লবণ কিন্তু ঘাতকও !

0
149

বাংলাদেশে ১৫ শতাংশ মানুষ উচ্চরক্তচাপে ভুগছে এর প্রধান কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ। বাংলাদেশে মোট অসুস্থ মানুষের ৬১ শতাংশ হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত। আর খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত লবণ থাকায় ও খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বা লবণে আসক্তির কারণে এসব অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে খাদ্যে বাড়তি লবণের উপস্থিতি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BSMMU) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সোমবার (১৫ মে) (BSMMU) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ICCDRB) ’র শেয়ার প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে বিভাগটি।

ঢাকা শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের এ গবেষণায় দেখা যায়, খাবারে লবণের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপদ লবণের মাত্রার চেয়ে বেশি। এছাড়া ঢাকা শহরে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পাউরুটি পরীক্ষা করেও সেগুলোতে ব্যবহৃত লবণের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই লবণ খাওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। আর তাই দেশে প্রতিদিনই উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগরে ঝুঁকি বাড়ছে।

আমাদের শরীর প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন কোষ আছে, প্রতিটি কোষে বহুসংখ্যক ইলেক্ট্রোন, প্রোটন ও নিউট্রন বিদ্যমান থাকে যারা প্রত্যেকে শরীর পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র এবং স্বাধীনভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কার্যক্রমের সময় কোষগুলো ক্রমাগতভাবে যেমনি ধ্বংস হয় তেমনি আবার নতুন কোষ সৃষ্টি হয়। এই জটিল প্রক্রিয়া সংগঠিত হওয়ার সময় সামান্য লবণের (Sodium) প্রয়োজন হয়। আহারে সবধরণের শাক সবজী, ফলমূলের মধ্যে প্রাকৃতিক লবণ বিদ্যমান থাকে যা দেহ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। আহারে বাড়তি লবণের প্রয়োজন পরে না।

খাদ্যদ্রব্য মুখে যাতে স্বাদ লাগে তার জন্য রান্নার সময় নানারকমের সুগন্ধি মসলা ও লবণের প্রয়োগ করা হয়। এতে প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে লবণ শরীরে প্রবেশ করে নানা রকম বিষ/টক্সিন সৃষ্টি করে থাকে। কোন কারণে শরীরে বাড়তি রবণ প্রবেশ করলে সেই বাড়তি লবণটুকু কিডনির দ্বারা ছেঁকে মূত্রথলিতে পাঠিয়ে দেয়, পরে মূত্রের সঙ্গে এটা শরীর থেকে বেড় হয়ে যায়। অব্যাহত এই প্রক্রিয়ায় কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ থাকে বিধায় কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

উচ্চরক্তচাপ ও কিডনি রোগের প্রধান কারণ বাড়তি লবণ, উচ্চরক্তচাপ থাকলে কোষের ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রিটিনিন নামক বিষাক্ত উপাদান রক্তে বেড়ে যাবে, এতে করে শরীরে আরও বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরী হবে। একজন সুস্থ শরীরে দিন ৪-৫ গ্রাম লবণের বেশি প্রয়োজন পড়ে না।

তাই লবণ খাওয়া প্রতি নজর দিন, লবণাক্ত খাবার পরিহার করুন, লবণের আধিকত্য কমালে উচ্চরক্ত চাপ কমে যাবে, আর উচ্চরক্তচাপ কমলে কিডনি, হার্ট, লিভার, ফুসফুস ভাল থাকবে। স্বাস্থ্্য ঝুঁকি কমবে। তাই এই নিরব ঘাতক থেকে দূরে থাকুন।

আলমগীর আলম
ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
৮৩ নয়া পল্টন, গাজীনীড়, ঢাকা।

SHARE

LEAVE A REPLY