দুধ চায়ের জায়গায় খাওয়া শুরু করুন টার্মারিক টি!

দুধ চায়ের জায়গায় খাওয়া শুরু করুন টার্মারিক টি!

সারা বিশ্বের মধ্যে যে কটা দেশে প্রথম বারের জন্য চা পানের রেওয়াজ শুরু হয়েছিল তার মধ্যে এদেশের স্থান ছিল একেবারে উপরের দিকে। কারণ চা নামক যে একটা পানীয় রয়েছে সে নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছিল ভারতের মাটি থেকেই। তাই প্রতিটি ভারতীয়ের সঙ্গেই চায়ের সম্পর্কটা যে বেশ গভীর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই কারণেই শুধু বাঙালির নয়, প্রতিটি ভারতবাসীরই হুলদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চায়ের উপরকারিতা সম্পর্কে জানা উচিত। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এক কাপ ফোটানো জলে পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো, তার সঙ্গে মধু এবং অল্প করে আদা মিশিয়ে পান করলে শরীরে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য ভিটামিনের প্রবেশ তো ঘটেই। সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম সহ আরও নানাবিধ মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। ফলে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় একাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন…

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে:

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা শুরু করলে শরীরে কার্কিউমিন নামক উপাদানের প্রবেশ ঘটে, যা শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদের বার করে দেওয়ার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দেহের ইতিউতি জমে থাকা মেদকে ঝরিয়ে ফলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প সময়ে যদি মেদ ঝরাতে চান, তাহলে রোজের ডায়েটে টার্মারিক টিকে জায়গা করে দিতে ভুলবেন না যেন!

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: একেবারে ঠিক শুনেছেন বন্ধু! চোখের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাস্তবিকই টার্মারিক টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে হলুদের অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে রেটিনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি চোখে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে যাতে অন্ধত্বের মতো ভয়ঙ্কর কিছু না ঘটে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। তাই তো বলি বন্ধু, যারা দিনের মধ্যে ৮-৯ ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করুন, তাদের নিয়ম করে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে বানানো চা পান করা উচিত।

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

৩. রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন রক্তে জমতে থাকা এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে স্বাভাবিভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আসলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমতে শুরু করে, তত হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে:

৪.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে হলুদে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, শরীরে যাতে ক্যান্সার সেল জন্ম নিতে না পারে সেদিকে খেয়াল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন হলুদ চা খাওয়া কতটা প্রয়োজন।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে: নানাবিধ পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরের অন্দরে বেশ কিছু পরিবর্তন হতে থাকে, যার প্রভাবে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়ার স্বপ্ন একেবারে হাতের মুঠোয় চলে আসে।

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে:

৬. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে: নিয়মিত হলুদ মেশানো চা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে ছোট-বড় সব ধরনের স্কিন ডিজিজের প্রকোপই কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো মারাত্মক ত্বকের রোগের চিকিৎসাতেও এই বিশেষ পানীয়টি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৭.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বাঙালি মানেই জন্ম খাদ্যরসিক, আর পেটুক মানেই বদহজম রোজের সঙ্গী! তাই তো প্রতিটি বাঙালির নিয়ম করে হলুদ চা খাওয়া উচিত। কারণ হলুদে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান পাকস্থলিতে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়ার শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে হজন ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে বদ-হজম দূরে পালায়।

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে:

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে: হলুদে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের শরীরে থেকে বার করে দেয়। ফলে ব্রেন সেল ড্যামেজের আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে কার্কিউমিন মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে বুদ্ধির জোরও বাড়তে থাকে।

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৯. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খেলে হার্টে রক্ত সরবরাহকারি আর্টারিদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার বা হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, স্ট্রোকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতেও হলুদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হার্টকে যদি দীর্ঘদিন চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া মাস্ট!

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে:

১০. অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগকে দূরে রাখে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে হলুদে উপস্থিত কার্কিউমিন নামক উপাদান ব্রেন সেলের যাতে কোনও ভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখে। তাই তো নিয়মিত হলুদ দিয়ে বানানো চা খাওয়া শুরু করলে ব্রেন পাওয়ার এতটা বৃদ্ধি পায় যে মস্তিষ্ক সম্পর্কিত কোনও রোগই ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। তাই তো বলি বন্ধু যাদের পরিবারে এই ভয়ঙ্কর রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত হলুদ চা খাওয়া শুরু করা উচিত। এবার নিশ্চয় বুজে গেছেন বন্ধু, সাধারণ চায়ের পরিবর্তে টার্মারিক টি খাওয়ার প্রয়োজন কতটা…!

নারীর হঠাৎ গরম লাগার সমস্যা

নারীর হঠাৎ গরম লাগার সমস্যা

কাজের মধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড গরম লেগে ঘেমে-নেয়ে অস্থির। অফিসে মিটিংয়ে, ক্লাসে কিংবা বাড়িতে রান্না বা অন্য কাজের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো যেন গরমে গায়ে জ্বালা শুরু হচ্ছে। কখনো তো মুখ-কানও লাল হয়ে যায়। নারীদের এ সমস্যার নাম হট ফ্লাশ। মেনোপজ বা মাসিক বন্ধ হওয়ার দু-এক বছর আগে থেকে হট ফ্লাশ শুরু হতে পারে। টানা ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এ সমস্যা। নারীদের দিনে ৫ থেকে ১০ বার আকস্মিক হট ফ্লাশ হতে পারে। এর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের পর থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে আসাই হট ফ্লাশের কারণ। মেনোপজের পর তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। কারও যদি কোনো কারণে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু বা ডিম্বাশয় অপসারণ করতে হয়, তাহলে তাঁদের এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কারণ, এতে হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। হট ফ্লাশ থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে।

■ হালকা রঙের পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরে বাইরে যাবেন। ভারী কাপড়চোপড়, অতিরিক্ত মেকআপে গরম লাগার অনুভূতি বাড়াবে।

■ চা-কফি, স্যুপসহ গরম ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান করুন। শীতল ও কম তেল-মসলার খাবার খান। প্রচুর সালাদ ও সবুজ শাকসবজি খান। 

■ খুব গরম লাগলে একটু বরফ মুখে নিয়ে চিবুতে পারেন। তবে কোমল পানীয় এড়ানোর চেষ্টা করুন।

■ অফিসে কিংবা বাড়িতে কাজের সময় খোলামেলা বাতাসযুক্ত জায়গায় বা ফ্যানের নিচে বসুন। 

■ সয়া, কালিজিরা, ছোলা, ডালজাতীয় খাবারে প্রাকৃতিক ফাইটো ইস্ট্রোজেন আছে। এগুলো খেলে একটু উপকার পাওয়া যায়। তুলসী চা পান করাও আরামদায়ক।

■ নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

■ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ এড়ানোর চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন কার্যকরী।

■ চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন সাপ্লিমেন্ট, সিনথেটিক ইস্ট্রোজেন বা ক্লোনিডিন, অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ডুলেক্সেটিন-জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারবেন। তবে এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোমতেই এগুলো সেবন করা যাবে না।

ফল কখন খাবেন কখন খাবেন না

ফল কখন খাবেন কখন খাবেন না

ফল খাওয়া নিয়ে নানা জনের নানা মত। কেউ বলছেন, খালি পেটে পানি আর ভরা পেটে ফল খেতে হয়। আবার কেউ বলেন, সন্ধ্যার আগে ফল খেয়ে নেওয়া উচিত। এমন নানা মতে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্ত আপনি। কোনটা শুনবেন আর কোনটা শুনবেন না! তার চেয়ে জেনে নিন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা কী বলছেন।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের কথায়, ফল মানেই প্রচুর প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেলস আর ফাইবারের আকর। তাই প্লেটের অর্ধেকটা যদি ফল আর অর্ধেকটা সবজিতে ভরা থাকে তাহলে এমনিতেই পেট ভরবে এবং ভরা পেটে না খালি পেটে ফল খাবেন সেই দ্বন্দ্বও থাকবে না। খবর এনডিটিভি’র। 

এছাড়াও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের দাবি, খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে যদি কয়েক টুকরো ফল খেয়ে নেওয়া যায় তাহলে বেশি খাওয়ার সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পাবেন। বাঁচবেন ওবেসিটির ঝামেলা থেকেও। 

তবে যেসব ফলে শর্করা বা চিনির মাত্রা বেশি সেগুলি খাবার পাতে খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর সব সময়েই ফল ও খাবার খাওয়ার মধ্যে কম পক্ষে আধ ঘণ্টা ফারাক রাখা উচিত। না হলে খাবার বা ফল কোনোটাই হজম হবে না। কারণ ফল নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাবার।

কখন ফল খাওয়া উচিত?

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সকালে উঠে এক গ্লাস পানির পর ফল খেলে শরীর দূষণমুক্ত হবে। হজম ক্ষমতা বাড়বে। আরও বেশি পুষ্টি পাবেন আপনি। তবে সাধারণত সকালের ব্রেকফাস্ট আর দুপুরের খাওয়ার মাঝের সময়ে ফল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বিকেলে বা সন্ধেয় স্ন্যাকস হিসেবেও ফল বেছে নিন। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর ফল খাওয়া যেতেই পারে।

এছাড়া খাওয়ার আগে কয়েক টুকরো ফল খেলে পাকস্থলীতে ফাইবার যায়। যা অন্য খাবার হজম করতে সাহায্য করে। আবার পেটও ভর্তি রাখে। বেশি ফাইবার যুক্ত ফল হল আপেল, ন্যাসপাতি, কলা।

তবে রাতে খাওয়ার পর ফল না খাওয়াই ভালো। কারণ ফলের মধ্যে থাকা চিনি শরীরে বাড়তি এনার্জি জুগিয়ে ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তাই শোওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ফল খেতেই পারেন।

এমএস/এসি

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণ মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টসিড গিলে বিপদ বাড়াবেন না

অতিরিক্ত অ্যাসিড ক্ষরণকে সহজ কথায় হাইপার অ্যাসিডিটি বলা হয়। এটা একটা কমন সিমটম। আজকাল বহু রোগী এই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। বলেন, ভীষন রকম অ্যাসিডিটি হচ্ছে।

আমাদের শরীরে পাকস্থলি অ্যাসিড তৈরি করে। সেই অ্যাসিডের পরিমাণ দৈনিক প্রায় দুই থেকে আড়াই লিটারের মতো। এই অ্যাসিডের বেশির ভাগটাই খাবার হজম করতে কাজে লাগে আর বাকিটা কোলনের দিকে ট্রান্সপোর্টেড হয়ে যায়।

অ্যাসিড যখন বেশি সিক্রেশন হয় বা অ্যাসিডের প্রতি যখন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায় অথবা এই অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় যেমন প্রকস্থলি বা স্টমাকের অ্যাসিড ইসোফেগাস বা বুকের ফুড পাইটে (খাদ্যনালীতে) উঠে আসে তখনই আমাদের অতিরিক্ত অ্যাসিড বা হাইপার অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দেয়।

সাধারণত অ্যাসিড সিক্রেশন হয় প্যারাইটাল সেল থেকে আর অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে জি সেল। জি সেল থেকে একটা খুব শক্তিশালী গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোন বেরোয়, তারা প্যারাইটাল সেলের অ্যাসিড সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং কারো যদি প্যারাইটাল সেল হাইপার প্লাসিয়া হয়, গ্যাস্ট্রিন জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া হয় তবে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়, যা কিন হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের জন্য, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার জন্য, কিছু ক্ষেত্রে আবার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতীয়দের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই হতে দেখা যায়। অর্থাৎ জি সেল হাইপারপ্লাসিয়া বা জি সেলের অতিরিক্ত কাজ বা প্যারাইটাল সেল হাইপারট্রফি বা প্যারাইটাল সেল যে অতিরিক্ত কাজ করে তার কারণে অ্যাসিড সিক্রেশন বেশি হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগ যেমন মিনেট্রির ডিজিজের মতো রেয়ার অসুখে অ্যাসিড সিক্রেশনটা বেশি হয়। কিছু খাবার যেমন তেল, ঝাল, মশলাযুক্ত খাবার, টক জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, তেলের জিনিস, সরষে বা বাদাম, নারকেল, চাটনি, কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজক পানীয় কফির মতো খুবই উপাদেয় খাবার খেলে আমাদের অ্যাসিড সিক্রেশন বাড়ে। সুতরাং এইসব জিনিস খাবার পর রোগীরা বুঝতে পারে হাইপার অ্যাসিডিটি হয়েছে।

কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে অ্যাসিড পাকস্থলিকে ড্যামেজ করে এবং অ্যাসিডের লক্ষণ দেখা দেয়।

কিছু রোগ পাকস্থলির ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাসিডের ড্যামেজিং প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে নার্ভগুলো এক্সপোজ হয়ে যায়। কারো যদি আলসার থাকে, তাহলে আলসারের কারণে ঘা হয়ে যায় ফলে ওপরের মিউকোসাটা নষ্ট হয়ে যাবার কারণে নীচের সাবমিউকোসা বেরিয়ে যায়। আর সেখানে নার্ভগুলো এক্সপোজেড হয়ে যায় সরাসরি।

সাধারণত মিউকোসা এবং তার ওপরের যে মিউকাস লেয়ার এবং কিছু কিছু হরমোন নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে দেয় না। কিন্তু যখন কোনো কারণে আলসার বা ড্যামেজ বা ইরোসান বা ঘা হয়ে মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই নার্ভগুলো অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে।

এই কারণে নার্ভগুলো তখন হাইপার সেন্সিটিভ হয়ে যায় এবং অ্যাসিডের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কিছু ক্ষেত্রে এক জায়গা অ্যাসিড অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে। যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাস বা ফুডপাইপে এসে পৌঁছয় তখনই হাইপার অ্যাসিডিটি হয়। সাধারণত ইসোফেগাস অ্যাসিডে অভ্যস্ত নয়, তার কাছে অ্যাসিড এসে পড়লে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। একেই হাইপার অ্যাসিডিটি বলে।

হাইপার অ্যাসিডিটির পেছনে অনেক সময় কিছু রেয়ার কারণ থাকে। প্যারাইটাল সেল অ্যাসিড তৈরিটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত কাজ করার কারণেও অস্বাভাবিক কিছু ডিজিজ বা টিউমার তৈরি হয়।

খালি পেটে থাকলে অ্যাসিড ড্যামেজ করার সুযোগ পায় এবং আলসার বা ইরোসন হয়ে নার্ভগুলো বেরিয়ে আসে এবং সমস্যা তৈরি করে। তেল, ঝাল, মশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অ্যাসিডের সিক্রেশনের পরিমাণ বাড়ে। অ্যাসিড যখন অস্বাভাবিক জায়গায় গিয়ে পড়ে যেমন রিফ্লাক্স ডিজিজে ইসোফেগাসে এসে পড়ে তখন আমাদের হাইপার অ্যাসিডিটির সূচনা হয়। লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় বুক জ্বালা করা, মুখের মধ্যে টক জল আসা, ঢেকুর ওঠা ইত্যাদি।

বুক জ্বালা, বুকে ব্যথা হওয়া কার্ডিয়াক সিমটম বলে মনে হতে পারে বটে কিন্তু অ্যাসিডিটি থেকে হার্টের রোগ হয় না।

হাইপার অ্যাসিডিটি হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তিনি সমস্ত ইতিহাসটা জেনে কারণ জানতে চেষ্টা করেন। রোগীর খাওয়া-দাওয়ার ধরুন, তার জীবনযাত্রা, কোনো ওষুধ খাওয়া কি না ইত্যাদি। ওষুধের কারণে তার কোনো বিফ্লাক্স হচ্ছে কি না সেটাও দেখেন।

অ্যাসিডের চিকিৎসা মানে অ্যাসিড থেকে রিলিফ দেওয়া। এর জন্য অ্যান্টাসিড খেতে হবে প্রাথমিক অবস্থায়। দীর্ঘকালীন অ্যাসিডিটি চললে প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ বা পি.পি.আই খুব ভালো কাজ করে। তবে এই ওষুধগুলো খেয়ে বেশিদিন সিমটমকে ধামাচাপা না দিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। আর ঠিক কী কারণে হাইপার অ্যাসিডিটি হচ্ছে সেটা জানা জরুরি। হাইপার অ্যাসিডিটির কারণে ক্যানসারের মতো রোগ হয় না ঠিকই তবে আলসার হতে পারে। তাই সাবধান হওয়ার দরকার তো আছেই।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে। জেরোসিস কাটিসের কারণ ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়।

যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়,
সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর। ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে।
ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়।
এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

শরীরে ভিটামিন ডি কম? লক্ষণ দেখে মিলিয়ে নিন

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

  • সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একটু বয়স হতে না হতেই দেখা যায় অনেকেরই কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা। এর কারণ শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব। আমাদের দাঁত, হাড় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ডি-র অবদান প্রচুর। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট এবং অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির শরীরে যাতে ভালোভাবে শোষিত হয়, তার জন্যও কাজ করে ভিটামিন ডি।

সূর্যালোকে ভিটামিন ডি উৎপাদিত হয়। হাড় এবং দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভিটামিন। এছাড়া, এটি অতিরিক্ত ওজন কামাতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি মানুষকের অবসাদে ভুগতে দেয় না। তাই শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী ভাবে বুঝবেন, আপনার শরীরে ভিটামিন ডি কম আছে কি না?

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অন্যতম গুরুতর অথচ সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এনসিবিআই অনুসারে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার প্রায় ৫০% মানুষ ভিটামিন ডি-র অভাবে ভোগে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, গড়ে দৈনিক ১০-২০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণ

* সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সূর্যালোক ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।

* দূষণ বেশি এমন এলাকায় বসবাস।

* বাড়ির ভিতরে বেশি সময় কাটানো।

* ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া।

* সূর্যের আলো ঢোকে না, এমন স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস।

ভিটামিন ডি-র অভাবে সমস্যা

* ক্লান্তি, ব্যথা-যন্ত্রণা, সারাক্ষণ অসুস্থতা বোধ।

* হাড় এবং পেশীতে যন্ত্রণা বা সাধারণ দুর্বলতা যার ফলে সিঁড়ি চড়তে বা মেঝেতে বসার পর উঠতে সমস্যা হতে পারে।

* ভিটামিন ডি-র অভাব খুব বেশি হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।

* অত্যধিক চুল পড়া।

* আঘাত সারতে অনেক সময় নেওয়া।

* অবসাদ

* খাবার হজমে সমস্যা ।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার

সূর্যালোকে থাকে ভিটামিন ডি। যা আমরা সহজেই পেতে পারি। তবে কিছু খাবার আছে যা থেকে আমরা ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামে প্রচুর পরিমাণে পেতে পারি। যেমন – টুনা, ম্যাকরেল, স্যামন মাছ, ডিমের কুসুম, সোয়া দুধ, দই, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাশরুম, কমলালেবুর রস, কোকোয়া।