শক্তির উৎস কাঁঠাল

শক্তির উৎস কাঁঠাল

কাঁঠালে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিংক, নায়াসিনসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান। অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় কাঁঠাল মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পুষ্টিমান হিসেবে মোট কার্বোহাইড্রেট ২৪ গ্রাম, বায়াটারি ফাইবার ২ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ভিটামিন এ ২১৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৬.৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০৩ মিলিগ্রাম ও ক্যালরি পাওয়া যায় ৯৪ মিলিগ্রাম। খনিজ পদার্থ ১.১ গ্রাম, শক্তি কিলোক্যালরি ৪৮, আমিষ ১.৮ গ্রাম, শর্করা ৯.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১.১১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২১ মিলিগ্রাম, ক্যারেটিন ৪৭০০ মাইক্রোগ্রাম, আঁশ ০.২ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৮ গ্রাম।

কাঁঠালের উপকারিতা

• কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম।

• কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য কাঁঠাল উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

• কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

• কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হলো ভিটামিন সি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন সি, যা কাঁঠালে ভরপুর থাকে।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়ন্টেস থাকে, যা একটু দুর্লভ খাদ্য উপাদান, যা সহজেই আলসার, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।

• কাঁঠালে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রি- র‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• টেনশন ও নার্ভাসনেস আমাদের এখন নিত্যসঙ্গী, এই সমস্যা কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকর।

• বদহজম রোধ করে কাঁঠাল। দীর্ঘদিন ধরে বদহজমজনিত সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত কাঁঠাল খেতে পারেন, তাতে বদহজমের সমস্যা দূর হবে; সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যও হ্রাস পাবে।

• কাঁঠালে বিপুল পরিমাণে আছে ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালী করায় ভূমিকা রাখে।

• কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি৬ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।

• কাঁঠালে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয়, রক্তসঞ্চালনের প্রক্রিয়ায়ও ভূমিকা রাখে।

• ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়।

• চিকিৎসাশাস্ত্রমতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী নারী ও গর্ভে থাকা সন্তানের সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী নারীরা কাঁঠাল খেলে তাঁর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

• কাঁঠালে থাকা খনিজ উপাদান আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করে।

কাঁঠাল সবাই খেতে পারেন না। অনেকে গন্ধের জন্য খেতে পারেন না আবার ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের কাঁঠাল খাওয়া একদম বারণ করা থাকে। অথচ ইচ্ছা করলে খেতে পারবেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও। এ ক্ষেত্রে কাঁঠাল খাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে খালি পেটে। নাশতায় কাঁঠাল খেলে অন্য শর্করা-জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।

ডেউয়ায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম

ডেউয়ায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম

ডেউয়া কাঁঠালের মতোই গুচ্ছফল। মার্চে ডেউয়ার প্রায় পাতাহীন ডালপালায় ফুল আসে আর আগস্টে ফল পাকে। এ ফলের বাইরের অংশটি থাকে অসমান, এবড়োখেবড়ো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ হয়। গাছ লম্বা উঁচু হয়। কাঁচা টক টক স্বাদ, কিন্তু পাকলে সেটা তখন অন্য স্বাদ—সেটা টকও নয়, আবার মিষ্টিও নয়। ডেউয়ার আদি জন্মস্থান বঙ্গবর্ম এলাকা। বর্মায় এ ফলের নাম মাইয়াক লুয়াং। অঞ্চলভেদে এই ফল মানুষের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচিত।

ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয় ডেউয়াকে। এ ছাড়া ডেউয়ায় আছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডেউয়ায় খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে খনিজ ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৭ গ্রাম, শর্করা ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.১৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪৮.৩৩ মিলিগ্রাম।

দেখতে অদ্ভুত ও খেতে টক-মিষ্টি ডেউয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশ কিছু ভেষজ গুণও।

• মেদ ও ভুঁড়ি কমাতে: মেদ ও ভুঁড়ি কমাতে চাইলে ডেউয়ার রস এক থেকে দেড় চামচ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে রোজ একবার করে এক মাস খেলে উপকার পাবেন। তবে ১২ মাস তো এ ফল পাওয়া যায় না। এ জন্য যখন পাওয়া যাবে, তখন কেটে রোদে শুকিয়ে রাখতে পারেন।

• পেট ফাঁপা সমস্যায়: পেটে বায়ু জমলে পাকা ডেউয়ার রস দেড় চামচ আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে অল্প চিনি দিয়ে প্রতিদিন একবার এক সপ্তাহ খেলে উপকার হবে।

• মুখের রুচি ফেরাতে: যাঁদের অসুস্থতার কারণে মুখে রুচি নেই, তাঁরা দু-তিন চামচ ডেউয়ার রস ও সঙ্গে একটু লবণ–গোলমরিচগুঁড়া মিশিয়ে দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার আগে খেতে পারেন। এক সপ্তাহ খেলেই মুখে রুচি আসবে।

• পেটের সমস্যায়: অনেকের বিভিন্ন প্রকার খাবার খেলেও পেট পরিষ্কার হয় না, অস্বস্তিতে ভোগেন। তাঁরা কাঁচা ডেউয়া কেটে ৮-১০ গ্রামের মতো বেটে গরম পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ওই পানি খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটা সকালে বাসি পেটে খেতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের কারণে পেটব্যথা কমাতে সহায়তা করে ডেউয়া।

• দাঁতের সমস্যায়: ডেউয়ার ভিটামিন সি ত্বক, চুল, নখ, দাঁত ও মাড়ির নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে। তাই এই ফলকে ক্যালসিয়ামের আধার বলা হয়।

• ডিহাইড্রেশনে: কোনো কারণে বমি বমি ভাব অনুভব হলে তা খেলে দ্রুত সেরে যায়। অত্যধিক তৃষ্ণা নিবারণে কাজ করে টকজাতীয় ফল ডেউয়া।

• ত্বকের সুরক্ষায়: ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে মসৃণ ভাব ফিরে আসে। অর্থাৎ শরীরের শুষ্ক ভাব দূর হয়। ডেউয়ায় ট্যানিন থাকে এবং এটি ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়, যা আপনি এ ফল খেলেই পাবেন।

• লিভার সমস্যায়: লিভারজনিত নানা অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে ডেউয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদের মধ্যে কিছু ফার্মাকোলজিক্যাল কার্যকলাপ পাওয়া গেছে এবং এগুলো হলো প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিক্যানসার ও অ্যান্টি-এইচআইভি বৈশিষ্ট্য, লিভারের সতেজতা হিসেবে কাজ করে।

• স্মৃতিশক্তি বাড়াতে: এ ফল খেলে স্মৃতিশক্তিও বাড়ে। মরিচ, লবণ, চিনি দিয়ে ডেউয়ার ভর্তা খেলে সানস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

এ ছাড়া ডেউয়ায় বিদ্যমান পটাশিয়াম রক্ত চলাচলে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ইউনানি চিকিৎসায় ফল ও ফলের বীজ ব্যবহার করে থাকে। ফল ও গাছের রসকষে অনেক রাসায়নিক দ্রব্য আছে, যেমন ট্যানিন, স্টেরোকিটোন ও আরটোস্টটিনোন।

হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই দেশি ফলগুলো। তাই ফল সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আশা উচিত।

লটকন শক্তিতে কাঁঠালের দ্বিগুণ

লটকন শক্তিতে কাঁঠালের দ্বিগুণ

অনেকটা আঙুরের মতো দেখতে লটকন একটি সুস্বাদু ফল। এটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে বেশি হয়। আমাদের দেশেও এই ফলের ব্যাপক চাষ হয়। প্রাচীনকালে এগুলো ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। খাদ্যশক্তির ভালো উৎস লটকন। দেহ সক্রিয় রাখতে ও দৈনন্দিন কাজ করতে খাদ্যশক্তি প্রয়োজন হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়, যা আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই ফলে নানা রকম খনিজ উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখে।
প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। লটকনে ভিটামিন ‘বি’ পাওয়া যায়। প্রতি ১০ গ্রাম লটকনে ১০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘বি’ ওয়ান ও প্রতি ১০০ গ্রামে ০.২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি২ পাওয়া যায়।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে: লটকন ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যবহৃত একটি ফলও হতে পারে। এই রোগটি এমন একটি রোগ, যা তাড়াতাড়ি এড়ানো উচিত। তার জন্য ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে আপনি এই ফল খেতে পারেন।
  • অ্যানিমিয়া রোধে: আয়রনের স্বল্পতার কারণে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা তৈরি হয় শরীরে। লটকনে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। এ কারণে এটি রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • ডিহাইড্রেশন কমায়: ডিহাইড্রেশন কাটিয়ে উঠতে লটকন ফলের প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। পানি ছাড়াও আপনি তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এই ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
  • লাল চোখ নিরাময় করে: লাল চোখ আসলে অনেক কারণের দ্বারা সৃষ্ট চোখের ব্যাধিগুলোর একটি ইঙ্গিত, চুলকানি থেকে শুরু করে। চোখ লাল কমানোর জন্য লটকন খুব কার্যকর।
  • পরিপাকতন্ত্রে সাহায্য করে: লটকনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার উপাদান পরিপাকতন্ত্রের সঠিক কাজ করতে সাহায্য করে। এটি যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবারযুক্ত একটি ফল। এই ফল অন্ত্র ও পাকস্থলীর মতো পরিপাক অঙ্গগুলোর কার্যকারিতা উন্নত করবে। একটি সুস্থ পরিপাক অঙ্গ আপনার পরিপাকতন্ত্রকেও সুস্থ করে তুলবে।

  • রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখুন: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লটকন ফল বেশ উপকারী। ফলটিতে অতিরিক্ত চিনির উপাদান নেই, তাই এটি আপনার শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াবে না।
  • কিছু চর্মরোগ নিরাময়: বাহ্যিক রোগের জন্য, লটকনকে খুব শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। ফলটি বিভিন্ন চর্মরোগ যেমন চুলকানি, পানু, খোসপাঁচড়া ও দাদ সারাতে সক্ষম। কৌশলটি খুবই সহজ, শুধু এই ফলটি বেটে অসুস্থদের ত্বকে লেপে দিতে হয়।
  • শরীরের জন্য শক্তির উৎস: শরীরে শক্তি বাড়াতে লটকন একটি ফল। ফলটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং প্রোটিন থাকে, যা খাওয়া হলে শক্তিতে পরিণত হয়। আপনি যদি এটি আপনার নিয়মিত ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করেন তবে আপনি সারা দিন সক্রিয় থাকবেন।
  • স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়: লটকনে কলার মতোই পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে, যা স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমায়।
  • হাড় সুরক্ষায়: লটকন ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এ কারণে লটকন হাড় সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। সঙ্গে থাকে আয়রন, যা রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী।
  • ভিটামিন সির চাহিদা পূরণ করে: লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। দিনে দুই-তিনটি লটকন খেলে শরীরের ভিটামিন সির চাহিদা পূরণ হয়। ভিটামিন ‘সি’ ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে। লটকনে ভিটামিন ‘সি’ বেশি থাকায় দিনে দুই-তিনটি লটকন ভিটামিন ‘সি’র সার্বিক চাহিদা পূরণ করতে পারে।

লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম, যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নানা রকম পুষ্টি উপাদান যা শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রুচি বাড়াতে লটকন বেশ উপকারী।

লেখক: খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

ছবি: সেলিনা শিল্পী

কাউফল শক্ত রাখে মাড়ি

কাউফল শক্ত রাখে মাড়ি

কাউফল একধরনের অপ্রচলিত টক স্বাদের ফল। আমাদের গ্রামবাংলায় এটা বিভিন্ন নামে ডাকে। যেমন: কাউয়া, কাগলিচু, তাহগালা, ক্যাফল, কাউগোলা, পাঁচদানা ইত্যাদি। এর গাছ মাঝারি আকৃতির, এর পাতা ও ডালপালা কম, ওপরের দিকে ঝোপালো হয়ে ওঠে। সাধারণত বাড়ির জঙ্গলে এই গাছ দেখা যায়। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকলে কমলা বা হলুদ হয়। ফলের ভেতর চার-পাঁচটি দানা থাকে, যার কারণে অনেকেই এটাকে পাঁচদানা ফলও বলে থাকে। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে কাউগাছ দেখা যায়। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও এই ফল বেশি ক্ষেত্রে জ্যাম তৈরি করা হয়।

কাউফলের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রামে আছে ৬৩ ক্যালরি, যার কারণে চর্বিসম্পৃক্ত বা ভালো কোলেস্টেরল রয়েছে। উচ্চমাত্রায় ফাইবারে সমৃদ্ধ, কাউফলে ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস এবং প্রতি ১০০ গ্রামে আরডিএ প্রায় ১২%। ভিটামিন সি থাকার সঙ্গে একটি শক্তিশালী জলে দ্রবণীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল মানবদেহের ভাইরাল ফ্লু প্রতিরোধ করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্রির‌্যাডিক্যাল সাফ করতে সাহায্য করে। এর শক্তি ৬৩%, ক্যালসিয়াম ৫.৪৯ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৫.৫ গ্রাম, কপার ০.০৬৯ মিলিগ্রাম, প্রোটিন ০.৫০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.১৭ মিলিগ্রাম, মোট ফ্যাট ০.৪ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৩.৯ মিলিগ্রাম, কোলেস্টেরল ৩.৫% , ম্যাঙ্গানিজ ০.১০ মিলিগ্রাম, ফাইবার ৫.১০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৯.১২ মিলিগ্রাম, জিংক ০.১২ মিলিগ্রাম।

কাউফলের উপকারিতা

মাড়ির সংক্রমণ রোধে: যাঁদের মাড়িতে গুরুতর সংক্রমণ রয়েছে, তাঁদের জন্য কাউফল হতে পারে একটি ভালো পথ্য, মৌসুমি ফলটি নিয়মিত খেলে মাড়ির সংক্রমণ ভালো হয়ে যায়, মাড়ি মজবুত করে।

মুখের অরুচিভাব দূর করতে: হঠাৎ করে অরুচি হলে কাউফল খেলে মুখে রুচি ফিরে আসে। কাউফল অনেকটা চুষে খাওয়া হয়, তাই এটা চুষে খেলে জিবের ওপরে ভাইরাল প্রলেপ দূর হয়ে যায়, যার কারণে রুচি ফিরে আসে।

অপুষ্টির সমস্যায়: অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিলে কাউফল খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টিজনিত কারণে কাউফল খাওয়া যেতে পারে। এর পুষ্টিগুণের কারণে সহজেই শরীরে একটি ব্যালান্স তৈরি করতে সাহায্য করে।

ঠান্ডার সমস্যায়: ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিলে সকাল-বিকেল কাউফল খেলে উপকার পাওয়া যায়। ভিটামিন সি ঠান্ডাজনিত সমস্যার জন্য বিশেষ উপকারী, তাই ঠান্ডা লাগলে কাউফল কফ বের করতে সাহায্য করে।

আমাশয় নিরাময়ে: পেটের সমস্যা বা আমাশয় হলে কাউফল খেলে দ্রুত নিরাময় হয়ে যায়। এতে থাকা জিংক হজমে ভারসাম্য আনে, সেই সঙ্গে অধিক ফাইবারের কারণে পুরোনো মল পরিষ্কার করে।

মাথাধরা নিরাময়ে: অনেকের বিভিন্ন কারণে মাথা ধরে থাকে। মাথাধরা নিরাময়ের জন্য কাউফল খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।

রোগপ্রতিরোধে: কাউফল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে ভালো উৎস, যা রোগপ্রতিরোধে কাজ করতে পারে এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

খিঁচুনি নিরাময়ে: কাউছাল ও ফল সেদ্ধ করে এই ক্বাথ সকাল-বিকেল সেবন করলে খিঁচুনি রোগ ভালো হয়। এটি একটি প্রাচীন চিকিৎসা, যার কারণে একসময় গ্রামে কাউগাছ রাখার প্রবণতা ছিল।

এ ছাড়া কাউফলে কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেশিয়াম খুব ভালো পরিমাণ রয়েছে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে এটা স্ট্রোক এবং করোনারি হার্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

করমচায় মন তাজা

করমচায় মন তাজা

করমচা। টক স্বাদের ছোট আকৃতির মুখরোচক একটি ফল। এই ফল গ্রাম থেকে এখন শহরেও চাষ করা হয়। কারও কারও বাড়রি ছাদ কিংবা বারান্দায়ও দেখা মেলে। একসময়ে গ্রামে করমচার প্রচুর ফলন হতো। করমচা খুবই জনপ্রিয় টকজাতীয় ফল। কাঁটায় ভরা এ গাছ, পাতা ও ফলে নান্দনকিতার ছোঁয়া থাকায় অনেকে সৌর্ন্দযর্বধনের জন্যও এ গাছ রোপণ করে থাকেন। এর গোলাপি রং বাগানের শোভা বাড়িয়ে দেয়।
করমচায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ। এ ফলের অনেক গুণ। এতে আছে ১৮ দশমিক ২ ভাগ জলীয় রস, ২ দশমিক ৩ ভাগ প্রোটিন, ২ দশমিক ৮ ভাগ খনিজ, ৯ দশমিক ৬ ভাগ স্নেহ, ৬৭ দশমিক ১ ভাগ শর্করা। এ ছাড়া খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম শূন্য দশমিক ১৬ ভাগ, ফসফরাস শূন্য দশমিক ৬ ভাগ এবং লৌহ ৩৯ দশমিক ১ ভাগ।

প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় পাওয়া যায় ৩৬৪ ক্যালরি, রিবোফ্লেভিন শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম, নায়াসিন শূন্য দশমিক ২ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম, কপার শূন্য দশমিক ২ মিলিগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম তাজা ফলে রয়েছে ২০০ দশমিক ৯৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি করমচায় চর্বি এবং ক্ষতকির কোলস্টেরেল থাকে না।

ভিটামিন সিতে ভরপুর করমচা মুখে রুচি বাড়ায়। এ ফল রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও সাহায্য করে, যকৃত ও কিডনি রোগ প্রতিরোধে আছে বিশেষ ভূমিকা। এ ছাড়া মৌসুমি সর্দি-জ্বর, কাশিতে করমচা খান বেশি করে।

  • কোলেস্টেরল কমায়: যাঁদের কোলেস্টারলজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা মৌসুমে করমচা খাওয়া ভালো, এতে কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। করমচায় চর্বি এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে না, তাই যাঁদের ওজন নিয়ে সমস্যা তাঁরা খেতে পারেন।
  • ইনফেকশন দূর করে: ভিটামিন সিতে ভরপুর করমচা মুখে রুচি ফিরিয়ে দেয়, ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি আর শরীরে জানা-অজানা কোনো ধরনের ইনফেশন আছে, তাঁরা করমচা খেতে পারেন।
  • হৃৎপিণ্ডের সরক্ষা দেয়: করমচার উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা দেয়। শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও সাহায্য করে।
  • লিভার ও কিডনি ভালো রাখে: যকৃত ও কিডনির রোগ প্রতিরোধে আছে বিশেষ ভূমিকা, সমস্যা হওয়ার আগেই খেতে হয়, সমস্যা তৈরি হলে খাওয়া বাদ দিতে হয়।
  • সিজনাল ফ্লু কমায়: করমচা যেহেতু নির্দিষ্ট মৌসুমেই জন্মে, তাই মৌসুমি সর্দি-জ্বর, কাশিতে করমচা খান বেশি করে। জুস করে খেলে বেশি ফল পাওয়া যায়।
  • পেটের সমস্যা দূর করে: করমচা কৃমিনাশক হিসেবে ওষুধের বিকল্প কাজ করে। এ ছাড়া পেটের নানা অসুখের দাওয়াই করমচা।
  • শরীরে ক্লান্তি দূর করে: করমচা একটি ব্যালেন্সড ফল, তাই শরীরের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
  • বাতব্যথা কমায়: বাতরোগের ব্যথাজনিত কারণে ব্যথা দূর করতে ও বাত নিরাময়ে করমচা খুব উপকারী।
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে: করমচাতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুবই উপকারী, দৃষ্টিশক্তি প্রখরতা দেয়।
  • ত্বক ভালো রাখে: এটি ত্বক ভালো রাখে ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
  • দাঁত ও মাড়ির শক্তি জোগায়: করমচায় ভিটামিন সি বেশি থাকায় দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়, অনেক মনে করেন টক বোধহয় দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে, এ ক্ষেত্রে করমচায় খাটে না বরঞ্চ দাঁত ভালো রাখে।

কাঁচা করমচা গায়ের ত্বক ও রক্তনালি শক্ত করে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে মৌসুমি জ্বর নিরাময়ে উপকার পাওয়া যায়। শিকড়ের রস গায়ের চুলকানি ও কৃমি দমনে সাহায্য করে। যাঁদের রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের করমচা না খাওয়াই ভালো। মৌসুমে তাজা করমচা খান নিয়মিত, অনেক রোগ এড়ানো যাবে।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

ছবি: সেলিনা শিল্পী

জাম রক্ত বিশুদ্ধ করে

জাম রক্ত বিশুদ্ধ করে

জামের উপকারিতা

  • মানসিকভাবে সতেজ রাখে:

জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।

  • ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে:

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে।

  • ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ দূর করে:

জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যার জন্য এটি দেহে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সি-র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে।

  • মুখের স্বাস্থ্যে:

মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জামের জুড়ি নেই।

  • ইলেকট্রোলাইট বজায় রাখে:

জামে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠান্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম। জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে।

  • হার্ট ভালো রাখে:

জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। এ ছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:

জামে কম পরিমাণে ক্যালরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই, বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যাঁরা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় আসতে পারে জাম।

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা তাজা ফল ও সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। জামে সেই সব উপাদান আছে, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে:

কালোজাম উপকারী, মানুষের মুখের লালার মধ্যে একধরনের রঞ্জক পদার্থ উৎপাদিত হয়, যা থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে মুখে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যানসারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, এর মধ্যে জামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে। জাম লড়াই করে জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যানসারের বিরুদ্ধে।

  • রোগ প্রতিরোধে:

জামে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, সঙ্গে মৌসুমি সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যারও। জামে পাওয়া গেছে অ্যালার্জিক নামের একধরনের অ্যাসিডের উপস্থিতি, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে। এ অ্যালার্জিক অ্যাসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

  • চোখের যত্নে:

বৃদ্ধ বয়সে চোখের অঙ্গ ও সড়বায়ুগুলোকে কর্মময় করতে সাহায্য করে। জাম চোখের ইনফেকশনজনিত সমস্যা ও সংক্রামক (ছোঁয়াচে) রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। রাতকানা রোগ এবং যাঁদের চোখের ছানি অপারেশন হয়েছে, তাঁদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী।

  • মানসিক স্বাস্থ্যে:

কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেন অ্যালারট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া জামে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকে বলে হাইড্রেটেড থাকতে ও ত্বককে স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করে। ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে জাম।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ