দুধ চায়ের জায়গায় খাওয়া শুরু করুন টার্মারিক টি!

দুধ চায়ের জায়গায় খাওয়া শুরু করুন টার্মারিক টি!

সারা বিশ্বের মধ্যে যে কটা দেশে প্রথম বারের জন্য চা পানের রেওয়াজ শুরু হয়েছিল তার মধ্যে এদেশের স্থান ছিল একেবারে উপরের দিকে। কারণ চা নামক যে একটা পানীয় রয়েছে সে নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছিল ভারতের মাটি থেকেই। তাই প্রতিটি ভারতীয়ের সঙ্গেই চায়ের সম্পর্কটা যে বেশ গভীর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই কারণেই শুধু বাঙালির নয়, প্রতিটি ভারতবাসীরই হুলদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চায়ের উপরকারিতা সম্পর্কে জানা উচিত। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এক কাপ ফোটানো জলে পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো, তার সঙ্গে মধু এবং অল্প করে আদা মিশিয়ে পান করলে শরীরে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য ভিটামিনের প্রবেশ তো ঘটেই। সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম সহ আরও নানাবিধ মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। ফলে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় একাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন…

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা শুরু করলে শরীরে কার্কিউমিন নামক উপাদানের প্রবেশ ঘটে, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদের বার করে দেওয়ার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দেহের ইতিউতি জমে থাকা মেদকে ঝরিয়ে ফলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প সময়ে যদি মেদ ঝরাতে চান, তাহলে রোজের ডায়েটে টার্মারিক টিকে জায়গা করে দিতে ভুলবেন না যেন!

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! চোখের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাস্তবিকই টার্মারিক টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে হলুদের অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে রেটিনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি চোখে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে যাতে অন্ধত্বের মতো ভয়ঙ্কর কিছু না ঘটে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাই তো বলি বন্ধু, যারা দিনের মধ্যে ৮-৯ ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করুন, তাদের নিয়ম করে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা উচিত।

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন রক্তে জমতে থাকা এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে স্বাভাবিভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আসলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমতে শুরু করে, তত হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে:

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে হলুদে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, শরীরে যাতে ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে না পারে সেদিকে খেয়াল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন হলুদ চা খাওয়া কতটা প্রয়োজন।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে: নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরের অন্দরে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে থাকে, যার প্রভাবে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়ার স্বপ্ন একেবারে হাতের মুঠোয় চলে আসে।

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে:

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে: নিয়মিত হলুদ মেশানো চা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে ছোট-বড় সব ধরনের স্কিন ডিজিজের প্রকোপই কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো মারাত্মক ত্বকের রোগের চিকিৎসাতেও এই বিশেষ পানীয়টি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক, আর পেটুক মানেই বদহজম রোজের সঙ্গী! তাই তো প্রতিটি বাঙালির নিয়ম করে হলুদ চা খাওয়া উচিত। কারণ হলুদে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান পাকস্থলিতে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়ার শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে হজন ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে বদ-হজম দূরে পালায়।

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে:

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে: হলুদে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের শরীরে থেকে বার করে দেয়। ফলে ব্রেন সেল ড্যামেজের আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে কার্কিউমিন মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে বুদ্ধির জোরও বাড়তে থাকে।

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে হার্টে রক্ত সরবরাহকারি আর্টারিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার বা হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, স্ট্রোকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতেও হলুদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হার্টকে যদি দীর্ঘদিন চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া মাস্ট!

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে:

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন নামক উপাদান ব্রেন সেলের যাতে কোনও ভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখে। তাই তো নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া শুরু করলে ব্রেন পাওয়ার এতটা বৃদ্ধি পায় যে মস্তিষ্ক সম্পর্কিত কোনও রোগই ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। তাই তো বলি বন্ধু যাদের পরিবারে এই ভয়ঙ্কর রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত হলুদ চা খাওয়া শুরু করা উচিত। এবার নিশ্চয় বুজে গেছেন বন্ধু, সাধারণ চায়ের পরিবর্তে টার্মারিক টি খাওয়ার প্রয়োজন কতটা…!

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান ভাবে জরুরি

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান ভাবে জরুরি

মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ আমাদের সার্বিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। শারীরিক সুস্থতার জন্যে আমরা অনেক কিছু করি – জিম যাই, হাঁটতে বেরোই, সাঁতার কাটি বা অন্যান্য খেলাধুলা করি।ঠিক একই রকম ভাবে, আমরা সুস্থ ভাবাবেগ ও মানসিকতার অধিকারী হবারও চেষ্টা করতে পারি।

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হল, যে কোনও মানসিক রোগ নেই মানেই সেই ব্যক্তি মানসিক ভাবে সুস্থ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ধারনাটির সাথে একমত নন।

সুস্থ ভাবাবেগ কেন জরুরি?
মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ কাজ না। কারণ এই বিদ্যা রপ্ত না হলে জীবনে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, ও অন্যান্য মানসিক ব্যধির উদয় হতে পারে। সুস্থ ভাবাবেগ ও মনের অধিকারী হলে আমরা নিশ্চিন্তে যে কোনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারি। তাছাড়া এর ফলে আমরা  দৈননিন জীবনে আরও  কর্মঠ হয়ে উঠতে পারি। একজন মানসিক সুস্থ ব্যক্তি নিজের সাথে ও অন্যের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন, আর যে কোনও বাঁধা কাটিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে পারেন।

একজন কাউন্সেলর মতে, “আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। অথচ তার বদলে আমাদের চারিপাশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলা কিন্তু অনেক বেশি সহজ। এই পরিস্থিতিগুলো অনুযায়ী যত নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারব, ততই মানসিক সুস্থতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাব।”

মনের যত্ন নিন
কথাটা কি খুব খাপছাড়া ও কঠিন লাগল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই কিন্তু এই কাজটা খুব সহজ হয়ে উঠবে। আপনি সেই জন্যে নিচে লেখা পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন:

১.     শরীরের যত্ন নিন
শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

২.    ব্যায়াম করুন, ফুসফুসে টাটকা বাতাস ভরুন
সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরটিনিন নামে একটি রাসায়নিকের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এই সেরিটিনিন আমাদের মস্তিষ্ককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে সূর্যের আলোয় আমাদের মন ভাল হয়ে যায়। কায়িক পরিশ্রমও সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন।

৩.     নিজের যত্ন নিন
মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

মনোযোগ বাড়াতে সব যন্ত্রপাতি দূরে সরিয়ে নিজের আশেপাশের দুনিয়াটাকে উপলব্ধি করুন। নিমহ্যান্সের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক ডাঃ এম মঞ্জুলার কথা অনুযায়ী, “ভূত ও ভবিষ্যৎ ভুলে বর্তমানে থাকার নামই মনোযোগ। খামখেয়ালের স্রোতে না ভেসে গিয়ে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চিন্তায় সাড়া দেওয়া; একবারে একটি কাজেই মন দেওয়া, পরের ছিদ্রান্বেষণ না করে যে কোনও পরিস্থিতিতে স্থির ও অবিচল থাকার নামই মনোযোগ।  এর ফলে আপনি চারপাশে থেকে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন যা আপনাকে যে কোনও অবস্থায় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে।”

৪.     পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান
পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

৫.     কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন
পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

৬.     দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন
আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

“আপনি যদি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তবে পরীক্ষার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। পরীক্ষা আপনার জীবনের মাপকাঠি না, সেটা সাময়িক এবং আবশ্যিক। কিছু ক্ষেত্রে আপনি দুশ্চিন্তার উৎসগুলিকে এড়িয়ে চলতে পারেন, কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে সবসময়ে তা সম্ভব না। কাজেই আপনাকে নিজেই দুশ্চিন্তাকে সামাল দেওয়ার কোনও পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি কোনও বন্ধুর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, ধৈর্য ধরে নিজের উপরে বিশ্বাস রাখতে পারেন, পরিস্থিতিকে পুনরায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে পারেন, প্রাণায়াম করতে পারেন, একটু হাঁটতে যেতে পারেন, গান শুনতে পারেন, ব্যায়াম করতে পারেন, ইত্যাদি।”

৭.     নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না
আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়।  সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

৮.     আশির্বাদ কুড়োন
একঘেয়ে শোনালেও এটা সত্যি যে, যা পেয়েছেন তা নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে, যা পাননি  তাই নিয়ে কষ্ট কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এর ফলে মনের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা জন্ম নেয়। একটি কৃতজ্ঞতা খাতা বানান। প্রত্যেকদিন রাত্রে শোবার আগে লিখে ফেলুন যে, আপনি আজ কেন ও কিসের জন্য কৃতজ্ঞ। নিজের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ জাগিয়ে তুললে, সবার আশীর্বাদ মনে রাখলে,দেখবেন প্রত্যেকদিনই আপনার কৃতজ্ঞতার কারণের অভাব হচ্ছে না।

৯.     নিজেকে মেলে ধরুন
অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই।  নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়।  ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী। ডাঃ মঞ্জুলা বলেন, “কোন আবেগই, মূলত, ভাল বা খারাপ নয়। সমস্ত আবেগই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবেগের মাত্রা ও বহিঃপ্রকাশের ধরণের উপর নির্ভর করে এই ভাল বা খারাপ হওয়া নির্ভর করে।”

১০. সাহায্য চান
এই দুনিয়াতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না।  প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা। 

নারীর হঠাৎ গরম লাগার সমস্যা

নারীর হঠাৎ গরম লাগার সমস্যা

কাজের মধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড গরম লেগে ঘেমে-নেয়ে অস্থির। অফিসে মিটিংয়ে, ক্লাসে কিংবা বাড়িতে রান্না বা অন্য কাজের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো যেন গরমে গায়ে জ্বালা শুরু হচ্ছে। কখনো তো মুখ-কানও লাল হয়ে যায়। নারীদের এ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। মেনোপজ বা মাসিক বন্ধ হওয়ার দু-এক বছর আগে থেকে হট ফ্লাশ শুরু হতে পারে। টানা ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এ সমস্যা। নারীদের দিনে ৫ থেকে ১০ বার আকস্মিক হট ফ্লাশ হতে পারে। এর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের পর থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে আসাই হট ফ্লাশের কারণ। মেনোপজের পর তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। কারও যদি কোনো কারণে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু বা ডিম্বাশয় অপসারণ করতে হয়, তাহলে তাঁদের এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কারণ, এতে হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। হট ফ্লাশ থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে।

■ হালকা রঙের পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরে বাইরে যাবেন। ভারী কাপড়চোপড়, অতিরিক্ত মেকআপে গরম লাগার অনুভূতি বাড়াবে।

■ চা-কফি, স্যুপসহ গরম ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান করুন। শীতল ও কম তেল-মসলার খাবার খান। প্রচুর সালাদ ও সবুজ শাকসবজি খান। 

■ খুব গরম লাগলে একটু বরফ মুখে নিয়ে চিবুতে পারেন। তবে কোমল পানীয় এড়ানোর চেষ্টা করুন।

■ অফিসে কিংবা বাড়িতে কাজের সময় খোলামেলা বাতাসযুক্ত জায়গায় বা ফ্যানের নিচে বসুন। 

■ সয়া, কালিজিরা, ছোলা, ডালজাতীয় খাবারে প্রাকৃতিক ফাইটো ইস্ট্রোজেন আছে। এগুলো খেলে একটু উপকার পাওয়া যায়। তুলসী চা পান করাও আরামদায়ক।

■ নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

■ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ এড়ানোর চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন কার্যকরী।

■ চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন সাপ্লিমেন্ট, সিনথেটিক ইস্ট্রোজেন বা ক্লোনিডিন, অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ডুলেক্সেটিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারবেন। তবে এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোমতেই এগুলো সেবন করা যাবে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন, কী খাবেন না

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন, কী খাবেন না

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রথমেই বদলাতে হবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের পদ্ধতি। আমাদের খাওয়া-দাওয়া, চাল-চলন ঠিক করার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে এখন করনাকালে বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সব পরামর্শ দিচ্ছেন, সেগুলো মেনে চললেই বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে-কোনো ভাইরাস, সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে ওষুধ বা টীকা নয়, সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে- দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যত সুন্দর হবে, যত ভালো হবে, তত মানুষ রোগকে প্রতিরোধ করতে পারবে। এবং রোগ বা ভাইরাস আক্রমণ করলেও দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা আক্রমণকরী শত্রুকে বিনাশ করে সুস্থ করে তুলবে। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বা মুখরোচক বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হয়ে প্রতিদিনের খাবার ঠিক করুন বিজ্ঞানসম্মতভাবে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যোগ ব্যায়াম, মেডিটেশন নিয়মিত অনুশীলন করতে পারেন।

আসলে খাবার-দাবার, সঠিক পুষ্টি বিজ্ঞানসম্মত খাবার গ্রহণের যে গুরুত্ব শুধু জানা নয়, সেটা অনুসরণ করার গুরুত্ব তখনই আমরা বুঝতে পারব যখন আমরা সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝতে পারব। সুস্বাস্থ্য যে কত বড় সম্পদ এটা একজন মানুষ বোঝেন যখন তিনি অসুস্থ হন তখন। সুস্বাস্থ্য এটা শুধু টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এটার জন্যে প্রয়োজন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আত্মিক- প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্থ জীবনদৃষ্টি।

খাবারের ব্যাপারে সহজ ফর্মুলা হচ্ছে- যে সুপাচ্য-সহজ খাবার গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত মসলা, তেল-ঝাল, ভাজাপোড়া বর্জন করবেন। মাঝে মধ্যে একটু মসলা, একটু তেলতেলে জিনিস, একটু ঝাল, একটু ভাজাপোড়া খেলেন। কিন্তু ক্রমাগত অতিরিক্ত মসলা, তেলঝাল, ভাজাপোড়া বর্জন করবেন। সব খাবেন, তবে খাবারটা হতে হবে পুষ্টিবিজ্ঞানসম্মত এবং রুচিসম্মত।

যে সময়ে যে শাক-সবজি পাওয়া যায়, যে সিজনে যে ফল মূল পাওয়া যায়, সেগুলো খাবেন। শাক-সবজির মধ্যে বাঁধাকপি, লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, পাটশাক, কচুশাক, সজনে পাতা এবং আঁশজাতীয় যত সবজি, সবুজ শাক-সবজি বেশি খাবেন। খাবারের ব্যাপারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করার জন্যে ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! প্রত্যেকটা অঞ্চলের মৌসুমী ফলে সে মৌসুমের রোগ প্রতিষেধক থাকে। যে অঞ্চলে যে মৌসুমে যে ফল হয়, সেই অঞ্চলে সেই মৌসুমে যে রোগ থাকে সে রোগের প্রতিষেধক ঐ ফলের মধ্যে থাকে। অতএব সবসময় মনে রাখবেন- ফল মানে হচ্ছে দেশজ ফল, আঞ্চলিক ফল এবং মৌসুমি ফল।

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ফল পাওয়া গেছে, তার মধ্যে কাঁঠাল হচ্ছে সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। শুধু কাঁঠাল নয়, কাঁঠাল-কাঁঠালের বিচি – দুটোই সমান পুষ্টিকর! কাঁঠাল বলকারক, রোগ প্রতিরোধক এবং ত্বকের রং ফর্সাকারক। এখন আমের সিজন, আম খাবেন। যখন পাওয়া যায় পেয়ারা, কুল খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মমতো জামের বিচি, মেথি ও করলা খাবেন। আমলকি খাবেন, জাম খাবেন। আর যাদের ডায়বেটিস আছে তারা রাতের বেলা মেথি ভিজিয়ে রাখবেন আর সকালবেলা মেথি ভেজানো পানি খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা আরো চমৎকার জিনিস খেতে পারেন- করলা, প্রতিদিন সকালবেলা এক গ্লাস করলার জুস! ইটস এ ওয়ান্ডারফুল! করলার জুস! 

কমলা-মাল্টার চেয়ে জাম্বুরা অনেক অনেক উপকারি। যাদের খুব বেশি ঠান্ডা লাগে, তারা এই যে সামনে জাম্বুরা আসছে, আগস্ট মাস থেকে জাম্বুরা পাওয়া যাবে, প্রত্যেকদিন জাম্বুরা খাবেন। এখন আনারসের সিজন, আনারস খাবেন। ফল জুসের চেয়ে চিবিয়ে খাওয়াটা অনেক অনেক বেশি উপকারি। অর্থাৎ যে মৌসুমে যে ফল পাওয়া যায়, সেই মৌসুমের ফল খাবেন। কিন্তু প্যাকেটজাত ফলের জুস বলে যা পাওয়া যায়, এগুলো নিজেরা খাবেন না, বাচ্চাকেও খাওয়াবেন না। প্যাকেটজাত জুস বলে, টিনজাত জুস বলে যা পাওয়া যায়, এগুলো সতর্কভাবে বর্জন করবেন। আর জুস যদি করতে হয় তো ফ্রেশ ফলের জুস করে খান। তবে জুসের চেয়ে ফল চিবিয়ে খাওয়াটা অনেক অনেক বেশি উপকারী।

ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগ থেকে বাঁচার একটা বড় পথ হচ্ছে- চিনি না খাওয়া। এটা হচ্ছে হোয়াইট পয়জন বা সাদা বিষ। আর দুধ চা, এটা পেটের জন্যে ক্ষতিকর। মোড়কজাত, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বা ফাস্ট ফুড টেস্টি হওয়ার পেছনে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে এতে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারে টেস্টিং সল্ট, রং, ফ্লেভার, তেল, চিনি ব্যবহার করা হয় বেশি। এগুলো যত বেশি খাবেন। তত আপনার ওজন বাড়বে, তত আপনি স্থুলকায় হবেন এবং তত আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। 

শুধু চিনি নয়, চিনি দিয়ে বানানো সকল খাদ্য পরিহার করবেন। প্রয়োজনে আখ বা খেজুরের গুড় অথবা খেজুর দিয়ে মিষ্টি জাতীয় খাবার ঘরেই তৈরী করে নিন। যেমন- গাজর আর খেজুর দিয়ে বানাতে পারেন সন্দেশ। যেখানে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যগুণ আছে। বর্তমানে বাজারে গাজর এমনটিতেই বেশ সহজলভ্য একটি সবজি। পুষ্টিগুণের বিচারে এটা বেশ স্বাস্থ্যসম্মতও বটে। গাজরের হালুয়ার স্বাদই আলাদা। যে একবার খাবে তার মুখে লেগে থাকবে। আরও রয়েছে- সন্দেশ, বরফিসহ স্বাস্থ্যসম্মত বিভিন্ন খাবার। যা একদিকে যেমন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, আবার সেটা চিনিমুক্ত খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো মজাদার খাবার। বাচ্চাদের স্কুলের জন্যও যা হতে পারে চমৎকার টিফিন। তাছাড়া গাজরে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ সহ নানা উপকারী পুষ্টিগুণ, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানী আর ডাক্তারদের গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি জনস্বাস্থ্যের এক নম্বর শত্রু। এখন উন্নত দেশের স্কুল আর হাসপাতালগুলোও তাদের খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার থেকে চিনি সম্পূর্ণ বাদ না দিলে দেখা দিবে ক্যান্সারসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

আমরা জানি, যারা বেশি মিষ্টি খায় তাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা রকম বিষক্রিয়া। এছাড়াও সব ধরনের বিপাকজনিত রোগ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের আধিক্য, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস, মেদস্থূলতা ও বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার সঙ্গে চিনির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন তারা। এসব কারণেই বিশ্বজুড়ে এখন চিনির আরেক নাম ‘হোয়াইট পয়জন’।

সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, এলকোহল- এটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদিকে যেরকম কমায়, আপনার ডায়াবেটিস এবং কিডনি বিনাশের কারণ হয়। সফট ড্রিংকস সবচেয়ে বেশি টেস্টি হয়, যখন এটা চিলড অবস্থায় থাকে। ঠাণ্ডা! যত ঠাণ্ডা তত স্বাদ। আর পানি সবচেয়ে ঠাণ্ডা এবং ঘন হয়, যখন এটার তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পৌঁছায়। চার ডিগ্রির নিচে চলে গেলে দ্রুত এটা বরফ হয়ে যায়, জমে যায়। এখন একটা সফট ড্রিংকস যদি জমে যায়, কতক্ষণে এটা গলবে কতক্ষণে আপনি খাবেন! আপনার ধৈর্য থাকবে না। অতএব এই সফট ড্রিংকস যাতে বরফ না হতে পারে, জমতে না পারে এইজন্যে সফট ড্রিংকস কোম্পানিগুলো একটা এন্টিফ্রিজার কেমিকেল ব্যবহার করে- ইথিলিন গ্লাইকল। এই ইথিলিন গ্লাইকল সফট ড্রিংকসের তাপমাত্রা চার ডিগ্রিতে নিয়ে স্থির রাখে, আর নামতে দেয় না। এই ইথিলিন গ্লাইকল, এটা হচ্ছে কিডনির জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর, অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কিডনি বিশেষজ্ঞ মরহুম ডা. ব্রিগেডিয়ার সিরাজ জিন্নাত একবার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, আমাদের দেশে আজকে যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কিডনির প্রবলেম, ইউরিনারি প্রবলেম, ডায়াবেটিস হচ্ছে- এর প্রধান কারণ হচ্ছে- এই সফট ড্রিংকস। এসব কোমল পানীয়ের বদলে প্রতিদিন ডাব খাবেন। কচি ডাবের পানি এবং রক্তের যে ফ্লুইড, তরল অংশ- একই উপাদানে তৈরি। যার ফলে কখনো যদি স্যালাইন পাওয়া না যায়, ডাক্তাররা কচি ডাবের পানি সরাসরি আপনার ভেইনে প্রবেশ করিয়ে দেন। অতএব বেশি বেশি ডাব খাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন খাবারে এক কোষ রসুন, ২০/৩০/৪০টা কালোজিরা, একচামচ মধু, একগ্লাস দুধ, একটা কলা এবং একটা ডিম, দুটি খেজুর অবশ্যই রাখবেন। প্রতিদিন খাবারে অবশ্যই রাখবেন সবুজ সালাদ। অর্থাৎ যে সবজিগুলো কাঁচা খাওয়া যায় সেটাই সালাদ। প্রতিদিন ঘরে বানানো দই খাবেন। চিনি ছাড়া, টক দই যেটাকে ইয়োগার্ট বলে,‌ টক দই খাবেন। চীনা বানাম হৃদরোগ প্রতিরোধী এবং টেস্টিসের ক্যান্সার প্রতিরোধক। পুরুষদের একটা বয়সের পরে টেস্টিসে ক্যান্সার হতে চায়, এটার প্রতিরোধক হচ্ছে চীনা বাদাম। যত ধরনের বাদাম আছে খাবেন, বিন খাবেন। সয়াবিন থেকে শুরু করে যতরকম বিন আছে খাবেন। চাল যেরকম কার্বহাইড্রেট, আলুও তেমন কার্বহাইড্রেট। তাই ভাতের বদলে আলু খাবেন, মিষ্টি আলু খাবেন। কারণ, আলুতে ভাতের চেয়েও প্রোটিন বেশি থাকে।

সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল, ঢেঁকিছাটা চাল এবং পুরো খোসাসহ চাল খাওয়ার অভ্যাস যদি আমরা করতে পারি, আমাদের সুস্বাস্থ্যের পরিমাণ, সুস্থ থাকার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সব ধরনের ডাল খাবেন। শুধু ভাত না খেয়ে সবজি খিচুড়ি খাবেন এবং শাক-সবজি আধা সিদ্ধ খাবেন। বেশি সিদ্ধ শাক-সবজি হজম হতে বেশি সময় নেয়। অনেকের একটা ভুল ধারণা আছে যে, শাক-সবজি যত সিদ্ধ করা হবে হজম তত দ্রুত হবে। আসলে শাক-সবজি যদি বেশি সিদ্ধ করা হয় তাহলে হজম হতে দেরি হয়!

কারণ, প্রত্যেকটা শাক-সবজির সাথে এনজাইম থাকে যেটা হজম করে, প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে শাক-সবজিতে। যখন আপনি বেশি সিদ্ধ করছেন, তখন এই প্রাকৃতিক এনজাইমটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তখন এটা হজম করার জন্যে স্টমাককে আবার নতুন করে এনজাইম তৈরি করতে হয়। দুই দিন নিরামিষ, দুই দিন ছোট মাছ, দুই দিন বড় মাছ ও একদিন মাংস। সবসময় সুষম খাবার খাবেন। অর্থাৎ খাবারের মধ্যে ব্যালেন্স করা। মাছের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক মাছ যত খাবেন তত ভালো। মাংসের ক্ষেত্রে সবসময় মনে রাখবেন–যত পা তত কোলেস্টেরল। আপনি দেখেন, চিংড়ি-কাঁকড়ার অনেক পা। কোলেস্টেরল সবচেয়ে বেশি। তারপরে খাসি, গরু, পাঠা চার পা।

অন্যদিকে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আর গরম পানিতে গোসল করতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আবার প্রতিদিন গরম পানি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের আলোচিত বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. বিজন কুমার শীল বলেন, এই সময় যদি মেডিটেশন বা ধ্যান করা যায়, তাহলে অনেকটা মানসিক স্বস্তি লাভ করা সম্ভব। মেডিটেশন বা ধ্যান করলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং দুশ্চিন্তা কমে যায়। এর ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আমাদের দেশে অনেকে মেডিটেশন বা ধ্যান করেন, এটা ধর্মীয় কোনো চর্চা নয়, এটা মন ও দেহকে সুস্থ রাখার জন্য। আমি আমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য যদি দৈনিক দশ-বিশ মিনিট চোখ বুজে বসে থাকি এবং আমার মানসিক চাপকে কমাতে পারি- তাহলে তো এটা নিঃসন্দেহে খুবই উপকারী।

বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, সুস্থতাই বড় সম্পদ। তাই আপনি সুস্থ থাকার জন্য বিজ্ঞান সম্মত খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের পদ্ধতি তৈরী করে নিন। সুস্থ থাকতে রেগে যাওয়া, উৎকণ্ঠা, উদ্বিগ্ন না হয়ে সঠিক জীবনদৃষ্টি ঠিক করে নিন। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন আর বলুন- সুস্থ দেহ সুস্থ মন, কর্মব্যস্ত সুখি জীবন। 

পরিশেষে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটাকে অটুট রাখার জন্যে দুটি কাজ করতে হবে। যে খাবারগুলো, যে পানীয়গুলো এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়– এটাকে বর্জন করতে হবে এবং যে খাবারগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যে ফলগুলো সহজলভ্য, সে ফলগুলো খেতে হবে। শাক-সবজি, খাবার সেইভাবে খেতে হবে। তাহলে আমরা খুব সহজভাবে বলতে পারি যে- বিন্দু বিন্দু ছোট ছোট যত্ন স্বাস্থ্য গড়ে তোলে। আর বিন্দু বিন্দু অবহেলা-অযত্ন, অনাচার আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, আপনার স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়।

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণকে সহজ কথায় হাইপার অ্যাসিডিটি বলা হয়। এটা একটা কমন সিমটম। আজকাল বহু রোগী এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। বলেন, ভীষন রকম অ্যাসিডিটি হচ্ছে।

আমাদের শরীরে পাকস্থলি অ্যাসিড তৈরি করে। সেই অ্যাসিডের পরিমাণ দৈনিক প্রায় দুই থেকে আড়াই লিটারের মতো। এই অ্যাসিডের বেশির ভাগটাই খাবার হজম করতে কাজে লাগে আর বাকিটা কোলনের দিকে ট্রান্সপোর্টেড হয়ে যায়।

অ্যাসিড যখন বেশি সিক্রেশন হয় বা অ্যাসিডের প্রতি যখন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায় অথবা এই অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় যেমন প্রকস্থলি বা স্টমাকের অ্যাসিড ইসোফেগাস বা বুকের ফুড পাইটে (খাদ্যনালীতে) উঠে আসে তখনই আমাদের অতিরিক্ত অ্যাসিড বা হাইপার অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দেয়।

সাধারণত অ্যাসিড সিক্রেশন হয় প্যারাইটাল সেল থেকে আর অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে জি সেল। জি সেল থেকে একটা খুব শক্তিশালী গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোন বেরোয়, তারা প্যারাইটাল সেলের অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং কারো যদি প্যারাইটাল সেল হাইপার প্লাসিয়া হয়, গ্যাস্ট্রিন জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া হয় তবে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়, যা কিন হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের জন্য, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার জন্য, কিছু ক্ষেত্রে আবার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতীয়দের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই হতে দেখা যায়। অর্থাৎ জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া বা জি সেলের অতিরিক্ত কাজ বা প্যারাইটাল সেল হাইপারট্রফি বা প্যারাইটাল সেল যে অতিরিক্ত কাজ করে তার কারণে অ্যাসিড সিক্রেশন বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগ যেমন মিনেট্রির ডিজিজের মতো রেয়ার অসুখে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়। কিছু খাবার যেমন তেল, ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার, টক জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, তেলের জিনিস, সরষে বা বাদাম, নারকেল, চাটনি, কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজক পানীয় কফির মতো খুবই উপাদেয় খাবার খেলে আমাদের অ্যাসিড সিক্রেশন বাড়ে। সুতরাং এইসব জিনিস খাবার পর রোগীরা বুঝতে পারে হাইপার অ্যাসিডিটি হয়েছে।

কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অ্যাসিড পাকস্থলিকে ড্যামেজ করে এবং অ্যাসিডের লক্ষণ দেখা দেয়।

কিছু রোগ পাকস্থলির ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাসিডের ড্যামেজিং প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নার্ভগুলো এক্সপোজ হয়ে যায়। কারো যদি আলসার থাকে, তাহলে আলসারের কারণে ঘা হয়ে যায় ফলে ওপরের মিউকোসাটা নষ্ট হয়ে যাবার কারণে নীচের সাবমিউকোসা বেরিয়ে যায়। আর সেখানে নার্ভগুলো এক্সপোজেড হয়ে যায় সরাসরি।

সাধারণত মিউকোসা এবং তার ওপরের যে মিউকাস লেয়ার এবং কিছু কিছু হরমোন নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। কিন্তু যখন কোনো কারণে আলসার বা ড্যামেজ বা ইরোসান বা ঘা হয়ে মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে।

এই কারণে নার্ভগুলো তখন হাইপার সেন্সিটিভ হয়ে যায় এবং অ্যাসিডের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কিছু ক্ষেত্রে এক জায়গা অ্যাসিড অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে। যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাস বা ফুডপাইপে এসে পৌঁছয় তখনই হাইপার অ্যাসিডিটি হয়। সাধারণত ইসোফেগাস অ্যাসিডে অভ্যস্ত নয়, তার কাছে অ্যাসিড এসে পড়লে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। একেই হাইপার অ্যাসিডিটি বলে।

হাইপার অ্যাসিডিটির পেছনে অনেক সময় কিছু রেয়ার কারণ থাকে। প্যারাইটাল সেল অ্যাসিড তৈরিটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত কাজ করার কারণেও অস্বাভাবিক কিছু ডিজিজ বা টিউমার তৈরি হয়।

খালি পেটে থাকলে অ্যাসিড ড্যামেজ করার সুযোগ পায় এবং আলসার বা ইরোসন হয়ে নার্ভগুলো বেরিয়ে আসে এবং সমস্যা তৈরি করে। তেল, ঝাল, মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অ্যাসিডের সিক্রেশনের পরিমাণ বাড়ে। অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় গিয়ে পড়ে যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাসে এসে পড়ে তখন আমাদের হাইপার অ্যাসিডিটির সূচনা হয়। লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় বুক জ্বালা করা, মুখের মধ্যে টক জল আসা, ঢেকুর ওঠা ইত্যাদি।

বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা হওয়া কার্ডিয়াক সিমটম বলে মনে হতে পারে বটে কিন্তু অ্যাসিডিটি থেকে হার্টের রোগ হয় না।

হাইপার অ্যাসিডিটি হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তিনি সমস্ত ইতিহাসটা জেনে কারণ জানতে চেষ্টা করেন। রোগীর খাওয়া-দাওয়ার ধরুন, তার জীবনযাত্রা, কোনো ওষুধ খাওয়া কি না ইত্যাদি। ওষুধের কারণে তার কোনো বিফ্লাক্স হচ্ছে কি না সেটাও দেখেন।

অ্যাসিডের চিকিৎসা মানে অ্যাসিড থেকে রিলিফ দেওয়া। এর জন্য অ্যান্টাসিড খেতে হবে প্রাথমিক অবস্থায়। দীর্ঘকালীন অ্যাসিডিটি চললে প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ বা পি.পি.আই খুব ভালো কাজ করে। তবে এই ওষুধগুলো খেয়ে বেশিদিন সিমটমকে ধামাচাপা না দিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। আর ঠিক কী কারণে হাইপার অ্যাসিডিটি হচ্ছে সেটা জানা জরুরি। হাইপার অ্যাসিডিটির কারণে ক্যানসারের মতো রোগ হয় না ঠিকই তবে আলসার হতে পারে। তাই সাবধান হওয়ার দরকার তো আছেই।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

আপনার শরীরেই তৈরি হতে পারে অ্যালকোহল?

আপনার শরীরেই তৈরি হতে পারে অ্যালকোহল?

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটি গাট ফারমেন্টেশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম একটি বিরল অবস্থা, যেখানে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেমে গাঁজনের মাধ্যমে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া ইথানল উৎপান্ন করে। আপনি যখন খাবার হজম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে কিছু ইথানল উৎপান্ন হয়। তবে সে পরিমাণটা খুবই সামান্য। কিন্তু যখন আপনার শরীরে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তখন এটি চরম মাত্রায় অ্যালকোহল তৈরি করতে পারে

মদ না খেয়েও মাতাল হওয়ার অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পাকস্থলীতে বাসা বাঁধা ছত্রাকের কারণে শর্করা পরিণত হচ্ছিল অ্যালকোহলে। এতে তার স্মৃতিবিভ্রাট হতে থাকে। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাথাঘোরার রোগও বাসা বাঁধে শরীরে। গবেষকরা বিরল এ রোগকে বলছেন অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি কেস রিপোর্টে এ ঘটনা উঠে এসেছে।

বিএমজে ওপেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি কেস রিপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে ওই ব্যক্তির আঙুলে একটি চোট লেগেছিল। তারপর এক চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছিলেন তিনি। এরপর তার স্মৃতিবিভ্রাট, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও মাথাঘোরা রোগ শুরু হয়।

এরপর ২০১৪ সালে ওই ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অ্যালকোহল খেয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ব্রেথলাইজার টেস্টে ধরা পড়ে তার শরীরে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি অ্যালকোহল থাকার বিষয়টি। কিন্তু ওই ব্যক্তির দাবি ছিল যে তিনি মদ্যপান করেননি। এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে এ ধরনের বিপত্তি ঘটতে থাকে। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ করেন, মদ না খেলেও তার শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা বাড়ছে। তিন বছর ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে নিউইয়র্কের রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি।

তার পরই জানা যায়, তার শরীরে থাকা অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম নামে বিরল রোগের কারণে এ অভিনব ঘটনা ঘটছে। তার পায়খানা পরীক্ষা করে স্যাকারোমাইসিস সেরাভিসি নামে বিশেষ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া যায়। সে ছত্রাকটি ব্যবহার করেই শর্করাকে অ্যালকোহলে পরিণত করেন বিয়ার নির্মাতারা। তার পাকস্থলীতেই বিশেষ ধরনের ওই ছত্রাকটি রয়েছে। ফলে তিনি যখনই শর্করাজাতীয় খাবার খান, তখনই তা অ্যালকোহলে পরিণত হয়। এরপর তাকে ছত্রাকবিরোধী ওষুধ দেয়া হয় এবং ছয় সপ্তাহ ধরে শর্করাজাতীয় খাবার বন্ধ করতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তবে এ ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের এক নারী অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হন এবং ‘মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে’ পুলিশের হাতে আটক হয়ে খবরের শিরোনাম হন। টেক্সাসের এক ব্যক্তিও বিরল এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের সবারই আইনি সীমার চেয়ে অ্যালকোহলেন মাত্রা পাঁচ গুণ বেশি ছিল।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটা আসলে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন বিভাগ বলছে, অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমটি গাট ফারমেন্টেশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোম একটি বিরল অবস্থা, যেখানে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেমে গাঁজনের মাধ্যমে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া ইথানল উত্পন্ন করে।

আপনি যখন খাবার হজম করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে কিছু ইথানল উত্পন্ন হয়। তবে সে পরিমাণটা খুবই সামান্য। কিন্তু যখন আপনার শরীরে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তখন এটি চরম মাত্রায় অ্যালকোহল উত্পন্ন করতে পারে।

যেকোনো ব্যক্তিই এই অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও ক্রোহন রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমের লক্ষণ

এটার প্রধান লক্ষণ হলো অ্যালকোহল পান না করেই মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে। এর সঙ্গে বমিভাব, ঢেঁকুর তোলা, মাথাঘোরা, শরীরের ভারসাম্য হ্রাস এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। এমন রোগীদের সাধারণত উচ্চ চিনি ও কার্বোহাইড্রেট ডায়েট থাকে।

অটো-ব্রিউয়ারি সিনড্রোমের চিকিৎসা

বিরল এ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। শুরুতে রোগীর তীব্র অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। তারপরে এ লক্ষণগুলো সৃষ্টির জন্য দায়ী ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো, এ রোগীর লক্ষণগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ প্রোটিন ও কম মাত্রার কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রোবায়োটিকগুলোকে অনুসরণ করে।

তবে এ রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ ঝুঁকি আরো বাড়াতে পারে। যে কেউ পুনরায় এ রোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রয়োজন হলে পরিপূর্ণ চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ।

কেস রিপোর্টের ওই ব্যক্তি এখন কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতে পারেন এবং সে উপসর্গগুলো এখন আর নেই। কিন্তু কী কারণে তার এ রোগ হতে পারে? চিকিৎসকরা মনে করছেন, আঙুলে আঘাতের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের দীর্ঘ কোর্স তার এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে। এটা তার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

সূত্র: প্রিভেনশন