ক্যালসিয়াম কখন কতটুকু খাবেন?

ক্যালসিয়াম কখন কতটুকু খাবেন?

ক্যালসিয়াম নামের খনিজ উপাদানটি আমাদের হাড় ও দাঁত শক্ত করে, ক্ষয় রোধ করে। স্নায়ু, হৃৎস্পন্দন, মাংসপেশির কাজেও লাগে। এর অভাবে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরাসিস রোগ হতে পারে। হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রধানত প্রবীণদের হয়ে থাকে। হরমোনজনিত কিছু তারতম্যের কারণে প্রবীণ নারীদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিছু অসুখের কারণে অনেক সময় তরুণেরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কৈশোরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যাগুলো কম হবে।

অনেক সময় কিছু কিছু রোগে তরুণেরাও আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন কিছু বাতজনিত সমস্যা। কোমরের বাত, আবার অন্ত্রের প্রদাহের কারণে এগুলো ব্যক্তি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারেন না। শরীরের যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো থাকে যেমন: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, খনিজ বা মিনারেল—এগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করতে না পারলে অনেক আগেই হয়তো শরীরে অস্টিওপোরোসিস হয়ে যায়।

কেউ বললেই ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবে?

একটু হাত-পা ব্যথা, জোড় বা জয়েন্টের ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করছে বা বয়স হয়েছে বলেই ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেননা, দৈনন্দিন নানা খাবারেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে। প্রতিদিন এ রকম খাবার থেকেই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা যায়। অনেকে আবার নিজে নিজেই ওষুধের দোকান থেকে কিনে ক্যালসিয়াম বড়ি খান, যা ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধটি সেবন করতে হবে।

শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র অভাব থাকলে কিন্তু ক্যালসিয়াম থেকে উপকার পাওয়া যাবে সামান্যই। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে কিডনিতে পাথর পর্যন্ত হতে পারে। আবার যাঁদের আগে কখনো কিডনিতে পাথর হয়েছিল, তাঁদের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে পুনরায় পাথর হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় তথ্যটি সবার আগে জানবেন। কারণ ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে এবং সমস্যাটির জন্য বাড়তি যেসব সতর্কতা প্রয়োজন তা নির্ধারণে তথ্যটি ভূমিকা পালন করবে।

দৈনন্দিন কতটুকু ক্যালসিয়াম প্রয়োজন?

একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৬০০ ইউনিট ভিটামিন ডি হলে চলে। রজর্নিবৃত্তির (মেনোপজ) পর নারীদের এবং সত্তরোর্ধ্ব পুরুষদের ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম দরকার হয়। গর্ভবতী ও বুকের দুধ পান করান যে মায়েরা তাঁদের লাগে একটু বেশি। ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে কেননা এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে এবং দুধজাতীয় খাবার থেকে আসে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, বাদাম, টফু, কমলা ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ছাড়া কীভাবে সমাধান পেতে পারি?

দুধ, দই, পনির, কাঁচা বাদাম, সয়াবিন, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, কালো ও সবুজ কচুশাক, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, সরিষাশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি, ডুমুর ইত্যাদি হলো উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার। ১০০ গ্রাম দুধে ক্যালসিয়াম আছে ৯৫০ মিলিগ্রাম, একই পরিমাণ পাবদা মাছে ৩১০ মিলিগ্রাম, সামুদ্রিক মাছে ৩৭২ মিলিগ্রাম, শজনেপাতায় ৪৪০ মিলিগ্রাম, ট্যাংরা মাছে ২৭০ মিলিগ্রাম। এক কাপ টকদইয়ে থাকে আরও বেশি ৪০০ মিলিগ্রামের মতো। আধা বাটি রান্না করা সবুজ পাতা আছে এমন শাক খেলে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া হবে। এক গ্লাস কমলার রসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম।

তবে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয় কিছু জিনিস, যেগুলো ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের সঙ্গে না খাওয়াই ভালো। যেমন উচ্চমাত্রার চর্বি ও অক্সালিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার। চকলেট, পালংশাক, কার্বোনেটযুক্ত পানীয় ইত্যাদিও ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। কিন্তু ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে ভিটামিন এ, সি এবং ডি। আয়রনও ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাবারও ক্যালসিয়ামের কাজে সাহায্য করে।

এরপরও প্রয়োজন হলে…

তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করা যাবে বটে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। বেশ কিছু ওষুধ অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে যেসব ওষুধ অ্যাসিডিটি কমাতে ব্যবহৃত হয়। একসঙ্গে ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম ওষুধ অন্ত্রে শোষিত হয় না, তাই বেশি মাত্রার ওষুধ খেয়ে লাভ হয় না। ক্যালসিয়াম অন্ত্রে শোষণ করতে ভিটামিন ডি লাগে, তাই ভিটামিন ডি কম থাকলে এটিসহ খেতে হবে। সূর্যালোকে আছে প্রচুর ভিটামিন ডি। ডিমের কুসুম, লোনাপানির মাছেও আছে ডি ভিটামিন।

বয়স একটু বেড়ে গেলেই যে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়, তা এড়াতে কৈশোর থেকেই প্রয়োজন সচেতনতা। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারের পাশাপাশি খেতে হবে কাঁটাসহ ছোট মাছও। বাড়ন্ত এই বয়সটায় এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে একটি মেয়ের শরীরের হাড়ের মূল অংশটা ঠিকমতো তৈরি হবে। এভাবে ভবিষ্যতে হাড়ক্ষয় বা হাড়ে ফুটো হয়ে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কী হয়?

ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে কী হয়

১. ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়।এই রোগে হাড় নরম এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভিটামিন ডিয়ের অভাব দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ক্ষতি করে দিতে পারে। রিকেট রোগ আগে একটি বড় ধরনের সমস্যা ছিল। তবে বর্তমানে এ সমস্যা অনেক কমেছে।

২. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারে।মেয়েদের মনোপোজের (দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৩. ক্যালসিয়ামের অভাবে প্রবীণ বয়সে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়। গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন মিলিয়ন লোক এই সমস্যায় ভোগে। এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই রোগ হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডিয়ের অভাব, মদ্যপান ও ধূমপানের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এই রোগ প্রতিকারে চিকিৎসকরা সাধারণত ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন।

৪. এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্যালসিয়াম কাজে লাগে হাড়ের গঠন এবং শক্তি বর্ধনে। যদি খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না থাকে তাহলে এই হাড়ের গঠন দুর্বল হয় এবং শক্তি কম থাকে।

৫. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়। এ ছাড়া মুখে লাল অথবা গোলাপি রঙের র‍্যাশ হতে পারে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব মেটান ১০টি খাবারের মাধ্যমে

দুধ না খেলে হবে না ভালো. কারণ, দুধ মানেই ক্যালসিয়াম। আর সবাই জানেন ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের জন্য কত প্রয়োজনীয়। এই উপাদান হাড়, দাঁত শক্ত করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই মিনারেল পেশী মজবুত করতে, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আর ত্বককে উজ্জ্বল করতেও যথেষ্ট সাহায্য করে। সুস্থ থাকতে তাই একজন পুরুষের দিনে হাজার মিলিগ্রাম আর মহিলার ১,২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম নেওয়া উচিত। এদিকে আজকাল ল্যাকটোজ থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে ছোট থেকে বড় অনেকেরই। অনেকেই দুধ খেতেও পছন্দ করেন না। তাই দুধের বদলে অন্য কী কী খাবার থেকে ক্যালসিয়াম পেতে পারেন জেনে নিন-

১) বিনস : রাজমা, রেড বিনস সহ যে কোনও ধরণের বিন জাতীয় সবজি খান। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে।

২) ডুমুর : এই ফলে যেমন আয়রন থাকে প্রচুর তেমনি থাকে ক্যালসিয়াম। এক কাপ ডুমুরে প্রায় ২৪২ গ্রাম ক্যালসিয়াম মেলে। একই সঙ্গে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। পেশী মজবুত করে।

৩) মাছ : প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন জাতীয় মাছে অর্থাত্‍ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। বিশেষ করে একটুকরো সার্ডিন মাছে প্রায় ৫৬৯ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া, কাঁটা সমেত যে কোনও মাছেই এই মিনারেলস মিলবে।

৪) আমন্ড : ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি এতে প্রচুর প্রোটিনও থাকে। এক কাপ আমন্ড-এ ৪৫৭ গ্রাম এই খনিজটি থাকে। দাঁত ও হাড় শক্ত করার সঙ্গে হৃদরোগ কমায়। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন এক গ্লাস করে আমন্ড দুধ তাই আপনার জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া কেউ চাইলে রোজ একমুঠো আমন্ড এমনি খেতে পারেন। এতেও উপকার পাবেন।

৫) ওটমিল : ব্রেকফাস্টে ওটমিল খান। খুব বেশি পরিমাণে না হলেও ওটমিলেও ক্যালসিয়াম থাকে।

৬) কমলালেবু : ভিটামিন সি আর ক্যালসিয়ামের দুর্দান্ত কম্বিনেশন কমলালেবু। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম। এতেও ভিটামিন ডি প্রচুর পাবেন।

৭) সোয়া মিল্ক : ল্যাকটোজ যাঁদের সহ্য হয় না, তাঁদের জন্য সোয়া মিল্ক খুবই উপকারী। এমনকী গরুর দুধের থেকেও বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে এতে। এক কাপ দুধে প্রায় ৬০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। আর থাকে ভিটামিন ডি। যা ক্যালসিয়ামকে শরীরের উপকারী যৌগ হিসেবে তৈরি করতে সাহায্য করে।

৮) সবুজ শাক-সব্জি : বেশিরভাগ সবুজ শাক-সবজিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এক আটি শাকে থাকে ৩৩৬ মিগ্রা খনিজ। তাই পাতে পড়ুক পালং শাক, ব্রক্কলি, বাঁধাকপি, সেলারি।

৯) সিসমে বীজ : প্রতি এক টেবিল চামচে ক্যালমিয়ামে থাকে ৮৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ।

১০) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি-এর অভাবে ক্যালসিয়াম কাজ করে না আমাদের শরীরে । তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং সূর্যালোকে বের হওয়া খুব দরকার ।



বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন। তবে গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাঁদের বেলায় এটি আরো বেশি প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে। কেননা এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে আসে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, বাদাম, টফু, কমলা ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

তাই প্রাকৃতিক মাধ্যম থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুণ।র্

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা।



আপনার শরীরে আয়রনের অভাব নেই তো?

আপনার শরীরে আয়রনের অভাব নেই তো?

শরীরের পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনের অভাব থাকলে সেটি কখনো কখনো বেশ ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। শরীরে আয়রনের অভাব হওয়াকে অ্যানিমিয়া বলা হয়। এই সমস্যাটি নারীদের মধ্যে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত, আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আয়রনের দরকার পড়ে। এতে করে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সহজেই পৌঁছে যায়। শরীর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। কী করে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের অভাব আছে কিনা? চলুন, জেনে নেওয়া যাক আয়রনের অভাবে শরীরে প্রকাশ পাওয়া কিছু লক্ষণ।

দূর্বলতা ও অবসাদ
বারবার হাই পাচ্ছে? একটুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? আপনার এই অবস্থার পেছনে থাকা কারণ হতে পারে আয়রনের অভাব। কারণ, আয়রন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে হিমোগ্লোবিন কম উৎপন্ন হয়। শরীরের টিস্যু ও পেশীতে অক্সিজেন কম পৌঁছায়। ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুম পায় তাড়াতাড়ি, কাজ করতে ইচ্ছে করে না। কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতেও সমস্যা হয়।

ফ্যাকাসে ত্বক
হিমোগ্লোবিন রক্তের মধ্যে মিশে থেকে আমাদের ত্বকে এক রকমের গোলাপি আভা নিয়ে আসে। তাই, যদি আয়রনের অভাব হয় এবং হিমোগ্লোবিন ত্বকে না থাকে, সেক্ষেত্রে ত্বকের রঙ ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে। আপনার ত্বকের রঙ যেটাই হোক না কেন, এতে করে নখ, ঠোঁট, ত্বক ইত্যাদি বেশি ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
যেহেতু আয়রনের অভাবের কারণে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, তাই শরীর চেষ্টা করে কোনো একটা উপায়ে এই সমস্যা দূর করতে। ফলে নিঃশ্বাস নেওয়ার কষ্ট তৈরি হয়। বুকে ব্যথা দেখা দেয়।

মাইগ্রেন ও তন্দ্রাভাব
শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে এর প্রভাব মস্তিষ্কের উপরে পড়ে। এতে করে তন্দ্রাভাব তৈরি হয়। মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের পেছনের কারণ হিসেবেও এটি কাজ করে।

হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য যদি হিমোগ্লোবিন না থাকে, সেক্ষেত্রে বাড়তি অক্সিজেনের জন্য শরীরকে হৃদপিণ্ডের উপরে নির্ভর করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত কাজ করার কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। একে পালপিটিশনও বলা হয়।

ত্বক ও চুলে রুক্ষতা
ত্বক ও চুল শরীরে আয়রনের অভাব হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। আপনার ত্বক ও চুল কি রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? এটি মোটেও ভালো কোনো লক্ষণ নয়। কারণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চাহিদা পূরণ করার পর ত্বক ও চুলে আয়রন ও পুষ্টি প্রদান করে শরীর। যদি ত্বক ও চুলে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিশ্চিত বুঝতে হবে যে, আপনার শরীরে আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাব রয়েছে।

মুখের ভেতরে শুষ্কতা
আপনার মুখের ভেতরের অংশ শরীরে আয়রনের অভাব সম্পর্কে আপনাকে জানান দিতে সক্ষম। আপনার মুখের ভেতরটা কি শুষ্ক হয়ে আছে? জিহ্বার রঙ বদলে গিয়েছে? মুখের ভেতরের অংশে কোনো পরিবর্তন আসলে, প্রদাহ তৈরি হলে- সেক্ষেত্রে আপনার শরীরে আয়রনের অভাব হয়েছে এমনটা মনে করতেই পারেন আপনি।

নখের ভঙ্গুরতা
কোইলোনিশিয়া নামক একটি সমস্যা তৈরি হলে নখে ভঙ্গুরতা দেখা দেয়। নখ পাতলা হয়ে যায়। আর এটি ঘটে শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে। তবে শরীরে আয়রনের অভাব হলেও এই লক্ষণটি খুব কম দেখতে পাওয়া যায়

পেশীতে নিয়ন্ত্রণ না থাকা
আয়রনের অভাবে শরীরে ডোপামিনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে পায়ের পেশীকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকসময়, অতিরিক্ত আয়রনের অভাব দেখা দিলে পেশীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আসুন জেনে নেয়া যাত আয়রন আছে কোন কোন খাবারে:

কলিজা
আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস হচ্ছে কলিজা। এছাড়াও এতে ভিটামিন, খনিজ লবন ও প্রোটিন থাকে। গরুর কলিজাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। কলিজা খেতে পছন্দ না করলে ডিম ও লাল মাংস খাওয়া যেতে পারে। আধা কাপ ডিমের কুসুমে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং ৩ আউন্স লাল মাংসে ২-৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।

ডার্ক চকলেট
ডার্ক চকলেট শরীরের জন্য ভালো। এটি আয়রনের একটি ভালো উৎস এবং এতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্টও থাকে।

ছোলা
এক কাপ ছোলাতে ৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং এতে পরিমিত প্রোটিনও থাকে। নিরামিষ ভোজীদের জন্য ছোলা আদর্শ খাদ্য। ছোলা খুবই উপাদেয় খাবার।

কুমড়ার বিচি
এক কাপ কুমড়ার বিচিতে ২ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। সুস্বাদু কুমড়ার বীচি রান্না করে,সালাদের সাথে,সিদ্ধ করে বা ভেঁজে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়।

ডালজাতীয় খাবার
আয়রনের একটি ভালো উৎস হল ডাল। এক কাপ ডালে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং প্রচুর ফাইবার থাকে।এতে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কম থাকে এবং রক্তের সুগার লেভেল ঠিক রাখে।

পালং শাক
এক কাপ রান্না করা পালংশাকে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, এছাড়াও এতে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন ই থাকে। রান্না করা পালং শাক এর পুষ্টি উপাদান খুব সহজেই শরীর শোষণ করে নিতে পারে।

সিদ্ধ আলু
সিদ্ধ আলুতে ভিটামিন সি, বি ভিটামিন, প্রচুর পটাশিয়াম থাকার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার আয়রনও থাকে। খোসা সহ একটি সিদ্ধ আলুতে থাকে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন।

এছাড়াও আয়রন সমৃদ্ধ আরও অনেক খাবার রয়েছে। যেমন: কাজুবাদাম, কিশমিশ, টমাটো, মটরশুঁটি, শিমের বীচি এছাড়া আয়রন জাতীয় খাবারের সাথে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- কমলা, স্ট্রবেরি, ব্রকলি ইত্যাদি খেতে হবে। । আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরে চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়।

এছাড়াও শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে হাত ও পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, নানারকম সংক্রমণ হওয়া, অস্বাভাবিক ক্ষুধা পাওয়া, উদ্বিগ্নতা, প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া- ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে সেটি আপনার শরীরের বড় রকম ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তাই, এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিন।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয়তলা, ঢাকা

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন ?

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লবণ খাওয়ার পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা কিডনি, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

বাড়তি লবণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি সমস্যা, স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়াসহ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুনিয়াজুড়ে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই সীমা মেনে চলায় তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমেছে ২৩ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, লবণের পরিমাণ দিনে ৫ গ্রামে রাখতে পারলে প্রতিবছর হৃদ্রোগের কারণে ৩০ লাখ মৃত্যু কমিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি তা প্রতিবছর ১২ লাখ ৫০ হাজার স্ট্রোকের পরিমাণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিদিন এক চা চামচ পরিমাণের লবণ গ্রহন করতে পারেন, সেক্ষেত্রে খেয়াল করুন, ভাতে লবণ, সবজিতে লবণ, তরকারিতে লবণ, মাছে লবণ, মাংসে লবণ, ডালে লবণ, শাকে লবণ, ভর্তায় লবণ, রুটিতে লবণ। বিকালে নাস্তায় পুড়ি, চপ, চটপটি, রুটি, নুডুলস, সুপে লবণ, বার্গার, পিজা, চিকেনে লবণ, হালিমে লবণ ।

এবার হিসাব করে দেখুন আপনি লবণ বেশি খাচ্ছেন কি না ? আমি গড় বলতে পারি, আমরা বেশি খাচ্ছি যার জন্য হার্ট, কিডনি, রক্তচাপ সহ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আছি নয়তো হতে যাচ্ছি।

বেশি লবণ শরীরে আছে কি না তা বুঝার কিছু শারীরিক চিহ্ন রয়েছে যেমন :

ফুলে যাওয়া
দি আঙুলের আংটি খানিকটা আঁটসাঁট মনে হয়, পায়ের পাতা ফুলে যায় অথবা সকালে চোখের নিচটা ফুলে থাকে, তাহলে সম্ভবত অতিরিক্ত লবণ খাচ্ছেন আপনি। ইডিমা নামক এই অবস্থাটি সৃষ্টির কারণ হলো অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর পানি জমিয়ে রাখছে।

অতিরিক্ত পানির পিপাসা
লবণের সোডিয়াম দেহের জলীয় পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন আপনি প্রচুর লবণ খাওয়া শুরু করেন, তখন পেশি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য শরীরের আরো জলীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। আর এভাবেই শরীর পানি এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং পানি খাওয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধাণ করতে হয়।

প্রস্রাবে পরিবর্তন
দেহে সোডিয়ামের আধিক্য হওয়ার প্রভাব অবধারিত ভাবে প্রস্রাবের উপরও গিয়ে পড়ে। আর তা দুটি কারণে হতে পারে: অতিরিক্ত লবণ বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যা কিডনি রোগের সূত্রপাত ঘটায় এবং বারবার প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে। এসময় প্রস্রাবের রং একদম পরিষ্কার হয়। অন্য আরেকটি কারণ হলো, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে শরীর জলীয় পদার্থ হারিয়ে পানি-স্বল্পতা তৈরি করে। যখন পানি-স্বল্পতা লক্ষণীয় মাত্রায় পৌঁছে যায় তখন প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং ঘন ও হলুদ রং ধারণ করে।

হাড়ের ব্যথা
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার প্রভাব আমাদের শক্ত হাড়ের উপরও পড়ে। যখন আপনি প্রচুর পরিমাণ খাবার লবণ খাবেন, তখন আপনার কিডনি তার সবটুকু শরীর থেকে বের করে দিতে পারবে না, যা ক্যালসিয়াম ক্ষয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। জটিল ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হাড় দুর্বল করে দেয়, দাঁত ক্ষয় করে, এমনকি অস্টিওপোরেসিস রোগেরও জন্ম দেয়।

পেশির খিঁচুনি
পেশির সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমেই আমাদের দেহ হাঁটা-চলা, কাজ-কর্ম করার শক্তি পায়। পেশির এই সংকোচন প্রসারণের জন্য দেহে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য থাকতে হয়। অতিরিক্ত লবণ বা লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে খাওয়ার ফলাফল হিসাবে আপনার পেশির খিঁচুনি সমস্যা হতে পারে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অবিরাম মাথাব্যথা
অতিরিক্ত সোডিয়াম খাওয়ার ফলে দেহে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তনালীর উপর অত্যধিক চাপ প্রয়োগ করে। এই চাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন দিনের পর দিন মাথা ব্যথা হতে থাকে।

চিন্তা শক্তি হ্রাস পাওয়া
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপের যে সমস্যা তৈরি হয় তা মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে আপনার চিন্তা শক্তি হ্রাস পেতে শুরু করবে এবং প্রতিদিনের কাজ কর্মে মনোযোগ দিতে পারবেন না। এর পাশাপাশি অনবরত পানি-স্বল্পতা স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ক্লান্তি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তাই এখনই লবণ খাওয়ার পরিমান কমাতে হবে, সেই জন্য প্রতিদিন খাবারে ফল ও সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে শরীরে বাস করা রোগ কমে যাবেই।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা।

রক্তে কোলেস্টেরল কতদিন ওষুধ খাবেন?

রক্তে কোলেস্টেরল কতদিন ওষুধ খাবেন?


শরীর গঠনে অন্যান্য উপাদানের মতো চর্বি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোটি কোটি দেহকোষের প্রাচীর, বহুসংখ্যক হরমোনসহ অসংখ্য শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়া বিক্রিয়ার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো কোলেস্টেরল। প্রাণীর মস্তিষ্কের প্রায় পুরোটাই কোলেস্টেরল দিয়ে তৈরি। তাহলে কোলেস্টেরল খারাপ হবে কেন?
বিষয়টি খারাপ বা ভালোর নয়। প্রতিটি জিনিসেরই একটি মাত্রা থাকে। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের কোলেস্টেরল মাত্রা জানতে হলে অন্তত ১০ ঘণ্টা খালি পেটে একটি লিপিড প্রোফাইল করা দরকার। লিপিড প্রোফাইলে total cholesterols, high density lipoprotein- HDL, low density lipoprotein-LDL, এবং Triglycerides এর বিস্তৃত বিবরণ থাকে। এই চারটি উপাদানের আনুপাতিক উপস্থিতি পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকে শুধু total cholesterols এবং triglycerides পরীক্ষা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন। তাতে করে HDL এবং LDL এর পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে বোঝা সম্ভব হয় না। সবার উচিত বয়স ৩০ হলে অথবা পরিবারে যদি অল্প বয়সে কেউ হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় তাহলে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা।


ভালো বনাম খারাপ কোলেস্টেরল : রক্তনালির দেয়ালে জীবন্ত কোষের অবিরাম ভাঙাগড়া চলতে থাকে। সুস্থ মানুষের এই ভাঙাগড়ার মধ্যে একটি পারফেক্ট ব্যালেন্স থাকে। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল আছে, যারা ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করেন, স্থূল শরীর ব্যায়ামহীন কাটান তাদের রক্তনালির জীবন্ত কোষের ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়াটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। কোষের এই ভাঙাগড়ার প্রক্রিয়ায় HDL কোলেস্টেরল রক্তনালি রক্ষায় পজিটিভ ভূমিকা পালন করে। এজন্য একে গুড কোলেস্টেরল বলা হয়ে থাকে। আর LDL কোলেস্টেরল বিশেষ করে পরিবর্তিত oxidized LDL রক্তনালির দেয়ালে এক ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহের ফলে রক্তনালির গাত্রে চর্বির দলা Plaque গড়ে ওঠে রক্তনাফলকে সরু করে রক্তের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। সাধারণ মানুষ এটাকে ব্লক বলে থাকেন। কোনো ব্লক যখন রক্তনালির কমপক্ষে ৭০% ভাগ লুমেন সরু করে দেয় তখন অল্প পরিশ্রমে বুকে ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট বা ধড়ফড় শুরু হয়ে যায়। চিকিৎসার ভাষায় এটাকে বলে অ্যানজাইনা। দেখা যাচ্ছে, হার্ট ব্লক বা ব্রেন স্ট্রোক সৃষ্টিতে কোলেস্টেরলের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। যার যত গুড কোলেস্টেরল বেশি থাকবে এবং কোলেস্টেরল কম থাকবে সে তত নিরাপদ।

কেন এই ভারসাম্যহীন কোলেস্টেরল : আমরা যখন রোগীকে বলি যে, গরু খাসির মাংস এড়িয়ে চলুন, তখন অনেক রোগী প্রশ্ন করেন, ‘কেন স্যার, গরু তো নিজে ঘাস খায়, তাহলে তার মাংসে এত চর্বি কিভাবে হয়?’ কথা সত্য। গরু ঘাস খায়। তবে গরুর শারীরিক গঠন ভিন্ন, তার ফিজিওলজি ভিন্ন। আর শরীরের চর্বি তৈরির কারখানা হলো লিভার। যার লিভার চর্বি তৈরির জন্য যত মুখিয়ে থাকে সে যতই শাকসবজি ঘাস খাক না কেন লিভার তার কাজ চালিয়ে যাবেই। এটা হয় যখন শরীরের মেটাবলিজম পাল্টে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, অ্যালকোহল পান, বাড়তি ওজন, হাঁটাচলা না করা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো উপস্থিত থাকে। এসব কারণে লিভারের কোষে রিসেপ্টর সমস্যা দেখা দেয়। ফলে অতিরিক্ত মন্দ কোলেস্টেরল রক্তে ভাসতে থাকে। বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে হার্ট ও ব্রেনের রক্তনালির দেয়ালে চর্বির দলা জমে জমে ব্লক তৈরি করতে থাকে।

প্রতিরোধ :

ডাক্তারগণ বলে থাকে : যেসব কারণে কোলেস্টেরল মেটাবলিজম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সেগুলোর প্রতিকার করতে হবে। ডায়াবেটিসকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করতে হবে। ওজন কমাতে হবে। প্রয়োজনে চর্বি কমাতে নিয়মিত statin জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। ডায়াবেটিস যাদের আছে তাদের বয়স ৪০ হলে সারা জীবনের মতো statin খেতে হবে। ডায়াবেটিসের ওষুধ যেমন সারা জীবন খেতে হয় তেমনি চর্বির ওষুধও সারা জীবন খেতে হবে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছাড়া statin কখনো বন্ধ করা যাবে না। অনেকে চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক হলে ওষুধ বন্ধ করে দেন। এটা একটি ভুল ধারণা এবং অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ করলে রক্তের সুগার যেমন বেড়ে যায়, তেমনি কোলেস্টেরলের ওষুধ বন্ধ করলে তা বাড়বেই।

আমরা বলি
কিন্তু আমরা জেনেছি statin দীর্ঘ দিনে খেলে শরীরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে এই ঔষধ খেলে তাই আপনাকে প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অতিরিক্ত প্রোটিন, লবন, চিনি খাওয়া বাদ দিয়ে কাঁচা খাবারে মনযোগী হতে হবে এবং প্রকৃতি ও সুস্থতা বইতে লেখা পদ্ধতি অবলম্বন করলে প্রাকৃতিক নিয়মেই শরীর ঠিক হয়ে যাবে কোন ঔষধ ছাড়া।


লক্ষ্যমাত্রা কত : গুড কোলেস্টেরল (HDL) পুরুষের ক্ষেত্রে ৪০ মিলিগ্রামের উপরে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রামের উপরে থাকতে হবে। মন্দ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা সুস্থ মানুষের জন্য ১৩০ থেকে ১৬০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে ১০০-এর মধ্যে রাখা নিরাপদ। আর যাদের ইতিমধ্যে হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে বা ব্রেন স্ট্রোক অথবা পায়ের রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়েছে তাদের ক্ষেত্রে LDL-এর মাত্রা ৭০ মিলিগ্রামের নিচে রাখতে হবে। Triglycerides এর মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম নিচে ভালো।

Alamgir Alam
Expert : Acupressure and Naturopathy
29 Bangabandhu Avenue, 2nd Floor, Dhaka
Call : 01611010011

কুসুম গরমপানি পানের অনেক উপকার।

কুসুম গরমপানি পানের অনেক উপকার।

দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যায় ভুগছেন? হাজার চেষ্টার পরও ওজন কমছে না? কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা? এমনই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সহজ সমাধান হল কয়েক গ্লাস কুসুম গরমপানি। প্রতিদিন কয়েক গ্লাস কুসুম গরমপানি নিয়মিত খেতে পারলে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক…

১) আমরা অনেকেই খেতে বসে পানি খাই। এতে খাবারের সঙ্গে পাচক রস সঠিক ভাব মিশতে পারে না। ফলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দেয়। খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে যদি এক গ্লাস কুসুম গরমপানি খাওয়া যায়, তাহলে অ্যাসিডিটি, বদহজম, অম্বলের মতো একাধিক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কুসুম গরমপানি খাবার দ্রুত হজমেও সাহায্য করে।

২) দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরমপানি খেতে পারলে পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে কুসুম গরমপানি খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৩) সাধারণ তাপমাত্রার জলের তুলনায় কুসুম গরমপানি খেতে পারলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রাটা সামান্য হলেও বৃদ্ধি পায় এবং ঘাম হয় বেশি। অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দ্রুত ডিটক্স হয়ে যায়।

৪) দ্রুত মেদ ঝরাতে কুসুম গরমপানি অত্যন্ত কার্যকর। কুসুম গরমপানি খেলে শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়ে এবং সহজেই অনেকটা ক্যালোরি পোড়ে। কুসুম গরমপানি খিদে বোধ কমিয়ে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কুসুম গরমপানির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারলে মেদ ঝরবে দ্রুত।

৫) প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কুসুম গরমপানি খেতে পারলে শরীরের টক্সিক উপাদানগুলি সহজেই বাইরে বেরিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, বাড়বে শরীরের আভ্যন্তরীন তাপমাত্রাও। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে শিরা, ধমনীতে রক্তচলাচলের গতিও স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায়।

৬) দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন? এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে খান এক গ্লাস কুসুম গরমপানি। কুসুম গরমপানি খেলে শরীরের সক্ত সঞ্চালন বাড়বে, শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যাবে। ফলে ব্যথা বোধও ক্রমশ কমে আসবে।

৭) পুষ্টিবিদরা বলেন, পেট পরিষ্কার থাকলে শরীরের অনের রোগ আমাদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকও থাকে ঝকঝকে, উজ্জ্বল। প্রতিদিন সকালে, খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে যদি এক গ্লাস কুসুম গরমপানি খাওয়া যায়, বদহজম, অম্বলের মতো একাধিক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব, শরীর দ্রুত ডিটক্স হয়ে যায়। ত্বকে জমাট বাধা তেল, ধুলোবালি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। পেট পরিষ্কার থাকলে ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা থেকেও সহজেই দূরে থাকা যায়।

Alamgir Alam
Experts of Acupressure, Naturopathy
29 Bangabandhu Avenue, 2nd floor, Dhaka

দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ, শিরদাঁড়ার ক্ষয় হয়।

দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ, শিরদাঁড়ার ক্ষয় হয়।

কাজের চাপে কুঁজো হয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। অনেকে, মানে অফিসজীবীদের প্রায় ৭০ শতাংশ! সরকারি পুষ্টি সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশনের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দিনের প্রায় ছ’ঘণ্টা যাঁরা চেয়ারে বসে কাজ করেন, মেরুদণ্ড নুয়ে পড়ছে মূলত তাঁদেরই। আর এঁদেরই ভিড় উপচে পড়ছে অস্থি চিকিৎসকদের চেম্বারে চেম্বারে। দেখা দিয়েছে নতুন অসুখ ‘পুওর পশ্চার সিনড্রোম।’ উপসর্গ, কাঁধে, পিঠে অসহ্য ব্যথা।

দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাটানোই কাল হয়েছে! হাজারো মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময়টা কাটে অফিসের চেয়ারে বসে। টেরও পান না, কিভাবে শরীরের ক্ষতি হচ্ছে। যখন হুঁশ ফেরে ততদিনে বেশিরভাগেরই মেরুদণ্ডের আকৃতি বদলে গিয়েছে।”


রোগীদের কেস হিস্ট্রি দেখে বিশেষজ্ঞরা বুঝেছেন, সমস্যার লুকিয়ে চেয়ারের ভেতরেই। এখন সমস্ত অফিসেই কম্পিউটার। সামনের দিকে ঝুঁকে কম্পিউটারে টাইপ করেন সকলে। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক একটা কার্ভ বা গঠন রয়েছে। এক নাগাড়ে চেয়ারে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে। সেখান থেকেই ব্যথার শুরু। একদিন আচমকাই বেঁকে যায় শিরদাঁড়া।”

তাহলে উপায়?
“টানা দেড় ঘণ্টার বেশি চেয়ারে বসে কাজ করা উচিত নয়।” রয়েছে চেয়ারে বসার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও। কী সেই নিয়ম? চোখ থাকতে হবে কম্পিউটারের সঙ্গে এক মাত্রায়। বুকের কাছাকাছি থাকতে হবে কি-বোর্ড। এই অবস্থাতেই মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করা যায়।
বেশিরভাগ অফিসেই কোনওরকম ভাবে টেবিলে কম্পিউটার রেখে একটা চেয়ার বসানো। মাত্রা বা ‘লেভেল’ ঠিক করার কোনও বিষয় নেই।

“পাবলিকের মধ্যেই সচেতনতার অভাব। নড়বড়ে চেয়ারে বসে কাজ করে চলেন। দাঁড়িয়ে থাকলেও শিরদাঁড়ায় অতটা চাপ পরে না, যতটা পড়ে অবৈজ্ঞানিক এই সমস্ত চেয়ারে বসে। শরীরে রক্ত সঞ্চালনেও সমস্যা তৈরি করে এই ধরনের বসার ভঙ্গিমা।” ভুল চেয়ার হিপ ফ্লেক্সর, ইলিওপসাস পেশিতে চাপ তৈরি করে। চাপের মধ্যে থাকে নিতম্বের বাটক মাসলও। এই পেশিগুলি শিঁড়দাড়াকে সোজা রাখতে সাহায্য করে। চুলে পাক ধরার আগেই তাই হাতে উঠে আসে লাঠি।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্পাইনাল লিগামেন্ট গার্ডারের মতো। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ‘স্ট্রেচ’ করতে পারে। কিন্তু অফিসের অবৈজ্ঞানিক চেয়ারে দীর্ঘক্ষণ বসলে চাপ পড়ে সেই লিগামেন্টে। শহরের অনেক অফিস সমস্যা মেটাতে এখন এরগোনোমিক চেয়ার কিনছে। অস্থি বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, চেয়ার যাই হোক, একটানা বসে থাকা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। বরং দেড় দু’ঘণ্টা বসে থাকার পর উঠে হেঁটে আসতে  বলছেন তাঁরা।

আকুপ্রেসার করুন নিয়মিত, বাসায় একটি আকপ্রেসার ফুটরোলার রাখুন, প্রতিদিন, সকালে এবং রাতে আকুপ্রেসার ফুটরোলার পায়ে ঘষান। দেখবেন ঠিক হয়ে যাবে কোমড়ের, ঘাড়ের ও হাঁটুর ব্যথা।

Alamgir Alam
Expert of Acupressure, Naturopathy
29 Bangabandhu Avenue, Dhaka