রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন, কী খাবেন না

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন, কী খাবেন না

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রথমেই বদলাতে হবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের পদ্ধতি। আমাদের খাওয়া-দাওয়া, চাল-চলন ঠিক করার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে এখন করনাকালে বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সব পরামর্শ দিচ্ছেন, সেগুলো মেনে চললেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে-কোনো ভাইরাস, সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে ওষুধ বা টীকা নয়, সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে- দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যত সুন্দর হবে, যত ভালো হবে, তত মানুষ রোগকে প্রতিরোধ করতে পারবে। এবং রোগ বা ভাইরাস আক্রমণ করলেও দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা আক্রমণকরী শত্রুকে বিনাশ করে সুস্থ করে তুলবে। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বা মুখরোচক বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হয়ে প্রতিদিনের খাবার ঠিক করুন বিজ্ঞানসম্মতভাবে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যোগ ব্যায়াম, মেডিটেশন নিয়মিত অনুশীলন করতে পারেন।

আসলে খাবার-দাবার, সঠিক পুষ্টি বিজ্ঞানসম্মত খাবার গ্রহণের যে গুরুত্ব শুধু জানা নয়, সেটা অনুসরণ করার গুরুত্ব তখনই আমরা বুঝতে পারব যখন আমরা সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে পারব। সুস্বাস্থ্য যে কত বড় সম্পদ এটা একজন মানুষ বোঝেন যখন তিনি অসুস্থ হন তখন। সুস্বাস্থ্য এটা শুধু টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এটার জন্যে প্রয়োজন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আত্মিক- প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্থ জীবনদৃষ্টি।

খাবারের ব্যাপারে সহজ ফর্মুলা হচ্ছে- যে সুপাচ্য-সহজ খাবার গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত মসলা, তেল-ঝাল, ভাজাপোড়া বর্জন করবেন। মাঝে মধ্যে একটু মসলা, একটু তেলতেলে জিনিস, একটু ঝাল, একটু ভাজাপোড়া খেলেন। কিন্তু ক্রমাগত অতিরিক্ত মসলা, তেলঝাল, ভাজাপোড়া বর্জন করবেন। সব খাবেন, তবে খাবারটা হতে হবে পুষ্টিবিজ্ঞানসম্মত এবং রুচিসম্মত।

যে সময়ে যে শাক-সবজি পাওয়া যায়, যে সিজনে যে ফল মূল পাওয়া যায়, সেগুলো খাবেন। শাক-সবজির মধ্যে বাঁধাকপি, লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, পাটশাক, কচুশাক, সজনে পাতা এবং আঁশজাতীয় যত সবজি, সবুজ শাক-সবজি বেশি খাবেন। খাবারের ব্যাপারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করার জন্যে ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! প্রত্যেকটা অঞ্চলের মৌসুমী ফলে সে মৌসুমের রোগ প্রতিষেধক থাকে। যে অঞ্চলে যে মৌসুমে যে ফল হয়, সেই অঞ্চলে সেই মৌসুমে যে রোগ থাকে সে রোগের প্রতিষেধক ঐ ফলের মধ্যে থাকে। অতএব সবসময় মনে রাখবেন- ফল মানে হচ্ছে দেশজ ফল, আঞ্চলিক ফল এবং মৌসুমি ফল।

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ফল পাওয়া গেছে, তার মধ্যে কাঁঠাল হচ্ছে সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। শুধু কাঁঠাল নয়, কাঁঠাল-কাঁঠালের বিচি – দুটোই সমান পুষ্টিকর! কাঁঠাল বলকারক, রোগ প্রতিরোধক এবং ত্বকের রং ফর্সাকারক। এখন আমের সিজন, আম খাবেন। যখন পাওয়া যায় পেয়ারা, কুল খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মমতো জামের বিচি, মেথি ও করলা খাবেন। আমলকি খাবেন, জাম খাবেন। আর যাদের ডায়বেটিস আছে তারা রাতের বেলা মেথি ভিজিয়ে রাখবেন আর সকালবেলা মেথি ভেজানো পানি খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা আরো চমৎকার জিনিস খেতে পারেন- করলা, প্রতিদিন সকালবেলা এক গ্লাস করলার জুস! ইটস এ ওয়ান্ডারফুল! করলার জুস! 

কমলা-মাল্টার চেয়ে জাম্বুরা অনেক অনেক উপকারি। যাদের খুব বেশি ঠান্ডা লাগে, তারা এই যে সামনে জাম্বুরা আসছে, আগস্ট মাস থেকে জাম্বুরা পাওয়া যাবে, প্রত্যেকদিন জাম্বুরা খাবেন। এখন আনারসের সিজন, আনারস খাবেন। ফল জুসের চেয়ে চিবিয়ে খাওয়াটা অনেক অনেক বেশি উপকারি। অর্থাৎ যে মৌসুমে যে ফল পাওয়া যায়, সেই মৌসুমের ফল খাবেন। কিন্তু প্যাকেটজাত ফলের জুস বলে যা পাওয়া যায়, এগুলো নিজেরা খাবেন না, বাচ্চাকেও খাওয়াবেন না। প্যাকেটজাত জুস বলে, টিনজাত জুস বলে যা পাওয়া যায়, এগুলো সতর্কভাবে বর্জন করবেন। আর জুস যদি করতে হয় তো ফ্রেশ ফলের জুস করে খান। তবে জুসের চেয়ে ফল চিবিয়ে খাওয়াটা অনেক অনেক বেশি উপকারী।

ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগ থেকে বাঁচার একটা বড় পথ হচ্ছে- চিনি না খাওয়া। এটা হচ্ছে হোয়াইট পয়জন বা সাদা বিষ। আর দুধ চা, এটা পেটের জন্যে ক্ষতিকর। মোড়কজাত, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বা ফাস্ট ফুড টেস্টি হওয়ার পেছনে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে এতে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারে টেস্টিং সল্ট, রং, ফ্লেভার, তেল, চিনি ব্যবহার করা হয় বেশি। এগুলো যত বেশি খাবেন। তত আপনার ওজন বাড়বে, তত আপনি স্থুলকায় হবেন এবং তত আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। 

শুধু চিনি নয়, চিনি দিয়ে বানানো সকল খাদ্য পরিহার করবেন। প্রয়োজনে আখ বা খেজুরের গুড় অথবা খেজুর দিয়ে মিষ্টি জাতীয় খাবার ঘরেই তৈরী করে নিন। যেমন- গাজর আর খেজুর দিয়ে বানাতে পারেন সন্দেশ। যেখানে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যগুণ আছে। বর্তমানে বাজারে গাজর এমনটিতেই বেশ সহজলভ্য একটি সবজি। পুষ্টিগুণের বিচারে এটা বেশ স্বাস্থ্যসম্মতও বটে। গাজরের হালুয়ার স্বাদই আলাদা। যে একবার খাবে তার মুখে লেগে থাকবে। আরও রয়েছে- সন্দেশ, বরফিসহ স্বাস্থ্যসম্মত বিভিন্ন খাবার। যা একদিকে যেমন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, আবার সেটা চিনিমুক্ত খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো মজাদার খাবার। বাচ্চাদের স্কুলের জন্যও যা হতে পারে চমৎকার টিফিন। তাছাড়া গাজরে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ সহ নানা উপকারী পুষ্টিগুণ, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানী আর ডাক্তারদের গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি জনস্বাস্থ্যের এক নম্বর শত্রু। এখন উন্নত দেশের স্কুল আর হাসপাতালগুলোও তাদের খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার থেকে চিনি সম্পূর্ণ বাদ না দিলে দেখা দিবে ক্যান্সারসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

আমরা জানি, যারা বেশি মিষ্টি খায় তাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা রকম বিষক্রিয়া। এছাড়াও সব ধরনের বিপাকজনিত রোগ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের আধিক্য, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস, মেদস্থূলতা ও বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার সঙ্গে চিনির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন তারা। এসব কারণেই বিশ্বজুড়ে এখন চিনির আরেক নাম ‘হোয়াইট পয়জন’।

সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, এলকোহল- এটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদিকে যেরকম কমায়, আপনার ডায়াবেটিস এবং কিডনি বিনাশের কারণ হয়। সফট ড্রিংকস সবচেয়ে বেশি টেস্টি হয়, যখন এটা চিলড অবস্থায় থাকে। ঠাণ্ডা! যত ঠাণ্ডা তত স্বাদ। আর পানি সবচেয়ে ঠাণ্ডা এবং ঘন হয়, যখন এটার তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পৌঁছায়। চার ডিগ্রির নিচে চলে গেলে দ্রুত এটা বরফ হয়ে যায়, জমে যায়। এখন একটা সফট ড্রিংকস যদি জমে যায়, কতক্ষণে এটা গলবে কতক্ষণে আপনি খাবেন! আপনার ধৈর্য থাকবে না। অতএব এই সফট ড্রিংকস যাতে বরফ না হতে পারে, জমতে না পারে এইজন্যে সফট ড্রিংকস কোম্পানিগুলো একটা এন্টিফ্রিজার কেমিকেল ব্যবহার করে- ইথিলিন গ্লাইকল। এই ইথিলিন গ্লাইকল সফট ড্রিংকসের তাপমাত্রা চার ডিগ্রিতে নিয়ে স্থির রাখে, আর নামতে দেয় না। এই ইথিলিন গ্লাইকল, এটা হচ্ছে কিডনির জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর, অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কিডনি বিশেষজ্ঞ মরহুম ডা. ব্রিগেডিয়ার সিরাজ জিন্নাত একবার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, আমাদের দেশে আজকে যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কিডনির প্রবলেম, ইউরিনারি প্রবলেম, ডায়াবেটিস হচ্ছে- এর প্রধান কারণ হচ্ছে- এই সফট ড্রিংকস। এসব কোমল পানীয়ের বদলে প্রতিদিন ডাব খাবেন। কচি ডাবের পানি এবং রক্তের যে ফ্লুইড, তরল অংশ- একই উপাদানে তৈরি। যার ফলে কখনো যদি স্যালাইন পাওয়া না যায়, ডাক্তাররা কচি ডাবের পানি সরাসরি আপনার ভেইনে প্রবেশ করিয়ে দেন। অতএব বেশি বেশি ডাব খাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন খাবারে এক কোষ রসুন, ২০/৩০/৪০টা কালোজিরা, একচামচ মধু, একগ্লাস দুধ, একটা কলা এবং একটা ডিম, দুটি খেজুর অবশ্যই রাখবেন। প্রতিদিন খাবারে অবশ্যই রাখবেন সবুজ সালাদ। অর্থাৎ যে সবজিগুলো কাঁচা খাওয়া যায় সেটাই সালাদ। প্রতিদিন ঘরে বানানো দই খাবেন। চিনি ছাড়া, টক দই যেটাকে ইয়োগার্ট বলে,‌ টক দই খাবেন। চীনা বানাম হৃদরোগ প্রতিরোধী এবং টেস্টিসের ক্যান্সার প্রতিরোধক। পুরুষদের একটা বয়সের পরে টেস্টিসে ক্যান্সার হতে চায়, এটার প্রতিরোধক হচ্ছে চীনা বাদাম। যত ধরনের বাদাম আছে খাবেন, বিন খাবেন। সয়াবিন থেকে শুরু করে যতরকম বিন আছে খাবেন। চাল যেরকম কার্বহাইড্রেট, আলুও তেমন কার্বহাইড্রেট। তাই ভাতের বদলে আলু খাবেন, মিষ্টি আলু খাবেন। কারণ, আলুতে ভাতের চেয়েও প্রোটিন বেশি থাকে।

সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল, ঢেঁকিছাটা চাল এবং পুরো খোসাসহ চাল খাওয়ার অভ্যাস যদি আমরা করতে পারি, আমাদের সুস্বাস্থ্যের পরিমাণ, সুস্থ থাকার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সব ধরনের ডাল খাবেন। শুধু ভাত না খেয়ে সবজি খিচুড়ি খাবেন এবং শাক-সবজি আধা সিদ্ধ খাবেন। বেশি সিদ্ধ শাক-সবজি হজম হতে বেশি সময় নেয়। অনেকের একটা ভুল ধারণা আছে যে, শাক-সবজি যত সিদ্ধ করা হবে হজম তত দ্রুত হবে। আসলে শাক-সবজি যদি বেশি সিদ্ধ করা হয় তাহলে হজম হতে দেরি হয়!

কারণ, প্রত্যেকটা শাক-সবজির সাথে এনজাইম থাকে যেটা হজম করে, প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে শাক-সবজিতে। যখন আপনি বেশি সিদ্ধ করছেন, তখন এই প্রাকৃতিক এনজাইমটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তখন এটা হজম করার জন্যে স্টমাককে আবার নতুন করে এনজাইম তৈরি করতে হয়। দুই দিন নিরামিষ, দুই দিন ছোট মাছ, দুই দিন বড় মাছ ও একদিন মাংস। সবসময় সুষম খাবার খাবেন। অর্থাৎ খাবারের মধ্যে ব্যালেন্স করা। মাছের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক মাছ যত খাবেন তত ভালো। মাংসের ক্ষেত্রে সবসময় মনে রাখবেন–যত পা তত কোলেস্টেরল। আপনি দেখেন, চিংড়ি-কাঁকড়ার অনেক পা। কোলেস্টেরল সবচেয়ে বেশি। তারপরে খাসি, গরু, পাঠা চার পা।

অন্যদিকে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আর গরম পানিতে গোসল করতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আবার প্রতিদিন গরম পানি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের আলোচিত বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. বিজন কুমার শীল বলেন, এই সময় যদি মেডিটেশন বা ধ্যান করা যায়, তাহলে অনেকটা মানসিক স্বস্তি লাভ করা সম্ভব। মেডিটেশন বা ধ্যান করলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং দুশ্চিন্তা কমে যায়। এর ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আমাদের দেশে অনেকে মেডিটেশন বা ধ্যান করেন, এটা ধর্মীয় কোনো চর্চা নয়, এটা মন ও দেহকে সুস্থ রাখার জন্য। আমি আমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য যদি দৈনিক দশ-বিশ মিনিট চোখ বুজে বসে থাকি এবং আমার মানসিক চাপকে কমাতে পারি- তাহলে তো এটা নিঃসন্দেহে খুবই উপকারী।

বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, সুস্থতাই বড় সম্পদ। তাই আপনি সুস্থ থাকার জন্য বিজ্ঞান সম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের পদ্ধতি তৈরী করে নিন। সুস্থ থাকতে রেগে যাওয়া, উৎকণ্ঠা, উদ্বিগ্ন না হয়ে সঠিক জীবনদৃষ্টি ঠিক করে নিন। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন আর বলুন- সুস্থ দেহ সুস্থ মন, কর্মব্যস্ত সুখি জীবন। 

পরিশেষে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটাকে অটুট রাখার জন্যে দুটি কাজ করতে হবে। যে খাবারগুলো, যে পানীয়গুলো এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়– এটাকে বর্জন করতে হবে এবং যে খাবারগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যে ফলগুলো সহজলভ্য, সে ফলগুলো খেতে হবে। শাক-সবজি, খাবার সেইভাবে খেতে হবে। তাহলে আমরা খুব সহজভাবে বলতে পারি যে- বিন্দু বিন্দু ছোট ছোট যত্ন স্বাস্থ্য গড়ে তোলে। আর বিন্দু বিন্দু অবহেলা-অযত্ন, অনাচার আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, আপনার স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়।

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণকে সহজ কথায় হাইপার অ্যাসিডিটি বলা হয়। এটা একটা কমন সিমটম। আজকাল বহু রোগী এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। বলেন, ভীষন রকম অ্যাসিডিটি হচ্ছে।

আমাদের শরীরে পাকস্থলি অ্যাসিড তৈরি করে। সেই অ্যাসিডের পরিমাণ দৈনিক প্রায় দুই থেকে আড়াই লিটারের মতো। এই অ্যাসিডের বেশির ভাগটাই খাবার হজম করতে কাজে লাগে আর বাকিটা কোলনের দিকে ট্রান্সপোর্টেড হয়ে যায়।

অ্যাসিড যখন বেশি সিক্রেশন হয় বা অ্যাসিডের প্রতি যখন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায় অথবা এই অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় যেমন প্রকস্থলি বা স্টমাকের অ্যাসিড ইসোফেগাস বা বুকের ফুড পাইটে (খাদ্যনালীতে) উঠে আসে তখনই আমাদের অতিরিক্ত অ্যাসিড বা হাইপার অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দেয়।

সাধারণত অ্যাসিড সিক্রেশন হয় প্যারাইটাল সেল থেকে আর অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে জি সেল। জি সেল থেকে একটা খুব শক্তিশালী গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোন বেরোয়, তারা প্যারাইটাল সেলের অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং কারো যদি প্যারাইটাল সেল হাইপার প্লাসিয়া হয়, গ্যাস্ট্রিন জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া হয় তবে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়, যা কিন হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের জন্য, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার জন্য, কিছু ক্ষেত্রে আবার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতীয়দের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই হতে দেখা যায়। অর্থাৎ জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া বা জি সেলের অতিরিক্ত কাজ বা প্যারাইটাল সেল হাইপারট্রফি বা প্যারাইটাল সেল যে অতিরিক্ত কাজ করে তার কারণে অ্যাসিড সিক্রেশন বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগ যেমন মিনেট্রির ডিজিজের মতো রেয়ার অসুখে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়। কিছু খাবার যেমন তেল, ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার, টক জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, তেলের জিনিস, সরষে বা বাদাম, নারকেল, চাটনি, কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজক পানীয় কফির মতো খুবই উপাদেয় খাবার খেলে আমাদের অ্যাসিড সিক্রেশন বাড়ে। সুতরাং এইসব জিনিস খাবার পর রোগীরা বুঝতে পারে হাইপার অ্যাসিডিটি হয়েছে।

কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অ্যাসিড পাকস্থলিকে ড্যামেজ করে এবং অ্যাসিডের লক্ষণ দেখা দেয়।

কিছু রোগ পাকস্থলির ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাসিডের ড্যামেজিং প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নার্ভগুলো এক্সপোজ হয়ে যায়। কারো যদি আলসার থাকে, তাহলে আলসারের কারণে ঘা হয়ে যায় ফলে ওপরের মিউকোসাটা নষ্ট হয়ে যাবার কারণে নীচের সাবমিউকোসা বেরিয়ে যায়। আর সেখানে নার্ভগুলো এক্সপোজেড হয়ে যায় সরাসরি।

সাধারণত মিউকোসা এবং তার ওপরের যে মিউকাস লেয়ার এবং কিছু কিছু হরমোন নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। কিন্তু যখন কোনো কারণে আলসার বা ড্যামেজ বা ইরোসান বা ঘা হয়ে মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে।

এই কারণে নার্ভগুলো তখন হাইপার সেন্সিটিভ হয়ে যায় এবং অ্যাসিডের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কিছু ক্ষেত্রে এক জায়গা অ্যাসিড অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে। যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাস বা ফুডপাইপে এসে পৌঁছয় তখনই হাইপার অ্যাসিডিটি হয়। সাধারণত ইসোফেগাস অ্যাসিডে অভ্যস্ত নয়, তার কাছে অ্যাসিড এসে পড়লে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। একেই হাইপার অ্যাসিডিটি বলে।

হাইপার অ্যাসিডিটির পেছনে অনেক সময় কিছু রেয়ার কারণ থাকে। প্যারাইটাল সেল অ্যাসিড তৈরিটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত কাজ করার কারণেও অস্বাভাবিক কিছু ডিজিজ বা টিউমার তৈরি হয়।

খালি পেটে থাকলে অ্যাসিড ড্যামেজ করার সুযোগ পায় এবং আলসার বা ইরোসন হয়ে নার্ভগুলো বেরিয়ে আসে এবং সমস্যা তৈরি করে। তেল, ঝাল, মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অ্যাসিডের সিক্রেশনের পরিমাণ বাড়ে। অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় গিয়ে পড়ে যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাসে এসে পড়ে তখন আমাদের হাইপার অ্যাসিডিটির সূচনা হয়। লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় বুক জ্বালা করা, মুখের মধ্যে টক জল আসা, ঢেকুর ওঠা ইত্যাদি।

বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা হওয়া কার্ডিয়াক সিমটম বলে মনে হতে পারে বটে কিন্তু অ্যাসিডিটি থেকে হার্টের রোগ হয় না।

হাইপার অ্যাসিডিটি হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তিনি সমস্ত ইতিহাসটা জেনে কারণ জানতে চেষ্টা করেন। রোগীর খাওয়া-দাওয়ার ধরুন, তার জীবনযাত্রা, কোনো ওষুধ খাওয়া কি না ইত্যাদি। ওষুধের কারণে তার কোনো বিফ্লাক্স হচ্ছে কি না সেটাও দেখেন।

অ্যাসিডের চিকিৎসা মানে অ্যাসিড থেকে রিলিফ দেওয়া। এর জন্য অ্যান্টাসিড খেতে হবে প্রাথমিক অবস্থায়। দীর্ঘকালীন অ্যাসিডিটি চললে প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ বা পি.পি.আই খুব ভালো কাজ করে। তবে এই ওষুধগুলো খেয়ে বেশিদিন সিমটমকে ধামাচাপা না দিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। আর ঠিক কী কারণে হাইপার অ্যাসিডিটি হচ্ছে সেটা জানা জরুরি। হাইপার অ্যাসিডিটির কারণে ক্যানসারের মতো রোগ হয় না ঠিকই তবে আলসার হতে পারে। তাই সাবধান হওয়ার দরকার তো আছেই।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে। জেরোসিস কাটিসের কারণ ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়।

যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়,
সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর। ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে।
ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়।
এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস হল সাধারণ বেদনাদায়ক ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ যা সাধারণত পায়ের নীচের ত্বকে প্রভাব ফেলে। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মুখ, বাহু বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। এক্ষেত্রে, ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের কারণে ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং স্পর্শে বেশ বেদনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সেলুলাইটিস সাধারণত ত্বকের পৃষ্ঠদেশে বিকাশ করে এবং সংক্রমণটি লিম্ফ নোড এবং রক্ত ​​প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে।

কারণ সেলুলাইটিস তখনই দেখা দেয়, যখন স্টাফিলোকক্কাস এবং স্ট্রেপ্টোকোকাসের মতো নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়াগুলি কোনও কাটা, আঁচড় বা সার্জিকাল ক্ষতের মাধ্যমে ত্বকের সংস্পর্শে আসে। পশুর কামড়ও সেলুলাইটিসের কারণ হতে পারে।

সেলুলাইটিসের প্রকার

স্তন সেলুলাইটিস – এটি একটি জটিলতা যা স্তন ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপির পরে বিকাশ করতে পারে।

পেরিঅরবিটাল সেলুলাইটিস – এই ধরনের সেলুলাইটিস চোখের চারপাশে বিকাশ করে।

ফেসিয়াল সেলুলাইটিস – ফেসিয়াল সেলুলাইটিস নাক, গাল এবং চোখের চারপাশে বিকাশ করে।

পেরিয়েনাল সেলুলাইটিস – এটি মলদ্বারে সংক্রমিত হয়।

সেলুলাইটিসের লক্ষণসমূহ
ক) ত্বকে ফোলা এবং লালচে ভাব
খ) নরম ভাব অনুভূত হওয়া এবং ব্যথা
গ) আক্রান্ত জায়গায় গরমভাব
ঘ) জ্বর
ঙ) বমি বমি ভাব
চ) ঠান্ডা ঘাম
ছ) অবসাদ
জ) মাথা ঘোরা
ঝ) পেশী ব্যথা
ঞ) পুঁজযুক্ত ত্বকের ঘা

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, চিকিৎসকরা সংক্রমিত ত্বকটি পরীক্ষা করে সেলুলাইটিস নির্ণয় করে এবং রোগীর ত্বকে সাম্প্রতিক কোনও আঘাত আছে কি না, তার মেডিকেল অবস্থা রয়েছে এবং রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন তা জিজ্ঞাসা করে। এর চিকিৎসা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সেলুলাইটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫ – ১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কয়েকদিন পরেই, উপসর্গগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়। যদি সংক্রমণটি গুরুতর হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি ইন্ট্রাভেনাসের মাধ্যমে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শও দিতে পারেন।

সেলুলাইটিস প্রতিরোধ
ক) সংক্রমণ রোধ করতে পোকামাকড়ের কামড়, আঁচড় থেকে এড়িয়ে চলুন।
খ) ত্বকে ফাটল রোধ করতে ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখুন।
গ) স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
ঘ) ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমাবদ্ধ করুন।

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

  • সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটু বয়স হতে না হতেই দেখা যায় অনেকেরই কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা। এর কারণ শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব। আমাদের দাঁত, হাড় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ডি-র অবদান প্রচুর। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট এবং অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির শরীরে যাতে ভালোভাবে শোষিত হয়, তার জন্যও কাজ করে ভিটামিন ডি।

সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী ভাবে বুঝবেন, আপনার শরীরে ভিটামিন ডি কম আছে কি না?

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণ

* সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সূর্যালোক ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।

* দূষণ বেশি এমন এলাকায় বসবাস।

* বাড়ির ভিতরে বেশি সময় কাটানো।

* ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া।

* সূর্যের আলো ঢোকে না, এমন স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস।

ভিটামিন ডি-র অভাবে সমস্যা

* ক্লান্তি, ব্যথা-যন্ত্রণা, সারাক্ষণ অসুস্থতা বোধ।

* হাড় এবং পেশীতে যন্ত্রণা বা সাধারণ দুর্বলতা যার ফলে সিঁড়ি চড়তে বা মেঝেতে বসার পর উঠতে সমস্যা হতে পারে।

* ভিটামিন ডি-র অভাব খুব বেশি হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।

* অত্যধিক চুল পড়া।

* আঘাত সারতে অনেক সময় নেওয়া।

* অবসাদ

* খাবার হজমে সমস্যা ।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার

সূর্যালোকে থাকে ভিটামিন ডি। যা আমরা সহজেই পেতে পারি। তবে কিছু খাবার আছে যা থেকে আমরা ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামে প্রচুর পরিমাণে পেতে পারি। যেমন – টুনা, ম্যাকরেল, স্যামন মাছ, ডিমের কুসুম, সোয়া দুধ, দই, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাশরুম, কমলালেবুর রস, কোকোয়া।

বিশ্ব সেপসিস দিবস ২০১৯ : সেপসিস : কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

বিশ্ব সেপসিস দিবস ২০১৯ : সেপসিস : কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আজ, ১৩ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব সেপসিস দিবস’। গ্লোবাল সেপসিস জোটের উদ্যোগে ২০১২ সাল থেকে এই দিবস পালন করা শুরু হয়েছিল। প্রতিবছর ১৩ সেপ্টেম্বর সেপসিস সম্পর্কে জনগণের কাছে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে সেপসিস দিবস পালন করা হয়। আজকের এই দিনে আসুন আমরা সেপসিস সম্পর্কে জেনে নিই।

সেপসিস খুব মারাত্মক একটি রোগ, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দেহের রক্তের কার্য ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত করে। এই রোগ দেহের যেকোনও জায়গায় হতে পারে। রোগ জীবাণু রক্ত প্রবাহে ঢুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে৷ সাধারণত শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা এই আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে ৷ কিন্তু, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে এই ধকল সামলানো কঠিন৷ বিশেষত, শরীরের রক্তকে প্রভাবিত করে। সাধারনত দেহের যে যে জায়গায় এই সংক্রমণ ঘটতে পারে তা হল – অন্ত্রে, কিডনিতে, ঘিলুর ভাঁজে, যকৃতে, গলব্লাডারে, ফুসফুসে (ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া) ও ত্বকে। এছাড়া, শিশুদের হাড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে মৃত্যুও হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে বাঁচাতে সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় ও থেরাপি জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংক্রমিত হয়৷ যেমন ফুসফুসের সংক্রমণ৷ অ্যান্টিবায়োটিক নিলে কয়েকদিনের ভালো হয়ে যেতে পারে এই সংক্রমণ৷ কিন্তু, ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের অবস্থা কয়েকঘণ্টার মধ্যে মারাত্মক হয়ে যায় ৷ প্রাথমিক স্থান থেকে জীবাণু অন্য জায়গায় চলে যায়৷ এই রোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুবই কম বয়সী বা প্রবীণদের হয়। অবশ্য, যেকোনও কারোরই হতে পারে। বিশেষ করে, কোনও ক্ষত কিংবা পোড়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম,ডায়াবেটিস, এইডস, কিডনি বা লিভারের রোগ ও ক্যান্সার সহ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা – এদের ক্ষেত্রে এই রোগ ধরা পড়লে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বেশিরভাগই, হাসপাতালে বড় বড় অপারেশনের পর ক্ষত সারতে অনেকদিন লেগে যায়৷ কারণ, এটা জীবাণুদের জন্য এক উর্বর স্থান৷ এ কারণে হাসপাতালের স্বাস্থ্যরক্ষার দিকে নজর রাখাটা অত্যন্ত জরুরি৷

রোগের লক্ষণ
১) এই রোগে রক্ত চাপ কমে যায়। অল্প রক্ত চাপের কারণে মাথাঘোরা ও ঝিমুনি হয়।
২) তলপেটে ব্যথা।
৩) মানসিক অবস্থার পরিবর্তন
৪) দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া
৫) প্রস্রাব কমে যাওয়া,
৬) খুব বেশী ঘাম হওয়া,
৭)মানসিক অবস্থার পরিবর্তন,
৮) দেহের তাপমাত্রা কমে যাওয়া,
৯) প্লেটেলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া,
১০) দ্রুত হৃদস্পন্দন হওয়া,
১১) ঠাণ্ডা লাগা ও কাঁপুনি সহ জ্বর
১২) ত্বকে চাকা-চাকা লালচে দাগ হওয়া ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়
সেপসিস রোগ নির্ণয় করতে গেলে, ডাক্তার প্রথমেই লক্ষণ ও উপসর্গ দেখেন এবং তারপরে যা সুপারিশ করতেও পারেন তা হল- রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন পরীক্ষা, এক্স-রে, এম আর আই, সি টি, আলট্রাসাউন্ড, ক্ষত সিক্রেশান ইত্যাদি।

চিকিৎসা
সেপসিস রোগীকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ICU-তে রাখা হয়। সেপসিসের চিকিৎসা করবার জন্য, অনেক রকমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এছাড়া, করটিকোস্টেরয়েডস, ইনসুলিন ব্যবহার করা যেতেও পারে। সংক্রমণের উৎস সরানোর জন্য ডাক্তার সার্জারির পরামর্শ দিতেও পারেন। ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ ও তরল একটি শিরার মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়। অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং যে ওষুধ রক্ত চাপ বৃদ্ধি করে, প্রয়োজনে তাও দেওয়া হয়। বিকল কিডনির জন্য ডায়ালাইসিস করা প্রয়োজন। অকৃতকার্য ফুসফুসের জন্য একটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস মেশিন প্রয়োজন।

রোগ প্রতিরোধ
সেপসিস কমানোর জন্য,উন্নত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার, ফ্লু, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের টীকা নেওয়া দরকার, তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা করা দরকার।