টিপস্‌ – এ্যাসিডিটি

টিপস্‌ – এ্যাসিডিটি

যারা এ্যাসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন, নানান ঔষধ খাচ্ছেন, কিন্তু কোন সুরাহা হচ্ছে না, দিনে দিনে ঔষধের পাওয়ার বাড়ছে কিন্তু সমাধানে যাচ্ছে না।

তারা এই টিপসটি ফলো করে দেখতে পারেন। কারণ এই আদায় রয়েছে মেটবলিক সিষ্টেমকে শক্তিশালি করার ক্ষমতা, যা আপনার পুরোনো পেটের সমস্যা ধীরে ধীরে ঠিক করে দেবে।

আলমগীর আলম
প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র।

আদার রসের বহুবিধ উপকারিতা ও ব্যবহার

আদার রসের বহুবিধ উপকারিতা ও ব্যবহার

আদা বা আর্দ্রক (বৈজ্ঞানিক নাম: Zingiber officinale) হচ্ছে জিঞ্জিবারাসি পরিবারের জিঞ্জিবার গণের ছোট রাইজোমসমৃদ্ধ বীরুৎ। এদের রাইজোম সুগন্ধী, ঝাঁঝালো স্বাদ, ভিতরের রং ফিকে হলুদ। আদা গাছের পত্রল-কান্ড প্রায় ০.৫- ১.০ মিটার লম্বা। আদার রস রোগ সারাতে বহুবিধ কাজে লাগে।

আদার রসের উপকারিতা:

১ নতুন সর্দি, কাশি ও জ্বর ভাব: আদার রসে একটু মধু মিশিয়ে খেলে উপকার হয়, এতে সর্দি-কাশি সারে, শ্বাস রোগে উপকার হয়। আদার রস, পাতিলেবুর রস ও মধু সম-পরিমাণে মিশিয়ে তাতে পিপূল মিশিয়ে দিনে দু তিনবার খেলে কাশি সেরে যায়।

২ শীতপিতে: শরীরে চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠার চিহ্ন লক্ষিত হয়, যাকে চলতি কথায় আমবাত বলে। সেক্ষেত্রে পুরানো গুড়ের সঙ্গে অল্প আদার রস মিশিয়ে খাওয়ালে উপশম হয়। তবে দাস্ত পরিষ্কার না থাকলে এটা দেয়া যায় না।

৩ বসন্ত: আদার রস ১ চা-চামচ ও তুলসী পাতার রস ১ চা-চামচ এক সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। যারা বসন্তের চিকিৎসা করেন তারা বলেন এর দ্বারা বসন্তের গুটিগুলি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ে।

৪ অরুচিতে: সিকি কাপ জলে ২ চা-চামচ আন্দাজ আদার রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মুখে পুরে রাখতে হয়, তারপর ফেলে দিতে হয়; এতে খাওয়ার রুচি ফিরে আসে। আর লবণ না দিয়ে ঐ জল মুখে রাখলে সান্নিপাতিক দোষজনিত দাঁতের মাড়ি ফোলা আরাম হয়।

৫ হিক্কায়: ছাগলের দুধে অল্প আদার রস মিশিয়ে খেলে ওটা থেমে যায়। আজ হয়তো অনেকেই মনে করবেন এ তো সেই পুরোনো কাসুন্দি। হ্যাঁ, এর জৌলুস নেই সত্যি, কিন্তু বিজ্ঞান আছে তাই তো কাসুন্দি ঘাঁটা।

৬. জ্বর ও ম্যালেরিয়া সারাতে: আদা আর পুদিনার ক্বাথ খেলে জ্বর ছেড়ে যায়। ম্যালেরিয়ার পক্ষে উপকারী।

৭. বায়ু: এই সমস্যা যাদের হয় তারা আদা-পুদিনার ক্বাথ খুব কাজ দেয়। ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে বায়ু দূর হয়।

৪. বমি বন্ধ করতে: আদা ও পেঁয়াজের রস ১ চা চামচ করে মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

৫. কফ দূর করতে: কফ যাদের থাকে তাদের পক্ষে আদা-পুদিনার ক্বাথ খুব কাজ দেয়। এছাড়া ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে গলায় জমে থাকা কফ মুক্ত হয়ে যায়।

৬. রুচি বাড়ে: ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে আহারে রুচি আসে আর খিদে বেড়ে যায়।

৭. পেটের রোগ সারে: আদার রস ১ চা চামচ, দিনার রস ১ চা চামচ নুন মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথা বা উদরশূলের কষ্ট কমে যায়। আদার রস নাভিতে লাগালে পুরানো পেটের অসুখ সেরে যায়।

৮. হৃদরোগ সারায়: আদার রসে সম-পরিমাণ জল মিশিয়ে খেলে হার্টের অসুখ বা হৃদরোগ সারে।

৯. বহুমূত্র রোগে বা ডায়াবেটিস সারাতে: আদার রসে দেশি চিনি বা কাশীর চিনি মিশিয়ে খেলে বহুমূত্র রোগে বা ডায়াবেটিসের উপকার পাওয়া যায়।

১০. মাথা ব্যথা সারাতে: আদা থেঁতো ও গুড়ের ছোট পুঁটুলি বেঁধে সেই রসের ফোঁটা নাকে দিলে আধ-কপালে মাথাব্যথা সারে।

এছাড়া এক চা চামচ আদার রসে এক চা চামচ পাতিলেবুর রস ও নুন মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে অজীর্ণ ও আমাশা সারে, রুচি বৃদ্ধি পায়, খাবার ঠিক মতো হজম হয়, গাস হয় না, ঢেকুর ওঠা বন্ধ হয়, বায়ু ও কোষ্ঠকাঠিন্য সারে।

আদার রসের শরবত:
আদার টাটকা রসের ১০০ গ্রাম। ৪০০ গ্রাম চিনির রস তৈরি করুন। এই রসে আদা রস মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। নামিয়ে ঠাণ্ডা করে বোতলে ভরে রাখুন। এক চা চামচ রসে বা শরবতে জল মিশিয়ে দিনে তিনবার খেলে পেটের বায়ু, আমাশার জন্যে পেট কামড়ানি বা শুলব্যথা, সেরে যায়। দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা বদহজমের মল এটে গিয়ে স্বাভাবিক হয়, পেটের গড়গড়ানি বন্ধ হয়।

আদার রসের মশলাদার শরবত তৈরি: ১০০ গ্রাম টাটকা আদার রসে আধ কাপ জল ও ৪০০ গ্রাম চিনি মিশিয়ে ঘন রস তৈরি করুন। নামিয়ে নিয়ে জাফরান (সম্ভব হলে) এলাচ, জায়ফল, জৈত্রী, আর লবঙ্গের চূর্ণ মিশিয়ে কাচের বোয়ামে ভরে রাখুন। এই আদার পাক রোজ নিয়মিত খেলে শ্বাস কষ্ট, কাশি, অখিদে (অগ্নিমান্দ্য) ও অরুচি দূর হবে।

আদার অবলেহ:
২৫০ গ্রাম টাটকা আদার খোসা ছাড়িয়ে পিষে নিন। ১ টেবিল চামচ ভাল ঘিয়ে ভাজুন। লাল হয়ে গেলে ৪০০ গ্রাম আখের গুড় মিশিয়ে হালুয়ার মতো ঘন হলে নামিয়ে নিন। এই অবলেহ সকালে ও সন্ধেবেলা এক চা চামচ করে খেলে অগ্নিমান্দ্য আমবৃদ্ধি, অরুচি, কফবৃদ্ধি, পেটের অস্বস্তি দূর হবে। সদ্য বাচ্চা হয়েছে যে সব মায়েদের তাঁরা এই অবলেহ খেলে ঠিক মতো আহার করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র:

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১৯১-১৯২।