ফাস্টিং (উপবাস) শরীরের নবজন্ম দেয়।

0
303

মানুষের শরীরে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহন যেমন জরুরী তেমনি শরীরের প্রয়োজনে উপবাস থাকা অত্যান্ত জরুরী। এই উপবাস ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, থাকতে হবে শরীরের প্রয়োজনে, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে যে উপবাস রাখা হয় তা রোজা যা সমস্ত দিন কোন ধরণের আহার ব্যতিত এবং পানিও পান নিষেধ কিন্তু শরীর সুস্থ রাখার জন্য যে উপবাসের কথা বলা হচ্ছে তা উপবাস থাকাকালীনও পানি পান করতে হবে শরীরকে কখনও ডিহাইড্রেশন করা চলবে না এবং উপবাস থাকতে হবে ২৪ ঘন্টা থেকে ৯৬ ঘন্টা পর্যন্ত। প্রয়োজন অনুযায়ী উপবাসের কারণে শরীরের অনেক জটিল সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়, এটা একটা ম্যাজিক যে শুধু উপবাসের কারণে অনেক রোগ দূর হয়ে যায়।

বিশেষ করে পেঁটের অনেক রোগই উপবাসে দূর হয়, তেমনি মেটাবলিক সিস্টেম, ইউমিউনিটি সিস্টেম কে ঠিক করে ক্ষুদামন্দা, রক্তের ভারসাম্য বজায় রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে সাথে শরীরে ত্বকের উজ্জলতা ফিরে পেতে অত্যান্ত কার্যকর, রক্তের ভেতরের যত ধরণের বর্জ বাস করে তা বেড় হয়ে পরে তাই এই উপবাসকে বলা হয় ডিটক্সিফিকেশন।

উপবাসের নিয়ম
ক্স উপবাস করার নিয়ম হচ্ছে ভোরে ঘুম থেকে উঠেই ১ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান তার দু মিনিট পর একগ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান তার দুমিনিট পর আরো একগ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। ঠিক দুঘন্টা পর একগ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান এভাবে রাত ৮টা পর্যন্ত এভাবে প্রতি দুঘন্টা পর পর এই একগ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করে যেতে হবে। আর কোন ধরনের খাবারের প্রয়োজন হবে না।

ক্স দ্বিতীয়দিনও সকাল থেকে একগ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে হবে প্রতি দুমিনিট পর পর।

ক্স তৃতীয়দিনও একই পদ্ধতীতে পানি পান করে যেতে হবে। তিন দিনের উপবাস হচ্ছে একটি ভারসাম্য মূলক, চার দিনের টা হচ্ছে যদি পেটের বেশি পরিমাণে অসুখ থাকে আর ৫ দিনের উপবাস হচ্ছে যারা কোন ক্রোণিক সমস্যায় ভুগছেন তারা ৫ দিন উপবাস করবেন। উপবাস শেষ করে পরের দিন আধা বেলা যে কোন ফল খেয়ে কাটিয়ে স্বাভাবিক খাবারে ফিরে আসবেন। এতে করে শরীরের ডিটক্সিফিকেশন হয়ে যাবে শরীর থেকে অনেক কিছুই বেড়িয়ে আসবে।

উপবাসের দরুণ যে সমস্যা হতে পারে
উপবাসের সময় প্রথম দিন একটু খারাপ লাগে, বিশেষ করে বিকাল থেকে মাথা ব্যথা, শরীর গরম গরম ভাব, প্রচন্ড ক্ষুদা লাগে, এটি হচ্ছে চোখের খাদ্য নেশা, শারিরিক কোন র্দূবলতা হবে না কিন্তু ক্ষিদা লাগবে, দ্বিতীয় দিন আর কোন সমস্যা হবে না, তৃতীয় দিন দুপুরের পর থেকে একটু দূর্বল লাগবে, অনেকের পাতলা পায়খানা হবে, কারও যদি পেঁটে আমশায় থাকে তাহলে তা বেড়ে যাবে কিন্তু ঘাবড়ানো যাবে না, এটা ডিটক্সিফিকেশনের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ, এই পেঁট পরিস্কার হলে শরীর হালকা হবে এবং মূল কাজের কাজটি হবে। চতুর্থ ও পঞ্চমদিন ও দূর্বল লাগবে কিন্তু কোন সমস্যা হবেনা।

উপবাসের দরুণ তাৎক্ষণিক ফল
ক্স এই উপবাস শেষে দেখা যাবে শরীর হালকা হয়ে যাবে
ক্স শরীরে কোন ব্যথা থাকলে তা কমে আসবে
ক্স পেঁটের কোন অস্বত্বি থাকবে না
ক্স শরীরে যে কোন ব্যাথাই থাকুক না তা কমে আসবে
ক্স আর্থারাইটিস থাকলে কমে আসবে
ক্স ইউরিক এসিড কমে যাবে
ক্স শরীরের ত্বকের রং বদলাবে, উজ্জলতা বাড়বে
ক্স ওজন কমবে ৩ থেকে ৫ কেজি কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই
ক্স রক্তের ভেতরে জমাট হয়ে থাকা নানান বর্জ্য বেড়িয়ে আসবে, রক্ত দূষণমুক্ত হবে
ক্স শরীর এসিডিক কন্ডিশণ থেকে এ্যালকালাই কন্ডিশণে ফিরে আসে।

এই সব হবে দৃশ্যমান আর অদৃশ্যে থাকবে শরীরে সেল গঠণের প্রক্রিয়া ঠিক হয়ে উঠবে, শরীরে মৃত সেল বেড়িয়ে আসবে নতুন সেল তৈরী হবে, রক্তে অভ্যন্তরে সুঠাম গঠন তৈরী হবে, বিশেষ করে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন, পেঁটের অভ্যন্তরে পরজীবিগুলো নতুন কাঠামোয় তৈরী হবে, শরীর অসিড কন্ডিশণ থেকে এ্যালকালাই ফর্মে আসবে আর এ্যালকালাই পরিবেশে ক্যান্সারের জীবাণু বাড়ে না বরঞ্চ মারা যায়, সাথে শরীরে বিষ বেদনা কমতে শুরু করে।

শরীরে টিউমারারের বাড়ন্তভাব কমে আসবে, এলার্জি থাকলে কমবে, পেঁটে গ্যাস হওয়ার সম্ভবনা কমে আসবে। এই উপবাস অনেকটা নবজন্ম হিসেবে শরীরটাকে তৈরী করবে।

আর এই নবজন্ম শরীরটাকে যত্ন নিতে হবে, যে যে কারণে অনেক সমস্যা বাধিয়ে শরীরকে রোগাকান্ত করে ফেলেছিলেন সেই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে শরীরের প্রয়োজনীয় যত্ন নিতে হবে।
উপবাস হচ্ছে প্রাকৃতিক নিয়মে শরীরের শুদ্ধতা আনার একটি কার্যকর প্রক্রিয়া তাই এটি করতে ইচ্ছাই যথেষ্ট, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর কোন গুরুত্ব নেই, এই আধুনিক চিকিৎসকরা পরামর্শ দিবেন খাবেন আর ঔষধ খাবেন কিন্তু আমরা দেখেছি ঔষধ খেয়ে মানুষের সুস্থ্য হয়ে উঠার সংখ্যা অনেক কম বিশেষ করে ক্রোণিক সমস্যাগুলোতে বলাই হয় যতদিন বেচে থাকবেন ঔষধেই বেঁেচ থাকবেন। কিন্তু উপবাস এমনই একটি অস্ত্র যা দিয়ে ক্যান্সারের মত দূরাগ্যব্যাধিও দূর করা সম্ভব।

উপবাস বছরে তিন মাস অন্তর করা উত্তম, আর যারা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ভুগছেন, একাধিক ঔষধে জীবনযাপন করছেন তারা প্রথমে একসাথে তিনদিন উপবাস করে পরবর্তিতে প্রতি সস্পাহে একদিন করে শরীরকে এ্যালকালাই অবস্থায় ফিরিয়ে আনলে শরীরে একটা ম্যাজিক ঘটে যাবে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঔষধ দ্বারা ঠিক করা যায় না। কোন ধরণের ঔষধ ছাড়া সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতীতে আপনার শরীরের সবচেয়ে দামী একটা কাজ করতে পারবেন শুধু এই উপবাস দ্বারা। তাই ডাক্তারের কাছে না ছুটে বাসায় নিজেই চেষ্টা করে দেখুন।

AALAM

আলমগীর আলম
ভাইস চেয়ারম্যান
ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
৮৩, নয়া পল্টন, গাজী নীড়, ফ্লাট – বি ৭
ঢাকা।

LEAVE A REPLY