পেয়ারার পাতার অসাধারণ গুণ

পেয়ারার পাতার অসাধারণ গুণ

পেয়ারার পাতা ডায়াবেটিস কমাতে কাজ করে।

পেয়ারার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন। তবে আপনি কি জানেন পেয়ারার পাতায়ও রয়েছে অনেক গুণ? স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে পেয়ারার পাতার কিছু অসাধারণ স্বাস্থ্যকর গুণের কথা।

১. পেয়ারা পাতার চা নিয়মিত খেলে রক্তের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। এটি ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে কাজ করে।

২. পেয়ারা পাতার চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের জন্য এটি ডায়রিয়া ও ডিসেনট্রি কমাতে কাজ করে।

৩. কফ ও ব্রঙ্কাইটিস কমাতেও পেয়ার পাতার চা বেশ কার্যকর।

৪. পেয়ারা পাতার চা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি চর্বি কমাতে কাজ করে এবং  পেট ভরা ভরা ভাব রাখে। এতে ওজন কমে।

৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়মিত পেয়ারার পাতার চা পান করা ভালো। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে কাজ করে।

৬. পেয়ারা পাতার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের জন্য এটি পাকস্থলীর সমস্যারোধে ভালো কাজ করে। এটি ফুড পয়জনিং রোধেও উপকারী।

৭. পেয়ারার পাতা পানিতে ফুটান। একে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর পানিটি মাথায় ম্যাসাজ করুন। চুল পড়া প্রতিরোধ হবে। 

কলমি শাকের ঔষধি গুণ

কলমি শাকের ঔষধি গুণ

কলমি শাক অতি পরিচিত একটি শাক। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ও বাংলায় অনেকের প্রিয় ও পরিচিত শাক। এর ব্যাটানিক্যাল নাম Ipomoea reptans (Linn.). পরিবার Convolvulaceae.

উপকারিতা:

১. বিষক্রিয়ায়: ঢলে পড়েছে, হাতের কাছে কিছু নেই, কলমী শাকের রস করে অন্ততঃ এক ছটাক খেলে; শরীর স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

২. প্রথম বয়সের যৌবনের চাঞ্চল্যের কু-অভ্যাসে শরীর হাড়-সার, ঘুমলেই ক্ষরণ, এর সঙ্গে মাথা ধরা, হাত-পা জ্বালা, অগ্নিমান্দ্য, মুখে জল আসা, পড়াশুনা মনে না থাকা ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে কলমী শাকের রস ২ চা-চামচ, তার সঙ্গে অশ্বগন্ধা (Withania somnifera Dunal.) মূল চূণ ১ গ্রাম আন্দাজ মিশিয়ে খেতে হয়; অল্প দুধ মিশিয়ে খেলে আরও ভালো। এর দ্বারা তার যেসব উপসর্গ উপস্থিত হয়েছিল সেগুলি তো যাবেই, অধিকন্তু তার ধারণ ক্ষমতাও বেড়ে যাবে।

৩. কোলের শিশু রাত জাগে আর দিনে ঘুমোয়: অনেকের বিশ্বাস রাত্রিবেলায় জন্মালেই বুঝি এই হয়, তা ঠিক নয়; এর জন্য অনেক সময় দেখা যায় তার মল কঠিন হয়েছে এবং দুধে তোলে সে। এ ক্ষেত্রে অল্প গরম দুধের সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ ফোঁটা কলমী শাকের রস খাওয়ালে এই উপদ্রব চলে যাবে।

৪. বসন্তের প্রতিষেধক: বাড়িতে জল-বসন্ত কলে যেতে চায় না, এ ক্ষেত্রে কলমী শাকের রস ২ চা-চামচ একটু, গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে প্রত্যহ সকলের খেলে ভালো হয়; এর দ্বারা অন্যান্যরা রক্ষা পেতে পারেন। এ ভিন্ন আশপাশের বাড়িতেও এটা খাওয়া উচিত।

৫. স্তন্যে দুধ বাড়তে: শিশু-পোষণের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুও দুধ নেই, এ ক্ষেত্রে কলমী শাকের রস ৩ থেকে ৪ চা চামচ মাত্রায় একটু ঘিয়ে সাঁতলে খেতে হয়। সকালে ও বিকালে দু’বার খেলেই ভাল হয়। এটাতে দুধ বাড়বেই।

৬. গলারিয়ায়: জ্বালা-যন্ত্রণা, তার সঙ্গে পুজ পড়া, এ ক্ষেত্রে কলমী শাকের রস ৪ থেকে ৫ চা-চামচ অল্প ঘিয়ে সাঁতলে দুইবেলা খেতে হয়। এর দ্বারা কয়েকদিনের মধ্যেই এ জ্বালা-যন্ত্রণা ও পুঁজ পড়া বন্ধ হয়।

৭. ঠুনকো হলে: কলমী বেটে অল্প গরম করে স্তনে লাগাতে হয় এবং ঐ শাকের রস দিয়ে ধুতে হয়; এর দ্বারা বসা দুধ পাতলা হয়ে নিঃসরণের সুবিধা হয় এবং যন্ত্রণাও কমে যায়।

৮. হুলের জ্বালা: বোলতা, ভীমরুল, মৌমাছি প্রভৃতির হুল ফুটানোর জ্বালায় এই কলমী শাক বেটে লাগালে জালা কমে যায়। অগত্যা পক্ষে কলমীর ডগা ঘষে দিলেও উপকার হয়।

৯. নিমুখো ফোঁড়ায়: ভেতরে পুজ হয়েছে, বেরুতে পারছে না, বসে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ঐ কলমীর শিকড় ও ডগা একসঙ্গে বেটে ফোঁড়ার উপর প্রলেপ দিতে হয়; এর দ্বারা ফোঁড়ার মতো হয়ে যায়।

রাসায়নিক গঠন:

(a) Hydrocarbons viz, pentairiacotane tiacontance.
(b) Sterol,
(c) Acids viz, melissic acid, behenie acid, butyric acid and myristic acid.
(d) Essential oil=0.08%.
(e) Diferent type of resin-7.27%,

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা,৯।

গুলঞ্চ লতার ঔষধি গুণাগুণ

গুলঞ্চ লতার ঔষধি গুণাগুণ

ঘোড়া গুলঞ্চ ও পদ্ম গুলঞ্চ নামে দুটি লতা ভারতীয় উপমহাদেশে পাওয়া যায়। গুলঞ্চ লতা বা গুড়ুচ হচ্ছে মেনিস্পারমাসি পরিবারের টিনোস্পোরা গণের একটি লতানো উদ্ভিদ। এই গাছের রয়েছে অনেক রকমের ভেষজ গুণ। এদের ভেতরে পদ্ম গুলঞ্চের গুণাগুণ বেশি। নিচে এই লতার গুণাগুণসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ করা হলও।

ব্যবহার

১. পুরাতন বা জীর্ণ জ্বরে: গুলঞ্চের পাতা শাকের মতো কুচিয়ে ভেঙ্গে খেলে জ্বর ছেড়ে যায়। পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে ৮ থেকে ১০ গ্রামের মতো গুলঞ্চের ডাঁটা অল্প জল দিয়ে থেতো করে নিংড়ে ঐ রসকে ছেঁকে, অল্প গরম করে খেতে হবে, এটাতেও কাজ হবে অথবা থেতো করা ঐ গুলঞ্চ এক কাপ জলে সিদ্ধ করে আধা কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে অল্প চিনি মিশিয়ে খেতে হবে অথবা গুলঞ্চের রস বা ক্বাথ দিয়ে ঘি তৈরী করে খেতে হবে। এতে জ্বর ছেড়ে যায়।

২. অরুচিতে: যাঁদের মুখে কিছু ভাল লাগে না, খেতে ইচ্ছে হয় না, তাঁরাও এই পাতা ভেজে খেয়ে দেখুন, তাহলে অরুচি চলে যাবে।

৩. বাতের যন্ত্রণায়: প্রায়ই হাত পা কনকন করে, এই ক্ষেত্রে ১০ গ্রাম অন্দাজ গুলঞ্চ ছেঁচে উপরিউক্ত নিয়মে ক্বাথ করে অল্প একটু দুধ মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে ওটা উপশম হবে। তবে যে সব কারণে যেমন আহার, বিহারের জন্য বাত বাড়ে সেগুলিকে বর্জন তো করতেই হবে।

৪. পচা ঘায়ে: ১০ থেকে ১৫ গ্রাম থেঁতো গুলঞ্চের ক্বাথ করে সেটা দিয়ে ক্ষত ধুলে পচা ঘায়ের ব্যথা কমে যাবে।

৫. হৃৎ কম্পনে: ৫ থেকে ৭ গ্রাম গুলঞ্চকে ক্বাথ করে খেলে ওটা কমে যাবে, তবে ২ গ্রেণ বা একরতি গোল মরিচের গুড়া মিশিয়ে খেতে হবে।

৬. রক্তার্শে: যাঁরা এ রোগে ভুগছেন, তাঁরা ৫ থেকে ৭ গ্রাম গুলঞ্চকে ক্বাথ করে খেতে হবে তাহলে প্রশমিত হবে। তবে এই ক্বাথকে ভাগ করে দুই বেলায় খেতে হবে।

৭. দ্বিতীয় যোগ (অর্শের): একটা মাটির বাটি বা খুরিতে গুলঞ্চের রস মাখিয়ে, সেই পাত্রে দই পেতে সেই দই খেলে অর্শের উপকার হয়।

৮. আগ্নিমান্দ্যে: খাওয়ার ইচ্ছে যেমন কম, আবার খেলেও হজম হতে চায় না, যাকে বলা হয় অগ্মিমান্দা রোগ বা শ্লেষ্মাপ্রধান অগ্নিমান্দা, এ ক্ষেত্রে গুলঞ্চ শুকিয়ে গুড়া করে প্রত্যহ ১ গ্রাম করে জলসহ খেতে হবে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ক্ষিধে বেড়ে যাবে।

৯. স্বরভঙ্গে: স্থুলকায়, তার সঙ্গে আবার কফের যোগ হলে অনেকের স্বরভঙ্গ হয়, সেখানে গুলঞ্চের ক্বাথে কাজ হয়।

১০. কাসিতে: অনেক সময় কাসি হেকে ডেকে আসে না, খসখসে, সেখানে একটু গুলঞ্চের ক্বাথে মধু মিশিয়ে খেলে অসুবিধাটা কমে যাবে।

১১.বাতরক্তে: অনেক সময় গায়ে চাকা চাকা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে শক্ত হয়, আবার ব্যথাও থাকে; এ ক্ষেত্রে গুলঞ্চের রস বা ক্বাথ দিয়ে তৈরী তেল মাখা, অভাবে গুলঞ্চের রস গায়ে মাখা ও গুলঞ্চের ক্বাথ খাওয়া, এর দ্বারা ঐ বাতরক্তজনিত অসুবিধা যেটা আসছে সেটা দূর হবে। তবে এটি যদি পদ্মগুলঞ্চ হওয়া দরকার, তা না হলে আশানুরূপ উপকার হয় না।

১২. কমলা বা ন্যাবা রোগ: ২ ইঞ্চি পরিমাণ গুলঞ্চ চাকা চাকা করে কেটে ১ কাপ জলে রাত্রে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জলটায় একটু চিনি মিশিয়ে খেতে হবে।

১৩. বাতজ্বরে: সর্দি কাসি কিছুই নেই, হঠাৎ হাই উঠে কেঁপে জ্বর আসে, আবার খানিকক্ষণ বাদে কমে যায়, একে বলে বাতিকের জ্বর, এ ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ গ্রাম গুলঞ্চকে থেঁতো করে তার ক্বাথ ছেঁকে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে খেতে হবে।

১৪. শুল ব্যথা: গুলঞ্চ চূর্ণ ১ গ্রাম, গোল মরিচের গুঁড় সিকি গ্রাম একসঙ্গে গরম পানি দিয়ে খেতে হবে।

১৫.বসন্ত রোগে: হাত পা অসম্ভব ব্যাথা করে এক্ষেত্রে গুলঞ্চ রস করে অল্প জল দিয়ে থেঁতো করলেই এর রস সহজে বেরোয়; সেই রস হাত পায়ে লাগালেই ঐ জ্বালা কমে যাবে।

১৬. পেটের দোষে: প্রায়ই ভুগে থাকেন, পেট জ্বালাও করে, সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাকাসে ভাব আসছে, এ ক্ষেত্রে গুলঞ্চের ক্বাথ কাজে আসে।

১৭. সোরিয়াসিসে (Psoriasis): গায়ে চাকা চাকা হয়ে ওঠে, মুমড়ি পড়তে থাকে, আবার কোনো কোনো জায়গা থেকে রস গড়তে থাকে, এ ক্ষেত্রে গুলঞ্চের ক্বাথ খাওয়া, গুলঞ্চের রস দিয়ে তৈরী তেল মাখা, আর গুলঞ্চ রস করে গায়ে মাখা। অদ্ভুত ফল পাবেন।

১৮. পিত্ত বমিতে: পেটে কিছু থাকছে না, সে ক্ষেত্রে আধ কাপ জলে দেড় বা দুই ইঞ্চির মতো গুলঞ্চ পাতলা চাকা চাকা করে কেটে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে, তারপর তা থেকে ছেঁকে ২ থেকে ১ চামচ করে জল নিয়ে তার সঙ্গে ২ থেকে ১ চামচ দুধ মিশিয়ে খেতে হয়। অবশ্য এটা পিত্তশ্লেষ্মা জন্য বমনেই ভাল।

১৯. পিপাসায়: ঐভাবে কাটা গুলঞ্চ ও মৌরী একসঙ্গে ভিজিয়ে ঐ জল একটু একটু করে খেতে হবে তাহলে পিপাসা চলে যায়।

২০. মেদবৃদ্ধিতে: যারা না খেয়েই মোটা আর খেলে তো কথায় নেই, তাঁরা ৮ থেকে ১০ গ্রাম গুলঞ্চের ক্বাথ করে বা ১ কাপ আন্দাজ; তাতে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে হবে, তবে ২ থেকে ৪ দিন খেয়েই হতাশ হলে চলবে না।

২১. ক্রিমিতে: গুলঞ্চের ক্বাথ একটু একটু খেতে হবে, বা খেলে ক্রিমি সমস্যার সমাধান হবে।

গুলঞ্চের চিনি বা শ্বেতসার প্রস্তুত

পরিণত বয়সের মোটা মোটা গুলঞ্চকে টুকরো টুকরো করে কেটে থেঁতো করে ৮ গুণ জল দিয়ে ভাল করে মসটে, যাকে বলা হয় চটকে নিয়ে, একটু চুবড়িতে ঢেলে দিলে সিটেগুলি মোটামুটি ভাবে বেরিয়ে যাবে, তারপর ঐ জল থিতিয়ে গেলে উপরের ঐ জল আস্তে আস্তে ঢেলে ফেলতে হবে। নিচে যেটা থিতিয়ে বসে আছে সেইটাই রোদে শুকিয়ে ছেকে নিলেই গুলঞ্চের শ্বেতসার পাওয়া যায়; একেই গুলঞ্চের চিনি বলে। বহু রোগের ক্ষেত্রে এই চিনি ব্যবহার করা হয়।

২২. মস্তিকের দূর্বলতা: গুলঞ্চের চিনি ৩ রতি থেকে এক আনা মাত্রায় একটু দুধের সঙ্গে খেলে ঐ দূর্বলতাটা কেটে যায়।

২২. দূর্বলতা: দীর্ঘদিন থেকে চলছে, অস্থির কোনো পোষণ নেই; সেক্ষেত্রে অল্প ঘিয়ের সঙ্গে গুলঞ্চর চিনি ১ গ্রাম আন্দাজ মিশিয়ে চেটে খেলে আস্তে আস্তে সমস্যার ঠিক হয়ে যাবে।

২৩. প্রমেহ রোগে: প্রমেহ কথাটার দ্বারা প্রস্রাব ঘটিত বহু, রোগের ইঙ্গিত বহন করে, তার মধ্যে যে মেহে প্রস্রাবের পূর্বে বা পরে লালার মত নির্গত হয় তাকে বলা হয় লালা মেহ । এই ক্ষেত্রে গুলণ্ডের চিনি হাফ গ্রাম এবং তার সঙ্গে কাবাবচিনি হাফ গ্রাম মাত্রায় একত্রে দুধসহ খেলে কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে একটা প্রবাদ প্রচলিত যে, নিম গাছের গুলঞ্চই বেশী তিক্ত হয়, এবং সেই গাছের গুণ গ্রহণ করে। এরা অপরাশ্রীতা লতা হলেও অপরের রস গ্রহণ করার উপযোগী পরিবেশই বা কোথায় ? তারা তো মাটি থেকে রস গ্রহণ করে। তবে প্রজাতি ভেদে সে যে গাছই আশ্রয় করে থাকুক না কেন, স্বল্প বা তিক্ত হবেই। সাধারণ গুলঞ্চ যাকে আমরা চলতি কথায় বলি ‘ঘোড়া গুলঞ্চ’ (Tinospora cordifolia). সে গুলঞ্চ নিমগাছের হলে সে তিক্ত হবে। আবার পদ্মগুলঞ্চ যদি আমড়া গাছেও হয়, তার তিক্ততা যে কেমন তা যে পান করে সেই বুঝবেন।

২৪.মাথায় ছোট ছোট ফুসকুড়ি ও ব্যথাও আছে, আবার মুখে মামড়িও পড়ে; এটি পিত্তশ্লেষ্মাজ ব্যাধি। এ ক্ষেত্রে গুলঞ্চের রস দিয়ে তৈরী তেল মাথায় লাগালে ভাল কাজ হয়, তা না হলে ১ চামচ রস ৩ থেকে ৪ চামচ জল মিশিয়ে একটু গরম করে সেইটা প্রত্যহ একবার করে কয়েকদিন লাগানো আর গুলঞ্চের রস খেতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ গুলঞ্চ লতা থেকে অ্যালিলো রসায়ন পাওয়া যায়। এই ধরণের আলিলো রসায়ন ইউক্যালিপ্টাস গাছের শেকড় এবং পাতা থেকেও নিঃসৃত হয় যা অন্য গাছের অঙ্কুরোদ্গম বা বৃদ্ধির অন্তরায় ঘটিয়ে থাকে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এখন ভেবে দেখছেন এই প্রাকৃতিক রসায়ন ইনসেক্‌টিসাইড হিশেবে ব্যবহার করা যায় কি না।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৬৭-১৭১।

পান পাতার উপকারিতা

পান পাতার উপকারিতা


পান হচ্ছে পিপারাসি পরিবারের পিপার গণের একটি লতানো উদ্ভিদ। এরা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের একপ্রকার লতাজাতীয় গাছের পাতা। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Piper betle. পানের নানান জাত আছে। সাধারণত দু ধরনের পান বাজারে পাওয়া যায় কপুরি ও মলবারি। কপুরি পান আকারে ছোট আর স্বাদে মৃদু। বাংলা পানের আকার বড় হয় ও স্বাদে তীক্ষ্ণ। বাংলা পানের রস তীক্ষ্ণ, মলনিঃসারক, পিত্ত উৎপাদন করে, গরম এবং কফ হরণ করে। পাকা সাদা পাতলা ও ছোট আকারের পানই সবচেয়ে ভাল গুণের দিক থেকেও শ্রেষ্ঠ। কাঁচা সবুজ পানের চেয়ে পাকা সাদা পানেরই স্বাদ ও গুণ বেশি।[২]

পান স্বচ্ছ, রুচি উৎপাদক, তীক্ষ্ণ, উষ্ণ, কায়, মল পরিষ্কার করে, কটু, ক্ষারযুক্ত, রক্ত এবং পিত্তকারক, হালকা, বলপ্রদ, কফ, মুখের দুর্গন্ধ, বায়ু নাশক এবং শ্রম দূর করে। পান কামোদ্দীপক, রুচি বৃদ্ধি করে এবং বস্তিকর অর্থাৎ চেহারা সুন্দর করে।

বলা হয় পানের সরু ডগায় আয়ুষ্য, মধ্যে লক্ষ্মী আর মূলে যশের আবাস। সেইজন্যে পান সাজবার সময় এই সব অংশ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। নিম্নে রোগ প্রতিকারে পানের ভেষজ গুনাগুণ উল্লেখ করা হলো। পান পাতা সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত পড়ুন

পান পিপার গণের ঔষধি অর্থকরী লতা
১. শ্লেমাপ্রধান রোগ: পানের রোগ-নাশিনী শক্তি সম্পর্কে সর্বাগ্রে মনে রাখতে হবে যেখানে শ্লেমাপ্রধান রোগ, সেখানেই তার প্রভাব বেশি; তাই রসতাত্ত্বিক আয়ুর্বেদগণ ঔষধের সহপানে পানের রস বেশি ব্যবহার করেন।[১]

২. মাড়ির ক্ষতে: দাঁতের মাড়ির দুষিত ক্ষতে পুঁজ জমতে থাকলে পানের রসের সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে কুলকুচি করলে ওখানে আর পুজ জমে না; মুখের ক্ষত শুকিয়ে যায়। আবার, পানের রসে তীক্ষ্ণতায় আছে জীবাণুনাশক গুণ। সেইজন্যে পরিমিতভাবে পান খাওয়া দাঁত ও মুখের পক্ষে ভাল। পানে একটি বিশেষ ধরনের তৈল পদার্থ আছে- সেইজন্যে পান মুখশুদ্ধি করায়, দাঁতের পচে যাওয়া রোধ করে। পানের স্বাদ তীক্ষ্ণ, কিছু সুগন্ধযুক্ত, পান খেলে মুখের বিস্বাদ দূর হয়ে যায়, অরুচি ও মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।

খাওয়া-দাওয়ার পরে একটা করে পান খাওয়া ভাল। ভোজনের পরে যদি মুখের ভেতরে তেলতেলে ভাব উৎপন্ন হয়, যদি দাঁতের মধ্যে খাবারের ফলা আটকে গিয়ে থাকে আর যদি দাঁতের গোড়ায় পোকা ধরে গিয়ে থাকে তাহলে পান খেলে সে সব দোষ নষ্ট হয় এবং মুখ সুগন্ধি হয়।

৩. চুলকানি: পুরাতন দাদ বা চাপড়া-চুলকানিতে পানের রস ঘষে দিলে কয়েক দিনেই ও অবস্থাটার অবসান হয়।

৪. কানের পুঁজে: এর রস গরম করে ২ থেকে ১ ফোঁটা কানে দেওয়ার বিধি গ্রামাঞ্চলে তো আছেই। পানের গরম রস কানে দিলে কানের ব্যথাও সারে।

৫. হাতে-পায়ে হাজায়: পানের রস অল্প গরম করে রাত্রে লাগিয়ে রাখুন; উপশম হবে তবে এটাও ঠিক যে, হেতুটা বর্জন না করলে সেটা আবার হবেই।

৬. নখকুনির কষ্ট: পানের রস গরম করে দিনে ৩ থেকে ৪ বার নখের কোণে দিলে ব্যথা থেকে রেহাই হয়, তবে নখের ঐ বৃদ্ধিটুকু কাটতেই হয়।

৭. ফোড়ায়: পানের পাতার সোজা পিঠে ঘি (পুরাতন হলে ভাল হয়) মাখিয়ে ফোড়ার উপর বসিয়ে দিলে ফোড় পাকে ও ফাটে; আবার এইভাবে পানের উল্টোপিঠ ফোড়ায় বসালে ওটা পুজ টেনে বার করে শুকিয়ে দেয়; (অবশ্য একটু গরম করে নিতে হয়)। এখানে আর একটা কথা বলে রাখি পানের পাতায় পচন-নিবারক উদবায়ী তৈল আছে, যার জন্য ঐ ফোড়া বিসর্পিত হতে পারে না।

৮. মাথায় উকুন হলে: পানের পাতার রস মাথায় লাগিয়ে দেখুন ওরা সবংশে চলে যাবে। (তবে ঝাল পান হলে ভাল হয়। এ পানের গঠন একটু, মোটা হয়।)

৯ গর্ভনিরোধ: পানের শিকড় বেটে খাওয়ালে ছেলেপুলে হয় না একথা গ্রামাঞ্চলের মধ্যে কানাঘুষা শুনতাম, এখন দেখি বর্তমানের প্রামাণ্য গ্রন্থ Glossary of Indian Medicinal Plants- এ এ-কথা লেখা আছে।

১০. হজমে: পানে একটি বিশেষ ধরনের তৈল পদার্থ আছে। সেইজন্যে পান পেটে পাচক রসকে উত্তেজিত করে খাবার তাড়াতাড়ি হজম করিয়ে দেয়। পান খেলে শরীরের অন্নাশয়িক নালীর (গাস্ট্রিকের) এবং পাচক রসের স্রাব বাড়ে- এইভাবে খাবার হজম হয় তাড়াতাড়ি। যদি গুরুভোজন বা অতিভোজন হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে পান খেলে পেট হাঁসফাস করা থেকে একটু নিস্তার পাওয়া যায় এবং একটু যেন শরীরটা হালকা মনে হয়। পানের রস পাচক, অগ্নিদীপক অর্থাৎ খিদে বাড়ায় এবং বায়ু হরণ করে। সেইজন্যে পানের রস পেট গেলে বায়ু নীচে বসে যায়, তৃপ্তির ঢেকুর ওঠে এবং পেটে একটা শান্তির ভাব অনুভব করা যায়।

১১. কফ, বাত ও পিত্তের প্রকোপে: পানে চুন ও খয়ের থাকে। তার ওপরও এলাচ, ধনের চাল, মৌরি, সুপারি লবঙ্গ প্রতি মশলা দিয়ে পান সাজা হয়। এগুলির আছে নানা গুণ। চুন বাত ও কফ হরণ করে, খয়ের পিত্তের প্রকোপ দূর করে।

পান রসে তীক্ষ্ণ, কটু, কষায়, উষ্ণবীর্য (কড়া-শরীর গরম করে), পিত্ত-প্রকোপ বাড়িয়ে দেয় এবং বায়ু প্রকোপ কম করে। কিন্তু চুন ও খয়ের সহযোগে খেলে পান ত্রিদোষ (কফ, বাত ও পিত্ত) নাশক হয়ে যায়। ভাতের পরে একটা পান চিবিয়ে খেলে মন তৃপ্ত ও প্রফুল্ল হয়।

পান সকালে খেলে তাতে সুপারি, দুপুরে খেলে তাতে খয়ের আর সন্ধেবেলা খেলে তাতে চুন বেশি দেওয়া উচিত (অবশ্য গাল যেন না পুড়ে যায়)। এই পদ্ধতিতে পান খেলে সকালবেলা কফ, দুপুরবেলা পিত্ত আর সন্ধেবেলা বায়ুর সমতা বজায় থাকে।

পান কফ নাশক বিধায় পানের ভেতরের বিশেষ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত তেল শ্বাসনালীর ভেতরটা যদি কোনো কারণে ফুলে যায় তা সারিয়ে দেয়।

১৩. খাবারের পর স্বস্তি আনতে: স্নিগ্ধ, মধুর ও গরিষ্ঠ ভোজনের পর পান খেলে স্বস্তি পাওয়া যায় বিশেষত উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ুর দেশে যাঁরা থাকেন এবং যাঁরা ভাত খান তাঁদের ভোজনের পর একটি করে পান খেলে বেশি উপকার হবে।

পানের চুন যাতে শরীরের ক্ষতি না করে সেইজন্যে পানে খয়ের মেশানো হয়। শুধু চুন রক্তে মিশে যেতে পারে না কিন্তু পানের ক্লোরোফিল বা সবুজতার সঙ্গে এক হয়ে গিয়ে সহজে হজম হয়ে যায়। এতে দাঁতের উপকার হয় এবং পেটের পাচক রসও কাজ করে তাড়াতাড়ি।

১৪. গ্যাস আর বদহজমে: পাকা পান আর সজনের ছাল একসঙ্গে নিয়ে রস বের করে তিন দিন নিয়ম করে খেলে অন্ত্রে যদি বায়ু সৃষ্টি হয় তার উপশম হবে।

পানের রসে মধু মিশিয়ে চাটলে আধোবায়ু মুক্ত হয়। ছোটদের গ্যাস আর বদহজমে খুব তাড়াতাড়ি উপশম পাওয়া যায়।

১৪. স্বর ভাঙ্গায়: পানের শিকড় তীক্ষ্ণ, স্বল্পশোধক, কফনাশ করে। যদি কোনো কারণে গলা বসে যায় তো পানের শিকড় (বাজারেও পানের দোকানে পাওয়া যায়) খেলে গলায় স্বর খুলবে।[২]

১৫. সর্দি ও কাশিতে: একটি বা দুটি পান পাতা চিবিয়ে নিলে সর্দিতে উপকার পাওয়া যায়। আবার পানের শিম্বির (পান গাছে যে সিমের মতো ফল হয়) চূর্ণ মধুতে মিশিয়ে চাটলে সর্দির জন্যে যে কাশি হয় তা সেরে যায়।

পান পাতায় রেড়ির তেল লাগিয়ে একটু গরম করে ছোট শিশু বুকের ওপর রেখে কাপড় গরম করে হালকাভাবে সেঁকে দিলে শিশুর বুক ভরা কফ দূর হয়।

১৬. চোখের ব্যথায়: পানের রস চোখে দিলে রাতকানা রোগে উপকার হয় এবং চোখে ব্যথারও উপশম হয়।

১৭. বুকের দুধ বেড়ে গেলে: প্রসূতা স্ত্রীর যদি বুকের দুধ খুব বেড়ে গিয়ে স্তন ফুলে যায় এবং ব্যথা হয় তাহলে পান পাতা গরম করে খেলে অতিরিক্ত দুধ বেরিয়ে গিয়ে ফুলো কমে যায় এবং ব্যথাও কমে যায়।

পান বেশি খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি

১. পান বেশি খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. বেশি পান খান যাঁরা তাঁদের রক্তে বিশেষ ধরনের একটি বিষতত্ত্ব প্রবেশ করে। এর ফলে হজমের গোলমাল দেখা দেয়। বেশি খয়ের খেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয় এবং অন্ত্রের বিকৃতি ঘটে।

৩. পানের সঙ্গে সুপুরি অধিকমাত্রায় খেলে চুলকুনি হয়।

৪. যিনি পান খাচ্ছেন তিনি যদি শোওয়ার আগে মুখ ভাল করে পরিষ্কার করে না নেন অর্থাৎ ধুয়ে না নেন তাহলে দাঁতের ক্ষতি হবে। মাড়ি দুর্বল হয়ে যাবে এবং দাঁত তাড়াতাড়ি পড়ে যাবে। দাঁত লাল হয়ে যায়, দাঁতের গোড়া ঢিলে হয়ে যায়, দাঁত খারাপ হতে আরম্ভ করে। এই লাল-কালো ছোপ ধরা দাঁতের জন্যে হাসির সৌন্দর্য আর থাকে না অতএব মুখশ্রী যতই সুন্দর থাকুক বেশি পান খাওয়া দাঁতের কালিমা সব কিছুকে আড়াল করে দেয়।

৫. সারা দিন ধরে পান চিবানো স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়। খাওয়ার পরে মুখশুদ্ধি হিসেবে একটি করে পান খাওয়া ভাল। বেশি পান খেলে দাঁত খারাপ হয়ে গিয়ে পাইয়োরিয়া রোগের সৃষ্টি হয়। দাঁতের অসুখ, চোখের অসুখ শক্তিক্ষয় আর মুখের রোগ হয়।

৬. পিত্তপ্রকোপ বেড়ে যায়, শরীর বেশি গরম হয়ে যায় এবং ধাতুর উষ্ণতা বেড়ে গিয়ে শরীরের ক্ষতি হয়।

৭. যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলা অতি কু-অভ্যাস। এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে বলা হয় পানের প্রথম পিক গিলে ফেললে বুদ্ধিনাশ হয়। দ্বিতীয় পিক গিলে ফেললে মলের বেগ আসে। তৃতীয় পিক এবং তার পরের সব পিকই গিলে ফেলা যেতে পারে। কারণ এই রসকে অমৃতের সমান বা অমৃততুল্য বলে মনে করা হয়।

পানের তেল: পানের আরও উপযোগিতা আছে। পান থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়। প্রায় ৫০ হাজার পান পাতা থেকে ১ কিলোগ্রাম তেল পাওয়া যায়। এক কিলো তেলের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। এই তেল দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম অ্যালোপ্যাথি ও কবিরাজি ওষুধ। পান গাছের শেকড় থেকে তৈরি হয় উকুন মারা ওষুধ ও কানের অসুখের জন্য ওষুধ বা ড্রপ। পানের তেল বিভিন্ন সুগন্ধি তৈরি করবার কাজেও ব্যবহার করা হয়।

যাদের পান খাওয়া উচিত নয়: (১) রুক্ষ ও দুর্বল ব্যক্তির, (২) মা রোগীর ও যার চোখ উঠেছে, (৩) রক্তপিত্তে, ক্ষয় ও যক্ষা রোগীর, (৪) অতিরিক্ত নেশার পর।

রাসায়নিক গঠন:

(a) Phenolic compounds viz. chavicol, hydroxychavicol.
(b) Vitamin viz. ascorbic acid.
(c) Enzymes.
(d) Essential oil.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৯৯-২০০।

২. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা, ৫৬-৫৯।

তেলাকুচা পাতার উপকারিতা

তেলাকুচা পাতার উপকারিতা

তেলাকুচা (বৈজ্ঞানিক নাম: Coccinia grandis) হচ্ছে কিউকারবিটাসি (শসা লাউ) পরিবারের সিট্রালাস গণের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী বীরুৎ।[১] বনজ আরোহি এই লতাগাছটির অনেকগুলো নাম রয়েছে, সেসব হচ্ছে কুচিলা, তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা, কেলাকচু, তেলাকুচা, বিম্বী, কাকিঝিঙ্গা, কাওয়ালুলি, কান্দুরি, কুচিলা ও মাকাল। নিম্নে তেলাকুচার ভেষজ বা লোকায়তিক ব্যবহার উল্লেখ করা হলো। তেলাকুচার দৈহিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন:

তেলাকুচা বাংলাদেশ ভারতের সুলভ ঔষধি লতা
১. সর্দিতে: ঋতু পরিবর্তনের যে সর্দি হয়, সেই সর্দিকে প্রতিহত করতে পারে, যদি তেলাকুচা পাতা ও মূলের রস ৪/৫ চা-চামচ একটু গরম করে সকালে ও বিকালে খাওয়া যায়; তা হলে এর দ্বারা আগন্তুক শ্লেষ্মা আক্রমণের ভয় থাকে না, তবে পাতার ওজনের সিকি পরিমাণ মূল নিলেই চলে।

২. অধগত রক্তপিত্তে: জ্বালা যন্ত্রণা থাকে না কিন্তু টাটকা রক্ত পড়ে, অর্শের কোনো লক্ষণই বোঝা যায়নি; এক্ষেত্রে মূল ও পাতার রস ৩ চা-চামচ গরম করে খেলে ঐ রক্তপড়া ২/৩ দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে।

৩. আমাশয় শোথে: যাঁদের আমাশা প্রায়ই লেগে থাকে, পা ঝুলিয়ে রাখলেই ফুলে যায়, এক্ষেত্রে মূল ও পাতার রস ৩/৪ চা চামচ প্রতিদিন একবার করে খেলে ঐ ফুলোটা চলে যাবে। তবে মূলরোগ আমাশার চিকিৎসা না করলে পা ফুলো আবার আসবে।

৪. পান্ডু রোগে: (শ্লেষ্মা জন্য) এইরূপ ক্ষেত্রে এর মূলের রস ২/৩ চা চামচ, গরম না করেই সকালের দিকে একবার খেতে হবে।

৫. শ্লেষ্মার জন্য জ্বর: এইসব জ্বরে তেলাকুচা পাতা ও মূল একসঙ্গে থেতো করে ২/৩ চা চামচ রস একটু গরম করে সকালে ও বিকালে ২ বার করে দুই দিন খেলে জ্বর ছেড়ে যায়। এ জ্বরে সাধারণতঃ মুখে খুবই অরুচি, এমনকি জ্বরঠুঁটোও বেরোয়, আবার কারোর মুখে ঘাও হয়।

৬. হাঁপানির মত হলে: আসলে বুকে সার্দি বসে গিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে, পূর্বে বংশপরম্পরায় হাঁপানি বা একজিমা অথবা হাতের তালু ও পায়ের তলায় অস্বাভাবিক ঘাম হওয়ার ইতিহাস নেই, এইরকম যে-ক্ষেত্রে, সেখানে এই তেলাকুচোর পাতা ও তার সিকিভাগ মূল একসঙ্গে থেতো করে তার রস ৩/৪ চা চামচ একটু গরম করে খেলে ঐ সর্দি তরল হয়ে যায়।

৭. শ্লেষ্মার জন্য কাশি: এই কাশিতে শ্লেষ্মা (কফ) একেবারে যে ওঠে না তা নয়, কাশতে কাশতে বমি হয়ে যায় তাও নয়, এই কাশিতে সর্দি (কফ) কিছু না কিছু ওঠে, তবে খুব কষ্ট হয়। এই রকম ক্ষেত্রে মূল ও পাতার রস ৩/৪ চা-চামচ একটু গরম করে, ঠান্ডা হলে আধ চা-চামচ মধু মিশিয়ে (সম্ভব হলে) খেলে ঐ শ্লেষ্মা তরল হয়ে যায় ও কাশিও উপশম হয়।

৮. জ্বর ভাব: জ্বর যে হবে তার সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, মাথা ভার, সারা শরীরে কামড়ানি, এই অবস্থায় কাঁচা তেলাকুচা ফলের রস ১ চা চামচ একটু মধুসহ সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে জ্বরভাবটা কেটে যাবে, তবে অনেক সময় একটু বমি হয়ে তরল সর্দিও উঠে যায়; এটাতে শরীর অনেকটা হালকা বোধ হয়। তবে যে ক্ষেত্রে এই রোগে বায়ু অনুষঙ্গী হয় সেখানে কাজ হবে না, যেখানে পিত্ত অনুষঙ্গী হয় সেখানেও কাজ হবে না; কেবল যেখানে শরীরে কফের প্রবণতা আছে, তার সঙ্গে ডায়েবেটিস, সেখানেই কাজ করবে। এ ক্ষেত্রের লক্ষণ হবে থপথপে চেহারা, কালো হলেও ফ্যাকাসে, কোমল স্থানগুলিতে ফোড়া হতে চাইবে বেশী, এদের স্বাভাবিক টান থাকে মিষ্ট রসে, এরা জলা জায়গার স্বপ্ন বেশী দেখেন। রমণের স্থায়ীত্বও নেই যে তা নয়, এই বিকার যে কেবল বৃদ্ধকালে আসবে তা নয়, সব বয়সেই আসতে পারে। এদের ক্ষেত্রে আলু খাওয়া, মিষ্টি খাওয়া, ভাত বেশী খাওয়া নিষেধ করেছেন আয়ুর্বেদের মনীষীগণ, যাঁরা বায়ু বা পিত্ত বিকৃতির সঙ্গে ডায়েবেটিস রোগে আক্রান্ত হন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সব বর্জনের খুব উপযোগিতা আছে বলে আয়ুর্বেদের মনীষীগণ মনে করেন না।

৯. বমনের প্রয়োজনে: অনেক সময় বমি করার দরকার হয়, যদি কোনো কারণে পেটে কিছু গিয়ে থাকে বা খেয়ে থাকেন — সেক্ষেত্রে তেলাকুচা পাতার রস ৫/৬ চাচামচ কাঁচাই অর্থাৎ গরম না করেই খেতে হয়, এর দ্বারা বমন হয়ে থাকে।

১০. অরুচি: যে অরুচি শ্লেষ্মাবিকারে আসে অর্থাৎ সর্দিতে মুখে অরুচি হলে তেলাকুচোর পাতা একটু সিদ্ধ করে, জলটা ফেলে দিয়ে শাকের মত রান্না করে (অবশ্য ঘি দিয়ে সাঁতলে রান্না করতে হবে) খেলে; এর দ্বারা অরুচি সেরে যাবে।

১১. ডায়বেটিস: অনেক সময় আমরা মন্তব্য করি, তেলাকুচার পাতার রস খেলাম, আমার ডায়েবেটিসে সুফল কিছুই হলো না; কিন্তু একটা বিষয়ে যোগে ভুল হয়ে গিয়েছে। এই রোগ তো আর এক রকম দোষে জন্ম নেয় না। এক্ষেত্রে তেলাকুচোর পাতা ও মূলের রস ৩ চা চামচ করে সকালে ও বিকালে একটু গরম করে খেতে হবে। এর দ্বারা ৩/৪ দিন পর থেকে শারীরিক সুস্থতা অনুভব করতে থাকবেন।

১২. স্তনে দুধহীনতায়:—মা হলেও স্তনে দুধ নেই, এদিকে শরীর ফ্যাকাসে হয়ে গেছে, এক্ষেত্রে কাঁচা সবুজ তেলাকুচা ফলের রস একটু গরম করে ছেকে তা থেকে এক চা চামচ রস নিয়ে ২/৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে স্তনে দুধ আসবে।

১৩. অপস্মার রোগে : এটি যদি শ্লেষ্মা জন্য হয়, তবে এ রোগের বিশিষ্ট লক্ষণ হবে রোগাক্রমণের পর থেকে ভোগকালের মধ্যে রুগী প্রস্রাব করে থাকে। এদের দাঁড়ানো বা চলাকালে কখনও রোগাক্রমণ বড় দেখা যায় না। খাওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা খুব ভোরের দিকে এদের রোগাক্রমণ হবে। এদের (এ রোগীর) মুখ দিয়ে গাঁজলা বেরোয় না। এটা যদি দীর্ঘদিন হয়ে যায় অর্থাৎ পুরাতন হলে যদিও নিরাময় হওয়া কষ্টসাধ্য, তথাপি এটা ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে তেলাকুচোর পাতা ও মূলের রস একটু গরম করে, ছেঁকে নিয়ে ২ চা চামচ করে প্রত্যহ খেতে হবে। তবে এটা বেশ কিছুদিন খাওয়ালে আক্রমণটা যতশীঘ্র আসছিলো সেটা আর আসবে না।

তেতো তেলাকুচা: আর এক রকম তেলাকুচা আছে যার স্বাদ তেতো। তেতো তেলাকুচোর মূলের ছালের একটি বিশেষ উপকারিতা আছে। এটি জোলাপের কাজে লাগে। তেলাকুচো পাতার রস বা পাতার পুলটিস তৈরি করে লাগালে ফোঁড়া সারে। ব্রণও সারে পাতার রসে।

তেতো তেলাকুচাও মল নিঃসারণ করায়। অরুচি নাশ করে। শ্বাসের কষ্ট, কাশি ও জ্বর সারিয়ে তোলে। বমিভাব দূর করে। স্বাদে তেতো হওয়ার জন্যে খিদে বাড়িয়ে দেয়। রক্তবিকার অর্থাৎ ‘রক্তের দোষ’ শোধন করে। বমন করাবার শক্তি আছে। কফ এবং জনডিস রোগ আরোগ্য করে। এই গাছের মূল বমি করায় এবং জোলাপের কাজও করে। শোথ রোগ সারিয়ে দেয়।

তেতো তেলাকুচার মূলের চূর্ণ খাওয়ালে প্রস্রাবের সঙ্গে শ্বেত পদার্থ বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়। মূলের চূর্ণ খেলে স্ত্রীরোগে উপকার হয়। যদি বিছে কামড়ায় তেতো তেলাকুচো পাতার রসের প্রলেপ দিলে জ্বালা বন্ধ হয়।

বৈজ্ঞানিকদের মতে, তেলাকুচোয় প্রভাব জননেন্দ্রিয় ও মূত্রাশয়ের ওপর বেশি। শরীর স্নিগ্ধ করে, মূত্র ও রক্তে পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এই শ্রেণীর অন্য তরকারির মধ্যে তেলাকুচার পুষ্টিমূল্য বেশি!

তেলাকুচোকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় ‘বিম্বফল’। তেলাকুচো পাকলে টুকটুকে লাল হয়ে যায়। সেই পাকা বিম্ব-র সঙ্গে কবি কালিদাস সুন্দরীদের ঠোঁটের তুলনা করেছেন ‘পক্কবিম্বাধরোষ্ঠী’।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. এম অলিউর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩০৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা ২৬-৩১।

৩. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১১৩-১১৪।

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম centella aciatica। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন…

১. চুল পড়ার হার কমে:
নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩. ক্ষতের চিকিৎসা করে:
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়:
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৭. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৮. কাশির প্রকোপ কমে:
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে:
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়:
অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।