Acute Encephalitis Syndrome

Acute Encephalitis Syndrome

আমাদের দেশে প্রতিবছর গরমের সময় শিশুদের প্রচন্ড জ্বর হয়, এর মধ্যে বেশ কিছু শিশু মারা যায়, এই শিশু মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয় অজ্ঞাত রোগ কখনও ডেঙ্গু, টাইফয়েড বলে ধারণা করা হয়। এই শিশু মৃত্যুতে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে কিন্তু প্রতিবছরই এমন পরিনতি উপস্থিত হয়, এবং বলা হয়, আগে বেশি ছিলো, এখন কমে এসেছে।

এই জ্বরের একটি নাম Acute Encephalitis Syndrome যার লক্ষণ প্রচন্ড জ্বর, বমি হওয়া, ডায়রিয়া হওয়া, প্রলাপ বকা, ব্রেণের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া ও চরম দুর্বল হয়ে যাওয়া। এই রোগের ল্যাবটারি টেষ্টে আরও কয়েকটি নাম সামনে আসে যেগুলোকে – Progressive Encephalitis Syndrome- Chronic Encephalitis Syndrome- Acute Encephalitis Syndromeইত্যাদি নামে চিহ্নিত করা হয়, এর বাহিরেও এই সিন্ডমের আরও কয়েকটি নাম আছে সেগুলোও নামে আসে, এতে এতো বড় বড় নামের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পরে, মনে হয়, না জানি কি কঠিন রোগে শিশু আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আসলে যে নামেই এই রোগে নাম করণ হউক না কেন তার মূলে রয়েছে ব্রেণে ইনফ্লামেশন, অর্থাৎ ব্রেণে একধরণের ঘা। ঘায়ের কারণ কি ?

এটাকি ব্যাকটেরিয়া রিজন, প্যাথাজন রিজন নাকি অটো ইউমিউন রেসপন্স ? যে কারণেই হোক না কেন এটা মূলত সিম্পটম (উপসর্গ) একই ধরণের হয়ে থাকে।
প্রচন্ড জ্বর,
বমি হওয়া,
ডায়রিয়া হওয়া,
প্রলাপ বকা,
ব্রেণের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া,
মেমোরি লস হওয়া (চেনা মানুষকে চিনতে না পারা একটি লক্ষণ)
হেলসুলেশন ও
চরম দুর্বল হয়ে যাওয়া।
এটা কোন সাধারণ ফ্লু না কারণ এটা জ¦রের সাথে ব্রেণের সম্পর্ক থাকায় নিউরোলজিকাল সমস্যা তৈরি হয়। রোগটি কেন হয় ?

প্রথম কারণ : শরীরে পানিশূণ্যতা
দ্বিতীয় কারণ : খাদ্যের ঘাটতিতৃতীয় কারণ : দূর্বল ইমিউনিটিসেই সাথে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয় আক্রান্ত হয়ে গেলে হয়ে পরে ইনসেফিলিটিস। এতে করে মৃত্যু হওয়ার কথা না কিন্তু সমাজে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বিশেষ করে বাংলাদেশে ও ভারতে। এই জ্বরের কারণে মৃত্যু হওয়ার কথা না থাকলেও যেহেতু শিশুর মৃত্যু ঘটছে সেহেতু এনিয়ে প্রচুর গবেষণার পর কারণ হিসেবে নির্ণয় করা হয় –
• Antibiotic• Coked food•
Antipathetic Drug Antibiotic: কনভেশনাল প্রোটোকলের আওতায় এই রোগের চিকিৎসার জন্য যে এন্টিবায়টিক দেয়া হয় তা শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি করে, যেহেতু এমনিতে শিশুর শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে আছে সেহেতু ওষুধের কারণে নতুন করে ডিহাইড্রেট হওয়ার দরুন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে।
Coked food : রান্না করা খাবার খাওয়ার মত শরীর উপযুক্ত থাকেনা দূর্বল ইমিউনিটির কারণে, যার দরুণ শিশু যে কোন খাবার খেলেই বমি করে দেয়, পেটে সমস্যা তৈরি করে, কোনমতে জোর করে খেতে পারলেও ডায়রিয়া হয়ে বেড়িয়ে যায়। শরীর যেহেতু রান্না করা কোন খাবার গ্রহণের মত উপযুক্ত থাকে না তাই শরীর আরও বেশি দূর্বল হয়ে পরে।

Antipathetic Drug জ¦র কমানোর জন্য ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে আসলে শিশু আরও দূর্বল হয়ে পরে, যেখানে স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের কোন ক্ষমতা শরীরের থাকেনা সেখানে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে আরও বেশি ক্ষতি হয়ে যায়।এই থেকে বাঁচার উপায় ?
১. ডিহাইড্রেশন থেকে বেড় করে আনতে হবে।
২. খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করা৩. ইমিউন সিস্টেম ঠিক করা

এই তিনটি কাজের মধ্যে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তাহল, শরীরে ইমিউন সিস্টেম ঠিক করা। যা এই কাজটি করতে হবে জ¦র বেড়ে উঠার ৪ থেকে ৫ ঘন্টার মধ্যেই। ইমিউন সিস্টেম ঠিক করার সহজ কৌশল হলো ভিটামিন সি জাতীয় ফলের জুস পান করতে হবে নিয়ম করে ও আকুপ্রেসার করা। এটাকে বলা হয় FENTON reaction টকফলের জুস পান ও আকুপ্রেসার করলে ৪ থেকে ৫ ঘন্টার মধ্যেই ইমিউন সিস্টেম কার্যকর হয়ে ওঠে। তারপর মিনারেল ব্যালেন্স করতে হবে।

যেহেতু জ্বরের কারণে ডিহাইড্রেশন আছে সেহেতু প্রথমে মিনারেল ব্যালেন্স করার উপযুক্ত উপায় হচ্ছে ডাবের পানি পান করা। ডাবের পানি পান করলে সাথে সাথে মিনারেল ব্যলেন্স হয়ে যাবে। ডাবের পানি ঘাটতি পূরণ করে সাথে সাথে জ্বরের কারণে গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করে শরীরে সকল মিনারেল ব্যালেন্স হয়ে যাবে। এতো কোন ধরণের বমি হওয়ার সম্ভবনা থাকবে না।

নিয়ম হলো ঃ
প্রথম দিন: এক ঘন্টা পর পর ৪ বার শুধু টক ফলের জুস খাওয়াতে হবে, এতে লেবু, জামবুড়া, আনারস, কমলা, মাল্টার জুস দিতে হবে, এর মধ্যে লেবুই সবচেয়ে উত্তম। তারপর ডাবের পানি দিতে হবে একগ্লাস করে একঘন্টা পরপর ৪বার। এর মধ্যে জ্বরের প্রকোপ কমে আসবে, ১০০ এর ঘরে থাকবে। সেই দিন আর কোন খাওয়া যাবে না, এর বাহিরে শুধু কুসুম গরমপানি পান করা যেতে পারে এর বাহিরে কোন খাবার অথবা পানীয় পান করা যাবেনা।সাথে, দশ মিনিট করে আকুপ্রেসার করা, আকুপ্রেসার খুবই কার্যকর তাই সঠিক উপায়ে আকুপ্রেসার করা হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালি হয়ে উঠে। আকুপ্রেসার করার নিয়ম হলো শিশুদের ক্ষেত্রে, পায়ের তলায় আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করা, তেল হাতে নিয়ে পায়ের তলায় ম্যাসাজ করে গরম করে ফেলতে হবে। এতে আধাঘন্টায় শিশুর শরীরে এক ধরনের পরিবর্তন আসবে, জ্বর কমে আসতে থাকবে। দুপায়ে পাঁচ মিনিট করে দশ মিনিট দিনে দুবার আকুপ্রেসার করতে হবে।

দ্বিতীয়দিন : এক ঘন্টা পর পর ২ বার শুধু টক ফলের জুস খাওয়াতে হবে, তারপর ২ঘন্টা পর পর দুই গ্লাস ডাবের পানি পান করতে হবে, তারপর ২০০ গ্রাম শসার জুস, ২০০ গ্রাম পরিমাণে টমেটোর জুস কোন কিছু না মিশিয়ে অধের্ক পানি অর্ধেক জুস মিশিয়ে পান করবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এর বাহিরে শুধু কুসুম গরমপানি পান করা যেতে পারে এর বাহিরে কোন খাবার অথবা পানীয় পান করা যাবেনা। ঠিক একই নিয়মে দুবার দুপায়ে ১০ মিনিট আকুপ্রেসার করতে হবে।তৃতীয় দিন : এক ঘন্টা পর পর ২ বার শুধু টক ফলের জুস খাওয়াতে হবে, তারপর ২ঘন্টা পর পর দুই গ্লাস ডাবের পানি পান করতে হবে, তারপর ২০০ গ্রাম শসার জুস, ২০০ গ্রাম পরিমাণে টমেটোর জুস কোন কিছু না মিশিয়ে অধের্ক পানি অর্ধেক জুস মিশিয়ে পান করবে দুপুর পর্যন্ত। সন্ধ্যায় স্বাভাবিক সবজি ভর্তা, দিয়ে ভাত খাবে, কোন ভাবেই মাছ, মাংস খাবে না। ঠিক একই নিয়মে দুবার দুপায়ে ১০ মিনিট আকুপ্রেসার করতে হবে।এতে করে শরীর ঠিক হয়ে যাবে, কোন ধরণের জ্বরের প্রকোপ থাকবে না, শরীরে শক্তি ফিরে আসবে এবং প্রাণঞ্চল হয়ে উঠবে, কোন ওষধের প্রয়োজন হবে না এই মরণঘাতি Acute Encephalitis Syndrome জ্বর ঠিক করতে তাও মাত্র তিনদিনের মধ্যেই। এই জ্বর সেরে উঠলে কয়েকদিন শরীরটাকে আরাম দেয়ার জন্য বেশি করে ফল সবজি খাওয়া জরুরী। এই নিয়মে চলতে থাকলে ডায়রিয়া হতে পারে তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, শরীর থেকে সকল ধরনের বর্জ্য বেড় হওয়া ও এই চিকিৎসার একটি প্রক্রিয়া।

এই পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয় এবং স্বীকৃত : -Use of Vitamin C as antibiotic – Journal of Applied Nutrition 1953-Mycobacterium tuberculosis is extraordinarily sensitive to killing by a vitamin C- induced Fenton reaction – Nat Commun. 2013-Vitamin C in prophylaxis and therapy of infectious diseases. – Arch Pedriatr.1951 Jan;68(1):1-9. 1953-The treatment of poliomyelitis and other virus diseases with vitamin C. – South med surh, 1949 Jul:111(7): 209-14.-Massive doses of vitamin C and the virus diseases. – South med surh, 1951 Apr:113(4): 101-7.-Ascorbic acid as a chemotherapeutic agent – Arch Pedriatr.1952 Apr;69(4):151-5

আলমগীর আলম, বিশেষজ্ঞ- আকুপ্রেসার ও ন্যাচারোপ্যাথি
২৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন: পুরুষের যে জটিলতা আজও ট্যাবু

ইরেকটাইল ডিসফাংশন: পুরুষের যে জটিলতা আজও ট্যাবু

ইরেকটাইল ডিসফাংশন, বা উত্থান ত্রুটি; সহজ ভাষায় যাকে বলা যায় যৌন অক্ষমতা বা দুর্বলতা। পুরুষদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয় এটি। এই একুশ শতকে দাঁড়িয়েও অনেকের কাছেই এটি একটি ট্যাবু। তাই লোকসম্মুখে এই সমস্যাটি নিয়ে কথা হয় না বললেই চলে। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠানের অগুনতি পোস্টার ঠিকই দেখা যায়, এবং হারবাল চিকিৎসালয় বা ওষুধের দোকানে রোগীদের লাইনও লেগে থাকে। অথচ সরাসরি এই সমস্যাটির কথা মুখ ফুটে বলতে লজ্জা পায় বেশিরভাগ মানুষ।

নিছক হাসিঠাট্টার ছলে প্রায়শই এই বিষয়টির অবতারণা করা হয় বটে, কিন্তু কোনো আলোচনার টেবিলেই এই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোকপাত করা হয় না। সবমিলিয়ে অবস্থাটি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে খুব কম মানুষেরই। কানাঘুষা কিংবা ফিসফিসানির মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে যেসব ধারণার প্রচলন ঘটেছে, প্রকৃত বাস্তবতার সাথে সেগুলোর শত সহস্র মাইলের দূরত্ব।

তাই আজকের এই লেখার মূল লক্ষ্যই হলো আগ্রহী পাঠকদের সামনে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের মনের ভুল ধারণাগুলো একে একে দূর করা। প্রয়োজনের তাগিদে এই লেখার মাঝে এমন অনেক শব্দ বা বাক্যাংশের অবতারণা হয়তো করা হবে, যেগুলো পাঠককে বিব্রত করতে পারে। কিন্তু জ্ঞানের সাথে যেহেতু কোনো আপোষ চলে না, তাই পাঠকের প্রতি বিনীত নিবেদন থাকবে তারা যেন গোটা ব্যাপারটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন কী?

যৌন মিলনের পূর্বশর্ত হলো, পুরুষের লিঙ্গের উত্থান ঘটবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মিলনের পূর্বে পুরুষের লিঙ্গের পর্যাপ্ত উত্থান ঘটছে না। কিংবা কারো কারো আবার উত্থান ঘটলেও, তা বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এর ফলে পরিপূর্ণ যৌন মিলনও সম্ভব হচ্ছে না। একজন পুরুষের লিঙ্গের এরুপ উত্থানজনিত সমস্যাকেই বলা হয়ে থাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন।

তবে মাঝে মাঝে কোনো পুরুষের লিঙ্গের উত্থানে সমস্যা হলেই এমনটা বলা যাবে না যে তিনি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার। এগুলো নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি কপালে ভাঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনই, যখন একজন পুরুষ ক্রমাগত এই সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন। এর ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, অবসাদ তাদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, তারা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে থাকেন, এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়ে। লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা কিংবা তা ধরে রাখতে না পারার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত তা হৃদরোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের লক্ষণ

একজন ব্যক্তি যে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার, তা বলা যাবে যদি তিনি নিয়মিত নিম্নোক্ত সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন:

  • লিঙ্গের উত্থান ঘটাতে না পারা;
  • লিঙ্গের উত্থান ধরে রাখতে না পারা;
  • যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পাওয়া কিংবা কখনোই আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত না হওয়া।

ছাড়া আরো কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

  • দ্রুত বীর্যপাত হওয়া;
  • বিলম্বে বীর্যপাত হওয়া;
  • টেস্টোস্টেরন বা পুরুষের যৌন হরমোনের মাত্রা কম হওয়া;
  • অ্যানোর্গাজমিয়া দেখা দেয়া, অর্থাৎ পর্যাপ্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও অর্গাজম লাভে ব্যর্থ হওয়া।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয়েছে, এমন মনে করলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো হাতুড়ে ডাক্তার বা চটকদার বিজ্ঞাপনসম্পন্ন হারবাল চিকিৎসক নয়, বরং যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। তবে যেহেতু অনেকেই লজ্জার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করেন, তাই তারা প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মধ্যে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারেন:

  • আপনি কি লিঙ্গের উত্থান বা স্থিতাবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট নন?
  • আপনার কি দ্রুত বা বিলম্বে বীর্যপাত ঘটছে?
  • আপনার কি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে?

যদি এই তিনটি প্রশ্নেরই, কিংবা যেকোনো দুটি বা একটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের কাছে যাওয়া উত্তম, তবে ভালো হয় প্রথমে পারিবারিক চিকিৎসক বা যে চিকিৎসকের কাছে নিঃসংকোচে সব সমস্যা শেয়ার করা যায়, তার পরামর্শ গ্রহণ করা।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয়?

পুরুষের লিঙ্গের উত্থান মূলত যৌনোদ্দীপনার সাথে সম্পর্কিত। আর পুরুষের যৌনোদ্দীপনা খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া, যেটির সাথে সরাসরি সংযোগ রয়েছে তাদের মস্তিষ্ক, হরমোন, আবেগ, স্নায়ু, পেশি ও রক্তসংবহনতন্ত্রের। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এগুলোর যেকোনো একটির সমস্যা বা অস্বাভাবিকতার কারণে হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া চাপ, বিষণ্ণতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার ফলেও ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে, বা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

কখনো কখনো ইরেকটাইল ডিসফাংশনের পেছনে শারীরিক ও মানসিক দু’ধরনের কারণই প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ধরুন, কোনো একটি ছোটখাট শারীরিক সমস্যার কারণে হয়তো সাময়িকভাবে আপনার যৌন উদ্দীপনার মাত্রা কমে গেল। কিন্তু এ নিয়ে আপনি এত বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, সে কারণে পরবর্তীতে আপনার লিঙ্গের উত্থান ঘটা বা ধরে রাখা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ল। এভাবেই শারীরিক সমস্যার সাথে মানসিক সমস্যা যোগ হয়ে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মাত্রা বহু গুণে বাড়িয়ে দিল।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শারীরিক কারণ

বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • হৃদরোগ;
  • রক্তনালী সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া (এথেরোস্ক্লেরোসিস);
  • উচ্চ কোলেস্টেরল;
  • উচ্চ রক্তচাপ;
  • ডায়াবেটিস;
  • ওবেসিটি;
  • মেটাবলিক সিন্ড্রোম- একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রার ইনসুলিন, কোমরের কাছে অতিরিক্ত চর্বি ও উচ্চ কোলেস্টেরল একসাথে দেখা দেয়;
  • পারকিনসন ডিজিজ;
  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস;
  • পেরোনি’স ডিজিজ – লিঙ্গের ভিতর স্কার টিস্যু জন্মানো;
  • প্রোস্টেট ক্যান্সার;
  • স্লিপ ডিজঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যা;
  • শ্রোণী এলাকা বা মেরুদণ্ডে জখম।

রিস্ক ফ্যাক্টর

একজন পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে একজন মধ্যবয়সী বা প্রৌঢ় পুরুষের তরুণ বয়সের মতো সহজেই লিঙ্গের উত্থান ঘটে না, আর লিঙ্গ খুব বেশি শক্তও থাকে না। তখন বারবার স্পর্শ করে লিঙ্গ উত্থিত ও শক্ত রাখতে হয়।

তবে আজকাল বয়স বিশ বা ত্রিশের কোঠায় আসা মাত্রও অনেকে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার হচ্ছেন। এর পেছনে পেছনে বেশ কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে, যেমন:

  • বিভিন্ন মেডিকেল অবস্থা, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ;
  • তামাক ব্যবহার, যেটি রক্তনালী বা ধমনীতে রক্তপ্রবাহ আটকে দেয়, ফলে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতা দেখা যায়, যা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্ম দিতে পারে;
  • অতিরিক্ত শারীরিক ওজন থাকলে, বিশেষত ওবেসিটি বা অতিস্থূলতার শিকার হলে;
  • কিছু বিশেষ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে, যেমণ প্রোস্টেট সার্জারি বা ক্যান্সারের রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট;
  • কোনো চোট বা জখম, বিশেষত তা যদি স্নায়ু বা উত্থান নিয়ন্ত্রণকারী ধমনীকে আক্রান্ত করে;
  • কিছু বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করলে, যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন কিংবা উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথা বা প্রোস্টেটে সমস্যার ওষুধ;
  • বিভিন্ন মানসিক অবস্থা, যেমন- দুশ্চিন্তা, চাপ, অন্যমনস্কতা বা অবসাদ;
  • মাদকের নেশা, বিশেষত কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে নেশা করে আসে বা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করে।

উদ্ভূত জটিলতা

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ফলে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:

  • অসন্তুষ্ট যৌন জীবন;
  • সঙ্গীর সাথে সম্পর্কে অবনতি;
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি;
  • নিজের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা;
  • সঙ্গীকে গর্ভবতী করতে না পারা।

বাঁচার উপায়

একবার যদি কোনো ব্যক্তি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার হয়েই যান, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ওষুধ সেবন করতে হবে, ইনজেকশন নিতে হবে, সার্জারি করাতে হবে, কিংবা নিছকই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে। আর যারা এখনো ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সম্মুখীন হননি, তাদের উচিত হবে সুস্থতা ধরে রাখার জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করা:

  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা;
  • শারীরিক সমস্যার অতীত ইতিহাস থাকলে, কিংবা না থাকলেও, প্রতিবছর অন্তত একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক-আপ ও মেডিকেল স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে আসা;
  • ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা, অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা সীমিত করা কিংবা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা, অবৈধ নেশাদ্রব্য ব্যবহার না করা;
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করা;
  • অনিয়মিত খাদ্যগ্রহণের বদলে সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ করা;
  • রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো ও কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নেয়া;
  • মানসিক চাপ, অবসাদ, দুশ্চিন্তা বা অন্যান্য সমস্যাকে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

শেষ কথা

কথিত আছে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের পেছনে ৯০% হাত থাকে মনের, আর ১০% শরীরের। অনেক পুরুষই এই সমস্যার কারণে মানসিক হীনম্মন্যতায় ভোগেন, এবং উপায়ন্তর না দেখে হারবাল চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন, কিংবা রাস্তায় বিক্রি হওয়া তথাকথিত যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধ কিনে ব্যবহার করেন। আজকাল তো অনলাইনেও নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোক ঠকানোর চেষ্টা চলছে। যেহেতু এটি এমন একটি স্পর্শকাতর সমস্যা, যা নিয়ে সবার সামনে আলোচনা করা যায় না, তাই একপ্রকার অসাধু লোকও এর ফায়দা তুলতে থাকে।

তাছাড়া অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়, বরং সাময়িক একটি জটিলতা মাত্র। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমেই এই জটিলতা থেকে দূরে থাকা যায়। কিন্তু ঘটনাচক্রে কারো মধ্যে যদি এই জটিলতা দেখা দিয়েও বসে, তাহলেও তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মবিশ্বাস হারানোর কিছু নেই। সঠিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অচিরেই তিনি শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী। তিনি যদি এমন সমস্যার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, তাকে যথাসম্ভব মানসিক সমর্থন জোগান, তাহলেই ওই ব্যক্তির সেরে ওঠার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

একবার মনের মধ্যে আত্মবিশ্বাসহীনতা জেঁকে বসলেই জল অনেক দূর গড়ায়। তার আগপর্যন্ত ইরেকটাইল ডিসফাংশন কোনো বড় সমস্যাই নয়। আর কোনোভাবে যদি সমস্যাটি সুদূরপ্রসারী হয়েই যায়, সহজে মুক্তি পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সুফল পাওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, সকল জটিলতার মূলে মানুষের মন। এই মনকে যদি বশে রাখা যায়, কোনো নেতিবাচক চিন্তাকে সেখানে আশ্রয় নিতে দেয়া না হয়, তাহলেই জীবনের অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান লাভ সম্ভব।

পিঠ ব্যথা ঘরে ঘরে কেন ? কি করনীয়।

পিঠ ব্যথা ঘরে ঘরে কেন ? কি করনীয়।

মেরুদন্ডের ব্যথা একটি বিশেষ পরিচিত উপসর্গ । মেমূলত কোমর , ঘাড় ও পিঠের ব্যথাকে মেরুদন্ডের ব্যথা হিসেবে ধরা হয় । সমীক্ষায় দেখা গেছে , সারাজীবনে কোনো না কোনো সময় এই ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষের সংখ্যা নগণ্য , মাত্র কুড়ি শতাংশ । অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা সাধারণ চিকিৎসায় যেমন ব্যথা কমাবার ওষুধ প্রয়ােগে বা ফিজিওথেরাপিতে কমে গেলেও প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যাটা বারে বারে ফিরে আসে । বারবার অসুবিধা হয় এমন অর্ধেকেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের ব্যথা তেমন কষ্টদায়ক নয় । তবে বাকি রোগীদের ২৫ শতাংশ ও ১৪ শতাংশ কিন্তু যথাক্রমে তীব্র কোমর ও ঘাড়ের যন্ত্রণা ভোগ করে থাকেন ।

আমাদের শিরদাঁড়া তৈরি ৩০টি ক্যারামের খুঁটির মতো হাড় দিয়ে যা সাজানো থাকে একটির । ওপর একটি । এই হাড়গুলোকে বলে ভার্টিব্রা বা কশেরুকা । মোট ৭টি ভার্টিব্রা থাকে ঘাড়ে , যাদের বলে সারভাইকাল ভার্টিব্রা বা ঘাড়ের হাড় । বুকের কাছে থাকে ১২টি , যাদের বলে থোরাসিক ভার্টিব্রা । কোমরে থাকে ৫টি , যাদের বলে লাম্বার ভার্টিব্রা । কোমরের নীচে থাকে আরও পাঁচটি ভার্টিব্রা যারা একসঙ্গে জুড়ে তৈরি করে স্যাক্রাম । এই স্যাক্রামের শেষে আঙুলের ডগার মতো ক্ষয়গ্রস্ত একটি ভার্টিব্রা থাকে যা আসলে কয়েকটি ছােট হাড়ের সমষ্টি । এই ছোট হাড়গুলিকে একটি হাড় ধরে নিলে আমাদের শিরদাঁড়ার মোট হাড়ের সংখ্যা ত্রিশটি । দুটি ভার্টিব্রার মধ্যে থাকে ইন্টার ভাটিব্রাল ডিস্ক । এগুলি দেখতে অনেকটা জেলি ভরা চাকতির মতো । এই ডিস্কগুলো থাকার জন্য আমরা সামনে পিছনে ঝুঁকে এপাশ – ওপাশ করতে পারি ।

প্রত্যেকটি ভার্টিব্রার মধ্যে থাকে গোলাকার একটি ফাঁকা অংশ । এই ফাপা অংশগুলো মিলিয়েই তৈরি হয় স্পাইনাল ক্যানাল । যার মধ্যে দিয়ে নেমে আসে স্পাইনাল কর্ড বা সুষুম্না কান্ড । আর এই স্পাইনাল কর্ড থেকেই অসংখ্য স্নায়ুর শাখা – প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ।

শিরদাড়া শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । শুধু ভার্টিব্রা তো নয় , বিভিন্ন পেশি , লিগামেন্ট সবাই মিলে শিরদাঁড়ার কাজ করে । দাড়ানো, হাঁটা, বসা, পাশ ফেরা ছাড়াও পুরো শরীরের ভার বহন করা , ছন্দমাফিক চালনা ,করা , এসবই শিরদাড়ার কাজ । এর সাহায্যেই আমরা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখি । একদিকে ঝোকার সময়ে যেমন সেদিকেই পেশিগুলোর ক্রমশ সংঙ্কোচন হয় , তেমনি উল্টোদিকের পেশিগুলো ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকে । এভাবেই ভারসাম্য রক্ষার ফলে স্পাইনাল কর্ড ও বিভিন্ন নার্ভ নানা আচমকা আঘাত থেকে বাঁচে , তাই শিরদাঁড়া সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

শিরদাড়ার সমস্যা ও উপশম

 শিরদাঁড়ার কোনও অংশে সমস্যা দেখা দিলে ঘাড় , পিঠ , কোমর , পা নানা অংশে ব্যথা হতে পারে । ঘাড়ে ব্যথা হল শিরদাঁড়া নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত সমস্যা । প্রধানত চারটি কারণে এটি হয় স্পন্ডাইলোসিস , ফাইব্রোসাইটিস , হাইপারটেনশন ও অ্যাংজাইটি । এছাড়া আরও নানা কারণ থাকতে পারে ।

সটকা লাগা: এটি খুব প্রচলিত সমস্যা পরিভাষায় রোগটির নাম অ্যাকিউট সারভাইকাল ডিস্ক সিনড্রোম । এই সমস্যা ঘাড়েই বেশি দেখা যায় । হঠাৎ ঘাড় ঘােরাতে গিয়ে কিংবা কোনো ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে সমস্যা আসতে পারে । ডিস্কের মধ্যে জেলির মতো যে পদার্থ থাকে তা সামান্য বাইরে এসে নার্ভে চাপ দিলে এই সমস্যা দেখা দেয় । গরম সেঁক ও বিশ্রাম নিলে এই ধরনের ব্যথা দিন সাতেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায় ।

শিরদাঁড়ার জন্মগত ত্রুটি

শিরদাড়ার সাধারণত চার ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা যায় ।

স্পাইনাবাহফিডা: এক হাজার জন শিশুর মধ্যে একজনের হয় । কোমরের লাম্বার ও স্যাক্রাল ভাটিব্রায় নিউরাল আর্চে গ্যাপ থাকে । এতে কোমরে ব্যথা থেকে নিম্নাঙ্গে প্যারালিসিস হতে পারে । রোগ নির্ণয় করে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করা উচিত ।

স্যাক্রালাইজেশন: ৫ নম্বর ভার্টিব্রার দু ‘ পাশে কিংবা একপাশে দাড়া বেড়ে গিয়ে কোমরে অসহ্য ব্যথা হতে পারে । সেক্ষেত্রে ট্রাকশন , ওষুধ দিয়ে , অপারেশন করে সারিয়ে তোলা হয় ।

 স্পন্ডাইলোলিসথেসিস: কোমরের লাম্বার ৪ বা ৫ নম্বর ভার্টিব্রা অন্যগুলো থেকে এগিয়ে কিংবা সরে আসে । এই ধরনের জন্মগত চোট লেগে ব্যথা বাড়তে পারে ।

স্কোলিওসিস: অনেক সময় শিরদাঁড়া একেবেঁকে থাকে জন্ম থেকে । তাকে বলে স্কোলিওসিস । বাচ্চারা কোমর বা পিঠে ব্যথার কথা বললে অবহেলা না করে এক জন অর্থোপেডিক্সের পরামর্শ নিন ।

শিরদাড়ার অন্যান্য রোগ

 নানা ধরনের সংক্রমণের ফলে শিরদাঁড়ায় অস্টিওমাইলাইটিস রোগটি হতে পারে পায়োজেনিক , টিবি বা সিফিলিস হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করালে দিন দশেকের মধ্যেই রোগটি সেরে যায় । এছাড়া শিরদাঁড়ার ভার্টিব্রায় বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট যেকোনো টিউমার হতে পারে । টিউমার হলে জায়গাটি প্রথমে ফুলে উঠবে । তাই শিরদাঁড়ার কোনও অংশ ফুলে উঠলে একদমই অবহেলা করবেন না ।

অস্টিওপোরোসিস: একটু বেশি বয়সে শিরদাঁড়ায় অস্টিওপোরোসিস হতে পারে , যার ফলে হাড ফাপা ও দুর্বল হয়ে যায় । এছাড়া বয়স হলে মানুষ কুঁজো হয়ে যায় । শিরদাঁড়ার হাড় ক্ষয়ে গিয়ে নরম হয়ে যাওয়ার কারণে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে । তবে বেল্ট ব্যবহার করলে ঝুঁকে পড়া ভাবটা অনেকটা কমে যায় ।

শিরদাঁড়ার টিবি: কোমরের উপর দিকে দুটো ভার্টিব্রা অনেক সময়ে টিবির জীবাণু মাইক্রোব্যাক্টেরিয়ামের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে । এই রোগ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় । বাচ্চারা খেলাধুলাের পর এই ধরনের পিঠে ব্যথার কথা বলে । বাচ্চাদের ওজন কমতে পারে , খিদে কমে যায় । রোগ অবহেলা করলে প্যারালিসিস হতে পারে । শিরদাঁড়ার টিবি বছরখানেকের চিকিৎসায় খুব সহজেই সারে ।

সায়টিকা: শিরদাড়ার একদম নীচের ভার্টিব্রা স্যাক্রাম দিয়ে যেনার্ভ রুটগুলো বার হয় সেগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় সায়টিকা নার্ভ । এটি আবার নানা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে ছড়িয়ে পড়েছে কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি অবধি পেশির অংশতে । কোনো কারণে শিরদাঁড়ায় কোনো আঘাত লাগলে , ডিস্ক প্রোলান্স হলে , শিরদাঁড়ায় টিউমার হলে , নার্ভে চাপ পড়লে সায়টিকা পেন হতে পারে । সায়টিকার উপসর্গ হল কোমরে ব্যথা । এইব্যথা ক্রমশ পায়ের দিকে নামে । অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাহায্যে চিকিৎসা করলে রোগ সারে ।

স্লিপ ডিস্ক: ডিস্কের দুটিঅত্যন্ত প্রয়ােজনীয় অংশ যেমন অ্যানিউলাম ফ্রাইবোসাস অনেক কারণে ক্ষয়ে যেতে পারে । পুষ্টির অভাব , ধূমপান সহ নানা নেশা , পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিরদাড়ায় চাপ , অতিরিক্ত দেহের ওজন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে ডিস্কের জেলির মতো অংশ বেরিয়ে আসতে পারে । আর একবার বেরিয়ে এলে স্বাভাবিক হয় না । এটা অনেকটা টিউব থেকে টুথপেস্টের বেরিয়ে আসার মতো । একে বলে স্লিপড ডিস্ক । এই জেলি শিরদাঁড়ার চারপাশের নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে । শুরু হয় ব্যথা । ঘাড়ে , পিঠে , কোমরে — শিরপাড়ার । যেকোনো জায়গাতেই এটা হতে পারে । ব্লিউ ডিস্কের চিকিৎসায় শিরদাঁড়ার ওপর চাপ কমাতে হবে । ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পিঠের মাংসপেশিগুলোকে সবল করতে হবে । স্লিড ডিস্কের ক্ষেত্রে অনেকসময় হাতের বা পায়ের আঙুলে টান ধরে ঝিনঝিন করে । কারণ নার্ভ রুটের ওপর চাপ পড়ে । তার ফলে দেখা দেয় সমস্যা ।

স্পন্ডাইলোসিস: এই রোগের ক্ষেত্রে হাড়ের ক্ষয় দেখা যায় । ঘাড়ে হলে বলে সারভাইকাল এবং কোমরে হলে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস । শিরদাঁড়ার এই দুটো অংশ সব থেকে বেশি নড়াচড়া করে বলে এখানেই হাড়ের ক্ষয় বেশি হয় । শিরদাঁড়ায় ক্রমাগত চাপ পড়ার ফলে একটু একটু করে বিভিন্ন ভার্টিব্রা ক্ষয়ে যেতে থাকে । বিশেষ করে যারা লেখাপড়ার কাজ করেন । যেমন ক্লার্ক , টাইপিস্ট , লেখক ,টেলারিং কর্মী এইসব মানুষের ঘাড়ের পেশিতে , হাড়ে চাপ পড়ে । ক্ষয়ে যেতে থাকে পেশি ও হাড় । ভারী মাল বইতে গিয়ে মুটে – মজুরদের মধ্যেও এটা হতে পারে । এই রোগের উপসর্গ ঘাড় , কাধ , পিঠ ও কোমরে অসহ্য ব্যথা হয় ঘাড় থেকে হাতে এবং কোমর থেকে ব্যথা ছড়াতে পারে । অনেক সময় আচমকা মাথা ঘুরে যায় , ঘাড় ঘোরাতে শরীর বাঁকাতে ও হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয় । হাত – পা মাঝে মাঝে ঝিনঝিন করে । রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজন শিরদাড়ার যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখানকার এক্স-রে , রক্তের টিসি , ডিসি , ই.এস . আর , সুগার ইত্যাদির পরীক্ষা । বিশেষ ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এম . আর . আই . ।

স্পন্ডাইলোসিস এড়াতে সতর্ক হতে হবে । যেমন টেবিলে বসে ঝুঁকে পড়াশোনা অন্য কাজ করবেন না । দেহের মেদ কমান । খেয়াল রাখতে হবে শিরদাঁড়ায় যেন বার বার চোট না লাগে , টেনশন কমাতে হবে , প্রতিদিন হালকা কিছু ব্যায়াম , কায়িক পরিশ্রম অবশ্যই করা দরকার ।

শিরদাড়ার সমস্যা এড়াতে কীভাবে বসে কাজ করবেন

 টেবিল এবং চেয়ারের হাইট এমন করুন যেন ঝুঁকে বসতে না হয় । কোনো কিছু পড়বার বা লিখবার সময় ঘাড় সোজা রাখুন । ইজিচেয়ার নয় , কাঠের শক্ত সোজা চেয়ারে বসতে হবে । একটানা কাজ না করে ঘণ্টাখানেক বাদে বাদে মিনিট পাঁচেক রিল্যাক্স করুন । বসে বসেই ঘাড়টাকে এপাশ – ওপাশ , সামনে – পিছনে বার কয়েক করুন । কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের সামনে মনিটর রাখুন , যাতে ঘাড় উঁচু করে কাজ না করতে হয় । ।

কীভাবে গাড়ি চালাবেন: হেলানো সিট চলবে না । সিট থাকবে সোজা । ড্রাইভার ঘাড় সোজা রেখে গাড়ি চালাবেন । স্কুটার বা বাইক চালাবার সময় কুঁজো হবেন না । হেলমেটটা যেন একটু হালকা হয় ।

কীভাবে শোবেন: বালিশ যেটা আপনি মাথায় দেবেন তা নরম হতে হবে । কিন্তু যে গদিতে আপনি শশাবেন সেটাও এমন হবে যা শক্ত ও নরমের মাঝামাঝি । বুকের নীচে বালিশ রেখে ঘাড় নীচু করে কিংবা চিত হয়ে শুয়ে বই পড়বেন না ।

চোখের স্ট্রেন থেকে: আলোতে যারা ঝুঁকে পড়েন , ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভির খুব সামনে থেকে খেলা বা সিরিয়াল দেখেন , যাদের চোখ । ট্যারা চোখে কোনো অসুখ আছে তাদের ঘাড় । ব্যথা করতে পারে । একটানা টেবিল ল্যাম্পের আলোতে পড়বেন না । বরং ৬০ ওয়াটের বালব । টেবিল থেকে চার ফুট উঁচুতে ঝুলিয়ে সেই আলোতে পড়ুন । সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে টিভি দেখবেন না । ঘরে অন্তত ৪০ ওয়াটের বালব জ্বলবে এবং সেটা থাকবে দর্শকদের পিছনে , টিভি থেকে অন্তত দশ ফুটের দূরত্ব থাকতে হবে ।

ঘরকন্নার কাজ: দাঁড়িয়ে রান্না করতে হবে । মশলা বাটা , কুটননা কাটা টেবিলে রেখে করুন । কাপড় কাচা বসেই করুন , কিন্তু ঘর ঝট দেওয়া – মোছা দাঁড়িয়ে ঝুঁকে না করে বসে বসেইকরা ভালো । কারণ এর ফলে যে ব্যায়ামটা হয় তাতে পেটের চর্বি কমে যায় । ঠাকুর ঘরে পদ্মাসনে বসে ঘাড় সােজা করে পুজো করুন । অল্প সময় নিয়ে প্রণাম করুন । কারণ বেশিক্ষণ ঝুঁকলে ভার্টিব্রায় চাপ পড়ে । ভারী জিনিস তােলার সময় একদম কোমর ভাজ করবেন না । ঝুঁকবেন না , পারলে জিনিসটা দুভাবে ভাগ করে ক্যারি করুন । অনেকসময় জল ভর্তি বালতি অথবা অন্য কোনো জিনিস তুলতে গিয়ে সটকা লাগে ।

পরিবেশ: স্যাঁতাস্যাঁতে  পরিবেশ , অতিরিক্ত ঠান্ডার প্রকোপ , এয়ারকন্ডিশনে অভ্যস্ত থাকতে থাকতে ঘাড়ে ব্যথা ও পেশির আড়ষ্টতা দেখা যায় ।

কী খাবেন না : সব ধরণের রেড মিট , শিম , মিষ্টি পাউরুটি , পালংশাক , মুসুর ডাল , ঘি – মাখনযুক্ত ফ্যাটি ফুড কম খেতে হবে ।

ওজন কমাতে হবে: কোনো জিমে ভর্তি হয়ে যান । ওখানে ফ্রিহ্যান্ড ও মেশিনপত্রের সাহায্যে ব্যায়াম করতে পারবেন । ওরা আপনার ওজন , উচ্চতা , বয়স ও কাজের ধরন অনুযায়ী ডায়েট চার্ট করে দেবেন ।

শিশুদের বেলায় ঘাড় সোজা করে শশায়াবেন । কোলে নেওয়ার সময় অবশ্যই ঘাড়ের তলায় হাত রাখবেন । বেশি জোরে জোরে ম্যাসাজ করবেন না । কারণ এতে মাংসপেশি ছিড়ে যেতে পারে ।

সেলুনে ম্যাসাজ: অনেকে সেলুনে চুল কাটার সময় ম্যাসাজ করান । কিন্তু যারা চুল কাটে তারা ঠিকমতো ঘাড়ের অ্যানাটমি না জানার কারণে মাংসপেশি ছিড়ে হতে পারে ফাইব্রোসাইটিস ।

শিরদাঁড়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিন আসন করুন । ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘরের মেঝেতে শতরঞ্চি পেতে ট্রেনারের । সহায়তায় আসন করুন । আসনের মধ্যে শলভাসন , ভুজঙ্গাসন , পবনমুক্তাসন , ধনুরাসন , বজ্ৰাসন ইত্যাদি । শিরদাড়ার সমস্যায় ম্যাসাজ ভালো কাজ দেয় ঠিক কথা , কিন্তু খুব বেশি ফোলা অংশে ম্যাসাজ কখনোই নয় ।

নানা ধরনের তাপ দেওয়া হয় , শুকনো গরম সেকে অনেকের ভীষণ ভালো কাজ হয় । গরম ও ঠান্ডা জলের সেঁকেও কিন্তু ব্যথা নিরাময় হয় । হটপ্যাডও পাওয়া যায় । নানা মডেলে এই প্যাড পাওয়া যায় ।

শিরদাড়ার ব্যথায় আকুপ্রেসার ও আকুপাংচার করলে ভালো ফল পাওয়া যায় । শিরদাড়ার চোটে যদি হাড় না ভেঙে থাকে , আকুপ্রেসার ও আকুপাংচার করলে দ্রুত ব্যথা কমে যায় ।

তবে সবসময় খেয়াল রাখা উচিত যেকোনো ওষুধ কিবা ব্যবস্থা নিজের খেয়াল – খুশিমতো নয় , অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চলা উচিত ।

শিগেলোসিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

শিগেলোসিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত শিগেলোসিস বা রক্ত আমাশয় আমাদের হজম ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। এটি শিগেলা নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার গোষ্ঠীর দ্বারা হয়। শিগেলা দূষিত জল এবং খাবার বা দূষিত মলের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শিগেলা সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, যদিও এটি যেকোনও বয়সেই হতে পারে। সাধারণত ছোটো বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায় কারণ তারা প্রায়ই নিজেদের আঙ্গুলগুলি মুখে ঢুকিয়ে রাখে। তাই, ব্যাকটিরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

শিগেলোসিসের লক্ষণসমূহ
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল ডায়রিয়া। ব্যাকটেরিয়া সংস্পর্শে আসার এক বা দুই দিন পর থেকে লক্ষণগুলি দেখা দেয়। তবে, এটি বিকাশ হতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

শিগেলোসিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলি হল-
ক) ডায়রিয়ার সাথে প্রায়ই রক্ত ​​বা শ্লেষ্মা বেরোয়
খ) জ্বর
গ) পেটে ব্যথা বা টান অনুভব করা
ঘ) বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

শিগেলোসিসের কারণ
ব্যাকটিরিয়া যখন আমাদের পাচন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে তখন সংক্রমণটি বিকাশ লাভ করে। ব্যাক্টেরিয়াগুলি বিষক্রিয়া ছড়াতে থাকে যার কারণে অন্ত্র জ্বালা করে। এর কারণগুলি হল –
ক) হাত না ধুয়ে খাওয়া বা মুখে ছোঁয়া
খ) দূষিত খাবার খাওয়া
গ) দূষিত জল পান করা

শিগেলোসিসের ঝুঁকির কারণ
ক) বয়স
খ) শিগেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সংস্পর্শে আসার ফলে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গ) বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া হয় এইরকম কেন্দ্রগুলিতে, কমিউনিটি ওয়েডিং পুল, নার্সিংহোম, জেল ইত্যাদিতে শিগেলার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।
ঘ) স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে এমন অঞ্চলে থাকা।

শিগেলোসিসের নির্ণয়
এই অবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ হল ডায়রিয়া, যা অন্যান্য ডিজিজকেও চিন্হিত করতে পারে। রোগীর শিগেলোসিস হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস ও বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। শিগেলা ব্যাকটিরিয়া বা টক্সিনের উপস্থিতির জন্য চিকিৎসক রোগীর মল পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন।

শিগেলোসিসের চিকিৎসা
এই সংক্রমণ সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে চলে। এর চিকিৎসাগুলি হল –
ক) তীব্র শিগেলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে, অ্যান্টিবায়োটিকগুলি অসুস্থতার সময়কাল হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেন কারণ কিছু শিগেলা ব্যাকটিরিয়া ড্রাগ-প্রতিরোধী তাই কেবল সংক্রমণ তীব্র হলেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
খ) স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, ডায়রিয়ার নানান প্রভাবগুলি প্রতিরোধ করার জন্য জল পান করা যথেষ্ট। বাচ্চারা ওরাল রি-হাইড্রেশন সমাধান থেকে উপকৃত হতে পারে। গুরুতরভাবে ডিহাইড্রেটেড ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন।

শিগেলোসিস প্রতিরোধ
শিগেলার ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এখনও গবেষণা চালানো হচ্ছে।
তবে, এইমূহূর্তে চিকিৎসকরা এই অবস্থার সূত্রপাত রোধ করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলির পরামর্শ দেয়-
ক) ছোটো বাচ্চাদের হাত ধোওয়ার সময় খেয়াল রাখুন
খ) ঘন ঘন, ভাল ভাবে হাত ধোবেন
গ) দূষিত পুকুর, সুইমিং পুল এড়িয়ে চলুন
ঘ) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এমন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে চলুন
ঙ) আপনার ডায়রিয়া হলে অন্যের জন্য খাবার প্রস্তুত করবেন না
চ) ব্যবহৃত ডায়াপার সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করুন

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

জেরোসিস কাটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা

শীতকাল কম বেশি আমাদের সকলের প্রিয়। তবে, এইসময় সবথেকে বেশি যা মানুষকে চিন্তিত করে তোলে তা হল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। শীতকালের সাধারণ সমস্যা হল শুষ্ক ত্বক। অস্বাভাবিক শুষ্ক ত্বককে চিকিৎসা ভাষায় বলা হয় ‘জেরোসিস কাটিস’। এটি গ্রীক শব্দ ‘xero’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘শুষ্ক’।

শুষ্ক ত্বক খুবই সাধারণ এবং অস্থায়ী সমস্যা। এটি যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই হতে পারে, তবে, বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এর ফলে শরীরে অস্বস্তিও হতে পারে। আমাদের ত্বকে সবসময়ই মসৃণতা এবং আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন কিন্তু, বয়সের কারণে এগুলি বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে, আপনি যদি নিয়মিত আপনার ত্বকে সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজার লাগান তাহলে জেরোসিস কাটিস প্রতিরোধ হতে পারে।

জেরোসিস কাটিসের কারণ
ত্বক ময়শ্চারাইজ না থাকলেই চামড়া শুষ্ক হয়ে যাবে। সাধারণত, পরিবেশগত কারণগুলির কারণে এটি হয়। যে যে কারণে ত্বক শুষ্ক হয়, সেগুলি হল –
ক) অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করে স্নান করা
খ) খুব ঘন ঘন স্নান
গ) কম আর্দ্রযুক্ত অঞ্চলে বাস করা
ঘ) শীতপ্রধান অঞ্চলে বসবাস করা
ঙ) ডিহাইড্রেশন বা যথেষ্ট জল পান না করা

জেরোসিস কাটিসের লক্ষণ এর লক্ষণগুলি হল
ক) শুষ্ক, চুলকানি এবং খসখসে ত্বক বিশেষত হাত ও পায়ে
খ) স্নানের পরে ত্বকে টান অনুভব করা
গ) সাদা, খসখসে ত্বক
ঘ) ত্বকে ফাটল ধরা

জেরোসিস কাটিসের চিকিৎসা বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত

বাড়িতে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি সারানো যায়। সাধারণত, জল-ভিত্তিক ক্রিমের চেয়ে তেল-ভিত্তিক ক্রিম আর্দ্রতা ধরে রাখতে আরও কার্যকর।
ক্রিমে যাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা উভয়ের সংমিশ্রণ থাকে। ত্বকে খুব চুলকানি হলে একটি টপিকাল স্টেরয়েড ওষুধ যেমন ১ শতাংশ হাইড্রোকোর্টিসন ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে।
জল-ভিত্তিক লোশনগুলি আপনার ত্বক নিরাময়ের পরিবর্তে জেরোসিস কাটিসকে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে –
ক) হালকা গরম জলে স্নান
খ) প্রচুর জল পান করা
গ) তাপ এড়িয়ে চলা

জেরোসিসের চিকিৎসার জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল এবং অ্যালো জাতীয় প্রাকৃতিক চিকিৎসা জনপ্রিয় তবে তাদের প্রভাবগুলি বেশিরভাগই অপ্রমাণিত থেকে যায়। এক গবেষণায় জেরোসিসের চিকিৎসায় অ্যালোভেরাকে এড়িয়ে চলা পরামর্শ দেয়, কারণ এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু, নারকেল তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

এ বিষয়ে পরামশের্র জন্য যোগাযোগ করুন :
আলমগীর আলম, 29 বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা, কল – 01611010011

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস : কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সেলুলাইটিস হল সাধারণ বেদনাদায়ক ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ যা সাধারণত পায়ের নীচের ত্বকে প্রভাব ফেলে। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মুখ, বাহু বা শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। এক্ষেত্রে, ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের কারণে ত্বক লাল হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং স্পর্শে বেশ বেদনাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। সেলুলাইটিস সাধারণত ত্বকের পৃষ্ঠদেশে বিকাশ করে এবং সংক্রমণটি লিম্ফ নোড এবং রক্ত ​​প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে।

কারণ
সেলুলাইটিস তখনই দেখা দেয়, যখন স্টাফিলোকক্কাস এবং স্ট্রেপ্টোকোকাসের মতো নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়াগুলি কোনও কাটা, আঁচড় বা সার্জিকাল ক্ষতের মাধ্যমে ত্বকের সংস্পর্শে আসে। পশুর কামড়ও সেলুলাইটিসের কারণ হতে পারে।

সেলুলাইটিসের প্রকার
স্তন সেলুলাইটিস – এটি একটি জটিলতা যা স্তন ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপির পরে বিকাশ করতে পারে।
পেরিঅরবিটাল সেলুলাইটিস – এই ধরনের সেলুলাইটিস চোখের চারপাশে বিকাশ করে। ফেসিয়াল সেলুলাইটিস – ফেসিয়াল সেলুলাইটিস নাক, গাল এবং চোখের চারপাশে বিকাশ করে।
পেরিয়েনাল সেলুলাইটিস – এটি মলদ্বারে সংক্রমিত হয়।

সেলুলাইটিসের লক্ষণসমূহ
ক) ত্বকে ফোলা এবং লালচে ভাব
খ) নরম ভাব অনুভূত হওয়া এবং ব্যথা
গ) আক্রান্ত জায়গায় গরমভাব
ঘ) জ্বর
ঙ) বমি বমি ভাব
চ) ঠান্ডা ঘাম
ছ) অবসাদ
জ) মাথা ঘোরা
ঝ) পেশী ব্যথা
ঞ) পুঁজযুক্ত ত্বকের ঘা

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, চিকিৎসকরা সংক্রমিত ত্বকটি পরীক্ষা করে সেলুলাইটিস নির্ণয় করে এবং রোগীর ত্বকে সাম্প্রতিক কোনও আঘাত আছে কি না, তার মেডিকেল অবস্থা রয়েছে এবং রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন তা জিজ্ঞাসা করে।
এর চিকিৎসা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সেলুলাইটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৫ – ১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কয়েকদিন পরেই, উপসর্গগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়। যদি সংক্রমণটি গুরুতর হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি ইন্ট্রাভেনাসের মাধ্যমে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শও দিতে পারেন।

সেলুলাইটিস প্রতিরোধ
ক) সংক্রমণ রোধ করতে পোকামাকড়ের কামড়, আঁচড় থেকে এড়িয়ে চলুন।
খ) ত্বকে ফাটল রোধ করতে ত্বক ময়শ্চারাইজড রাখুন।
গ) স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
ঘ) ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমাবদ্ধ করুন।

এ বিষয়ে পরামশের্র জন্য যোগাযোগ করুন : আলমগীর আলম, 29 বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, তৃতীয় তলা, ঢাকা, কল – 01611010011