গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে যা খাবেন

0
20

গরম কাল এসে পড়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পয়েছে, তাতে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে নানা অসুখ বাসা বাধতে পারে। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন সানস্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, তেমনি দেহের অন্দরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্টমাক আলসার, হাত-পায়ে জ্বালা করা, হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া, চোখ জ্বালা করা, ত্বকে প্রদাহ এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্য়াও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠতে সময় লাগে না।

এখন প্রশ্ন হল এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকার কি কোনও উপায় নেই? আলবাৎ আছে! এমন কিছু খাবারের সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই গরমে যদি সুস্থ থাকতে হয়, তাহলে খেতেই হবে এই খাবারগুলি। এক্ষেত্রে যে যে সবজি এবং ফলগুলিকে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে, সেগুলি হল…

১. তিল: এক গ্লাস পানিতে পরিমাণ মতো তিল ফেলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উঠে মিশ্রনটি পান করুন। এমনটা যদি নিয়মিত করতে পারেন, তাহলে একদিকে যেমন দেহের তাপমাত্রা কমবে, তেমনি নানাবিধ পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটবে।

২. ব্রকলি: এর স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে নিশ্চয় কারও মনে কোনও সন্দেহ নেই। একাধিক রোগ থেকে দূর রাখতে ব্রকলির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রেও এই সবটি নানাভাবে আমাদের সাহায্য করে। কীভাবে? ব্রকলির সিংহভাগই জলে পূর্ণ। তাই তো শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং ডিইহাইড্রেশনের আশঙ্কা কমাতে এই সবজিটি দারুন কাজে আসে। প্রসঙ্গত, কাঁচা অবস্থায় অথবা হলকা যদি ব্রকলি খান, তাহলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৩. ডালিম: এই গরমে দেহের অন্দরে তাপমাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে শরীরকে যদি সুস্থ রাখতে হয়, তাহলে নিয়মিত ডালিমের রস খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই ফলটির অন্দরে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরকে ঠান্ডা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে হার্ট, কিডনি এবং লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও ডালিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৪. লাল বাঁধাকোপি: সাধারণ বাঁধাকোপির থেকে অনেক বেশি পরিমাণ পানি থাকে এই সবজিটিতে। তাই তো গরমকালে সুস্থ থাকতে, প্রতিদিন লাল বাঁধাকোপি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

৫. শসা: একথা নিশ্চয় কারও অজানা নেই যে এই সবজিটির ৯০ ভাগই পানিতে পূর্ণ, যা গরমের সময় শরীরে পানির ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি দেহকে ঠান্ডা রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো গরমকালে প্রতিদিন একটা করে অবশ্যই শসা খাবেন। এমনটা করলে দেখবেন তাপ প্রবাহ সম্পর্কিত কোনও রোগই আপনাকে ছুঁতে পারবে না। (শসা রাতে খাওয়া যাবে না)

৬. তরমুজ: বেশ কিছু গবেষনায় দেখা গেছে এই ফলটির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশই জলে পরিপূর্ণ। তাই তো গরমের সময় নিয়মিত তরমুজ থাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে পানির ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে শরীরের তাপমাত্রা কমে চোখে পরার মতো। (সকালে খালি পেটে নাস্তা করুণ তরমুজ দিয়ে)

৭. মিষ্টি আলু: শসার মতো না হলেও এতে রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি, সেই সঙ্গে রয়েছে একাধিক পুষ্টিকর উপাদান, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশপাশি সার্বিকভাবে রোগমুক্ত রাখতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

৮. সবুজ শাক-সবজি: শরীরকে ভিতরে থেকে ঠান্ডা করতে সবুজ শাক-সবজির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই বছরের এই সময়টা বেশি করে মাছ-মাংস না খেয়ে সবজি খাওয়া শুরু করুন। বিশেষেত, পালং এবং লেটুস শাক খেতে হবে বেশি করে। তাহলেই গরম আর আপনাকে ছুঁতে পারবে না।

৯. মুলো: গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এই সবজিটি বাস্তবিকই আপনার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং পানি। এই দুটি উপদান তাপ প্রবাহের হাত থেকে শরীককে বাঁচায়। সেই সঙ্গে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। তাই গরমকালে সুস্থ থাকতে প্রতিদিন এই সবজিটি খেতেই হতে।

১০. ধুন্দুল: ফাইবার এবং পানিতে পরিপূর্ণ এই সবজি গরমের সময় শরীরকে চাঙ্গা রাখতে দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয় ধুন্দুলখলে খেলে পেট খুব ভরে যায়। ফলে খাবার খাওয়ার পরিমাণ খুব কমে যায়। আর কম খাবার খেলে কি হয়? কী আবার! ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। তাই গরমের সময় প্রতিদিনের ডায়েটে এই সবজিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

আলমগীর আলম
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
83, নয়াপল্টন, ফ্লাট বি-7, জোনাকী সিনেমাহলের বিপরীতে মসজিদ গলি।

SHARE

LEAVE A REPLY