প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লবণ খাওয়ার পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা কিডনি, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বাড়তি লবণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি সমস্যা, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াসহ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুনিয়াজুড়ে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই সীমা মেনে চলায় তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ২৩ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, লবণের পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামে রাখতে পারলে প্রতিবছর হৃদ্রোগের কারণে ৩০ লাখ মৃত্যু কমিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি তা প্রতিবছর ১২ লাখ ৫০ হাজার স্ট্রোকের পরিমাণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিদিন এক চা চামচ পরিমাণের লবণ গ্রহন করতে পারেন, সেক্ষেত্রে খেয়াল করুন, ভাতে লবণ, সবজিতে লবণ, তরকারিতে লবণ, মাছে লবণ, মাংসে লবণ, ডালে লবণ, শাকে লবণ, ভর্তায় লবণ, রুটিতে লবণ। বিকালে নাস্তায় পুড়ি, চপ, চটপটি, রুটি, নুডুলস, সুপে লবণ, বার্গার, পিজা, চিকেনে লবণ, হালিমে লবণ ।

এবার হিসাব করে দেখুন আপনি লবণ বেশি খাচ্ছেন কি না ? আমি গড় বলতে পারি, আমরা বেশি খাচ্ছি যার জন্য হার্ট, কিডনি, রক্তচাপ সহ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি নয়তো হতে যাচ্ছি।

বেশি লবণ শরীরে আছে কি না তা বুঝার কিছু শারীরিক চিহ্ন রয়েছে যেমন :

ফুলে যাওয়া
দি আঙুলের আংটি খানিকটা আঁটসাঁট মনে হয়, পায়ের পাতা ফুলে যায় অথবা সকালে চোখের নিচটা ফুলে থাকে, তাহলে সম্ভবত অতিরিক্ত লবণ খাচ্ছেন আপনি। ইডিমা নামক এই অবস্থাটি সৃষ্টির কারণ হলো অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর পানি জমিয়ে রাখছে।

অতিরিক্ত পানির পিপাসা
লবণের সোডিয়াম দেহের জলীয় পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন আপনি প্রচুর লবণ খাওয়া শুরু করেন, তখন পেশি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য শরীরের আরো জলীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। আর এভাবেই শরীর পানি এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পানি খাওয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধাণ করতে হয়।

প্রস্রাবে পরিবর্তন
দেহে সোডিয়ামের আধিক্য হওয়ার প্রভাব অবধারিত ভাবে প্রস্রাবের উপরও গিয়ে পড়ে। আর তা দুটি কারণে হতে পারে: অতিরিক্ত লবণ বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যা কিডনি রোগের সূত্রপাত ঘটায় এবং বারবার প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে। এসময় প্রস্রাবের রং একদম পরিষ্কার হয়। অন্য আরেকটি কারণ হলো, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর জলীয় পদার্থ হারিয়ে পানি-স্বল্পতা তৈরি করে। যখন পানি-স্বল্পতা লক্ষণীয় মাত্রায় পৌঁছে যায় তখন প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং ঘন ও হলুদ রং ধারণ করে।

হাড়ের ব্যথা
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার প্রভাব আমাদের শক্ত হাড়ের উপরও পড়ে। যখন আপনি প্রচুর পরিমাণ খাবার লবণ খাবেন, তখন আপনার কিডনি তার সবটুকু শরীর থেকে বের করে দিতে পারবে না, যা ক্যালসিয়াম ক্ষয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। জটিল ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হাড় দুর্বল করে দেয়, দাঁত ক্ষয় করে, এমনকি অস্টিওপোরেসিস রোগেরও জন্ম দেয়।

পেশির খিঁচুনি
পেশির সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমেই আমাদের দেহ হাঁটা-চলা, কাজ-কর্ম করার শক্তি পায়। পেশির এই সংকোচন প্রসারণের জন্য দেহে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য থাকতে হয়। অতিরিক্ত লবণ বা লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে খাওয়ার ফলাফল হিসাবে আপনার পেশির খিঁচুনি সমস্যা হতে পারে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অবিরাম মাথাব্যথা
অতিরিক্ত সোডিয়াম খাওয়ার ফলে দেহে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তনালীর উপর অত্যধিক চাপ প্রয়োগ করে। এই চাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন দিনের পর দিন মাথা ব্যথা হতে থাকে।

চিন্তা শক্তি হ্রাস পাওয়া
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপের যে সমস্যা তৈরি হয় তা মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে আপনার চিন্তা শক্তি হ্রাস পেতে শুরু করবে এবং প্রতিদিনের কাজ কর্মে মনোযোগ দিতে পারবেন না। এর পাশাপাশি অনবরত পানি-স্বল্পতা স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ক্লান্তি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তাই এখনই লবণ খাওয়ার পরিমান কমাতে হবে, সেই জন্য প্রতিদিন খাবারে ফল ও সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে শরীরে বাস করা রোগ কমে যাবেই।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা।

পুদিনা পাতার গুণাবলী

পুদিনা পাতার গুণাবলী

রান্নায় পুদিনা পাতার কদর তো আছেই, কিন্তু ঔষধি হিসেবে এই পাতার বহুল ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই। যা অনেকের অজানা। এছাড়া রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে পুতিনা পাতা। আর যত দিন যাচ্ছে তত গবেষণা হচ্ছে পুদিনা ও পুদিনার মতো ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে। এ কারণে আজ কথা বলব পুদিনা পাতার গুরত্বপূর্ণ গুণাবলী নিয়ে।

গুণাবলী:
১) রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালা কমাতে পুদিনা পাতার রস ও অ্যালোভেরার রস এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন সানবার্নের জ্বালা গায়েব।

২) আশ্চর্যজনক হলেও পুদিনা পাতার গুণ খুব সত্যি। বহু বিজ্ঞানীদের দাবি, পুদিনা পাতা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। পুদিনা পাতার পেরিলেল অ্যালকোহল যা ফাইটো নিউট্রিয়েন্টসের একটি উপাদান দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে।

৩) ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে তাজা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস লাগান। সম্ভব হলে সারারাত রাখুন। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। মাসখানেক এইভাবে লাগালে ব্রণের দাগ উধাও হয়ে যাবে।

৪) চুলে উকুন হলে পুদিনার শেকড়ের রস লাগাতে পারেন। উকুনের মোক্ষম ওষুধ হল পুদিনার পাতা বা শেকড়ের রস। গোটা মাথায় চুলের গোড়ায় এই রস ভাল করে লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।

৫) সর্দি হলে নাক বুজে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মারাত্মক কষ্ট পান অনেকেই। সেই সময় যদি পুদিনা পাতার রস খান, তাহলে এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবেন নিমেষে। যাঁরা অ্যাজমা এবং কাশির সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের তাৎক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা বেশ কার্যকরী। খুব বেশি নিঃশ্বাসের এবং কাশির সমস্যায় পড়লে পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে সেই জলেরর ভাপ নিতে পারেন। ভাপ নিতে অসুবিধা হলে গার্গল করার অভ্যাস তৈরি করুন।

৬) গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। মসৃণও হয়।

৭) পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা পেটের যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যাঁরা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের নানান সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাঁরা খাবার কাওয়ার পর ১ কাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরের মধ্যেই।

৮) গরমকালে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখাতে পুদিনার রস খুব ভাল। গোসলের আগে জলের মধ্যে কিছু পুদিনা পাতা ফেলে রাখুন। সেই জল দিয়ে স্নান করলে শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে।

৯) এই পাতার রস ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার জল তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি জলে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার জল মিশিয়ে স্নান করুন। গরমকালে শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া-জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেতে এটা ট্রাই করতে পারেন। কেননা পুদিনাতে রয়েছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।

১০) তাৎক্ষণিক যে কোনও ব্যথা থেকে রেহাই পেতে পুদিনা পাতার রস খুব উপকারী। চামড়ার ভেতরে গিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভে পৌঁছায় এই রস। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।

ধনে পাতার উপকারিতা

ধনে পাতার উপকারিতা

অসাধারণ গুণে ভরপুর সুপরিচিত ধনে বা ধনিয়া (Coriander) একটি সুগন্ধি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Coriandrum sativum। এটি একটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ।

এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার স্থানীয় উদ্ভিদ। এর বীজ থেকে বানানো তেল- সুগন্ধি, ওষুধ এমনকি মদে ব্যবহার করা হয়। বঙ্গ অঞ্চলের প্রায় সর্বত্র ধনের বীজ খাবারের মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে সুস্বাদু ধনের পাতা এশীয় চাটনি ও মেক্সিকান সালসাতে ব্যবহার করা হয়। ধনে পাতাকে আমরা সালাদ এবং রান্নার স্বাদ বাড়ানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু শুধু স্বাদ এবং ঘ্রাণ বাড়ানোর কাজেই এর গুণাগুণ শেষ হয়ে যায় না। এ পাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো একটি তৃণ জাতীয় খাবার।

অধিকাংশ মানুষ ধনে পাতার উপকারিতা না জেনেই নিয়মিত বিভিন্ন তরকারিতে ব্যবহার করে আসছে। এতে রয়েছে ১১ জাতের এসেনশিয়াল অয়েল, ৬ ধরণের অ্যাসিড (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যা ভিটামিন ‘সি’ নামেই বেশি পরিচিত), ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য উপকারী পদার্থ। এতে রয়েছে ফাইবার, ম্যাংগানিজ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘কে’, ফসফরাস, ক্লোরিন এবং প্রোটিন। তাই এ পাতাকে সাধারণ কিছু ভাবার কোনো কারণ নেই।

ধনে পাতা রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি রূপচর্চায়ও দারুন কাজ দেয়। প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে ধনে পাতা দারুন কার্যকর। যাদের ঠোঁটে কালো দাগ আছে তারা রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধনে পাতার রসের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। এভাবে এক মাস লাগালে ঠোঁটের কালো দাগ দূর হবে আর ঠোঁট কোমলও হবে।

এবার জানুন ধনে পাতার অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে:

১. ধনে পাতা খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমে যায়, ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

২. হজমে উপকারী, যকৃতকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, পেট পরিষ্কার হয়ে যায় ধনে পাতা খেলে।

৩. ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্যে ধনে পাতা বিশেষ উপকারী। এটি ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তের সুগারের মাত্রা কমায়।

৪. ধনে পাতায় থাকা অ্যান্টি-সেপটিক মুখে আলসার নিরাময়েও উপকারী, চোখের জন্যেও ভাল।

৫. ঋতুস্রাবের সময় রক্তসঞ্চানল ভাল হওয়ার জন্যে ধনে পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা সারাতেও বেশ উপকারী।

৬. ধনে পাতার ফ্যাট স্যলুবল ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ‘এ’ ফুসফুস এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

৭. এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা বাতের ব্যথাসহ হাড় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে।

৮. স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিস্কের নার্ভ সচল রাখতে সাহায্য করে ধনে পাতা।

৯. ধনে পাতার ভিটামিন ‘কে’ অ্যালঝেইমার রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকরী।

১০. ধনে পাতায় উপস্থিত সিনিওল এসেনশিয়াল অয়েল এবং লিনোলিক অ্যাসিড থাকে যার মধ্যে অ্যান্টিরিউম্যাটিক এবং অ্যান্টি-আর্থ্রাইটিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এরা ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

১১. ডিসইনফেকট্যান্ট, ডিটক্সিফাইং বা বিষাক্ততা রোধকারী, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকার কারণে এরা বিভিন্ন স্কিন ডিজঅর্ডার বা ত্বকের অসুস্থতা (একজিমা, ত্বকের শুষ্কতা এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশন) সারাতে সাহায্য করে। ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে তাই ধনে পাতার উপকারিতা অনেক।

১২. ক্যালসিয়াম আয়ন এবং কলিনার্জিক বা অ্যাসেটিকোলিন উপাদান মিলে আমাদের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

১৩. অ্যান্টি হিস্টামিন উপাদান থাকায় এরা অ্যালার্জি বা এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে দূরে রাখে।

১৪. খাবারের মাধ্যমে সৃষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহ রোগ সালমোনেলা। ধনে পাতায় উপস্থিত ডডেসিনাল উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে সালমোনেলা জাতীয় রোগ সারিয়ে তুলতে অ্যান্টিবায়টিকের থেকে দ্বিগুণ কার্যকর।

১৫. এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিইনফেকসাস, ডিটক্সিফাইং, ভিটামিন ‘সি’ এবং আয়রন গুটিবসন্ত প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করে।

১৬. বিভিন্ন ভেষজ পদার্থের সাথে মিশিয়ে যৌনশক্তি বৃদ্ধি করতে ধনে পাতার উপকারিতা অনেক।

১৭. কারও মুখে যদি দুর্গন্ধ হয় ও অরুচি লাগে তাহলে ধনে ভাজা করে বোতলে ভরে রাখুন। মাঝে মাঝে চিবিয়ে খান মুখে দুর্গন্ধ থাকবে না।

১৮. কারও মাথাব্যথা হলে ধনে পাতা ও গাছের রস কপালে লাগান। মাথাব্যথা কমে যাবে।

১৯. ধনে পাতা চিবিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি মজবুত হয় এবং দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

সতর্কতা:
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ধনে পাতা বেশি খেলে বীর্য সৃষ্টি ও কামউদ্দপিনা কমে যায়। চোখের দৃষ্টি ক্ষতি হতে পারে। শ্বাস রোগের ক্ষতি করে। অবশ্য আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণে ধনে পাতা সেবন করি তা স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না। অতিমাত্রায় রস সেবন করলেই ক্ষতির কারণ হয়। মনে রাখবেন রান্না করার সময় তরকারি চুলায় রেখে ধনে পাতা দিয়ে চুলায় আর তাপ দেবেন না। এতে ধনে পাতার সুগন্ধ কমে যাবে। তাই তরকারি চুলা হতে নামিয়ে কুচি কুচি করে কেটে ছিটিয়ে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। পুরোপুরি স্বাদ পাবেন।

কারিনার ডায়েট প্ল্যান

কারিনার ডায়েট প্ল্যান

  • ঘুম থেকে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই লেবু পানি পান করেন কারিনা।
  • এরপর ১ ঘণ্টা পর নাস্তা সারেন সকালের।
  • নাস্তায় ঘরে তৈরি রুটি ও ঘি থাকে।  
  • নাস্তা খাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর নারকেলের পানি, সালাদ অথবা বাদাম খান।
  • আরও দুই ঘণ্টা পর দুপুরের খাবার সেরে নেন। মেন্যুতে থাকে ভাত। ভাতের সঙ্গে সবজি অথবা ডাল খান। দই ও আচারও থাকে সঙ্গে।
  • দুপুরের খাবার খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর তাজা ফলের জুস অথবা স্মুদি পান করেন। সন্ধ্যায় রুটি অথবা ভাত খান সামান্য পরিমাণে।  
  • রাতে ঘুমানোর দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খান রাতের খাবার। মেন্যুতে থাকে ভাত, রুটি ও ঘি।
  • রাতে ঘুমানোর আগে শুকনা ফল মিশিয়ে এক গ্লাস দুধ পান করেন।
  • কোন ধরণের এনিম্যাল প্রোটিন তিনি খান না।

আরও কিছু টিপস

  • চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করতে নারাজ কারিনা
  • দিনে দুইবার ভাত খান এই অভিনেত্রী
  • সারাদিন যত ক্যালোরি খান, শরীরচর্চার মাধ্যে সেগুলো ঠিকঠাক ঝরিয়ে ফেলেন।
  • প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলেন।
  • মাছ মাংস এড়িয়ে চলেন

তথ্য: আইএমবিবি 

স্ট্রোক কী? প্রতিকার কী ?

স্ট্রোক কী? প্রতিকার কী ?


প্রথমেই স্ট্রোক নিয়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা করা যাক। মস্তিষ্ক আমাদের দেহের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি একটি সংবেদনশীল অঙ্গ। এতে ছোট-বড় অসংখ্য রক্তনালী দ্বারা রক্ত সংবহিত হয়। এই সংবহিত রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পুষ্টি পদার্থ গ্রহণ করে তার স্বাভাবিক ক্রিয়া পরিচালনা করে। কিন্তু কোনো কারণে যদি আমাদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে স্ট্রোক বা ব্রেইন স্ট্রোক বলে। সাধারণত দুই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে;

১. ইসকেমিক(Ischemic) স্ট্রোক: এ ধরনের স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে ওই রক্তনালী দিয়ে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের স্ট্রোক দেখা যায়।

২. হেমোরেজিক(Hemorrhagic) স্ট্রোক: এ ধরনের স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে যায় এবং রক্তপাত হয়। এ ধরনের স্ট্রোক তুলনামূলকভাবে বেশি মারাত্মক।

  • হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া
  • শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • মুখ বেঁকে যাওয়া
  • হাসলে মুখ অন্য পাশে চলে যাওয়া
  • কথা বলতে না পারা
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • হঠাৎ চোখে না দেখা
  • গিলতে সমস্যা হওয়া
  • হাঁটতে না পারা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ঘুম ঘুম ভাব
  • চোখে একটি জিনিস দু’টি দেখা
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা প্রভৃতি।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
আপনার পরিবারের বা আশেপাশের কারো স্ট্রোক হলে, কীভাবে বুঝবেন? এটি মোটেও কঠিন কোনো কাজ নয়। কিছু বিষয় খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন। রোগীরা দু’ ধরনের স্ট্রোকেই প্রায় একই ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ নিয়ে আসতে পারে। এগুলো হলো:

বেঁকে যাওয়া মুখ;
অনেকের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ-উপসর্গগুলো হঠাৎ দেখা দেয় আবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। একে ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক (Transient Ischemic Attack) বলে।। এটিও একধরনের স্ট্রোক, তবে মিনি স্ট্রোক। মনে রাখতে হবে যে, এই মিনি স্ট্রোক হচ্ছে বড় ধরনের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।

ঝুঁকিপূর্ণ কারণ
অনেকগুলো কারনেই স্ট্রোক হতে পারে-

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • স্থূলতা
  • ধূমপান
  • মদ্যপান
  • রক্তে বেশি মাত্রায় কোলেস্টেরল
  • পারিবারিক ইতিহাস প্রভৃতি

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম একটি প্রধান কারণ; 
জটিলতা
স্ট্রোকের ফলে সৃষ্ট অনেকগুলো জটিলতার মধ্যে প্যারালাইসিস অন্যতম। তাই প্যারালাইসিসের বিষয়ে কিছু ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। মস্তিষ্ক নিউরন নামক অসংখ্য কোষ দ্বারা গঠিত। এই কোষ তথা নিউরনসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেহেতু একমাত্র রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন এবং শর্করা সরবরাহ হয়, তাই রক্ত প্রবাহে বাধার ফলে অক্সিজেন এবং শর্করার অভাবে দ্রুত এই নিউরনগুলো মরে যায়। ফলস্বরূপ, ওই নিউরনগুলো শরীরের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো, সেই অংশগুলোর প্যারালাইসিস হয়ে যায়। সাধারণত মস্তিষ্কের ডান অংশ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের বাঁ অংশকে এবং বাঁ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের ডান অংশকে। তাই স্ট্রোক মস্তিষ্কের যে পাশে হয়, শরীরে প্যারালাইসিস তার বিপরীত পাশে হয়। রোগীর শরীরের কতটুকু অংশের প্যারালাইসিস হবে, তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো বা রক্তপাত হলো, কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং কত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা হলো, তার উপর। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা নির্দিষ্ট এবং এরা বিভাজিত হতে পারে না। ফলে নিউরন মরে গেলে নতুন কোনো নিউরন তৈরি হয় না। তাই প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া অঙ্গ সম্পূর্ণরূপে আগের অবস্থায় ফিরতে পারে না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে আগের অবস্থার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া আরেকটি জটিলতা হলো, হেমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিস্কের অভ্যন্তরে চাপ অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাপে মস্তিস্কের নিচের দিকের অংশ, করোটি এবং মেরুদণ্ডের সংযোগস্থলের ছিদ্র দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে মস্তিষ্কের ওই অংশে অবস্থিত শ্বাস-প্রশ্বাস কেন্দ্র বিকল হয়ে যায়। ফলে শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তবে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব জটিলতা পরিহার বা কমিয়ে আনা যায়।

প্রতিরোধ
বলা হয়, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই স্ট্রোকের প্রতিরোধ আমাদের সুস্থ জীবনযাপনে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে সহজেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারি।

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
  • নিয়মিত আকুপ্রেসার করা
  • খাদ্য সচেতনতা

    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: আমাদের দেশের অনেক মানুষই উচ্চ রক্তচাপের রোগী। কিন্তু এদের বেশিরভাগ মানুষ সচেতনতার অভাবে অথবা অবহেলাবশত তা নিয়ন্ত্রণ করেন না। নিয়ন্ত্রণ মানে এই নয় যে যখন অসুস্থ বোধ করবেন, তখন এর চিকিৎসা নেবেন। বরং নিয়মিত ঔষধ গ্রহণ, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ- এসব মিলেই নিয়ন্ত্রণ।

    ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন বেশি মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে, এমন খাবার বর্জন
    আঁশ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, পরিমিত মাত্রায় লবণ গ্রহণ, ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা প্রভৃতি।
  • চিকিৎসা এবং অপচিকিৎসা

স্ট্রোক হলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোগী যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা পাবে, জটিলতার ঝুঁকি তত কমে যাবে। স্ট্রোকের চিকিৎসা সাধারণত দু’টি পর্যায়ে বিভক্ত। স্ট্রোকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং প্যারালাইসিস (যদি হয়) এর চিকিৎসা। হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সময় বা অল্প কিছুদিন পর প্যারালাইসিসের চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার দ্বিতীয় পর্যায়টি ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এই চিকিৎসা করা হয়।

এই স্ট্রোকে সবচেয়ে দ্রুত আরগ্যে দেয় আকুপ্রেসার, আকুপ্রেসার জানা একজন অভিজ্ঞ আকুপ্রেসারিষ্ট দিয়ে নিয়মিত থেরাপী করা গেয়ে একমাসের মধ্যেই রোগী ভাল হয়ে উঠে, রোগটি দীর্ঘদিনের হলে সময় লাগে।

ষ্ট্রোকে রোগীর ক্ষেত্রে অনেক অপচিকিৎসা রয়েছে, বড় বড় হাসপাতালেও এমন কিছু অতিরঞ্জিত চিকিৎসা দিয়ে থাকে তা অপচিকিৎসার মধ্যেই পরে। তাই সচেতন হয়ে চিকিৎসা করা জরুরি।

ষ্ট্রোক হওয়ার চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম

নিয়মিত আকুপ্রেসার, সকালে হাঁটা, রোদ লাগানো, মুক্ত বাতাস, পরিমিত পানি পান, বিশুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ ও পরিমিত ঘুম ঠিক করে দেহ ঘড়ির সাথে মিলিয়ে নিতে পারলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। মনে রাখা দরকার যে, একজন ষ্ট্রোকের রোগী গোটা পরিবার অসুস্থ্য হয়ে পরার মত বেদনা দায়ক। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে উত্তম।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র, 01611010011