ফল কখন খাবেন কখন খাবেন না

ফল কখন খাবেন কখন খাবেন না

ফল খাওয়া নিয়ে নানা জনের নানা মত। কেউ বলছেন, খালি পেটে পানি আর ভরা পেটে ফল খেতে হয়। আবার কেউ বলেন, সন্ধ্যার আগে ফল খেয়ে নেওয়া উচিত। এমন নানা মতে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্ত আপনি। কোনটা শুনবেন আর কোনটা শুনবেন না! তার চেয়ে জেনে নিন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা কী বলছেন।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের কথায়, ফল মানেই প্রচুর প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেলস আর ফাইবারের আকর। তাই প্লেটের অর্ধেকটা যদি ফল আর অর্ধেকটা সবজিতে ভরা থাকে তাহলে এমনিতেই পেট ভরবে এবং ভরা পেটে না খালি পেটে ফল খাবেন সেই দ্বন্দ্বও থাকবে না। খবর এনডিটিভি’র। 

এছাড়াও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের দাবি, খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে যদি কয়েক টুকরো ফল খেয়ে নেওয়া যায় তাহলে বেশি খাওয়ার সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পাবেন। বাঁচবেন ওবেসিটির ঝামেলা থেকেও। 

তবে যেসব ফলে শর্করা বা চিনির মাত্রা বেশি সেগুলি খাবার পাতে খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর সব সময়েই ফল ও খাবার খাওয়ার মধ্যে কম পক্ষে আধ ঘণ্টা ফারাক রাখা উচিত। না হলে খাবার বা ফল কোনোটাই হজম হবে না। কারণ ফল নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাবার।

কখন ফল খাওয়া উচিত?

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সকালে উঠে এক গ্লাস পানির পর ফল খেলে শরীর দূষণমুক্ত হবে। হজম ক্ষমতা বাড়বে। আরও বেশি পুষ্টি পাবেন আপনি। তবে সাধারণত সকালের ব্রেকফাস্ট আর দুপুরের খাওয়ার মাঝের সময়ে ফল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বিকেলে বা সন্ধেয় স্ন্যাকস হিসেবেও ফল বেছে নিন। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর ফল খাওয়া যেতেই পারে।

এছাড়া খাওয়ার আগে কয়েক টুকরো ফল খেলে পাকস্থলীতে ফাইবার যায়। যা অন্য খাবার হজম করতে সাহায্য করে। আবার পেটও ভর্তি রাখে। বেশি ফাইবার যুক্ত ফল হল আপেল, ন্যাসপাতি, কলা।

তবে রাতে খাওয়ার পর ফল না খাওয়াই ভালো। কারণ ফলের মধ্যে থাকা চিনি শরীরে বাড়তি এনার্জি জুগিয়ে ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তাই শোওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ফল খেতেই পারেন।

এমএস/এসি

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণকে সহজ কথায় হাইপার অ্যাসিডিটি বলা হয়। এটা একটা কমন সিমটম। আজকাল বহু রোগী এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। বলেন, ভীষন রকম অ্যাসিডিটি হচ্ছে।

আমাদের শরীরে পাকস্থলি অ্যাসিড তৈরি করে। সেই অ্যাসিডের পরিমাণ দৈনিক প্রায় দুই থেকে আড়াই লিটারের মতো। এই অ্যাসিডের বেশির ভাগটাই খাবার হজম করতে কাজে লাগে আর বাকিটা কোলনের দিকে ট্রান্সপোর্টেড হয়ে যায়।

অ্যাসিড যখন বেশি সিক্রেশন হয় বা অ্যাসিডের প্রতি যখন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায় অথবা এই অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় যেমন প্রকস্থলি বা স্টমাকের অ্যাসিড ইসোফেগাস বা বুকের ফুড পাইটে (খাদ্যনালীতে) উঠে আসে তখনই আমাদের অতিরিক্ত অ্যাসিড বা হাইপার অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দেয়।

সাধারণত অ্যাসিড সিক্রেশন হয় প্যারাইটাল সেল থেকে আর অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে জি সেল। জি সেল থেকে একটা খুব শক্তিশালী গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোন বেরোয়, তারা প্যারাইটাল সেলের অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং কারো যদি প্যারাইটাল সেল হাইপার প্লাসিয়া হয়, গ্যাস্ট্রিন জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া হয় তবে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়, যা কিন হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের জন্য, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার জন্য, কিছু ক্ষেত্রে আবার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতীয়দের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই হতে দেখা যায়। অর্থাৎ জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া বা জি সেলের অতিরিক্ত কাজ বা প্যারাইটাল সেল হাইপারট্রফি বা প্যারাইটাল সেল যে অতিরিক্ত কাজ করে তার কারণে অ্যাসিড সিক্রেশন বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগ যেমন মিনেট্রির ডিজিজের মতো রেয়ার অসুখে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়। কিছু খাবার যেমন তেল, ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার, টক জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, তেলের জিনিস, সরষে বা বাদাম, নারকেল, চাটনি, কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজক পানীয় কফির মতো খুবই উপাদেয় খাবার খেলে আমাদের অ্যাসিড সিক্রেশন বাড়ে। সুতরাং এইসব জিনিস খাবার পর রোগীরা বুঝতে পারে হাইপার অ্যাসিডিটি হয়েছে।

কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অ্যাসিড পাকস্থলিকে ড্যামেজ করে এবং অ্যাসিডের লক্ষণ দেখা দেয়।

কিছু রোগ পাকস্থলির ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাসিডের ড্যামেজিং প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নার্ভগুলো এক্সপোজ হয়ে যায়। কারো যদি আলসার থাকে, তাহলে আলসারের কারণে ঘা হয়ে যায় ফলে ওপরের মিউকোসাটা নষ্ট হয়ে যাবার কারণে নীচের সাবমিউকোসা বেরিয়ে যায়। আর সেখানে নার্ভগুলো এক্সপোজেড হয়ে যায় সরাসরি।

সাধারণত মিউকোসা এবং তার ওপরের যে মিউকাস লেয়ার এবং কিছু কিছু হরমোন নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। কিন্তু যখন কোনো কারণে আলসার বা ড্যামেজ বা ইরোসান বা ঘা হয়ে মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে।

এই কারণে নার্ভগুলো তখন হাইপার সেন্সিটিভ হয়ে যায় এবং অ্যাসিডের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কিছু ক্ষেত্রে এক জায়গা অ্যাসিড অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে। যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাস বা ফুডপাইপে এসে পৌঁছয় তখনই হাইপার অ্যাসিডিটি হয়। সাধারণত ইসোফেগাস অ্যাসিডে অভ্যস্ত নয়, তার কাছে অ্যাসিড এসে পড়লে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। একেই হাইপার অ্যাসিডিটি বলে।

হাইপার অ্যাসিডিটির পেছনে অনেক সময় কিছু রেয়ার কারণ থাকে। প্যারাইটাল সেল অ্যাসিড তৈরিটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত কাজ করার কারণেও অস্বাভাবিক কিছু ডিজিজ বা টিউমার তৈরি হয়।

খালি পেটে থাকলে অ্যাসিড ড্যামেজ করার সুযোগ পায় এবং আলসার বা ইরোসন হয়ে নার্ভগুলো বেরিয়ে আসে এবং সমস্যা তৈরি করে। তেল, ঝাল, মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অ্যাসিডের সিক্রেশনের পরিমাণ বাড়ে। অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় গিয়ে পড়ে যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাসে এসে পড়ে তখন আমাদের হাইপার অ্যাসিডিটির সূচনা হয়। লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় বুক জ্বালা করা, মুখের মধ্যে টক জল আসা, ঢেকুর ওঠা ইত্যাদি।

বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা হওয়া কার্ডিয়াক সিমটম বলে মনে হতে পারে বটে কিন্তু অ্যাসিডিটি থেকে হার্টের রোগ হয় না।

হাইপার অ্যাসিডিটি হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তিনি সমস্ত ইতিহাসটা জেনে কারণ জানতে চেষ্টা করেন। রোগীর খাওয়া-দাওয়ার ধরুন, তার জীবনযাত্রা, কোনো ওষুধ খাওয়া কি না ইত্যাদি। ওষুধের কারণে তার কোনো বিফ্লাক্স হচ্ছে কি না সেটাও দেখেন।

অ্যাসিডের চিকিৎসা মানে অ্যাসিড থেকে রিলিফ দেওয়া। এর জন্য অ্যান্টাসিড খেতে হবে প্রাথমিক অবস্থায়। দীর্ঘকালীন অ্যাসিডিটি চললে প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ বা পি.পি.আই খুব ভালো কাজ করে। তবে এই ওষুধগুলো খেয়ে বেশিদিন সিমটমকে ধামাচাপা না দিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। আর ঠিক কী কারণে হাইপার অ্যাসিডিটি হচ্ছে সেটা জানা জরুরি। হাইপার অ্যাসিডিটির কারণে ক্যানসারের মতো রোগ হয় না ঠিকই তবে আলসার হতে পারে। তাই সাবধান হওয়ার দরকার তো আছেই।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে। জেরোসিস কাটিসের কারণ ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়।

যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়,
সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর। ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে।
ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়।
এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

  • সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটু বয়স হতে না হতেই দেখা যায় অনেকেরই কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা। এর কারণ শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব। আমাদের দাঁত, হাড় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ডি-র অবদান প্রচুর। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট এবং অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির শরীরে যাতে ভালোভাবে শোষিত হয়, তার জন্যও কাজ করে ভিটামিন ডি।

সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী ভাবে বুঝবেন, আপনার শরীরে ভিটামিন ডি কম আছে কি না?

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণ

* সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সূর্যালোক ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।

* দূষণ বেশি এমন এলাকায় বসবাস।

* বাড়ির ভিতরে বেশি সময় কাটানো।

* ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া।

* সূর্যের আলো ঢোকে না, এমন স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস।

ভিটামিন ডি-র অভাবে সমস্যা

* ক্লান্তি, ব্যথা-যন্ত্রণা, সারাক্ষণ অসুস্থতা বোধ।

* হাড় এবং পেশীতে যন্ত্রণা বা সাধারণ দুর্বলতা যার ফলে সিঁড়ি চড়তে বা মেঝেতে বসার পর উঠতে সমস্যা হতে পারে।

* ভিটামিন ডি-র অভাব খুব বেশি হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।

* অত্যধিক চুল পড়া।

* আঘাত সারতে অনেক সময় নেওয়া।

* অবসাদ

* খাবার হজমে সমস্যা ।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার

সূর্যালোকে থাকে ভিটামিন ডি। যা আমরা সহজেই পেতে পারি। তবে কিছু খাবার আছে যা থেকে আমরা ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামে প্রচুর পরিমাণে পেতে পারি। যেমন – টুনা, ম্যাকরেল, স্যামন মাছ, ডিমের কুসুম, সোয়া দুধ, দই, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাশরুম, কমলালেবুর রস, কোকোয়া।

মেনিনজাইটিস : রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

মেনিনজাইটিস : রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ মেনিনজাইটিস। ২০১২ সালে, ভারত সরকার সারাদেশে ইউনিভার্সাল টিকাদান কর্মসূচিতে (UIP) পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন প্রবর্তন করে। যদিও বর্তমানে মেনিনজাইটিসের প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে, তবুও এটি প্রতিরোধে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

মেনিনজাইটিস কী?
মেনিনজাইটিস হল মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্কের চারপাশে আচ্ছাদনকারী ঝিল্লি প্রদাহ। মূলত জীবাণুর সংক্রমণের কারণেই এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়। শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক সকলেরই মেনিনজাইটিস হতে পারে, যদিও মেনিনজাইটিসের ধরণটি বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হয়। মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কপর্দার প্রদাহ মস্তিস্ক বা সুষুম্নাকান্ডের আবরণকারী পর্দা বা মেনিনজেসের প্রদাহজনিত একটি রোগ। মেনিনজাইটিস একটি জরুরী অবস্থা, যেখানে দ্রুত চিকিৎসা অপরিহার্য।

মেনিনজাইটিসের বিভিন্ন প্রকার ও কারণ :
মেনিনজাইটিস ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস, প্রোটোজোয়ার ইত্যাদি কারণে হয়। মেনিনজাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাস। তবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।

ক) ভাইরাল মেনিনজাইটিস:
মেনিনজাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল ভাইরাল মেনিনজাইটিস। এটি নিজে থেকে নিরাময় হয়। ব্যাকটেরিয়া জনিত মেনিনজাইটিসের চাইতে কম ভয়ংকর। ভাইরাল মেনিনজাইটিসের প্রধান জীবাণু এন্টেরোভাইরাস। এর বাইরেও কিছু ভাইরাস এই রোগের সৃষ্টি করে যা মশার মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্য জনের দেহে ছড়াতে পারে।

খ) ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস:
এই ধরনের মেনিনজাইটিস সংক্রামক। ব্যাকটিরিয়া মেনিনজাইটিস স্ট্র্যাপ্টোকোকাস নিউমোনিয়া, নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিস এবং স্টেফিলোকোকাস অরিয়াসের মতো নির্দিষ্ট ধরণের ব্যাকটিরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে মারাত্মক অবস্থা হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু এবং ২০ থেকে ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্করা বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণেই মারা যায়।

গ) ফাংগাল মেনিনজাইটিস:
একটি বিরল ধরণের মেনিনজাইটিস, ফাংগাল মেনিনজাইটিস ক্রিপ্টোকোকাস, ব্লাস্টোমাইসেস, হিস্টোপ্লাজমা এবং কক্কিডায়োআইডেস ইমিটিসের মতো ছত্রাকজনিত কারণে ঘটে। ছত্রাকটি শরীরে সংক্রামিত হয় এবং রক্ত ​​প্রবাহে ছড়িয়ে যায়, সেখান থেকে মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডে যায়। রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা হ্রাসের ওষুধ সেবনকারী, এইডস/এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ও বয়স্ক মানুষ ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘ) প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস:
প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস অ্যাঞ্জিওস্ট্রংগিলাস ক্যান্টোনেনসিস, গ্যান্থোসটোমা স্পিনিজেরাম, সিস্টোসোমার মতো পরজীবীদের কারণে ঘটে। প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস সরাসরি সংক্রামক নয়, এটি একটি ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে যায় না।

ঙ) জীবাণুবিহীন মেনিনজাইটিস:
জীবাণুর বাইরেও কিছু কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে। শরীরে ক্যান্সারের বিস্তার, স্বয়ং-অনাক্রম্য ও কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন করলে মেনিনজাইটিস হয়।

এই রোগের লক্ষণ :
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি কয়েকদিনের মধ্যেই বিকাশ লাভ করে। ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি শুরুতে একই রকম হতে পারে।এই রোগের লক্ষণগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

শিশুদের মধ্যে ভাইরাল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি হল– জ্বর, বিরক্তি ভাব, খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খেতে অনীহা, ত্বকে লাল লাল র‍্যাশ, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভাইরাল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি হল– জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, হৃদরোগ, আলো ও শব্দ অসহনশীলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খেতে অনীহা, ত্বকে লাল লাল র‍্যাশ, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি হঠাৎ বিকাশ লাভ করে, সেগুলি হল- বমি, জ্বর, বিরক্তি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, আলো ও শব্দ অসহনশীলতা, নিদ্রাহীনতা, ইত্যাদি। ফাংগাল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি হল- জ্বর, মাথাব্যথা, আলো ও শব্দ অসহনশীলতা, বমি, ইত্যাদি। প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলি ফাংগাল মেনিনজাইটিসের মতোই হয় এবং রোগীর শরীরে র‍্যাশ হতে পারে।

রোগনির্ণয় :
চিকিৎসক বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ইতিহাসের ভিত্তিতে এই রোগ নির্ণয় করেন। এছাড়াও, চিকিৎসক মেরুদণ্ডের পাশাপাশি মাথা, কান, গলা এবং ত্বকের চারপাশের সংক্রমণও পরীক্ষা করেন। রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি (CT) এম আর আই(MRI), রক্ত ​​পরীক্ষা, চেস্ট এক্স-রে ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা :
এই রোগে দায়ী পরজীবি শনাক্ত করে সে অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়া নিরোধক (অ্যান্টিবায়োটিক), ভাইরাস নিরোধক ( অ্যান্টিভাইরাল) অথবা ছত্রাক নিরোধক (অ্যান্টিফাঙ্গাল) ঔষধ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও স্টেরয়েড এবং লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

রোগ-প্রতিরোধের উপায় :
মেনিনজাইটিস ছড়িয়ে পড়া রোধ করার কিছু উপায়-
ক) ভালো করে হাত ধোয়া উচিত
খ) স্বাস্থ্যকর থাকুন
গ) কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকা রাখুন
ঘ) গর্ভবতী মহিলাদের খাওয়ার অভ্যাস সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া উচিত
ঙ) এছাড়াও, টিকা গ্রহণের কারণে মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

জব বার্ন-আউট কী? জেনে নিন এর লক্ষণ

জব বার্ন-আউট কী? জেনে নিন এর লক্ষণ

যতদিন যাচ্ছে, যুগ যত বদলাচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিযোগিতা, বাড়ছে ব্যস্ততা। বর্তমানে প্রিয়জনের সাথে দেখা হওয়া, কথা বলা সবটাই আটকেছে মোবাইল ফোনে বা ইন্টারনেটে। অতীতের মতো এক জায়গায় বসে আড্ডা দেওয়া, একসাথে বসে খাওয়া-এগুলি আর হয় না বললেই চলে। এখন সবসময়ই মানুষ দৌড়চ্ছে লক্ষ্যের পিছনে, সাফল্যের পিছনে। এরফলে, প্রত্যেক মানুষই কোনও না কোনও সময় ক্লান্তি, একঘেয়েমি, দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতা বা স্ট্রেসের স্বীকার হচ্ছে। আর এগুলিরই চূড়ান্ত পরিণতি হল বার্ন-আউট।

বার্ন-আউট কী ?

বার্ন-আউট হল একটি প্রক্রিয়া। এর ফলে, একজন মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্লান্তি, একঘেয়েমি, দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতা বা স্ট্রেসের লক্ষণগুলো জমা হতে থাকে। সচেতনতাই হল স্ট্রেস থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি। স্ট্রেসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক ভাবে এর থেকে মুক্তির পথ বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু, বহু স্ট্রেসে আক্রান্ত হলে সহ্যক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়। এইসময় মানুষ বার্ন-আউটে আক্রান্ত হয়। তখন সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। বার্ন-আউট সবচেয়ে বেশি তাদেরই হয়, যারা নিজের কাজের প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী ও নিবেদিত। বার্ন-আউটের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল ক্লান্তি, হতাশা, একঘেয়েমি, চাপ, অবসাদগ্রস্ত ইত্যাদি অনুভব করা।

জব বার্ন-আউট কী ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বার্ন-আউটে তারাই আক্রান্ত হন, যারা নিজের পেশাগত বা ক্যারিয়ারগত সমস্যায় ভোগেন। একেই বলে জব বার্ন-আউট। এক্ষেত্রে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, একজন ব্যক্তি অনুভব করেন যে, তিনি তাঁর পেশায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, এগিয়ে যেতে পারছেন না, অথবা তিনি নতুন কোনও দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলতে পারছেন না, সহকর্মী বা বসের ব্যবহারে মানসিক চাপ বোধ হচ্ছে। তাঁর কাজটিও নিজের কাছে বিরক্তিকর এবং একঘেয়েমি মনে হতে পারে। এইরকম পরিস্থিতিতে আপনি পড়লে ধরে নিতে পারেন আপনি নিজের পেশায় বার্ন-আউট করে গিয়েছেন। চাকরি না পাওয়া এবং সঠিক ক্যারিয়ারের পথ বেছে না নিতে পারায়ও কেউ কেউ বার্ন আউট হয়ে পড়েন। এছাড়াও, এগুলির পাশাপাশি যদি কারও পারবারিক জীবনে অশান্তি হয়, তাহলে বার্ন-আউটের আকার ভয়াবহ হতে পারে ৷

জব বার্ন-আউটের লক্ষণ :
১. কাজের চাপে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত, বিষণ্ণ, অবসাদগ্রস্ত, হতাশ
২. পেশাগত বা ক্যারিয়ারগত সমস্যা
৩. পেশায় ক্লান্তি, বিরক্তি, একঘেয়েমি
৪. সহকর্মীর সাথে খারাপ ব্যবহার
৫. পেশাগত কোনও সমস্যার সমাধান করতে না পারায়, ভেঙে পড়া
৬. কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলতে না পারা
৭. কর্মস্থলে জোর করে উপস্থিত থাকা
৮. সহকর্মী বা বসের ব্যবহারে মানসিক চাপ বোধ হওয়া, ইত্যাদি।

এইসব সমস্যার শুরু থেকেই যদি কাছের মানুষ বা বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করা হয় তাহলে সহজেই খুব কম সময়ের মধ্যে এর সমাধান হতে পারে ৷ তবে সাধারণত, মানুষ পারিবারিক সমস্যার চেয়ে পেশাগত সমস্যার কারণেই বেশি ভেঙে পড়ে বা অবসাদগ্রস্ত হয় ৷ এক্ষেত্রে, সমস্যার শুরু থেকেই সমাধান করা উচিত ৷ বসের সাথে কথা বলে আপনি আপনার সহায়ক শিডিউল বেছে নিতে পারেন। কাজের বাইরে আপনি যা পছন্দ করেন, তার জন্য সময় বের করে নিতে পারেন। চিকিৎসা করানো ও থেরাপিস্টের কাছে মাঝে মাঝে যেতে পারেন।