রোগের নাম আর্থ্রাইটিস ব্যথা বেদনা জীবনের বিষ !!

0
535
Hand writing Arthritis with blue marker on transparent wipe board isolated on white.

হাতপায়ের গিরা গিরায় ব্যথা, জয়েন্টগুলো মাঝে মাঝে ফুলে যায়, ব্যথার ঔষধ খেলে কিছু কমে কিন্তু কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসে, বৃষ্টি, মেঘলা, শীতে ব্যথা বাড়ে, পরিশ্রম করলেও ব্যথা বাড়ে, সিড়িতে উঠা কষ্ট, নামাজে বসা কষ্ট এমন সমস্যা নিয়ে যারা জীবন পার করছেন তারা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত।
maxresdefault
আর্থ্রাইটিস একটি গ্রীক শব্দ। মানুষের শরীরের জোড়ার অনেকগুলো রোগ বা সমস্যাকে একসঙ্গে আর্থ্রাইটিস বলা হয়। আর আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে জানার আগে আমাদের মানুষের জয়েন্ট বা অস্থি সন্ধি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। মানুষের শরীরে বহু জয়েন্ট বা জোড়া রয়েছে এবং এই সব জোড়া তিন প্রকার। এসব জোড়ায় যদি কোনভাবে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয় তখন আমরা ডাক্তারী ভাষায় আর্থ্রাইটিস বলা হয়। আমাদের দেশে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে অনেকে একে বাত রোগ বলে থাকে।

আর্থ্রাইটিসে এক বা একাধিক জোড়ায় ব্যথা হবে।
জোড়া ফুলে যেতে পারে,
গরম হতে পারে,
নড়াচড়ায় ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে,
রোগীদের দৈনন্দিন কাজকর্ম,
চলাফেরায় অসুবিধা হবে,
অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে,
পাশাপাশি শরীর ক্লান্ত,
অবসাদ,
হতাশা,
অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।

এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে রোগী তার দেহের জোড়ার কর্ম ক্ষমতা বা নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায় এবং জোড়া সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন রোগ ভোগে শরীরের মাংস পেশীগুলোও শুকিয়ে যেতে পারে।

আর্থ্রাইটিস এক শ’রও বেশি প্রকারের। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে
অস্টিও আর্থ্রাইটিস,
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস,
এনকালজিং,
স্পন্ডাইলসিস,
গাউট,
জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস যা বাচ্চাদের হয়,
সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস,
রি-একটিভ আর্থ্রাইটিস,
সেপটিক আর্থ্রাইটিস,
স্কে¬রোডারমা,
এসএলই,
তাছাড়া অন্যান্য রোগের কারণেও আর্থ্রাইটিস হতে পারে।

এই রোগ হওয়ার কারণ ?

গিড়ার ভেতরে একটি পাতলা পর্দা বা আবরন থাকে (সাইনোসিয়াল মেমব্রেন)। এই পর্দ্দাটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের কারণে পুরু হয়ে যায় এবং এই রোগের একটি বিশেষষ্ণত্ব হলোঃ অনেকক্ষন গিড়া নড়াচড়া না করলে শক্তভাবটা বেশী হয়। যেই কারণে শক্তভাব সকাল বেলা বেশী অনুভব হয়। বিভিন্ন রকম কোষ ও তরল পদার্থ এর মধ্যে জমা হয়। এই কারনে গিড়া ফুলে যায়, ব্যথা হয়, নড়াচড়ায় সমস্যা হয় এবং গিড়া শক্ত হয়ে যায়।

বাচ্চারা সাধারনত গিড়া ভাজ করে রেখে গিড়া ব্যাথা কমানোর চেষ্টা করে থাকে। গিড়া ভাজ করা এই অবস্থানকে এন্টালজিক অবস্থান বলে। যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন অর্থ্যাৎ সাধারনত ১ মাসের বেশী থাকে তাহলে মাংস পেশী ও রগসমূহ সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে যায় এবং গিড়া বাঁকা হয়ে শক্ত হয়ে যায়।

যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয় তাহলে গিড়ার প্রদাহ দুই ভাবে গিড়ার ক্ষতি করে। গিড়ার হাড় ও তরুনাস্থির ক্ষতি হয়ে ভিতরের পর্দ্দা পুরু হয়ে অসমান হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত গিড়ার বিভিন্ন রকমের অস্বাভাবিক নিঃস্বরনের কারনে এক্সরে করলে হাড়ের ভেতরে ক্ষয় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদী এন্টালজিক (ভাজ অবস্থায়) অবস্থায় রাখলে মাংস পেশী শুকিয়ে ছোট হয়ে যায় এবং অবশেষে গিড়া পুরোপুরি বাকা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন থাকলে মাংস পেশী শুকিয়ে যায় তাতে গিরা পুরোপুরি সোজা বা ভাঁজ করা যায় না।

আর্থ্রাইটিস সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়। যে কোন বয়সে যে কোন বর্ণের যে কোন সংস্কৃতির মানুষের আর্থ্রাইটিস হতে পারে। তবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আর্থ্রাইটিস বেশি হয়।

চিকিৎসা : আর্থ্রাইটিস জোড়ার রোগ ও বিভিন্ন প্রকার আর্থ্রাইটিস রয়েছে। যদি কারও এ জাতীয় সমস্যা হয় তা হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক এ ক্ষেত্রে কিছুু পরীক্ষা করাতে পারেন। যেমনরক্ত পরীক্ষা, সেরোলজি পরীক্ষা, এক্সরে। তাছাড়া রোগের লক্ষণ দেখেও বোঝা যায় যে, কি জাতীয় আর্থ্রাইটিস হয়েছে। আর্থ্রাইটিসের প্রকার ভেদ অনুযায়ী কিছু ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। যেমনব্যথানাশক এনএসএআইডিএস, ডিজিজ মডিফাইং ওষুধ, ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম। আর্থ্রাইটিসে আকুপ্রেসার ও ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা। এতে অনেকাংশে রোগীর সমস্যা ব্যথা-বেদনা দূর হয় এবং রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজকর্ম করতে পারে।
ইলেকট্রোমেগনেটিক রেডিয়েশনে, আল্ট্রাসাইন্ড থেরাপি, ইন্টারফেরেন সিয়াল থেরাপি, বিভিন্ন নিয়মমাফিক কৌশলগত ব্যায়াম, মেনুয়াল থেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর সমস্যা বহুলাংশে লাঘব ও অস্থিসন্ধি স্বাভাবিক হয় এবং রোগী কর্মক্ষমতা ফিরে পায়।কিন্তু এগুলো অনেক ব্যয় সাপেক্ষ এবং প্রচুর সময় লাগে।
রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে তার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞের কাছে শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক সময় আকুপ্রেসার চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থোসিসের প্রয়োজন হতে পারে। ঠান্ডায় আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা ও সমস্যা বেড়ে যায়, তাই ঠান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে। কুসুম গরম পানির সেঁক ব্যাথা নিরাময়ে কার্যকরী। কুসুম গরম পানিতে গোসল করা যেতে পারে।
চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ব্যায়াম নিয়মিত করতে হবে, নিয়মিত হাঁটা চলাফেরা করতে হবে, অত্যধিক পরিশ্রম করা যাবে না, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, ওজন বেড়ে গেলে ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে, খাদ্য তালিকায় চর্বি ও আমিষ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি আর্থ্রাইটিস রোধে ভাল ভূমিকা পালন করে, তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ওষুধের দোকান থেকেও কিনে খাওয়া যেতে পারে। দুধ, ডিম, মাছের কাঁটা, হাড়গোড়, বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে তা খেতে হবে। নিচু জিনিস যেমন পিঁড়ি বা ফ্লোরে অনেকক্ষণ বসে থাকা যাবে না, অত্যধিক ভারি বোঝা বহন করা যাবে না, ফোম বা জাজিমের বিছানায় শোয়া যাবে না, অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না, মদ্যপান, ধূমপান বা তামাক জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না।
আকুপ্রেসার করলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথাই কমে না শুধু আর্থ্রাইটিস সেড়ে যায়, হাড়ের ঘণত্ব বাড়ার এবং কমার প্রবণতা রক্ষা করার জন্য পথ্য খাদ্য গ্রহণ করলে আর্থ্রাইটিস খুব কম সময়ের মধ্যে ভাল হয়ে যায়, নানান ঔষধে আর ব্যথা কমানোর নানান পেন কিলার খেয়ে যারা আর্থ্রাইটিস চিকিৎসা করছেন তাদের জন্য আকুপ্রেসার এক নতুন দিগন্ত উন্মচন করে দেবে। আপনি ভাবতেও পারবেন না এত তাড়াতাড়ি আপনার রোগটা সেড়ে উঠছে অথচ না জানার কারণে কতই না ভুগেছেন।

তাই আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য আকুপ্রেসার গ্রহণ করুন, খাদ্য বিধি মেনে চলনু, আর্থ্রাইটিসের এই চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন –
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
৮৩ নয়া পল্টন, ফ্লাট বি ৭
গাজী নীড়, ঢাকা
মোবাইল করুন ০১৬১১০১০০১১

LEAVE A REPLY