শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান ভাবে জরুরি

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান ভাবে জরুরি

মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ আমাদের সার্বিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। শারীরিক সুস্থতার জন্যে আমরা অনেক কিছু করি – জিম যাই, হাঁটতে বেরোই, সাঁতার কাটি বা অন্যান্য খেলাধুলা করি।ঠিক একই রকম ভাবে, আমরা সুস্থ ভাবাবেগ ও মানসিকতার অধিকারী হবারও চেষ্টা করতে পারি।

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হল, যে কোনও মানসিক রোগ নেই মানেই সেই ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ধারনাটির সাথে একমত নন।

সুস্থ ভাবাবেগ কেন জরুরি?
মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ কাজ না। কারণ এই বিদ্যা রপ্ত না হলে জীবনে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, ও অন্যান্য মানসিক ব্যধির উদয় হতে পারে। সুস্থ ভাবাবেগ ও মনের অধিকারী হলে আমরা নিশ্চিন্তে যে কোনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারি। তাছাড়া এর ফলে আমরা  দৈননিন জীবনে আরও  কর্মঠ হয়ে উঠতে পারি। একজন মানসিক সুস্থ ব্যক্তি নিজের সাথে ও অন্যের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন, আর যে কোনও বাঁধা কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে পারেন।

একজন কাউন্সেলর মতে, “আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। অথচ তার বদলে আমাদের চারিপাশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলা কিন্তু অনেক বেশি সহজ। এই পরিস্থিতিগুলো অনুযায়ী যত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারব, ততই মানসিক সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাব।”

মনের যত্ন নিন
কথাটা কি খুব খাপছাড়া ও কঠিন লাগল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই কিন্তু এই কাজটা খুব সহজ হয়ে উঠবে। আপনি সেই জন্যে নিচে লেখা পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন:

১.     শরীরের যত্ন নিন
শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

২.    ব্যায়াম করুন, ফুসফুসে টাটকা বাতাস ভরুন
সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরটিনিন নামে একটি রাসায়নিকের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সেরিটিনিন আমাদের মস্তিষ্ককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে সূর্যের আলোয় আমাদের মন ভাল হয়ে যায়। কায়িক পরিশ্রমও সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন।

৩.     নিজের যত্ন নিন
মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

মনোযোগ বাড়াতে সব যন্ত্রপাতি দূরে সরিয়ে নিজের আশেপাশের দুনিয়াটাকে উপলব্ধি করুন। নিমহ্যান্সের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ডাঃ এম মঞ্জুলার কথা অনুযায়ী, “ভূত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার নামই মনোযোগ। খামখেয়ালের স্রোতে না ভেসে গিয়ে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চিন্তায় সাড়া দেওয়া; একবারে একটি কাজেই মন দেওয়া, পরের ছিদ্রান্বেষণ না করে যে কোনও পরিস্থিতিতে স্থির ও অবিচল থাকার নামই মনোযোগ।  এর ফলে আপনি চারপাশে থেকে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন যা আপনাকে যে কোনও অবস্থায় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে।”

৪.     পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান
পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

৫.     কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন
পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

৬.     দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন
আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

“আপনি যদি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তবে পরীক্ষার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। পরীক্ষা আপনার জীবনের মাপকাঠি না, সেটা সাময়িক এবং আবশ্যিক। কিছু ক্ষেত্রে আপনি দুশ্চিন্তার উৎসগুলিকে এড়িয়ে চলতে পারেন, কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে সবসময়ে তা সম্ভব না। কাজেই আপনাকে নিজেই দুশ্চিন্তাকে সামাল দেওয়ার কোনও পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি কোনও বন্ধুর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, ধৈর্য ধরে নিজের উপরে বিশ্বাস রাখতে পারেন, পরিস্থিতিকে পুনরায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে পারেন, প্রাণায়াম করতে পারেন, একটু হাঁটতে যেতে পারেন, গান শুনতে পারেন, ব্যায়াম করতে পারেন, ইত্যাদি।”

৭.     নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না
আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়।  সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

৮.     আশির্বাদ কুড়োন
একঘেয়ে শোনালেও এটা সত্যি যে, যা পেয়েছেন তা নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে, যা পাননি  তাই নিয়ে কষ্ট কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এর ফলে মনের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা জন্ম নেয়। একটি কৃতজ্ঞতা খাতা বানান। প্রত্যেকদিন রাত্রে শোবার আগে লিখে ফেলুন যে, আপনি আজ কেন ও কিসের জন্য কৃতজ্ঞ। নিজের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগিয়ে তুললে, সবার আশীর্বাদ মনে রাখলে,দেখবেন প্রত্যেকদিনই আপনার কৃতজ্ঞতার কারণের অভাব হচ্ছে না।

৯.     নিজেকে মেলে ধরুন
অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই।  নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়।  ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী। ডাঃ মঞ্জুলা বলেন, “কোন আবেগই, মূলত, ভাল বা খারাপ নয়। সমস্ত আবেগই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবেগের মাত্রা ও বহিঃপ্রকাশের ধরণের উপর নির্ভর করে এই ভাল বা খারাপ হওয়া নির্ভর করে।”

১০. সাহায্য চান
এই দুনিয়াতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না।  প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা। 

আপনার শরীরেই তৈরি হতে পারে অ্যালকোহল?

আপনার শরীরেই তৈরি হতে পারে অ্যালকোহল?

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটি গাট ফারমেন্টেশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম একটি বিরল অবস্থা, যেখানে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেমে গাঁজনের মাধ্যমে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া ইথানল উৎপান্ন করে। আপনি যখন খাবার হজম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে কিছু ইথানল উৎপান্ন হয়। তবে সে পরিমাণটা খুবই সামান্য। কিন্তু যখন আপনার শরীরে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তখন এটি চরম মাত্রায় অ্যালকোহল তৈরি করতে পারে

মদ না খেয়েও মাতাল হওয়ার অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পাকস্থলীতে বাসা বাঁধা ছত্রাকের কারণে শর্করা পরিণত হচ্ছিল অ্যালকোহলে। এতে তার স্মৃতিবিভ্রাট হতে থাকে। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাথাঘোরার রোগও বাসা বাঁধে শরীরে। গবেষকরা বিরল এ রোগকে বলছেন অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি কেস রিপোর্টে এ ঘটনা উঠে এসেছে।

বিএমজে ওপেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি কেস রিপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে ওই ব্যক্তির আঙুলে একটি চোট লেগেছিল। তারপর এক চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছিলেন তিনি। এরপর তার স্মৃতিবিভ্রাট, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও মাথাঘোরা রোগ শুরু হয়।

এরপর ২০১৪ সালে ওই ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অ্যালকোহল খেয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ব্রেথলাইজার টেস্টে ধরা পড়ে তার শরীরে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যালকোহল থাকার বিষয়টি। কিন্তু ওই ব্যক্তির দাবি ছিল যে তিনি মদ্যপান করেননি। এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে এ ধরনের বিপত্তি ঘটতে থাকে। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ করেন, মদ না খেলেও তার শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা বাড়ছে। তিন বছর ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে নিউইয়র্কের রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি।

তার পরই জানা যায়, তার শরীরে থাকা অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম নামে বিরল রোগের কারণে এ অভিনব ঘটনা ঘটছে। তার পায়খানা পরীক্ষা করে স্যাকারোমাইসিস সেরাভিসি নামে বিশেষ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া যায়। সে ছত্রাকটি ব্যবহার করেই শর্করাকে অ্যালকোহলে পরিণত করেন বিয়ার নির্মাতারা। তার পাকস্থলীতেই বিশেষ ধরনের ওই ছত্রাকটি রয়েছে। ফলে তিনি যখনই শর্করাজাতীয় খাবার খান, তখনই তা অ্যালকোহলে পরিণত হয়। এরপর তাকে ছত্রাকবিরোধী ওষুধ দেয়া হয় এবং ছয় সপ্তাহ ধরে শর্করাজাতীয় খাবার বন্ধ করতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তবে এ ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের এক নারী অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হন এবং ‘মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে’ পুলিশের হাতে আটক হয়ে খবরের শিরোনাম হন। টেক্সাসের এক ব্যক্তিও বিরল এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের সবারই আইনি সীমার চেয়ে অ্যালকোহলেন মাত্রা পাঁচ গুণ বেশি ছিল।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটা আসলে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন বিভাগ বলছে, অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটি গাট ফারমেন্টেশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম একটি বিরল অবস্থা, যেখানে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেমে গাঁজনের মাধ্যমে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া ইথানল উত্পন্ন করে।

আপনি যখন খাবার হজম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে কিছু ইথানল উত্পন্ন হয়। তবে সে পরিমাণটা খুবই সামান্য। কিন্তু যখন আপনার শরীরে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তখন এটি চরম মাত্রায় অ্যালকোহল উত্পন্ন করতে পারে।

যেকোনো ব্যক্তিই এই অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও ক্রোহন রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমের লক্ষণ

এটার প্রধান লক্ষণ হলো অ্যালকোহল পান না করেই মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে। এর সঙ্গে বমিভাব, ঢেঁকুর তোলা, মাথাঘোরা, শরীরের ভারসাম্য হ্রাস এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। এমন রোগীদের সাধারণত উচ্চ চিনি ও কার্বোহাইড্রেট ডায়েট থাকে।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমের চিকিৎসা

বিরল এ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। শুরুতে রোগীর তীব্র অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। তারপরে এ লক্ষণগুলো সৃষ্টির জন্য দায়ী ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো, এ রোগীর লক্ষণগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ প্রোটিন ও কম মাত্রার কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রোবায়োটিকগুলোকে অনুসরণ করে।

তবে এ রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ ঝুঁকি আরো বাড়াতে পারে। যে কেউ পুনরায় এ রোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রয়োজন হলে পরিপূর্ণ চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ।

কেস রিপোর্টের ওই ব্যক্তি এখন কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতে পারেন এবং সে উপসর্গগুলো এখন আর নেই। কিন্তু কী কারণে তার এ রোগ হতে পারে? চিকিৎসকরা মনে করছেন, আঙুলে আঘাতের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের দীর্ঘ কোর্স তার এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে। এটা তার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

সূত্র: প্রিভেনশন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে। জেরোসিস কাটিসের কারণ ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়।

যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়,
সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর। ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে।
ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়।
এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস হল সাধারণ বেদনাদায়ক ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ যা সাধারণত পায়ের নীচের ত্বকে প্রভাব ফেলে। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মুখ, বাহু বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। এক্ষেত্রে, ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের কারণে ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং স্পর্শে বেশ বেদনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সেলুলাইটিস সাধারণত ত্বকের পৃষ্ঠদেশে বিকাশ করে এবং সংক্রমণটি লিম্ফ নোড এবং রক্ত ​​প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে।

কারণ সেলুলাইটিস তখনই দেখা দেয়, যখন স্টাফিলোকক্কাস এবং স্ট্রেপ্টোকোকাসের মতো নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়াগুলি কোনও কাটা, আঁচড় বা সার্জিকাল ক্ষতের মাধ্যমে ত্বকের সংস্পর্শে আসে। পশুর কামড়ও সেলুলাইটিসের কারণ হতে পারে।

সেলুলাইটিসের প্রকার

স্তন সেলুলাইটিস – এটি একটি জটিলতা যা স্তন ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপির পরে বিকাশ করতে পারে।

পেরিঅরবিটাল সেলুলাইটিস – এই ধরনের সেলুলাইটিস চোখের চারপাশে বিকাশ করে।

ফেসিয়াল সেলুলাইটিস – ফেসিয়াল সেলুলাইটিস নাক, গাল এবং চোখের চারপাশে বিকাশ করে।

পেরিয়েনাল সেলুলাইটিস – এটি মলদ্বারে সংক্রমিত হয়।

সেলুলাইটিসের লক্ষণসমূহ
ক) ত্বকে ফোলা এবং লালচে ভাব
খ) নরম ভাব অনুভূত হওয়া এবং ব্যথা
গ) আক্রান্ত জায়গায় গরমভাব
ঘ) জ্বর
ঙ) বমি বমি ভাব
চ) ঠান্ডা ঘাম
ছ) অবসাদ
জ) মাথা ঘোরা
ঝ) পেশী ব্যথা
ঞ) পুঁজযুক্ত ত্বকের ঘা

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, চিকিৎসকরা সংক্রমিত ত্বকটি পরীক্ষা করে সেলুলাইটিস নির্ণয় করে এবং রোগীর ত্বকে সাম্প্রতিক কোনও আঘাত আছে কি না, তার মেডিকেল অবস্থা রয়েছে এবং রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন তা জিজ্ঞাসা করে। এর চিকিৎসা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সেলুলাইটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫ – ১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কয়েকদিন পরেই, উপসর্গগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়। যদি সংক্রমণটি গুরুতর হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি ইন্ট্রাভেনাসের মাধ্যমে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শও দিতে পারেন।

সেলুলাইটিস প্রতিরোধ
ক) সংক্রমণ রোধ করতে পোকামাকড়ের কামড়, আঁচড় থেকে এড়িয়ে চলুন।
খ) ত্বকে ফাটল রোধ করতে ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখুন।
গ) স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
ঘ) ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমাবদ্ধ করুন।

বিশ্ব স্পাইন দিবস : জেনে নিন এই দিবসের থিম ও ইতিহাস

বিশ্ব স্পাইন দিবস : জেনে নিন এই দিবসের থিম ও ইতিহাস

আমাদের শরীরের প্রত্যেকটা অংশই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনও একটা অংশের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেই নানান সমস্যায় মুখে পড়তে হয়। ঠিক সেরকমই, শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ‘মেরুদণ্ড’, যার উপর ভর করে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি, হাঁটা-চলা করি, হাত-পা নাড়ি। এই মেরুদণ্ডের কোনওরকম সমস্যা হলেই হাঁটা, বসা, দাঁড়ানো সবকিছুতেই সমস্যা হয়, এমনকি শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ডে কোনও গুরুতর সমস্যা হলে তা মানুষকে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুও করে দিতে পারে!

এই মেরুদণ্ড সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর গোটা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব স্পাইন দিবস’। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হল, পিঠ ও কোমরের সমস্যা এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এইদিন সারা বিশ্বজুড়ে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পেশায় যারা আছেন এবং রোগীরা এই দিবস সংক্রান্ত নানান অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন।

প্রতিবছর নানান থিমের মাধ্যমে এই দিবস পালন করা হয়। এইবছর, অর্থাৎ বিশ্ব স্পাইন দিবস ২০১৯ সালের থিম বা প্রতিপাদ্য হল ‘গেট স্পাইন অ্যাকটিভ’। এটি আমাদের মেরুদণ্ডের যত্ন নেওয়া এবং মেরুদণ্ডকে সক্রিয় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। অনুমান করা হয় যে, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ পিঠের ব্যাথায় বা কোমরের ব্যথায় ভোগেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজিকাল ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড স্ট্রোকের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্করা তাদের জীবনের কোনও একসময় কোমরের ব্যথা বা পিঠের ব্যথায় ভোগেন।

বিশ্ব স্পাইন দিবসের ইতিহাস : ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ চিরোপ্র্যাকটিক (World Federation of Chiropratic) ২০১২ সালে সর্বপ্রথম বিশ্ব স্পাইন দিবস চালু করে। সেই বছরে এই দিবসের থিম বা প্রতিপাদ্য ছিল ‘Straighten Up and Move’। এটি, নিয়মিত আমাদের মেরুদণ্ডকে সক্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর রাখার সচেতনতা সম্পর্কে বার্তা দেয়।

বিশ্ব স্পাইন দিবসের লক্ষ্যগুলি হল:

১. বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য এবং মেরুদণ্ডের ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

২. মেরুদণ্ডের ব্যাধিগুলি কমানোর জন্য একটি আন্তঃশৃঙ্খলাবদ্ধ, সহযোগী পদ্ধতির বিকাশ করা।

৩. মেরুদণ্ডের ব্যাধিগুলি সম্পর্কে আলোচনা এবং প্রচারের জন্য সুযোগ প্রদান। একজন মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্নভাবে মেরুদণ্ডের ব্যথা, বেদনাতে আক্রান্ত হয়। তবে, নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে পারে। তাই, সেইদিকে আমাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখতে হবে।

“দুগ্ধ পনির মধ্যে প্রজনন হরমোন রয়েছে যা স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।”

“দুগ্ধ পনির মধ্যে প্রজনন হরমোন রয়েছে যা স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।”

FDA কে ১২,০০০ ডক্টর দাবী জানিয়েছে রূপান্তরিত পনিরের গাঁয়ে সাবধানতার লেবেল দিতে।

পনির পণ্যগুলিতে স্বাস্থ্য সতর্কতা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকরা FDA র কাছে আবেদন করছেন। গবেষণাগুলি বলছে যে, দুগ্ধ সেবনের কারণে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির সাথে মৃত্যু ঝুঁকি যুক্ত হয়েছে। যা দিনে দিনে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

তাই আমেরিকার চিকিৎসকদের কমিটি ফর রেসপন্সিবল মেডিসিন (PCRM) মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনকে (FDA) পনিরের উপরে স্তন ক্যান্সারের সতর্কতার লেবেল দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে।

১২,০০০ চিকিৎসা পেশাদার সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, PCRM চায় পণ্যগুলিতে সিগারেটের প্যাকেটের মতো সতর্কতা লেবেল দিয়ে রাখে। সেই্ রকম লেবেল যেন পনিরের গাঁয়ে লাগানো থাকে, এটি আবেদনের সাথে একটি উদাহরণ দিয়েছে যে, পনিরের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকুক : “দুগ্ধ পনির মধ্যে প্রজনন হরমোন রয়েছে যা স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।”

রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলির মতে মহিলাদের মধ্যে মৃত্যু সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে স্তন ক্যান্সার অন্যতম। PCRM স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের শুরুতে ৩ অক্টোবর তার আবেদন জমা দেয়।

“ক্রাফ্টের মতো পনির প্রস্তুতকারকরা ফিলাডেলফিয়া ক্রিম চিজ এবং ম্যাকারনি ও পিজের মতো পণ্যগুলিতে গোলাপী ফিতা চাপড়ানোর পরিবর্তে, (তারা বলতে চায় এতে নারীর স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা নেই) যেমন তারা স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাসের আগে করেছিলেন, তাদের সতর্কতা লেবেল যুক্ত করা উচিত, PCRM সভাপতি নীল বার্নার্ড একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা চাই নারীরা সচেতন হন যে দুগ্ধ পনির তাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।”

দুগ্ধ এবং স্তন ক্যান্সার
গরুর দুগ্ধে ইস্ট্রোজেন থাকে। দুধ যখন পনিরে রূপান্তরিত হয় তখন ইস্ট্রোজেনগুলি আরও ঘন হয়। PCRM বলছে, “যদিও এগুলি কেবলমাত্র চিহ্নস্বরূপ, বস্তুত ইস্ট্রোজেনগুলি মানবদেহে জৈবিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে,তাতে নারীর স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর হার বাড়িয়ে তোলে”

এটি একটি গবেষণাকে বোঝায় – যা লাইফ আফটার ক্যান্সার এপিডেমিওলজি স্টাডি হিসাবে পরিচিত – যা প্রমাণ করে যে মহিলাদের মধ্যে আগে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, যেগুলি প্রতিদিন উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারগুলির এক বা একাধিক প্রক্রিয়ায় গ্রহন করেছেন তাদের স্তন ক্যান্সারের মৃত্যু হার ছিল ৪৯ শতাংশ, সেই তুলনায় যারা প্রতিদিন এক-অর্ধেকেরও কম দুগ্ধ পনির কম খেয়েছেন কিংবা বর্জন করেছেন করছেন তাদের স্তন ক্যান্সারের মৃত্যু ঝুঁকি কম।

বিশ্বখ্যাত স্তন সার্জন ডাঃ ক্রিস্টি ফানক স্তন ক্যান্সার এবং পশু থেকে উৎপাদিত দুগ্ধ পণ্যগুলির মধ্যে যোগসূত্র সম্পর্কে কথা বলেছেন।

তিনি গত বছর লাইভাকিন্ডলিকে বলেছিলেন, “প্রাণীর প্রোটিন এবং প্রাণীর ফ্যাট গ্রহণের বিষয়ে শরীরের সেলুলার প্রতিক্রিয়া হ’ল স্বাস্থ্যের স্বাভাবিক ক্রিয়া দমিয়ে রাখা, ইউমিনিট দূর্বল করে দেওয়া এবং দুগ্ধ পণ্য গ্রহনের সময় অসুস্থতা খাওয়ায় এবং শরীরে জ্বালানি প্রবাহ বৃদ্ধি করে সমস্ত অর্গানগুলোকে দুগ্ধপণ্য পাচনে ব্যস্ত করে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানীয় চুষে নেয়, তিনি আরও যোগ করেছেন, “ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি, বৃদ্ধি হরমোনস স্ক্রাইকেট, প্রদাহ প্রসারণ, মুক্ত র‌্যাডিকালগুলি চালায় কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং DNA কে পরিবর্তিত করে দেয় যা একজন ক্যান্সারের রোগী দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঝুকতে থাকে।”

লেটস বিট ব্রেস্ট ক্যান্সার শিরোনামে একটি নতুন Vegan প্রচারে বেশ কিছু সেলিব্রিটি – পাশাপাশি ফানক PCRM র সাথে কাজ করছে। এটি মানুষকে আরও বেশি উদ্ভিদ-ভিত্তিক (শাক সবজি, ফলমূল) খাবার খাওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে, নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করতে, অ্যালকোহল গ্রহণ সীমাবদ্ধ করতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে উৎসাহ দেয়ার উপর জোর দিয়েছে।

তারা এর কাছে জোড়ালো দাবী করেছে যেভাবে সিগারেটের গাঁয়ে স্বাস্থ্য ক্ষতির কথা উল্লেখ থাকে সেভাবেই যেন পনিরের গায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা লেবেলে দেওয়া হয়।

সেই সাথে জোড়ালো দাবী করা হয়েছে নারীদের সচেতন হওয়ার জন্য তারা যেন পনির বর্জন করে, আমেরিকার সহ পৃথিবীর সব দেশেই পিজা, বার্গার সহ পরিচিত ফাষ্টফুডগুলোতে পনিরের উপস্থিতি অনেক অনেক বেশি। তাই সেই খাদ্য বর্জন করতে। যেহেতু নারীর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার দরুন এখন আমেরিকায়ই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের অপারেশন করার সার্জনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে সেহেতু চিকিৎসকরাই এখন জোড় দাবী জানাচ্ছে রোগ হয়ে চিকিৎসা করানোর চেয়ে রোগ না হওয়ার সচেতনতা বেশি সাশ্রয়।

এই চিত্র আমেরিকার, যেখানে জীবনমান, সচেতনতা, চিকিৎসা, খাদ্য বিশুদ্ধতা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তাদের ডাক্তারদের আহ্বান তাদের নারীদের প্রতি প্রভাব পড়বে। কিন্তু বাংলাদেশে কোন দিনও ডাক্তাররা বলবে না, ‘আপনি পনির সহ দুগ্ধজাতীয় খাদ্য বর্জন করে নিজের ইস্ট্রোজেন ভাল রাখুন, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।’ সেহেতু এখনই সময় দুধ ও পনির জাতীয় খাবার বর্জন করে নিজের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকুন।

আলমগীর আলম
প্রতিষ্ঠাতা: প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, (তৃতীয় তলা)
ঢাকা।