অনুপ্রেরণায় হাততালি দেওয়া যেতে পারে।

* খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের উৎসাহ যোগাতে হাততালি দেওয়া যেতে পারে।

* কর্মস্থলে কোনো সহকর্মীর ভালো সংবাদে হাততালি দেওয়া যেতে পারে।
* দলগত কাজে সাফল্যের ক্ষেত্রে সবাই মিলে একসঙ্গে হাততালি দেওয়া যেতে পারে।
* বিভিন্ন ধরনের মিটিংয়ে উৎসাহব্যাঞ্জক কোনো প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে হাততালি দেওয়া যেতে পারে।
* বিশেষ করে শিশুদের উৎসাহ যোগাতে হাততালি একটি দারুন কার্যকর প্রক্রিয়া।
* প্রতিদিনের ব্যায়াম শেষে সবাই মিলে একসঙ্গে হাততালি দিয়ে বিদায় নিতে পারেন।

হাততালির উপকারিতার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

১। হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের সাথে জড়িত রোগ অ্যাজমা নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হাততালি দেয়া।
২। পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা ও জয়েন্টের ব্যথা কমতে সাহায্য করে হাততালি দেয়া।
৩। গেঁটে বাত থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে হাততালি দেয়া।
৪। নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের জন্য ও উপকারী হাততালি দেয়া।
৫। পরিপাকের সমস্যা সমাধানে কার্যকরী থেরাপি হাততালি দেয়া।
৬। শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং একাডেমিক পারফর্মেন্সের উন্নতিতে সাহায্য করে হাততালি দেয়া। যে শিশুরা নিয়মিত হাততালি দেয় তাদের স্পেলিং মিস্টেক বা বানানের ভুল কম হয়। হাতের লেখার উন্নতিতেও সাহায্য করে হাততালি দেয়া।৭। শিশুদের মস্তিষ্ককে ধারালো হতে এবং কর্মঠ হতে সাহায্য করে হাততালি দেয়া।
৮। হাততালি দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বলে রোগ ব্যাধি দূরে থাকে।
৯। ডায়াবেটিস, আরথ্রাইটিস, হাইপারটেনশন, চোখের সমস্যা, ডিপ্রেশন, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, সাধারণ ঠান্ডা, ইনসমনিয়া এবং চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন যারা তাদের জন্য উপকারী প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাততালি দেয়া।
১০। যাদের বাসায় এয়ার কন্ডিশন আছে এবং অফিসেও এসি রুমে বসে কাজ করেন তাদের শরীরে কম ঘাম হয়। তারা ক্লেপিং থেরাপি প্র্যাকটিস করতে পারেন। এর ফলে শরীরের রক্ত চলাচল ভালো হবে এবং শরীরের ছিদ্রগুলো উন্মুক্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে।


ক্ল্যাপিং থেরাপি
হাতের তালুতে নারিকেল তেল বা সরিষার তেল লাগিয়ে মালিশ করে নিন যাতে তেল শরীরে শোষিত হয়। এই থেরাপির ফলে শরীরে যে এনার্জি ওয়েভ তৈরি হবে তা যেন লিক হয়ে না যায় এজন্য মোজা ও চামড়ার তৈরি জুতা পড়ে নিন। দুই হাত প্রসারিত করে ডান হাত দিয়ে বাম হাতে আঘাত করুন। হাত সোজা রাখুন এবং কিছুটা ঢিলা রাখুন। দুই হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো যেন পরস্পর বারি খায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভালো দলাফল পেতে এই থেরাপি সকালে করার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন সকালে ২০-৩০ মিনিট হাততালি দিলে আপনাকে ফিট ও সক্রিয় থাকতে সাহায্য করবে। আমরা আগেই জেনেছি যে হাততালি দিলে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া উদ্দীপিত হয়। আর রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া ভালোভাবে হলে ধমনী ও শিরার বাঁধা এমন কি খারাপ কোলেস্টেরলও দূর হয়।

হাতের যে ৫ টি আকুপ্রেশার পয়েন্ট আলোড়িত হয় সেগুলো হল
হেন্ড ভ্যালি পয়েন্ট
বেজ অফ থাম্ব পয়েন্ট
রিষ্ট পয়েন্ট
ইনার গেট পয়েন্ট
থাম্ব নেইল পয়েন্ট

এই প্রেশার পয়েন্টগুলো উপরে উল্লেখিত স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলোর সাথে সম্পর্কিত যাদেরকে হাততালি দেয়ার মাধ্যমে কার্যকরী করা যায়।

Alamgir Alam
Expert of Acupressure, Naturopathy
29 Bangabandhu Avenue, 2nd Floor, Dhaka.

স্ট্রোক কী? প্রতিকার কী ?

স্ট্রোক কী? প্রতিকার কী ?


প্রথমেই স্ট্রোক নিয়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা করা যাক। মস্তিষ্ক আমাদের দেহের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি একটি সংবেদনশীল অঙ্গ। এতে ছোট-বড় অসংখ্য রক্তনালী দ্বারা রক্ত সংবহিত হয়। এই সংবহিত রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পুষ্টি পদার্থ গ্রহণ করে তার স্বাভাবিক ক্রিয়া পরিচালনা করে। কিন্তু কোনো কারণে যদি আমাদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে স্ট্রোক বা ব্রেইন স্ট্রোক বলে। সাধারণত দুই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে;

১. ইসকেমিক(Ischemic) স্ট্রোক: এ ধরনের স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে ওই রক্তনালী দিয়ে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের স্ট্রোক দেখা যায়।

২. হেমোরেজিক(Hemorrhagic) স্ট্রোক: এ ধরনের স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে যায় এবং রক্তপাত হয়। এ ধরনের স্ট্রোক তুলনামূলকভাবে বেশি মারাত্মক।

  • হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া
  • শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • মুখ বেঁকে যাওয়া
  • হাসলে মুখ অন্য পাশে চলে যাওয়া
  • কথা বলতে না পারা
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • হঠাৎ চোখে না দেখা
  • গিলতে সমস্যা হওয়া
  • হাঁটতে না পারা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ঘুম ঘুম ভাব
  • চোখে একটি জিনিস দু’টি দেখা
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা প্রভৃতি।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
আপনার পরিবারের বা আশেপাশের কারো স্ট্রোক হলে, কীভাবে বুঝবেন? এটি মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। কিছু বিষয় খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন। রোগীরা দু’ ধরনের স্ট্রোকেই প্রায় একই ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ নিয়ে আসতে পারে। এগুলো হলো:

বেঁকে যাওয়া মুখ;
অনেকের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ-উপসর্গগুলো হঠাৎ দেখা দেয় আবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। একে ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক (Transient Ischemic Attack) বলে।। এটিও একধরনের স্ট্রোক, তবে মিনি স্ট্রোক। মনে রাখতে হবে যে, এই মিনি স্ট্রোক হচ্ছে বড় ধরনের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।

ঝুঁকিপূর্ণ কারণ
অনেকগুলো কারনেই স্ট্রোক হতে পারে-

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • স্থূলতা
  • ধূমপান
  • মদ্যপান
  • রক্তে বেশি মাত্রায় কোলেস্টেরল
  • পারিবারিক ইতিহাস প্রভৃতি

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম একটি প্রধান কারণ; 
জটিলতা
স্ট্রোকের ফলে সৃষ্ট অনেকগুলো জটিলতার মধ্যে প্যারালাইসিস অন্যতম। তাই প্যারালাইসিসের বিষয়ে কিছু ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। মস্তিষ্ক নিউরন নামক অসংখ্য কোষ দ্বারা গঠিত। এই কোষ তথা নিউরনসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেহেতু একমাত্র রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং শর্করা সরবরাহ হয়, তাই রক্ত প্রবাহে বাধার ফলে অক্সিজেন এবং শর্করার অভাবে দ্রুত এই নিউরনগুলো মরে যায়। ফলস্বরূপ, ওই নিউরনগুলো শরীরের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো, সেই অংশগুলোর প্যারালাইসিস হয়ে যায়। সাধারণত মস্তিষ্কের ডান অংশ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের বাঁ অংশকে এবং বাঁ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ডান অংশকে। তাই স্ট্রোক মস্তিষ্কের যে পাশে হয়, শরীরে প্যারালাইসিস তার বিপরীত পাশে হয়। রোগীর শরীরের কতটুকু অংশের প্যারালাইসিস হবে, তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো বা রক্তপাত হলো, কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং কত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা হলো, তার উপর। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা নির্দিষ্ট এবং এরা বিভাজিত হতে পারে না। ফলে নিউরন মরে গেলে নতুন কোনো নিউরন তৈরি হয় না। তাই প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া অঙ্গ সম্পূর্ণরূপে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে আগের অবস্থার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া আরেকটি জটিলতা হলো, হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিস্কের অভ্যন্তরে চাপ অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাপে মস্তিস্কের নিচের দিকের অংশ, করোটি এবং মেরুদণ্ডের সংযোগস্থলের ছিদ্র দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে মস্তিষ্কের ওই অংশে অবস্থিত শ্বাস-প্রশ্বাস কেন্দ্র বিকল হয়ে যায়। ফলে শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তবে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব জটিলতা পরিহার বা কমিয়ে আনা যায়।

প্রতিরোধ
বলা হয়, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই স্ট্রোকের প্রতিরোধ আমাদের সুস্থ জীবনযাপনে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে সহজেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারি।

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
  • নিয়মিত আকুপ্রেসার করা
  • খাদ্য সচেতনতা

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: আমাদের দেশের অনেক মানুষই উচ্চ রক্তচাপের রোগী। কিন্তু এদের বেশিরভাগ মানুষ সচেতনতার অভাবে অথবা অবহেলাবশত তা নিয়ন্ত্রণ করেন না। নিয়ন্ত্রণ মানে এই নয় যে যখন অসুস্থ বোধ করবেন, তখন এর চিকিৎসা নেবেন। বরং নিয়মিত ঔষধ গ্রহণ, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ- এসব মিলেই নিয়ন্ত্রণ।

    ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন বেশি মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে, এমন খাবার বর্জন
    আঁশ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, পরিমিত মাত্রায় লবণ গ্রহণ, ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা প্রভৃতি।
  • চিকিৎসা এবং অপচিকিৎসা

স্ট্রোক হলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোগী যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা পাবে, জটিলতার ঝুঁকি তত কমে যাবে। স্ট্রোকের চিকিৎসা সাধারণত দু’টি পর্যায়ে বিভক্ত। স্ট্রোকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং প্যারালাইসিস (যদি হয়) এর চিকিৎসা। হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সময় বা অল্প কিছুদিন পর প্যারালাইসিসের চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার দ্বিতীয় পর্যায়টি ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়।

এই স্ট্রোকে সবচেয়ে দ্রুত আরগ্যে দেয় আকুপ্রেসার, আকুপ্রেসার জানা একজন অভিজ্ঞ আকুপ্রেসারিষ্ট দিয়ে নিয়মিত থেরাপী করা গেয়ে একমাসের মধ্যেই রোগী ভাল হয়ে উঠে, রোগটি দীর্ঘদিনের হলে সময় লাগে।

ষ্ট্রোকে রোগীর ক্ষেত্রে অনেক অপচিকিৎসা রয়েছে, বড় বড় হাসপাতালেও এমন কিছু অতিরঞ্জিত চিকিৎসা দিয়ে থাকে তা অপচিকিৎসার মধ্যেই পরে। তাই সচেতন হয়ে চিকিৎসা করা জরুরি।

ষ্ট্রোক হওয়ার চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম

নিয়মিত আকুপ্রেসার, সকালে হাঁটা, রোদ লাগানো, মুক্ত বাতাস, পরিমিত পানি পান, বিশুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ ও পরিমিত ঘুম ঠিক করে দেহ ঘড়ির সাথে মিলিয়ে নিতে পারলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। মনে রাখা দরকার যে, একজন ষ্ট্রোকের রোগী গোটা পরিবার অসুস্থ্য হয়ে পরার মত বেদনা দায়ক। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে উত্তম।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র, 01611010011

ক্লাসট্রোফোবিয়া

ক্লাসট্রোফোবিয়া

ক্লাসট্রোফোবিয়া হলো কোনো ছোট, আবদ্ধ ঘর বা জায়গার প্রতি অহেতুক ভীতি। যেখানে ব্যক্তি ভাবে যে সে ওই আবদ্ধ জায়গায় আটকে পড়বে এবং সেখান থেকে সে বের হতে পারবে না। এই ভীতি যে কোনো কিছু দ্বারা ট্রিগার হতে পারে। যেমন-লিফট, জানালাবিহীন ঘর, ছোট গাড়ি, এমনকি গলাবন্ধ জামা দ্বারাও এই ক্লাসট্রোফোবিয়া ট্রিগার হতে পারে এবং এর ফলে অনেক সময় প্যানিক অ্যাটাকও দেখা দিতে পারে।

উপসর্গসমূহ
ভয়ের পরিমাণ তীব্র হলে ব্যক্তির মধ্যে নিম্নরূপ উপসর্গসমূহ দেখা দেয়-
০১. ঘেমে যাওয়া এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
০২. হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ
০৩. মাথা ঘোরা অথবা মাথা হালকা লাগা
০৪. মুখ শুকিয়ে যাওয়া
০৫. অবশ বা অসাড় অনুভূতি হওয়া
০৬. মাথা, কান, চেহারা হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া
০৭. কম্পনের অনুভূতি হওয়া
০৮. পেটে গুড়িগুড়ি অনুভূত হওয়া
০৯. বমি বমি ভাব

কারণ
০১. কোনো কারণে হঠাৎ কোনো আবদ্ধ জায়গায় আটকে পড়া
০২. শৈশবে কোনো এবিউজের শিকার হওয়া
০৩. কোনো জনবহুল জায়গায় বাবা-মা অথবা বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া
০৪. বাবা-মার মধ্যে ক্লাসট্রোফোবিয়া থাকা ইত্যাদি।
ব্যক্তি যখন একবার এ রকম পরিস্থিতির শিকার হয় তখন পরবর্তীতে সে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পূর্বের ঘটনার কথা মনে পড়ে এবং আতঙ্কিত বোধ করে।

প্রতিকার
০১. ওষুধ বা ড্রাগ পদ্ধতি
যে কোনো ধরনের ওষুধ বা ড্রাগ নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
০২. মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি :
মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে মূলত কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি প্রদান করা হয়। এজন্য একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে হবে। মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। যেমন- সিবিটি বা কগনিটিভ বিহাভিওর থেরাপি, মডেলিং, সিস্টেমেটিক ডি-সেন্সিটাইজেসান কৌশল, এক্সপোজার কৌশল, রিলাক্সেসান ইত্যাদি।
০৩. আকুপ্রেসার. নিয়মিত আকুপ্রেসার করা গেছে এই রোগ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব, কোন ওষুধ লাগেনা, রোগী নিজে নিজেই আকুপ্রেসার করতে পারবে। এটা অসম্ভব কার্যকর একটি পদ্ধতি। 

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র, 01611010011

দেশে উচ্চবিত্তদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বাড়ছে

দেশে উচ্চবিত্তদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বাড়ছে

উচ্চ আয়ের মানুষ বাড়ছে দেশে। পরিবর্তন আসছে খাবার-দাবারে। খাদ্যতালিকার বড় অংশজুড়ে থাকছে তেল-চর্বিযুক্ত ও জাংক ফুড। বদলাচ্ছে কাজের ধরনও। কায়িক শ্রম বাদ দিয়ে টেবিল ওয়ার্কই বেশি হচ্ছে। এতে শরীরে জুড়ে বসছে অসংক্রামক নানা ব্যাধি। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা NAFLD তারই একটি। গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ বা সাড়ে চার কোটির বেশি মানুষ যকৃতের রোগটিতে ভুগছেন। জীবনব্যাপী এ রোগের ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি বাড়ছে উচ্চ আয়ের, উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যে।

চিকিৎসকদের ভাষায়, যকৃতের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ ফ্যাট জমা হলে তাকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলে। এতে যকৃতের কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলে নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস বা ন্যাশ। এ অবস্থা থেকে অনেকেই পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন। কারো কারো এ থেকে লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

বাংলাদেশে রোগটির ব্যাপকতা কেমন, কারা এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তা জানতে দুই বছর ধরে একটি গবেষণা চালিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), আইসিডিডিআর,বি, বারডেম ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনের আটজন গবেষক। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ চারটি জেলা শহর ও চারটি উপজেলার ২ হাজার ৭৮২ জনের তথ্য সংগ্রহ করেন তারা।

এ তথ্য সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যগত তথ্যও সংগ্রহ করেন গবেষকরা। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ, পরিবারের সদস্যদের যকৃতের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগের ইতিহাস, দেহের ওজন ও উচ্চতা এবং রোগকে (লিভারের) ত্বরান্বিত করতে পারে, এমন কোনো ওষুধ তারা সেবন করেন কিনা সংগ্রহ করা হয় সে তথ্যও। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতীত অস্ত্রোপচার ও দাঁতের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ শনাক্ত করা তাদের।

ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণার অধীন ৩৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ NAFLDতে আক্রান্ত। আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এর প্রাদুর্ভাব উচ্চ আয়ের লোকজনের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। উচ্চ আয়ের ৫০ দশমিক ৩৮ শতাংশই এ রোগে আক্রান্ত। শিক্ষার স্তর বিবেচনায় এর ব্যাপকতা বেশি উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে। উচ্চশিক্ষিতদের ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ NAFLDতে আক্রান্ত।

এর কারণ হিসেবে গবেষক দলের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, উচ্চ আয় ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ সাধারণত টেবিলে বসে কাজ করেন বেশি। তাদের মধ্যে কায়িক পরিশ্রম করার প্রবণতা কম। সে কারণে তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের হার বেশি।

NAFLDতে আক্রান্তদের একজন ঢাকার ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন। এমনিতেই ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তার ওপর কায়িক পরিশ্রম সেভাবে হয় না। অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে থাকলে শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের কাছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানতে পারেন, লিভারে চর্বি জমেছে।

সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায় বলে জানান গবেষক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এজন্য তিনি জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আগে বিষয়টি এতটা জটিলভাবে আমাদের সামনে আসেনি। এটি নিয়ে এখন ভাবার সময় এসেছে। রোগটি প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রায় সব বয়সীরা রোগটিতে আক্রান্ত হলেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যাপকতাও বাড়তে থাকে। গবেষণার ফলাফলও তা-ই বলছে, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে। দেখা গেছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪৫-৫৪ বছর বয়সীদের ৫৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ যকৃতের এ রোগে আক্রান্ত; যেখানে একই জনগোষ্ঠীর ৩৫-৪৪ বছর বয়স শ্রেণীর ৪৮ দশমিক ৪৬ শতাংশের মধ্যে রোগটির প্রাদুর্ভাব রয়েছে। আর ২৫-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এ রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে।

অংশগ্রহণকারীদের বয়স, বসবাসের স্থান, লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক উপদলে ভাগ করে রোগটির সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে গ্রামীণ নারীদের মধ্যে। গ্রামের ৪৫-৫৪ বছর বয়সী নারীদের ৬৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশই এ রোগে আক্রান্ত। ওজনের সঙ্গে NAFLDর একমুখী সম্পর্কও বেশ ভালোভাবেই উঠে এসেছে গবেষণায়। ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে NAFLD তে আক্রান্তের শঙ্কাও বেড়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের হার খুবই কম, ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর স্বাভাবিক বিএমআইযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ রোগটিতে ভুগছে। অন্যদিকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের ৪৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ লিভারে চর্বি জমা রোগে আক্রান্ত। তবে স্থূলদের (Obesity) মধ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি, ৬৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

জীবনব্যাপী এ রোগ থেকে দূরে থাকতে শৈশব থেকেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMC) হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্ডোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মাসুদ আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মূলত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ রোগ হয়। আমাদের দেশে উচ্চবিত্তদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের হার বেশি। কারণ তারা কায়িক পরিশ্রম কম করেন। এছাড়া তাদের মধ্যে তেল-চর্বিযুক্ত ও জাংক ফুড খাওয়ার প্রবণতাও বেশি। প্রয়োজনের তুলনায় তারা বেশি ক্যালরি গ্রহণ করায় শরীরে চর্বি জমে। ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে লিভার সিরোসিসও হতে পারে, যার হার ২০-৩০ শতাংশ বেশি। তাই আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। কেউ একবার এ রোগে আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।

গবেষকদের মতে, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপীই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ উদ্বেগের কারণ। পশ্চিমা দেশগুলোয় ২০-৩০ শতাংশ মানুষ রোগটিতে ভুগছে। উপমহাদেশের দেশগুলোর শহরাঞ্চলের ১৬-৩২ ও গ্রামাঞ্চলের ৯-১৬ শতাংশ এ রোগে আক্রান্ত। যদিও বাংলাদেশে এর ব্যাপকতা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবমতে, ২ দশমিক ৮২ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে যকৃতের রোগে।

এ থেকে মুক্তির উপায় কি ?

প্রাকৃতিক নিয়মগুলো মেনে চললে এই সমস্যা থেকে কোন ধরণের পাশ্বর্প্রতিক্রিয়া ছাড়াই শুধু মাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও আকুপ্রেসার দিয়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।