চিকিৎসায় বিপ্লব আনছে চীন?

চিকিৎসায় বিপ্লব আনছে চীন?

এবার চিকিৎসা খাতে জোর পদক্ষেপ নিতে চাইছে চীন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে চীন। দেশটি এবার চিকিৎসায় ‘বিপ্লব’ আনতে চাইছে। শুধু নিজেদের জনগণের জন্যই নয়, একই সঙ্গে পুরো পৃথিবীর জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে অগ্রগণ্য ভূমিকায় আসীন হতে চাইছে সি চিন পিংয়ের দেশ।

যদিও এ ক্ষেত্রে মূল প্রয়োজনটি সৃষ্টি হয়েছে চীনের ভেতর থেকেই। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক হিসাবে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে চীনের ২০ কোটি নাগরিকের বয়স হয়ে যাবে ৬০ বছর। বয়স্ক নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় চীনের এখন প্রয়োজন নানা ধরনের উন্নত ওষুধ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রযুক্তি। এ ছাড়া বর্তমানে বিশ্বের প্রতি চারজন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর একজন চীনা। তাই দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির জন্য স্থানীয় ওষুধশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে সঙ্গে জৈবপ্রযুক্তির নিত্যনতুন সুবিধাও কাজে লাগাতে চায় চীন। তাই জৈবপ্রযুক্তি–বিষয়ক ইউরোপ-আমেরিকার অসংখ্য স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে দেশটি।

এত দিন মূলত পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি উন্নত ওষুধ আমদানি করেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে গেছে চীন। এর পাশাপাশি চীনের হাজার হাজার স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি তৈরি করছিল ‘কপি-পেস্ট’ ওষুধ। অর্থাৎ উন্নত ওষুধের ফর্মুলার লাইসেন্স কিনে তা উৎপাদন করত চীনা কোম্পানিগুলো। কয়েক বছর ধরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে দেশটি। অন্যের ফর্মুলায় ওষুধ তৈরির পরিবর্তে গবেষণার মাধ্যমে চীন উন্নত ধরনের ওষুধ উদ্ভাবন করতে চাইছে। চীনের লক্ষ্য—এর মাধ্যমে একসময় ইউরোপ-আমেরিকার বাজারও দখলে আনা। বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, নিকট ভবিষ্যতে চীনেই সৃষ্টি হবে জৈবপ্রযুক্তির ‘পাওয়ারহাউস’।

চীনা প্রতিষ্ঠান ‘মাই বায়ো-মেড’। এই প্রতিষ্ঠানের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকসন ঝু ওয়েইয়ান বলছেন, চীন উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়কে সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ জৈবপ্রযুক্তির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির একটি সুষম মেলবন্ধন করার উদ্যোগ নিচ্ছে চীনারা।

ফিলিপস কোম্পানির পক্ষ থেকে চলতি বছর ‘ফিউচার হেলথ ইনডেক্স’ নামের একটি সূচক তৈরি করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য সব দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন। এ ক্ষেত্রে টেলিহেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করছে দেশটি।

দেশীয় ওষুধশিল্পকে এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে এই খাতে চীন বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইকিউভিআইএ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ২০১৭ সালে ওষুধের বৈশ্বিক বাজারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোক্তা ছিল চীন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের মধ্যে দেশটির ওষুধের বাজার ১৪৫ বিলিয়ন থেকে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ২০১৫ সাল থেকে ওষুধশিল্পের স্থানীয় বাজারে আমূল পরিবর্তন আনতে কাজ শুরু করে চায়না ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডিএ)। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে প্রথমে দেশের বাইরে থেকে আনা উন্নত ওষুধগুলোর ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিয়ে দেওয়া হয় আমদানি শুল্ক। এ ছাড়া স্থানীয় কারখানাগুলোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। এবার স্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারীদের জন্য ফের কঠোর নিয়মকানুন চালু করছে সিডিএ। এতে হয়তো অনেক চীনা কোম্পানি বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তবে চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতি হলো—কিছুটা ক্ষতি স্বীকার করে হলেও উন্নত মান নিশ্চিতের রাস্তায় হাঁটা। বলা হচ্ছে, এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে লাভ হবে চীনেরই। কারণ, উন্নত মানের ওষুধ তৈরি করতে হলে গবেষণা বিভাগ জোরদার করতেই হবে। আর এই গবেষণাতেই মিলবে নতুন উদ্ভাবন। এক হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমানে চীন তার মোট জিডিপির আড়াই শতাংশ খরচ করছে গবেষণায়।

এখন ওষুধসংক্রান্ত নানা লাইসেন্স চীন কিনতে শুরু করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর শুধু চীনা জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই ১৬৪টি আন্তর্দেশীয় লাইসেন্স কেনার চুক্তি করেছে। পাঁচ বছর আগের হিসাব ধরলে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এই চুক্তিগুলো প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। বিদেশি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ দিনকে দিন বাড়াচ্ছে চীন। এর মধ্য দিয়ে দেশটি নতুন নতুন উদ্ভাবন করায়ত্ত করতে চাইছে, যাতে একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। ঠিক একইভাবে বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিগত স্টার্টআপেও চীন বিনিয়োগ বাড়িয়েছিল।

এত আলোর নিচে অন্ধকারও আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চীনের বড় বড় শহরকেন্দ্রিক হাসপাতালগুলো যতটা উন্নত, শহরের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবও প্রকট। চীনের প্রতি ৬ হাজার ৬৬৬ জন নাগরিকের জন্য ১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, মাথাপিছু দেড় থেকে দুই হাজার নাগরিকের জন্য একজন করে চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। চীনের প্রত্যন্ত এলাকায় হাসপাতালের সংখ্যাও অপ্রতুল, কিছু ক্ষেত্রে শত শত মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় হাসপাতালে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চিত্রের পরিবর্তন না হলে নতুন নতুন ওষুধ উদ্ভাবন করেও চীনের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার পরিপূর্ণ উন্নতি হবে না।

চীনে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। চায়না ক্যানসার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ৭০ শতাংশের রোগ চিহ্নিত হয় এবং তার চিকিৎসা শুরু হয় একেবারে শেষ পর্যায়ে। সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় এই রোগ আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব। কিন্তু উন্নত শহরগুলোর বাইরে থাকা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোয় এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলে, সামগ্রিকভাবে চীনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির সুফল পাচ্ছে না দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীরা। 

অবশ্য চীন সরকারও বসে নেই। ক্যানসার নিরাময়ের নিত্যনতুন গবেষণায় কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালা হচ্ছে। এরই মধ্যে ক্যানসার নিরাময়ের জন্য ‘সিএআর-টি’ নামের একটি নতুন থেরাপি নিয়ে কাজ করছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সুযোগ বুঝে তাতে বিনিয়োগ করছে পশ্চিমারাও।

এটি ঠিক যে চিকিৎসা খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চীন। কিন্তু পরিবর্তনের গতি যতই থাকুক, তা কখনোই নিশ্চিত সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন নতুন ওষুধ বা জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রক্রিয়াটি বেশ অনিশ্চিত। আশার কথা হচ্ছে, অনিশ্চিত জেনেও চীন এই পথে এগোতে শুরু করেছে। হয়তো একদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের চীনেই যেতে হবে!

আপনার শরীরে আয়রনের অভাব নেই তো?

আপনার শরীরে আয়রনের অভাব নেই তো?

শরীরের পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনের অভাব থাকলে সেটি কখনো কখনো বেশ ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। শরীরে আয়রনের অভাব হওয়াকে অ্যানিমিয়া বলা হয়। এই সমস্যাটি নারীদের মধ্যে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত, আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আয়রনের দরকার পড়ে। এতে করে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সহজেই পৌঁছে যায়। শরীর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। কী করে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের অভাব আছে কিনা? চলুন, জেনে নেওয়া যাক আয়রনের অভাবে শরীরে প্রকাশ পাওয়া কিছু লক্ষণ।

দূর্বলতা ও অবসাদ
বারবার হাই পাচ্ছে? একটুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? আপনার এই অবস্থার পেছনে থাকা কারণ হতে পারে আয়রনের অভাব। কারণ, আয়রন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে হিমোগ্লোবিন কম উৎপন্ন হয়। শরীরের টিস্যু ও পেশীতে অক্সিজেন কম পৌঁছায়। ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুম পায় তাড়াতাড়ি, কাজ করতে ইচ্ছে করে না। কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতেও সমস্যা হয়।

ফ্যাকাসে ত্বক
হিমোগ্লোবিন রক্তের মধ্যে মিশে থেকে আমাদের ত্বকে এক রকমের গোলাপি আভা নিয়ে আসে। তাই, যদি আয়রনের অভাব হয় এবং হিমোগ্লোবিন ত্বকে না থাকে, সেক্ষেত্রে ত্বকের রঙ ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে। আপনার ত্বকের রঙ যেটাই হোক না কেন, এতে করে নখ, ঠোঁট, ত্বক ইত্যাদি বেশি ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
যেহেতু আয়রনের অভাবের কারণে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, তাই শরীর চেষ্টা করে কোনো একটা উপায়ে এই সমস্যা দূর করতে। ফলে নিঃশ্বাস নেওয়ার কষ্ট তৈরি হয়। বুকে ব্যথা দেখা দেয়।

মাইগ্রেন ও তন্দ্রাভাব
শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে এর প্রভাব মস্তিষ্কের উপরে পড়ে। এতে করে তন্দ্রাভাব তৈরি হয়। মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের পেছনের কারণ হিসেবেও এটি কাজ করে।

হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য যদি হিমোগ্লোবিন না থাকে, সেক্ষেত্রে বাড়তি অক্সিজেনের জন্য শরীরকে হৃদপিণ্ডের উপরে নির্ভর করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত কাজ করার কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। একে পালপিটিশনও বলা হয়।

ত্বক ও চুলে রুক্ষতা
ত্বক ও চুল শরীরে আয়রনের অভাব হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। আপনার ত্বক ও চুল কি রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? এটি মোটেও ভালো কোনো লক্ষণ নয়। কারণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চাহিদা পূরণ করার পর ত্বক ও চুলে আয়রন ও পুষ্টি প্রদান করে শরীর। যদি ত্বক ও চুলে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিশ্চিত বুঝতে হবে যে, আপনার শরীরে আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব রয়েছে।

মুখের ভেতরে শুষ্কতা
আপনার মুখের ভেতরের অংশ শরীরে আয়রনের অভাব সম্পর্কে আপনাকে জানান দিতে সক্ষম। আপনার মুখের ভেতরটা কি শুষ্ক হয়ে আছে? জিহ্বার রঙ বদলে গিয়েছে? মুখের ভেতরের অংশে কোনো পরিবর্তন আসলে, প্রদাহ তৈরি হলে- সেক্ষেত্রে আপনার শরীরে আয়রনের অভাব হয়েছে এমনটা মনে করতেই পারেন আপনি।

নখের ভঙ্গুরতা
কোইলোনিশিয়া নামক একটি সমস্যা তৈরি হলে নখে ভঙ্গুরতা দেখা দেয়। নখ পাতলা হয়ে যায়। আর এটি ঘটে শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে। তবে শরীরে আয়রনের অভাব হলেও এই লক্ষণটি খুব কম দেখতে পাওয়া যায়

পেশীতে নিয়ন্ত্রণ না থাকা
আয়রনের অভাবে শরীরে ডোপামিনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে পায়ের পেশীকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকসময়, অতিরিক্ত আয়রনের অভাব দেখা দিলে পেশীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আসুন জেনে নেয়া যাত আয়রন আছে কোন কোন খাবারে:

কলিজা
আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস হচ্ছে কলিজা। এছাড়াও এতে ভিটামিন, খনিজ লবন ও প্রোটিন থাকে। গরুর কলিজাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। কলিজা খেতে পছন্দ না করলে ডিম ও লাল মাংস খাওয়া যেতে পারে। আধা কাপ ডিমের কুসুমে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং ৩ আউন্স লাল মাংসে ২-৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।

ডার্ক চকলেট
ডার্ক চকলেট শরীরের জন্য ভালো। এটি আয়রনের একটি ভালো উৎস এবং এতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্টও থাকে।

ছোলা
এক কাপ ছোলাতে ৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং এতে পরিমিত প্রোটিনও থাকে। নিরামিষ ভোজীদের জন্য ছোলা আদর্শ খাদ্য। ছোলা খুবই উপাদেয় খাবার।

কুমড়ার বিচি
এক কাপ কুমড়ার বিচিতে ২ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। সুস্বাদু কুমড়ার বীচি রান্না করে,সালাদের সাথে,সিদ্ধ করে বা ভেঁজে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়।

ডালজাতীয় খাবার
আয়রনের একটি ভালো উৎস হল ডাল। এক কাপ ডালে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং প্রচুর ফাইবার থাকে।এতে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কম থাকে এবং রক্তের সুগার লেভেল ঠিক রাখে।

পালং শাক
এক কাপ রান্না করা পালংশাকে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, এছাড়াও এতে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন ই থাকে। রান্না করা পালং শাক এর পুষ্টি উপাদান খুব সহজেই শরীর শোষণ করে নিতে পারে।

সিদ্ধ আলু
সিদ্ধ আলুতে ভিটামিন সি, বি ভিটামিন, প্রচুর পটাশিয়াম থাকার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার আয়রনও থাকে। খোসা সহ একটি সিদ্ধ আলুতে থাকে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন।

এছাড়াও আয়রন সমৃদ্ধ আরও অনেক খাবার রয়েছে। যেমন: কাজুবাদাম, কিশমিশ, টমাটো, মটরশুঁটি, শিমের বীচি এছাড়া আয়রন জাতীয় খাবারের সাথে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- কমলা, স্ট্রবেরি, ব্রকলি ইত্যাদি খেতে হবে। । আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরে চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়।

এছাড়াও শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে হাত ও পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, নানারকম সংক্রমণ হওয়া, অস্বাভাবিক ক্ষুধা পাওয়া, উদ্বিগ্নতা, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া- ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে সেটি আপনার শরীরের বড় রকম ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তাই, এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিন।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয়তলা, ঢাকা

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লবণ খাওয়ার পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা কিডনি, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বাড়তি লবণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি সমস্যা, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াসহ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুনিয়াজুড়ে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই সীমা মেনে চলায় তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ২৩ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, লবণের পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামে রাখতে পারলে প্রতিবছর হৃদ্রোগের কারণে ৩০ লাখ মৃত্যু কমিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি তা প্রতিবছর ১২ লাখ ৫০ হাজার স্ট্রোকের পরিমাণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিদিন এক চা চামচ পরিমাণের লবণ গ্রহন করতে পারেন, সেক্ষেত্রে খেয়াল করুন, ভাতে লবণ, সবজিতে লবণ, তরকারিতে লবণ, মাছে লবণ, মাংসে লবণ, ডালে লবণ, শাকে লবণ, ভর্তায় লবণ, রুটিতে লবণ। বিকালে নাস্তায় পুড়ি, চপ, চটপটি, রুটি, নুডুলস, সুপে লবণ, বার্গার, পিজা, চিকেনে লবণ, হালিমে লবণ ।

এবার হিসাব করে দেখুন আপনি লবণ বেশি খাচ্ছেন কি না ? আমি গড় বলতে পারি, আমরা বেশি খাচ্ছি যার জন্য হার্ট, কিডনি, রক্তচাপ সহ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি নয়তো হতে যাচ্ছি।

বেশি লবণ শরীরে আছে কি না তা বুঝার কিছু শারীরিক চিহ্ন রয়েছে যেমন :

ফুলে যাওয়া
দি আঙুলের আংটি খানিকটা আঁটসাঁট মনে হয়, পায়ের পাতা ফুলে যায় অথবা সকালে চোখের নিচটা ফুলে থাকে, তাহলে সম্ভবত অতিরিক্ত লবণ খাচ্ছেন আপনি। ইডিমা নামক এই অবস্থাটি সৃষ্টির কারণ হলো অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর পানি জমিয়ে রাখছে।

অতিরিক্ত পানির পিপাসা
লবণের সোডিয়াম দেহের জলীয় পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন আপনি প্রচুর লবণ খাওয়া শুরু করেন, তখন পেশি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য শরীরের আরো জলীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। আর এভাবেই শরীর পানি এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পানি খাওয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধাণ করতে হয়।

প্রস্রাবে পরিবর্তন
দেহে সোডিয়ামের আধিক্য হওয়ার প্রভাব অবধারিত ভাবে প্রস্রাবের উপরও গিয়ে পড়ে। আর তা দুটি কারণে হতে পারে: অতিরিক্ত লবণ বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যা কিডনি রোগের সূত্রপাত ঘটায় এবং বারবার প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে। এসময় প্রস্রাবের রং একদম পরিষ্কার হয়। অন্য আরেকটি কারণ হলো, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর জলীয় পদার্থ হারিয়ে পানি-স্বল্পতা তৈরি করে। যখন পানি-স্বল্পতা লক্ষণীয় মাত্রায় পৌঁছে যায় তখন প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং ঘন ও হলুদ রং ধারণ করে।

হাড়ের ব্যথা
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার প্রভাব আমাদের শক্ত হাড়ের উপরও পড়ে। যখন আপনি প্রচুর পরিমাণ খাবার লবণ খাবেন, তখন আপনার কিডনি তার সবটুকু শরীর থেকে বের করে দিতে পারবে না, যা ক্যালসিয়াম ক্ষয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। জটিল ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হাড় দুর্বল করে দেয়, দাঁত ক্ষয় করে, এমনকি অস্টিওপোরেসিস রোগেরও জন্ম দেয়।

পেশির খিঁচুনি
পেশির সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমেই আমাদের দেহ হাঁটা-চলা, কাজ-কর্ম করার শক্তি পায়। পেশির এই সংকোচন প্রসারণের জন্য দেহে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য থাকতে হয়। অতিরিক্ত লবণ বা লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে খাওয়ার ফলাফল হিসাবে আপনার পেশির খিঁচুনি সমস্যা হতে পারে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অবিরাম মাথাব্যথা
অতিরিক্ত সোডিয়াম খাওয়ার ফলে দেহে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তনালীর উপর অত্যধিক চাপ প্রয়োগ করে। এই চাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন দিনের পর দিন মাথা ব্যথা হতে থাকে।

চিন্তা শক্তি হ্রাস পাওয়া
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপের যে সমস্যা তৈরি হয় তা মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে আপনার চিন্তা শক্তি হ্রাস পেতে শুরু করবে এবং প্রতিদিনের কাজ কর্মে মনোযোগ দিতে পারবেন না। এর পাশাপাশি অনবরত পানি-স্বল্পতা স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ক্লান্তি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তাই এখনই লবণ খাওয়ার পরিমান কমাতে হবে, সেই জন্য প্রতিদিন খাবারে ফল ও সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে শরীরে বাস করা রোগ কমে যাবেই।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা।

ওবেসিটি বা ব্লাড সুগারই নয়! মিষ্টি খেলে দ্রুত এগিয়ে যাবেন মৃত্যুর দিকে

ওবেসিটি বা ব্লাড সুগারই নয়! মিষ্টি খেলে দ্রুত এগিয়ে যাবেন মৃত্যুর দিকে

শুধু ব্লাড সুগারই নয়, অতিরিক্ত চিনি খেলেই বা মিষ্টি খাবার খেলে অবসাদের শিকার হতে পারেন। এমনই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি খেলে পুরুষদের মধ্যে মেন্টাল ডিজঅর্ডার দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী অ্যানিকা নুপ্পেল জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি খেলে শারীরিক ক্ষতি তো হয়ই। কিন্তু মিষ্টির সঙ্গে মানুষের মেজাজের এক বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। এমনিতেই ডায়েট চার্ট মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। কিন্তু ডায়েটে যদি অধিকাংশ ভাগই মিষ্টি থাকে, তা হলে অবসাদ বা অ্যানজাইটির মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বিজ্ঞানীরা সমীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, পাঁচ বছরে যাঁরা বেশি মাত্রায় মিষ্টি খাবার ও পানীয় খেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই অবসাদে আক্রান্ত হয়েছেন। তুলনায় যাঁরা কম মিষ্টি খেয়েছেন তাঁরা কম অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন।

সাধারণত মানুষের মেজাজ খারাপ থাকলে তাঁদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাঁরা ভাবেন, মিষ্টি খেলেই মেজাজ ভাল হয়ে যায়। কিন্তু আদপে উল্টোটা হয়। সাময়িক ভাবে মেজাজ ঠিক হলেও, অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

চিকিৎসকদের মতে, অবসাদ বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলেছে। অধিকাংশ রোগেরই মূল কারণ অবসাদ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কম বয়স থেকেই অবসাদের শিকার হলে, ব্লাড সুগার, স্নায়ু রোগ, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। এই রোগগুলিই বেশি দূর পর্যন্ত গড়ালে মৃত্যুও হতে পারে।

Alamgir Alam
Expert of Acupressure, Naturopathy
29, Bangabandhu Avenue, 2nd Floor, Dhaka

পালিও ডায়েট কী? কিভাবে শুরু করবেন এই ডায়েট?

পালিও ডায়েট কী? কিভাবে শুরু করবেন এই ডায়েট?

আজকের দিনে শরীর ঠিক রাখার জন্যে যেমন শরীরচর্চা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি দরকার সুষম খাবারের। আর একটা ভালো ডায়েট প্ল্যান আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরকে ভালো রাখতে পারে। আজকের দিনে নানান দিক বিচার করে অনেক রকম ডায়েট প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে একটা ডায়েট প্লান হলো এই পালিও ডায়েট। কি পালিও ডায়েট আসুন জেনে নিই আজকের এই প্রতিবেদনে।

paleo diet

উৎপত্তি, কী এবং কেন : পালিও শব্দটি এসেছে আসলে পালিওলিথিক থেকে। ওই সময় মানুষের আর কি কি খাওয়া দাওয়া করতো বা কি ধরনের খাবার খেতো তা অনুসরণ করেই মূলত এই ডায়েট প্ল্যানে তৈরি করা হয়েছে। শুনতে হাস্যকর হলেও এই ডায়েট এর আসল উদ্দেশ্য হলো অন্য। আসলে আজকের দিনে আমরা আমাদের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে প্রসেসড ফুড নিয়ে থাকি বা খেয়ে থাকি। অতিরিক্ত সুগার বা অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড খাওয়ার জন্য যে কারণে ভবিষ্যতে আমাদের শরীরে নানা রকম রোগের সৃষ্টি হয়। শরীরে যাতে প্রসেসড ফুড বেশি না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে মনে করা হয় এই ডায়েট এর উৎপত্তি। যারা প্রসেসড ফুড এর উপর নিজেদের নির্ভরশীলতা কমাতে চান তাদের জন্য বিশেষ করে এই ডায়েট এর জন্ম দেওয়া হয়েছে। ফ্যাট জাতীয় খাবার কে বর্জন করে এমন খাবার এই ডায়েটে নিজের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।সাথে প্রোটিনের পরিমিত আহার একান্ত আবশ্যক। ফলে আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনের পর্যাপ্ত যোগানের জন্য শরীর অনেকটাই ফিট থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ শরীরচর্চার একান্ত প্রয়োজন আছে।

কী কী খাওয়া যাবে না: যদিও এতক্ষণে অনেকেই বুঝতে পারছেন যে এই ডায়েটে কি কি খাওয়া যাবে না বা উচিত নয়, কিন্তু তাও বোঝার স্বার্থে এই ডায়েটে কি কি খাওয়া যাবে না তার একটা ছোট উদাহরণ নিচে দেওয়া হল:
১. সফট ড্রিংকস, চিনি, ক্যান্ডি, পেস্ট্রি বা এই জাতীয় মিষ্টি।
২. ডেয়ারিজাত প্রোডাক্ট
৩. সোয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, গ্রেপসিড তেল
৪. স্যাকারিন, মার্জারিন
৫. যেকোনো ধরনের প্রসেসড ফুড

কী কী খাওয়া যাবে(what to eat or to consume in this diet):

এই ডায়েটে কোন কোন খাবার নিজের জন্য বেছে নেবেন তার একটা নমুনা নিচে দেওয়া হল:
১. বিফ, ভেড়া, মুরগি বা এই জাতীয় প্রোটিন খাদ্য
২. যেকোনো ধরনের সামুদ্রিক বা সমুদ্র জাতীয় খাদ্য, বিশেষত সামুদ্রিক মাছ
৩. ডিম
৪. যেকোনো ধরনের টাটকা এবং তাজা ফল
৫. অলিভ তেল এবং নারকেল তেল
৬. আদা, রসুন, মিষ্টি আলু, বাদাম
৭. গ্রীন টি, কফি
তবে উপরে বর্ণিত এই খাবারগুলো বাদ দিয়ে অনেক খাবার রয়েছে যা এই ডায়েটে নিজের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা আধুনিক অনেক খাবার কে এই ডায়েট এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তবে আজকের দিনে অনেকেই এই ডায়েট কে আসলে ডায়েট বলে মেনে নিতে নারাজ। কেননা এই ডায়েট আপনার শরীর বুঝে শুধুমাত্র কতটা কার্বোহাইড্রেট দরকার বা কতটা প্রোটিন, ফ্যাটের দরকার তা বিচার করে না। এর মুখ্য উদ্দেশ্য কেবল আপনার খাদ্য তালিকা থেকে প্রসেসড ফুড সরিয়ে প্রাকৃতিক খাবারকে একত্রিত করা। এই ডায়েট কোন কাগজে কলমে লিখে রাখা কোন বাঁধাধরা ডায়েট নয়। নিজের শরীর বুঝে অন্য যেকোনো ডায়েট এর সাথে এই ডায়েট কে সমান ভাবে মেনে যে কেউ চলতে পারেন।পরিশেষে এটাই বলার যে কেউ যদি এই ডায়েট মেনে চলতে চান, তাহলে অবশ্যই শুরু করার আগে কোন ভাল ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করে নিন।