আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা

আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা

কথায় বলে ‘আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা’। যার অর্থ আমাদের শরীরে সব রোগ নিরাময়ের জন্য আদা যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আদায় রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, বি৬, ই ও সি এবং অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লামেটরি এজেন্ট বিদ্যমান। যার কারণে সব বয়সী মানুষ আদা খেতে পারেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য আদা–মধু–জল সুস্থ দেহ ও সতেজ মনের জন্য খুবই কার্যকর।

জেনে নেওয়া যেতে পারে আমাদের কোন কোন সমস্যা নিবিড়ভাবে কাজ করে আদা।

আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা

ছবি: উইকিপিডিয়া

আমাশয়, পেটফাঁপা, পেটব্যথা

যাঁরা এসব সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য খাওয়ার পর এক কাপ গরম পানিতে এক চা–চামচ আদার রস মিশিয়ে খেলে আমাশয়, পেটফাঁপা, পেটব্যথা দূর হবে। যাঁরা এ সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন, তাঁরা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু, একত্রে এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে দিনে এবং রাতে নিয়মিত খেলে সুফল পাবেন।

হাঁপানি ও ফুসফুসে সংক্রমণ

ফুসফুসের ধমনিতে কোনো সংক্রমণ থাকলে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অথবা হাঁপানি থাকলে প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস, মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে এবং ঠান্ডাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চললে ১৫ দিনের মধ্যে এর সুফল পাবেন।

আদা ও লেবুর রসের সঙ্গে মধু দারুণ কার্যকর

ছবি: অ্যাঞ্জেল জে, পেকজেলসডটকম

শরীরের ভেতরের বায়ু ও কোষ্ঠবদ্ধতা, পেটে গ্যাস, কোনো খাবার খেলেই গ্যাস বের হতে থাকে, সেই সঙ্গে কোষ্টকাঠিন্য, প্রতিদিন মলত্যাগ হয় না, মলে দুর্গন্ধ এবং শক্ত, তাঁদের জন্য প্রথম সাত দিন এক চা–চামচ আদার রস এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে ছয় থেকে সাতবার খেতে হবে। এতে সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে; তারপর প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেতে হবে। তাহলে গ্যাসের স্থায়ী সমাধান মিলবে। মনে রাখতে হবে, গ্যাসের সমস্যার প্রধান কারণ শরীর বিরুদ্ধ খাবার; আসলে যে খাবার আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা এড়িয়ে গেলে কোনো ওষুধেরই প্রয়োজন হয় না।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা

মূলত এ রোগগুলোর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। শরীরের ওজন ঠিক রেখে, নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস, মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে এর তীব্রতা কমে। যেহেতু এ রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ শরীরে পানি ও ক্যালসিয়াম ঘাটতি, সেহেতু পানি খাওয়ার প্রবণতা বাড়াতে হবে।

আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা ছবি: উইকিপিডিয়া

হৃদ্‌রোগ
হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন উপায় আছে প্রাকৃতিক উপায়ে নিরাময়ের জন্য। যাঁদের হৃদ্‌রোগ আছে কিন্তু উচ্চরক্ত চাপ নেই, তাঁরা দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খাবেন। সেই সঙ্গে গ্যাসজনিত সমস্যা থাকলে সাত দিন এক চা–চামচ আদার রস গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে ছয় থেকে সাতবার খাবেন। ধৈর্যসহ নিয়মিত এ নিয়মে চললে হৃদ্‌রোগের সমস্যা দূর হতে থাকবে।

জ্বর জ্বর, বমি বমি ভাব
এক চা–চামচ আদার রস গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে ছয় থেকে সাতবার খেলে জ্বর জ্বর ভাব ও বমি বমি ভাব কেটে যাবে।

মাইগ্রেন, সাইনাস, গলা ও মাথাব্যথায়

তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সামান্য লবণ দিয়ে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে হবে। কিন্তু রোগ সারাতে হলে প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু গরম এক কাপ পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হবে।
আহারে রুচি আসে, ক্ষুধা বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে
সামান্য লবণ দিয়ে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে আহারে রুচি আসে।

কাশি কমায়, কফ দূর করে
প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে কাশি কমে, কফ দূর হয়।

আদার গুঁড়াও কার্যকর ছবি: পিকজাবে, পেকজেলসডটকম

পাকস্থলী ও লিভারের শক্তিবর্ধক
সমপরিমাণে আদার গুঁড়া, মধু ও আমলকীর গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে রেখে প্রতিদিন তিনবার চা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে পাকস্থলী ও লিভারের শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজে আসবে। ডায়েবেটিস রোগীদের মধু বাদ দিয়ে খেতে হবে।

আমাদের প্রাচীন চিকিৎসাব্যবস্থায় আদা একটি অপরিহার্য উপাদান। এর গুণাগুণের কারণে আমাদের খাদ্যে এর প্রচলন চলে এসেছে। আমরা প্রতিদিন রান্নায় যে আদা খেয়ে থাকি, তাতে কিছু উপকার হলেও ঔষধি উপকার পেতে হলে নিয়ম করে আদা খেতে হবে আর যেখানে আদা ছেঁচে বা পিষে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে তা শুধু যখন খাবেন, তখনই ছেঁচে বা পিষে খেতে হবে।

আদা একবারে পিষে ফ্রিজে রেখে দেয়া উচিৎ নয় ছবি: উইকিপিডিয়া

অনেকেই এক মাসের প্রয়োজনীয় আদা একবারে পিষে ফ্রিজে রেখে দেন। এ আদা দিয়ে কিন্তু ঔষধি উপকার পাওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথের তথ্য অনুযায়ী, আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হজমে সমস্যা ও পেটফোলা ভাব দেখা দিতে পারে অতিমাত্রায় আদা খাওয়া হলে। প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব ডোজ থাকে, তেমনি আদার বেলায় ১৫ গ্রাম রস সারা দিনে খাওয়া উচিত। যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁরা মধু কম খাবেন।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

লেখাটি প্রথম আলোতেও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম আলোর লিংক: এখানে ক্লিক করুন

টিপস্‌ – এ্যাসিডিটি

টিপস্‌ – এ্যাসিডিটি

যারা এ্যাসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন, নানান ঔষধ খাচ্ছেন, কিন্তু কোন সুরাহা হচ্ছে না, দিনে দিনে ঔষধের পাওয়ার বাড়ছে কিন্তু সমাধানে যাচ্ছে না।

তারা এই টিপসটি ফলো করে দেখতে পারেন। কারণ এই আদায় রয়েছে মেটবলিক সিষ্টেমকে শক্তিশালি করার ক্ষমতা, যা আপনার পুরোনো পেটের সমস্যা ধীরে ধীরে ঠিক করে দেবে।

আলমগীর আলম
প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র।

আদার রসের বহুবিধ উপকারিতা ও ব্যবহার

আদার রসের বহুবিধ উপকারিতা ও ব্যবহার

আদা বা আর্দ্রক (বৈজ্ঞানিক নাম: Zingiber officinale) হচ্ছে জিঞ্জিবারাসি পরিবারের জিঞ্জিবার গণের ছোট রাইজোমসমৃদ্ধ বীরুৎ। এদের রাইজোম সুগন্ধী, ঝাঁঝালো স্বাদ, ভিতরের রং ফিকে হলুদ। আদা গাছের পত্রল-কান্ড প্রায় ০.৫- ১.০ মিটার লম্বা। আদার রস রোগ সারাতে বহুবিধ কাজে লাগে।

আদার রসের উপকারিতা:

১ নতুন সর্দি, কাশি ও জ্বর ভাব: আদার রসে একটু মধু মিশিয়ে খেলে উপকার হয়, এতে সর্দি-কাশি সারে, শ্বাস রোগে উপকার হয়। আদার রস, পাতিলেবুর রস ও মধু সম-পরিমাণে মিশিয়ে তাতে পিপূল মিশিয়ে দিনে দু তিনবার খেলে কাশি সেরে যায়।

২ শীতপিতে: শরীরে চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠার চিহ্ন লক্ষিত হয়, যাকে চলতি কথায় আমবাত বলে। সেক্ষেত্রে পুরানো গুড়ের সঙ্গে অল্প আদার রস মিশিয়ে খাওয়ালে উপশম হয়। তবে দাস্ত পরিষ্কার না থাকলে এটা দেয়া যায় না।

৩ বসন্ত: আদার রস ১ চা-চামচ ও তুলসী পাতার রস ১ চা-চামচ এক সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। যারা বসন্তের চিকিৎসা করেন তারা বলেন এর দ্বারা বসন্তের গুটিগুলি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ে।

৪ অরুচিতে: সিকি কাপ জলে ২ চা-চামচ আন্দাজ আদার রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মুখে পুরে রাখতে হয়, তারপর ফেলে দিতে হয়; এতে খাওয়ার রুচি ফিরে আসে। আর লবণ না দিয়ে ঐ জল মুখে রাখলে সান্নিপাতিক দোষজনিত দাঁতের মাড়ি ফোলা আরাম হয়।

৫ হিক্কায়: ছাগলের দুধে অল্প আদার রস মিশিয়ে খেলে ওটা থেমে যায়। আজ হয়তো অনেকেই মনে করবেন এ তো সেই পুরোনো কাসুন্দি। হ্যাঁ, এর জৌলুস নেই সত্যি, কিন্তু বিজ্ঞান আছে তাই তো কাসুন্দি ঘাঁটা।

৬. জ্বর ও ম্যালেরিয়া সারাতে: আদা আর পুদিনার ক্বাথ খেলে জ্বর ছেড়ে যায়। ম্যালেরিয়ার পক্ষে উপকারী।

৭. বায়ু: এই সমস্যা যাদের হয় তারা আদা-পুদিনার ক্বাথ খুব কাজ দেয়। ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে বায়ু দূর হয়।

৪. বমি বন্ধ করতে: আদা ও পেঁয়াজের রস ১ চা চামচ করে মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

৫. কফ দূর করতে: কফ যাদের থাকে তাদের পক্ষে আদা-পুদিনার ক্বাথ খুব কাজ দেয়। এছাড়া ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে গলায় জমে থাকা কফ মুক্ত হয়ে যায়।

৬. রুচি বাড়ে: ১ থেকে দেড় চা চামচ আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে আহারে রুচি আসে আর খিদে বেড়ে যায়।

৭. পেটের রোগ সারে: আদার রস ১ চা চামচ, দিনার রস ১ চা চামচ নুন মিশিয়ে খেলে পেটের ব্যথা বা উদরশূলের কষ্ট কমে যায়। আদার রস নাভিতে লাগালে পুরানো পেটের অসুখ সেরে যায়।

৮. হৃদরোগ সারায়: আদার রসে সম-পরিমাণ জল মিশিয়ে খেলে হার্টের অসুখ বা হৃদরোগ সারে।

৯. বহুমূত্র রোগে বা ডায়াবেটিস সারাতে: আদার রসে দেশি চিনি বা কাশীর চিনি মিশিয়ে খেলে বহুমূত্র রোগে বা ডায়াবেটিসের উপকার পাওয়া যায়।

১০. মাথা ব্যথা সারাতে: আদা থেঁতো ও গুড়ের ছোট পুঁটুলি বেঁধে সেই রসের ফোঁটা নাকে দিলে আধ-কপালে মাথাব্যথা সারে।

এছাড়া এক চা চামচ আদার রসে এক চা চামচ পাতিলেবুর রস ও নুন মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে অজীর্ণ ও আমাশা সারে, রুচি বৃদ্ধি পায়, খাবার ঠিক মতো হজম হয়, গাস হয় না, ঢেকুর ওঠা বন্ধ হয়, বায়ু ও কোষ্ঠকাঠিন্য সারে।

আদার রসের শরবত:
আদার টাটকা রসের ১০০ গ্রাম। ৪০০ গ্রাম চিনির রস তৈরি করুন। এই রসে আদা রস মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। নামিয়ে ঠাণ্ডা করে বোতলে ভরে রাখুন। এক চা চামচ রসে বা শরবতে জল মিশিয়ে দিনে তিনবার খেলে পেটের বায়ু, আমাশার জন্যে পেট কামড়ানি বা শুলব্যথা, সেরে যায়। দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা বদহজমের মল এটে গিয়ে স্বাভাবিক হয়, পেটের গড়গড়ানি বন্ধ হয়।

আদার রসের মশলাদার শরবত তৈরি: ১০০ গ্রাম টাটকা আদার রসে আধ কাপ জল ও ৪০০ গ্রাম চিনি মিশিয়ে ঘন রস তৈরি করুন। নামিয়ে নিয়ে জাফরান (সম্ভব হলে) এলাচ, জায়ফল, জৈত্রী, আর লবঙ্গের চূর্ণ মিশিয়ে কাচের বোয়ামে ভরে রাখুন। এই আদার পাক রোজ নিয়মিত খেলে শ্বাস কষ্ট, কাশি, অখিদে (অগ্নিমান্দ্য) ও অরুচি দূর হবে।

আদার অবলেহ:
২৫০ গ্রাম টাটকা আদার খোসা ছাড়িয়ে পিষে নিন। ১ টেবিল চামচ ভাল ঘিয়ে ভাজুন। লাল হয়ে গেলে ৪০০ গ্রাম আখের গুড় মিশিয়ে হালুয়ার মতো ঘন হলে নামিয়ে নিন। এই অবলেহ সকালে ও সন্ধেবেলা এক চা চামচ করে খেলে অগ্নিমান্দ্য আমবৃদ্ধি, অরুচি, কফবৃদ্ধি, পেটের অস্বস্তি দূর হবে। সদ্য বাচ্চা হয়েছে যে সব মায়েদের তাঁরা এই অবলেহ খেলে ঠিক মতো আহার করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র:

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১৯১-১৯২।