গরমে লাউ খাওয়া যে কারনে জরুরি

0
181

লাউ অত্যন্ত পরিচিত সবজিটি। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, বি এবং ডি, সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফোলেট, আয়রন এবং পটাশিয়ামও রয়েছে প্রচুর মাত্রায়, যা গরম কালে নানাবিধ রোগের হাত থেকে সুস্থ রাখার পাশপাশি প্রচন্ড তাপদাহের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা জানি গরম কাল মোটেও শরীরের পক্ষে ভাল নয়। কারণ একে তো ঘামের সঙ্গে পানি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যাওয়ার কারণে শরীর দুর্বল হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানান রোগ, বিশেষত হরেক রকমের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এই সময়ে বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। তাই তো সারা গরম কাল লাউয়ের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

১. শরীর ঠান্ডা করে: অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গরমের সময় শরীর খুব গরম হয়ে যায়। আর এমনটা হওয়া একেবারেই ভাল নয়। তাই তো গরম কালে নিয়মিত লাউ বা লাউয়ের রস খেতে হবে। কারণ এতে প্রচুর মাত্রায় যেমন পানি রয়েছে, তেমনি খনিজও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশপাশি ক্ষতিকর টক্সিনগুলিকে শরীর থেকে বার করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

২. ওজন কমাতে সাহায্য় করে: অতিরিক্তি ওজনের কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে আজ থেকেই এক গ্লাস করে লাউয়ের রস খেতে শুরু করুন। দেখবেন ওজন কমতে সময় লাগবে না। কারণ এই সবজিটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা বহুক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম পরিমাণে খাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমে। প্রসঙ্গত, ফাইবার হজম ক্ষমতার উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো নিয়মিত এই সরবতটি পান করলে দেহের ইতি-উতি জমে থাকা চর্বি ঝরে যেতেও সময় লাগে না।

৩.কনস্টিপেশন দূর করে: তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই এই সময় বদ হজম এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন। আসলে শরীরে পানির মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। আর যেমনটা সকলেরই জানা যে লাউয়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায়,পানি তাই তো এই সবজি খেলে শরীরে পানির ঘাটতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। শুধু তাই নয়, এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা একইসঙ্গে বদহজম এবং কনস্টিপেশনের প্রকোপ কমায়।

৪.রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: গরমের সময় লো প্রেসার হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই যারা রক্ত চাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ডায়েটে বছরের এই সময়ে লাউ বা লাউয়ের রস থাকা মাস্ট! কারণ এতে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিকর উপাদান , যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভাল হয়ে ওঠে।

৫.স্ট্রেস কমায়: লাউয়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় কোলন নামে এক ধরনের নিউরো ট্রান্সমিটার, যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে স্ট্রেস, ডিপ্রেশন সহ একাধিক মেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়াক আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৬. ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনের চিকিৎসায় কাজে আসে: যেমনটা আগেও বলেছি, নানা কারণে গরমের সময় সংক্রমণের প্রকোপ খুব বৃদ্ধি পায়। বিশেষত এই সময় মেয়েদের ইউরিনারি ট্রাক্ট ইফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর এক্ষেত্রে লাইয়ের রসে দারুন কাজে আসতে পারে। কারণ যে কোনও ধরনের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাউয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, এই সবজিতে প্রচুর মাত্রায় পানি থাকার কারণে এটি খেলে প্রস্রাব খুব ভাল হয়, ফলে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা এমনিতেই অনেকটা কমে যায়।

৭.পানির ঘাটতি দূর করে: গরমের সময় মাত্রাতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ শরীর তার প্রয়োজনীয় জল না পেলে দেখা দেয় নানা রকমের রোগ। আর যেমনটা আগেও বলেছি যে লাউয়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পানি, যা এই সময় শরীরে জলের অভাব হতে দেয় না। ফলে ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৮.অনিদ্রা দূর করে: একে তো গরম, তার উপর বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের কারণেও রাতের বেলা ঘুম আসতে চায় না। এক্ষেত্রেও এই সবজিটি আপানকে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লাউ খেলে অনিদ্রা অনেকাংশেই দূর হয়। ফলে বিনিদ্র রাত্রি যাপনের আশঙ্কা অনেকাংশেই দূর হয়।

৯. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়: লাউয়ে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা ভিতর থেকে ত্বককে পরিষ্কার করে। সেই সঙ্গে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যাকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তাই তো গরমের সময় প্রতিদিন লাউয়ের রস খেলে একদিকে যেমন মাত্রতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা কমে, তেমনি ত্বকও সুন্দর হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, ঘাম কম হওয়ার কারণে গরম কালে ব্রণর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রেও লাউয়ের রস দারুন উপকারে লাগে।

১০.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: প্রতিদিন লাউয়ের রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে সংক্রমণের পাশপাশি নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পায়।

আলমগীর আলম
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
83, নয়াপল্টন, ফ্লাট বি-7, জোনাকী সিনেমাহলের বিপরীতে মসজিদ গলি।

SHARE

LEAVE A REPLY