নানা গুণের ডাবের পানি

0
65

ডাবের পানি যাকে প্রাকৃতিক স্যালাইন বলা হয়। পানীয় হিসেবে ডাবের পানি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ডাবের পানির স্বাদ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন ভারতের ডাব মিষ্টি হয়। কিন্তু ব্রাজিলের ডাব হয় একটু পানসে।

আবার বাংলাদেশের ডাবের পানি বেশ মিষ্টি হয়, সঙ্গে হালকা নোনতা স্বাদ থাকে।

তবে স্বাদ যাই হোক বিজ্ঞান বলে ডাবের পানিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬.৭ ক্যালোরি তথা ৭০ কিলো জুল খাদ্যশক্তি রয়েছে। আর এর রয়েছে বহু গুণাগুণ।

জেনে নিন ডাবের পানির ১০ উপকারিতা

১. ডিহাইড্রেশনেএটি ডাবের পানির প্রথম উপকারী দিক। স্যালাইনের সুবিধা নেই এমন স্থানে ডাবের পানিকেই চিকিৎসকরা স্যালাইন হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

অতিরিক্ত গরমে বমি বা ঘামে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গেলে ডাবের পানি খেয়ে তাৎক্ষণিক শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করা যায়। এর কার্বোহাইড্রেড দেহের শক্তি বাড়ায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডাবের পানি বেশ কার্যকরী। কারণ এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন-সি, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. হার্ট ভালো রাখতে: ডাবের পানি হার্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি প্রমাণিত, ডাবের পানি হার্টঅ্যাটাকের সম্ভাবনা অনেকটা কমায়। এটি হাইপারটেনশনও কমায়।

৪. হাড় গড়নে: হাড়কে মজবুত রাখার জন্য দরকার ক্যালসিয়াম ও আরও অনেক পুষ্টিগুণ।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানিতে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম আছে তা হাড়ের জন্য একটি অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান। এর ম্যাগনেসিয়াম হাড়কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৫. চুল ভালো রাখতে: চুলকে ভালো রাখতে ডাবের পানি ব্যবহার করছেন অনেকেই। প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করে এটি।

চুলকে রুক্ষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে ডাবের পানি। চুলকে চকচকে ও নরম করে খুশকি সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে এটি।

এ ছাড়া ডাবের পানি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। তার ফলে চুল কম পড়ে।

৬. স্যানট্যান সমস্যায়: এবার আসা যাক ত্বকের জন্য ডাবের পানি কতটুকু উপকারী। সানট্যানের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে ডাবের পানি বেশ উপকারী। কারণ এটি প্রাকৃতিক ট্যান রিমুভারের মতো কাজ করে।

৭. টোনার হিসেবে: প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে ডাবের পানি উত্তম। এটি স্কিনে পিগমেনটেশন, ব্লেমিসেস দূর করে।

৮. স্কিন ইনফেকশনে: ডাবের পানি চামড়ার (স্কিন) ইনফেকশন কমায়। কারণ এতে আছে অ্যান্টিফাঙাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ।

৯. অয়েলি স্কিন সমস্যায়: ডাবের পানি ত্বককে চকচকে করার পাশাপাশি এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার করতে ডাবের পানিকে ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই।

১০. উজ্জ্বল ত্বকের জন্য: আমরা হয়তো অনেকে জানি না গ্লোয়িং স্কিনের একটি রহস্য হল- ডাবের জল। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে তরতাজা রাখে এবং ত্বক আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হয়। রোজ ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুলে শ্যাম বর্ণ ফরসা হতে তেমন সময় লাগে না।

কোন সময় ডাবের পানির কী উপকারিতা

লো ক্যালোরি, প্রাকৃতিক এনজাইম ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ ডাবের পানি এক অলৌকিক পানীয়। গরমের দিনে এ পানি তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং ডায়াবেটিস ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান।

অন্যসব পানীয়ের মতো ডাবের পানি পান করার উৎকৃষ্ট সময় নেই। দিনে যে কোনো সময় ডাবের তাজা পানি পান করলে ভাল বোধ করবেন আপনি। তবে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে এ পানি পান করলে স্বাস্থ্যের জন্য দ্বিগুণ ফল বয়ে আনবে। আসুন ডাবের পানি পানের উৎকৃষ্ট সময় সম্পর্কে জেনে নিই-

সকালে খালি পেটে: সকালে খালি পেটে ডাবের পানি পানের অনেক উপকারিতা। ডাবের পানিতে থাকা লোরিক অ্যাসিড আপনার হজমে সাহায্য করে এবং ওজন কমায়। গর্ভবতী নারীদের ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে ডাবের পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটা গর্ভবতীদের সকালের অসুস্থতা ও অম্বল থেকে মুক্তি দেয়।

 ডাবের পানি সর্বোৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পানীয়। এটি শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণ করে ও কাজের শক্তি যোগায়। এ পানি কাজের সময় শরীর থেকে হারানো ইলেক্ট্রলাইট আবার পূর্ণ করে দেয় এবং ক্লান্তি ও অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
খাওয়ার আগে ও পরেখাওয়ার আগে এক গ্লাস ডাবের সতেজ পানি পান আপনাকে পরিপূর্ণতা দেবে ও অতিরিক্ত আহার প্রতিরোধ করবে। ডাবের পানিতে কম ক্যালোরি থাকায় এটি পাকস্থলির জন্য সহনীয়। এ পান দ্রুত হজমে সহায়তা করে ও খাবার পর পেটে গ্যাস হতে দেয় না। প্রতিদিন খাবার আগে ডাবের পানি পান করলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ও বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত রাখে।

ঘুমানো আগে:  ডাবের পানির মিষ্টি ঘ্রাণের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে, যা হতাশা দূর করতে সাহায্য করে ও হৃদস্পন্দনকে ধীর রাখে। ঘুমানোর আগে ডাবের পানি পান শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্র বের করে দেয়, প্রসাবের সংক্রমণ ও কিডনি সম্যা দূর করে এবং প্রসাব স্বাভাবিক রাখে।

তীব্র শারীরিক অস্বস্তি কাটাতে: তীব্র শারীরিক অস্বস্তি কাটাতে এক গ্লাস ডাবের পানি হতে পারে সেরা দাওয়াই। অ্যালকোহল পানের পর আপনার শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দিতে পারে, যা পরের দিন সকালে মাথাব্যথা ও বিবমিষা তৈরি করতে পারে। ডাবের পানি এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আপনাকে সুস্থতা দিতে পারে।

SHARE

LEAVE A REPLY