শিশুদের কৃমি বেশি হওয়ার কারণ কী?

0
72

আপনার ছোট সোনামণির অনেক বড় সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল কৃমির সমস্যা। এটি একটি  স্বাস্থ্য সমস্যা। শিশুদের পুষ্টিহীনতার জন্য কৃমি অনেকাংশে দায়ী। যে কোনো বয়সের মানুষের কৃমি হতে পারে। তবে শিশু কিশোরদের মাঝে কৃমির সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। অবশ্য পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত, যখন শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই পান করে, তখন সাধারণত শিশুদের কৃমি হয় না। বিভিন্ন ধরনের কৃমি রয়েছে সুতা কৃমি, কেঁচো ও হুক কৃমির সংক্রমণ বেশি হলেও ফিতা কৃমির সংক্রমণও দেখা যায়।

সাধারণত অপরিষ্কার শাকসবজি, ফলমূল, নোংরা খাবার, দূষিত পানির মাধ্যমে কৃমির ডিম আমাদের মুখে প্রবেশ করে অথবা আক্রান্ত ব্যাক্তির কাপড় চোপড়, হাত-পা ঠিকমতো না ধুলে নখের মধ্যে বা আঙুলের ভাঁজে লেগে থাকা ডিম খাদ্যের মাধ্যমে আমাদের পেটে চলে যায়। সেখান থেকে খাদ্যনালীর ক্ষুদ্রান্তে এ ডিম চলে যায় এবং ক্ষুদ্রান্তের এনজাইম বা পাচকরসের মাধ্যমে ডিম থেকে লার্ভা বের হয়৷

একটা স্ত্রী কৃমি দৈনিক প্রায় ২ লাখ ডিম পাড়ে মানুষের অন্ত্রে এবং ১০-৪০ দিনের মধ্যে ডিমের ভেতর বাচ্চা কৃমি তৈরি হয় এবং পরে তা মলের সাথে নিষ্কাশন করে, আবার পুনরায় সেই মল থেকে খাদ্য বা অন্যান্য পর্যায়ে সুস্থ মানুষের পেটে ঢুকে পরে। এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

কৃমি শরীরের অনেক মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। পুষ্টিহীনতা ও তার থেকে শরীরে রক্তশূণ্যতা কৃমিতে আক্রমণের খুব স্বাভাবিক লক্ষণ। এর ফলে বাচ্চাদের শরীরের বৃদ্ধি কমে যায়, আয়রনের ঘাটতি, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, খাওয়ার অরুচি, রক্তশূন্যতার জন্য দুর্বলতা, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া। কৃমির কারণে চুলকানি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট এমনকি কাশিও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ফিতা কৃমি শরীরের ভেতরে অন্যান্য নাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেক সময়ে তীব্র পেট ব্যথা অনুভব করে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কৃমি বিশেষ করে গোল কৃমি পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয় ও অ্যাপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে সংক্রমণ ঘটায় ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে। শরীরের নানা অঙ্গে কৃমি মরে গিয়ে স্টোন জমার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিছু কৃমি লিভারেরও ক্ষতি করে। কৃমির কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কম শোষিত হয়, ফলে ভিটামিন ‘এ’র অভাবজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় যেমন : ত্বক, অন্ত্রের অ্যাপিথেলিয়াম ও চোখের ক্ষতি হয়। প্রচুরসংখ্যক কৃমি একসঙ্গে জমাট বেঁধে অন্ত্রের নালি বন্ধ করে দিতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেন, কৃমি নিয়ে অভিভাবকদের সচেতনত হওয়া খুব জরুরি। প্রতি ৬ মাস অন্তর শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো উচিত। সেটা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। কারণ, কৃমির ওষুধের ক্ষেত্রে একটি কোর্স পূর্ণ করতে হয়। বাড়ির সবার একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত, এতে কৃমি থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। আজকাল দুই বছরের কম বয়সের শিশুদেরও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যায়, তবে তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

মনে রাখা দরকার, যে শিশুর কৃমির চিকিৎসা করা হচ্ছে তার পরিবারের সকলেরই কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত নিয়ম মেনে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের তা না হলে শিশুর চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয় না। বাড়িতে কোনও গৃহপালিত পশু থাকলে তাকেও ওষুধ খাওয়ানো দরকার।

কৃমি প্রতিরোধ করতে হলে সব সময় পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার তৈরি করে শিশুদের খেতে দিতে হবে। খাবার তৈরির পূর্বে এবং খাবার দেয়ার পরে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খাবার ভাল করে সেদ্ধ করে পরিষ্কার পাত্রে রাখতে হবে। সব সময় কাঁচা ফলমূল খাওয়ার আগে তা পরিষ্কার ধুয়ে খাওয়া শেখাতে হবে। পরিবারের সকলে মল ত্যাগের পর, খাবার তৈরি ও খাবার গ্রহণের আগে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় কৃমির জন্য যেমন ঔষধ রয়েছে তেমনি হোমিও প্যাথীতে কৃমির জন্য ভাল ঔষধ রয়েছে, তবে নিয়মিত টক ফল ও আশযুক্ত ফল প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস করা গেরে কৃমি হবেই না, দ্বিতীয়ত শরীরের বর্জব্যবস্থাপনার একটি সক্ষমতা তৈরী হয়ে থাকবে যা প্রতিদিন খাবারের সাথে কৃমি উৎপাদন সীমিত থাকবে যা মলের সাথে বেড়িয়ে যাবে। যখনই বাচ্চাদের পেট কষা হবে তখনই কৃমি হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকবে। তাই প্রতিদিন বাচ্চাদের কলা, পেঁপে, আনারস, বাঙ্গি, তরমুজ সিজন অনুযায়ী ফল খাওয়ান।

আমাদের দেশে সিজনাল ফলের মধ্যে আমড়া, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা ইত্যাদি টক জাতীয় ফল মেলে সেই ফলগুলো সিজন অনুযায়ী প্রতিদিন যেন প্রতিটি শিশু টকফল গুলো খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  তাই খেয়াল রাখুন আপনার শিশু ঠিক মত বেড়ে উঠছে কিনা, তার মুখে লালা পড়ে কি না । 

আলমগীর আলম
০১৬১১০১০০১১

LEAVE A REPLY