শক্তির উৎস কাঁঠাল

শক্তির উৎস কাঁঠাল

কাঁঠালে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিংক, নায়াসিনসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান। অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় কাঁঠাল মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পুষ্টিমান হিসেবে মোট কার্বোহাইড্রেট ২৪ গ্রাম, বায়াটারি ফাইবার ২ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ভিটামিন এ ২১৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০৩ মিলিগ্রাম ও ক্যালরি পাওয়া যায় ৯৪ মিলিগ্রাম। খনিজ পদার্থ ১.১ গ্রাম, শক্তি কিলোক্যালরি ৪৮, আমিষ ১.৮ গ্রাম, শর্করা ৯.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১.১১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ক্যারেটিন ৪৭০০ মাইক্রোগ্রাম, আঁশ ০.২ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৮ গ্রাম।

কাঁঠালের উপকারিতা

• কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম।

• কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য কাঁঠাল উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

• কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

• কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হলো ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন সি, যা কাঁঠালে ভরপুর থাকে।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়ন্টেস থাকে, যা একটু দুর্লভ খাদ্য উপাদান, যা সহজেই আলসার, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।

• কাঁঠালে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রি- র‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• টেনশন ও নার্ভাসনেস আমাদের এখন নিত্যসঙ্গী, এই সমস্যা কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকর।

• বদহজম রোধ করে কাঁঠাল। দীর্ঘদিন ধরে বদহজমজনিত সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত কাঁঠাল খেতে পারেন, তাতে বদহজমের সমস্যা দূর হবে; সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যও হ্রাস পাবে।

• কাঁঠালে বিপুল পরিমাণে আছে ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালী করায় ভূমিকা রাখে।

• কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি৬ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয়, রক্তসঞ্চালনের প্রক্রিয়ায়ও ভূমিকা রাখে।

• ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়।

• চিকিৎসাশাস্ত্রমতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী নারী ও গর্ভে থাকা সন্তানের সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী নারীরা কাঁঠাল খেলে তাঁর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

• কাঁঠালে থাকা খনিজ উপাদান আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করে।

কাঁঠাল সবাই খেতে পারেন না। অনেকে গন্ধের জন্য খেতে পারেন না আবার ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের কাঁঠাল খাওয়া একদম বারণ করা থাকে। অথচ ইচ্ছা করলে খেতে পারবেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও। এ ক্ষেত্রে কাঁঠাল খাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে খালি পেটে। নাশতায় কাঁঠাল খেলে অন্য শর্করা-জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।

ডেউয়ায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম

ডেউয়ায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম

ডেউয়া কাঁঠালের মতোই গুচ্ছফল। মার্চে ডেউয়ার প্রায় পাতাহীন ডালপালায় ফুল আসে আর আগস্টে ফল পাকে। এ ফলের বাইরের অংশটি থাকে অসমান, এবড়োখেবড়ো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ হয়। গাছ লম্বা উঁচু হয়। কাঁচা টক টক স্বাদ, কিন্তু পাকলে সেটা তখন অন্য স্বাদ—সেটা টকও নয়, আবার মিষ্টিও নয়। ডেউয়ার আদি জন্মস্থান বঙ্গবর্ম এলাকা। বর্মায় এ ফলের নাম মাইয়াক লুয়াং। অঞ্চলভেদে এই ফল মানুষের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচিত।

ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয় ডেউয়াকে। এ ছাড়া ডেউয়ায় আছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়ায় খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে খনিজ ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৭ গ্রাম, শর্করা ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম।

দেখতে অদ্ভুত ও খেতে টক-মিষ্টি ডেউয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশ কিছু ভেষজ গুণও।

• মেদ ও ভুঁড়ি কমাতে: মেদ ও ভুঁড়ি কমাতে চাইলে ডেউয়ার রস এক থেকে দেড় চামচ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে রোজ একবার করে এক মাস খেলে উপকার পাবেন। তবে ১২ মাস তো এ ফল পাওয়া যায় না। এ জন্য যখন পাওয়া যাবে, তখন কেটে রোদে শুকিয়ে রাখতে পারেন।

• পেট ফাঁপা সমস্যায়: পেটে বায়ু জমলে পাকা ডেউয়ার রস দেড় চামচ আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে অল্প চিনি দিয়ে প্রতিদিন একবার এক সপ্তাহ খেলে উপকার হবে।

• মুখের রুচি ফেরাতে: যাঁদের অসুস্থতার কারণে মুখে রুচি নেই, তাঁরা দু-তিন চামচ ডেউয়ার রস ও সঙ্গে একটু লবণ–গোলমরিচগুঁড়া মিশিয়ে দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার আগে খেতে পারেন। এক সপ্তাহ খেলেই মুখে রুচি আসবে।

• পেটের সমস্যায়: অনেকের বিভিন্ন প্রকার খাবার খেলেও পেট পরিষ্কার হয় না, অস্বস্তিতে ভোগেন। তাঁরা কাঁচা ডেউয়া কেটে ৮-১০ গ্রামের মতো বেটে গরম পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ওই পানি খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটা সকালে বাসি পেটে খেতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের কারণে পেটব্যথা কমাতে সহায়তা করে ডেউয়া।

• দাঁতের সমস্যায়: ডেউয়ার ভিটামিন সি ত্বক, চুল, নখ, দাঁত ও মাড়ির নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে। তাই এই ফলকে ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয়।

• ডিহাইড্রেশনে: কোনো কারণে বমি বমি ভাব অনুভব হলে তা খেলে দ্রুত সেরে যায়। অত্যধিক তৃষ্ণা নিবারণে কাজ করে টকজাতীয় ফল ডেউয়া।

• ত্বকের সুরক্ষায়: ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে মসৃণ ভাব ফিরে আসে। অর্থাৎ শরীরের শুষ্ক ভাব দূর হয়। ডেউয়ায় ট্যানিন থাকে এবং এটি ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়, যা আপনি এ ফল খেলেই পাবেন।

• লিভার সমস্যায়: লিভারজনিত নানা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে ডেউয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদের মধ্যে কিছু ফার্মাকোলজিক্যাল কার্যকলাপ পাওয়া গেছে এবং এগুলো হলো প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিক্যানসার ও অ্যান্টি-এইচআইভি বৈশিষ্ট্য, লিভারের সতেজতা হিসেবে কাজ করে।

• স্মৃতিশক্তি বাড়াতে: এ ফল খেলে স্মৃতিশক্তিও বাড়ে। মরিচ, লবণ, চিনি দিয়ে ডেউয়ার ভর্তা খেলে সানস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

এ ছাড়া ডেউয়ায় বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্ত চলাচলে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ইউনানি চিকিৎসায় ফল ও ফলের বীজ ব্যবহার করে থাকে। ফল ও গাছের রসকষে অনেক রাসায়নিক দ্রব্য আছে, যেমন ট্যানিন, স্টেরোকিটোন ও আরটোস্টটিনোন।

হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই দেশি ফলগুলো। তাই ফল সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আশা উচিত।

করমচায় মন তাজা

করমচায় মন তাজা

করমচা। টক স্বাদের ছোট আকৃতির মুখরোচক একটি ফল। এই ফল গ্রাম থেকে এখন শহরেও চাষ করা হয়। কারও কারও বাড়রি ছাদ কিংবা বারান্দায়ও দেখা মেলে। একসময়ে গ্রামে করমচার প্রচুর ফলন হতো। করমচা খুবই জনপ্রিয় টকজাতীয় ফল। কাঁটায় ভরা এ গাছ, পাতা ও ফলে নান্দনকিতার ছোঁয়া থাকায় অনেকে সৌর্ন্দযর্বধনের জন্যও এ গাছ রোপণ করে থাকেন। এর গোলাপি রং বাগানের শোভা বাড়িয়ে দেয়।
করমচায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ। এ ফলের অনেক গুণ। এতে আছে ১৮ দশমিক ২ ভাগ জলীয় রস, ২ দশমিক ৩ ভাগ প্রোটিন, ২ দশমিক ৮ ভাগ খনিজ, ৯ দশমিক ৬ ভাগ স্নেহ, ৬৭ দশমিক ১ ভাগ শর্করা। এ ছাড়া খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম শূন্য দশমিক ১৬ ভাগ, ফসফরাস শূন্য দশমিক ৬ ভাগ এবং লৌহ ৩৯ দশমিক ১ ভাগ।

প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় পাওয়া যায় ৩৬৪ ক্যালরি, রিবোফ্লেভিন শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম, নায়াসিন শূন্য দশমিক ২ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম, কপার শূন্য দশমিক ২ মিলিগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম তাজা ফলে রয়েছে ২০০ দশমিক ৯৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি করমচায় চর্বি এবং ক্ষতকির কোলস্টেরেল থাকে না।

ভিটামিন সিতে ভরপুর করমচা মুখে রুচি বাড়ায়। এ ফল রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও সাহায্য করে, যকৃত ও কিডনি রোগ প্রতিরোধে আছে বিশেষ ভূমিকা। এ ছাড়া মৌসুমি সর্দি-জ্বর, কাশিতে করমচা খান বেশি করে।

  • কোলেস্টেরল কমায়: যাঁদের কোলেস্টারলজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা মৌসুমে করমচা খাওয়া ভালো, এতে কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। করমচায় চর্বি এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে না, তাই যাঁদের ওজন নিয়ে সমস্যা তাঁরা খেতে পারেন।
  • ইনফেকশন দূর করে: ভিটামিন সিতে ভরপুর করমচা মুখে রুচি ফিরিয়ে দেয়, ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি আর শরীরে জানা-অজানা কোনো ধরনের ইনফেশন আছে, তাঁরা করমচা খেতে পারেন।
  • হৃৎপিণ্ডের সরক্ষা দেয়: করমচার উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও সাহায্য করে।
  • লিভার ও কিডনি ভালো রাখে: যকৃত ও কিডনির রোগ প্রতিরোধে আছে বিশেষ ভূমিকা, সমস্যা হওয়ার আগেই খেতে হয়, সমস্যা তৈরি হলে খাওয়া বাদ দিতে হয়।
  • সিজনাল ফ্লু কমায়: করমচা যেহেতু নির্দিষ্ট মৌসুমেই জন্মে, তাই মৌসুমি সর্দি-জ্বর, কাশিতে করমচা খান বেশি করে। জুস করে খেলে বেশি ফল পাওয়া যায়।
  • পেটের সমস্যা দূর করে: করমচা কৃমিনাশক হিসেবে ওষুধের বিকল্প কাজ করে। এ ছাড়া পেটের নানা অসুখের দাওয়াই করমচা।
  • শরীরে ক্লান্তি দূর করে: করমচা একটি ব্যালেন্সড ফল, তাই শরীরের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
  • বাতব্যথা কমায়: বাতরোগের ব্যথাজনিত কারণে ব্যথা দূর করতে ও বাত নিরাময়ে করমচা খুব উপকারী।
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে: করমচাতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুবই উপকারী, দৃষ্টিশক্তি প্রখরতা দেয়।
  • ত্বক ভালো রাখে: এটি ত্বক ভালো রাখে ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
  • দাঁত ও মাড়ির শক্তি জোগায়: করমচায় ভিটামিন সি বেশি থাকায় দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়, অনেক মনে করেন টক বোধহয় দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে, এ ক্ষেত্রে করমচায় খাটে না বরঞ্চ দাঁত ভালো রাখে।

কাঁচা করমচা গায়ের ত্বক ও রক্তনালি শক্ত করে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে মৌসুমি জ্বর নিরাময়ে উপকার পাওয়া যায়। শিকড়ের রস গায়ের চুলকানি ও কৃমি দমনে সাহায্য করে। যাঁদের রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের করমচা না খাওয়াই ভালো। মৌসুমে তাজা করমচা খান নিয়মিত, অনেক রোগ এড়ানো যাবে।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

ছবি: সেলিনা শিল্পী

জাম রক্ত বিশুদ্ধ করে

জাম রক্ত বিশুদ্ধ করে

জামের উপকারিতা

  • মানসিকভাবে সতেজ রাখে:

জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।

  • ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে।

  • ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ দূর করে:

জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যার জন্য এটি দেহে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সি-র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে।

  • মুখের স্বাস্থ্যে:

মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জামের জুড়ি নেই।

  • ইলেকট্রোলাইট বজায় রাখে:

জামে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠান্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম। জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে।

  • হার্ট ভালো রাখে:

জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। এ ছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:

জামে কম পরিমাণে ক্যালরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই, বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যাঁরা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় আসতে পারে জাম।

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা তাজা ফল ও সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। জামে সেই সব উপাদান আছে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে:

কালোজাম উপকারী, মানুষের মুখের লালার মধ্যে একধরনের রঞ্জক পদার্থ উৎপাদিত হয়, যা থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে মুখে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যানসারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, এর মধ্যে জামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে। জাম লড়াই করে জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যানসারের বিরুদ্ধে।

  • রোগ প্রতিরোধে:

জামে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, সঙ্গে মৌসুমি সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যারও। জামে পাওয়া গেছে অ্যালার্জিক নামের একধরনের অ্যাসিডের উপস্থিতি, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে। এ অ্যালার্জিক অ্যাসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

  • চোখের যত্নে:

বৃদ্ধ বয়সে চোখের অঙ্গ ও সড়বায়ুগুলোকে কর্মময় করতে সাহায্য করে। জাম চোখের ইনফেকশনজনিত সমস্যা ও সংক্রামক (ছোঁয়াচে) রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। রাতকানা রোগ এবং যাঁদের চোখের ছানি অপারেশন হয়েছে, তাঁদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী।

  • মানসিক স্বাস্থ্যে:

কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেন অ্যালারট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া জামে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকে বলে হাইড্রেটেড থাকতে ও ত্বককে স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করে। ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে জাম।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

লিচু স্বাদে ও গুণে অনন্য

লিচু স্বাদে ও গুণে অনন্য

লিচু আমাদের দেশের জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত ফল। সুন্দর এ ফলের রয়েছে রোগ নিরাময়ের প্রয়োজনীয় অনেক খাদ্যোপাদান। এসব উপাদান আমাদের শরীরের অনেক সমস্যার সমাধান করে শরীরকে নীরোগ রাখে। লিচুতে খাদ্যশক্তি ও ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে আছে জলীয় অংশ ৮৪.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, মোট খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৭ মিলিগ্রাম, আঁশ ০.৫ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬১ কিলোক্যালরি, ভিটামিন বি১ ০.০২ মিলিগ্রাম, আমিষ ১.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ০.০৬ মিলিগ্রাম., চর্বি ০.২, ভিটামিন সি ৩১ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৩.৬ মিলিগ্রাম।

লিচুর উপকারিতা

হাড় ভালো রাখে: লিচুতে থাকে ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার। এসব উপাদান হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচু খেলে কমে হাড়ের ভঙ্গুরতা। সেই সঙ্গে হ্রাস পায় অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাকচারের আশঙ্কাও। তাই হাড় ভালো রাখতে খেতে পারেন সুমিষ্ট এ ফল।
কিডনির জন্য উপকারী: কিডনি ভালো রাখতে খাবারের দিকে নজর রাখা জরুরি। লিচুতে পর্যাপ্ত পানি ও পটাশিয়াম থাকার কারণে তা কিডনিতে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এ ফল ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্বও কমায়। যে কারণে কমে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি।

ভিটামিন বি–সমৃদ্ধ: লিচুতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি, কে, ই এবং বি৬। এতে আরও রয়েছে রাইবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন। গ্রীষ্মে আপনি নিয়মিত লিচু খেলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি৬-এর ১০ শতাংশ পাওয়া যায়। এই ভিটামিন সাহায্য করে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে। সেই সঙ্গে আপনাকে রক্ষা করে প্রদাহজনিত রোগ থেকে। শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে কাজ করে লিচু। শুনতে অবাক করা হলেও এটি সত্যি। লিচু একটি কার্যকর ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি খেলে কমে প্রদাহ। সেই সঙ্গে এটি টিস্যুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়: রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে সুমিষ্ট ফল লিচু। এর অলিগোনল ভাইরাসকে বাড়তে বাধা দেয়। তাই গরমের এ সময়ে নিয়মিত লিচু খেলে বাঁচতে পারবেন সর্দি ও সাধারণ ফ্লু থেকে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে: যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য কার্যকর একটি খাবার হতে পারে লিচু। এতে ক্যালরি থাকে খুব কম। যে কারণে ওজন বাড়ার ভয় থাকে না। আঁশযুক্ত হওয়ার কারণে লিচু খেলে তা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। নিয়মিত লিচু খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়।

হার্ট ভালো রাখে: হার্ট ভালো রাখার পক্ষে সহায়ক একটি ফল হলো লিচু। এতে থাকে অলিগোনল, যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে এই নাইট্রিক অক্সাইড। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ভাসকুলার ফাংশন উন্নত করে। ফলে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লিচু খেলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমে প্রায় ৫০ শতাংশ।

এ ছাড়া কাশি, পেটব্যথা, টিউমার ও গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি দমনে লিচু কার্যকর। লিচু শরীর ঠান্ডা রাখে। তৃষ্ণা মেটায় ও শরীরের বল বাড়ায়। অত্যধিক ক্লান্তিতে বা দীর্ঘ রোগভোগের পর দুর্বলতায় প্রতিদিন চার-পাঁচটি লিচু খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। মস্তিষ্কের দুর্বলতায় স্মৃতিবিভ্রম ঘটলে ভুলোমনা মানুষজন দিনে ৮-১০টি লিচু খেলে স্মৃতি স্বাভাবিক হয়।

মৌসুমের সময় সকালবেলা চার-পাঁচটি করে লিচু খেলে বয়স বাড়লেও শরীরে লাবণ্য বজায় থাকে। লিভার রোগে ভুগলে ঠিকমতো খিদে হয় না। পেট অপরিষ্কার হয়, খাদ্যে অরুচি ভাব হয়। এ ক্ষেত্রে দিনে দুবার লিচুর জুস খেলে বা দুই বেলা পাঁচ-সাতটি লিচু খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

সতর্কতা

লিচু গরম ফল। এটি বেশি খেলে পেট গরম হয়ে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিমিত পরিমাণ খাওয়া উচিত।

লেখক: খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

এক জামরুল তিন কমলা সমান সমান!

এক জামরুল তিন কমলা সমান সমান!

জামরুল খেতে পানসে। এর প্রকৃত কারণটা অবশ্য অনেকেই জানেন না। যে বছর প্রকৃতিতে প্রচণ্ড রোদ পড়ে, সে বছর জামরুল হয় মিষ্টি। আর ছায়ার জামরুল খেতে পানসে। জামরুলের মিষ্টতা বেশি না হলেও এই ফল খেতে সুস্বাদু। জামরুল সাদা, হালকা সবুজ, গোলাপি, লাল এবং কালো বর্ণেরও হয়। জামরুল আজকাল লাল রং ধারণ করে মিষ্টি হতে যাচ্ছে।

সহজলভ্য জামরুল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এতে খনিজ পদার্থ রয়েছে কমলার তিন গুণ এবং আম, আনারস ও তরমুজের সমান। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ লিচু ও কুলের সমান এবং আঙুরের দ্বিগুণ। আয়রনের পরিমাণ কমলা, আঙুর, পেঁপে ও কাঁঠালের চেয়েও বেশি। ফসফরাসের পরিমাণ আপেল, আঙুর, আম ও কমলার চেয়ে বেশি।

জামরুলে জলীয় অংশ ৮৯.১ শতাংশ, ক্যারোটিন আছে ১৪১ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১ আছে ০.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ আছে ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ৩ মিলিগ্রাম। ক্যালরি শক্তি: ৫৬ প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৪.২ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১.১ থেকে ১.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ থেকে ০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯ থেকে ৪৫.২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১১.৭ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৪৫ থেকে ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, কপার ০.০১ মিলিগ্রাম, সালফার ১৩ মিলিগ্রাম, ক্লোরিন ৪ মিলিগ্রাম, আমিষ ০.৭ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৩ গ্রাম এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে ৩৯ কিলোক্যালরি।

জামরুল খাওয়ার উপকারিতা

• হজমশক্তি বৃদ্ধি: জামরুলের উচ্চ মাত্রার ফাইবার হজমে দারুণ উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো সমস্যাই থাকে না। এর বিচি ডায়রিয়া প্রতিরোধে অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে।

• ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: জাম্বোসাইন একধরনের ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি শর্করাকে চিনিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ মানুষের দেহে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধা ঠেকিয়ে দিতে দক্ষ জামরুল। কাজেই জামরুল খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে যাবে না।

• ক্যানসার প্রতিরোধ: জামরুলে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধের অনেক উপাদান। তাই নিয়মিত জামরুল খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

• কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: ফাইবার ও পুষ্টি উপাদানের সম্মিলিত উপস্থিতি দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দারুণ কার্যকর। অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকিও কমে আসে উল্লেখযোগ্য হারে। কার্ডিওভাসকুলারবিষয়ক জটিলতা হ্রাস পায়। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর করোনারি রোগের ঝুঁকিও আপনাকে দুশ্চিন্তায় রাখবে না।

• মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য: মস্তিষ্ক ও লিভারের সুরক্ষায় জামরুল টনিক হিসেবে কাজ করে। একটি ফল যা লিভার ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কাজ করে। এ ছাড়া হেপাটোপ্রোটেক্টিভ নামক একটি উপাদান আছে, যা লিভার কোষ ধ্বংস থেকে রক্ষা করে।

• বাতে উপকারী: জামরুল ভেষজ গুণসমৃদ্ধ ফল। বাত নিরাময়ে এটি ব্যবহার করা হয়। মৌসুমে যত দিন পাওয়া যায়, তত দিন খেতে হয়।

• চোখের কালি দূর করতে: অঘুম কিংবা দুশ্চিন্তায় যাঁদের চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, তাঁরা সেই কালি দূর করতে নিয়মিত একটি করে জামরুল খেয়ে দেখতে পারেন।

• রোগ প্রতিরোধ: জামরুলের কার্যকর ও শক্তিশালী উপাদানগুলো জীবাণু এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকায় এ ফল। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।

• বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার: প্রতিনিয়ত শরীরে বিষাক্ত উপাদান ঘুরে বেড়ায়। শত শত বছর ধরে দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে বের করে দিতে জামরুলের কদর রয়েছে। লিভার আর কিডনির বিষ দূর করে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে যেন এক অব্যর্থ টোটকা এই জামরুল।

আমাদের দেশি ফলগুলোর গুণগুলো এমনই। মৌসুমের শুরুতেই ফলগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত, বিশেষ করে যত দিন পাওয়া যায়। ফল খাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে নাশতায় ফল খাওয়া এবং দুপুরের আগে, রাতে ফল খাওয়া ঠিক নয় বলে আমাদের প্রাচীন বিদ্যা বলে থাকে।

লেখক: খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

ছবি: সেলিনা শিল্পী ও শামীমা মজুমদার