ঘুম নিয়ে টেনশন, ঔষধ ছাড়া ঘুম আসেনা, ঘুমের জন্য সহজ নিয়ম

0
370

অনিদ্রা রোগ বর্তমানে শহুরে ব্যস্ত এবং উচ্চ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বেশী পরিলক্ষিত হয়। রোগ এতই ব্যাপক যে স্বল্প ডোজের ঘুমের ঔষধে কাজ না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ভোজের মাত্রা বাড়িয়ে ঘুম কিনে নেওয়ার মত ঘটনা অহরহ ঘটছে। এই অনিদ্রা শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম হরণ করে। ফলে দেহের সমস্ত Organ এর উপর চাপের সৃষ্টি হয় এবং দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়।

ঘুম শরীরের জন্যে অত্যাবশ্যক বিশ্রাম। যেটা দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব এবং ক্লান্তি অনুভুত হয়। ঘুম মানুষকে টেনসন মুক্ত করে মস্তিস্ক ও শরীর শান্ত এবং সজীব রাখে। ঘুমের মাত্রা এবং সময় মানুষে মানুষে ভিন্ন হতে পারে, তবে প্রায় মানুষের ৬-৮ ঘন্টা ঘুম স্বাভাবিকভাবে দেহ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট।

অনিদ্রা বা কম ঘুম সাধারণত বয়স্ক মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় এবং রাতে ২/৩ বার ঘুম ভাঙ্গার ঘটনা ঘটতে পারে। ১২ বৎসরের ছেলে মেয়েদের দিন রাতে ৯ ঘন্টা ঘুম দরকার যেটা বয়স ২০ বৎসর হলে ৮ ঘন্টায় নেমে আসে। ৪০ বৎসরে ৭ ঘন্টা এবং ৬০ বৎসর হলে ৬ ঘন্টা ঘুম স্বাভাবিক। এর ব্যতিক্রম হলে এবং চলতে থাকলে দেহের রাসায়ণিক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে নানা রকম রোগের সৃষ্টি করে।

লক্ষণ :
ঘুমের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, পরিমিত সময় পর্যন্ত ঘুম না হওয়া, স্মরণ শক্তি হ্রাস পাওয়া, ঘুমের নির্ধারিত কোন সময় না থাকা, আবেগ অনুভূতির পরিবর্তণ হওয়া বা কমে যাওয়া। দেহের অভ্যন্তরীন কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া।

কারণ :
অনিদ্রার প্রধান কারণ মানসিক চাপ, দু:শ্চিন্তা, ভয়, অতিরিক্ত উত্তেজনা, রাগ এবং মাত্রাতিরিক্ত হিংসাপরায়নতা। এছাড়া ধুমপান কোষ্ঠবদ্ধতা, রাতে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করা, অতিরিক্ত চা ও কফি পান করা এবং অভুক্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যাওয়া এছাড়া অনিদ্রা নিয়ে দু:শ্চিন্তা করলেও ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে।

সুস্থতার জন্য নিদ্রা অতীব প্রয়োজন :
পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণীই রাত-দিনে কোনো না কোনো সময় গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে তবে বেশির ভাগ প্রাণী রাতেই নিদ্রা যায়। নিদ্রা একধরনের শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ বিশ্রাম। এই বিশ্রাম শরীরবৃত্তের যে-সব কার্যক্রম নিশীদিন চলতে থাকে তারই একটি অপরিহার্য অংশ। মানবদেহের অভ্যন্তরে প্রতি মুহূর্তে নানা রকম রাসায়নিক ক্রিয়া এবং বিক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে যা দুইভাগে হয়ে থাকে। দিনে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগ্রহণ করে এবং রাতে পুষ্টি গ্রহণপ্রক্রিয়াকালে যে-সব বর্জ্য এবং টক্সিন সৃষ্টি হয় তা ত্যাগ করে। দেহ সুস্থ রাখতে পুষ্টির সমস্ত উপকরণ যেমন ১২ রকমের ভিটামিন, ১৮ রকমের মিনারেল এবং ২০ রকমের এ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি দেহে সৃষ্ট নানারকম বর্জ্য বা টক্সিন বর্জন করাও তেমনিভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের অভ্যন্তরে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক কার্যক্রম সয়ংক্রিয়ভাবে ঘটতে থাকে। হজম প্রক্রিয়া, পুষ্টিগ্রহণ এবং বিভিন্ন অর্গান থেকে শরীরে সৃষ্ট র্বজ্য এবং টক্সিন নির্গমণ উল্লেখযোগ্য। সুষম খাদ্যগ্রহণ যেমন মানুষের ইচ্ছাধীন তেমনি শরীর থেকে বর্জ্য বা টক্সিন ত্যাগ করার উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুযোগ করে দেয়াও মানুষের ইচ্ছাধীন।

একজন মানুষ ইচ্ছা করলেই দেহ নামক সুপার মেশিনকে সুস্থ সবল এবং সচল রাখতে পারবে। সেইজন্য চাই দেহের সমস্ত চাহিদা পূরণের দৃঢ় অঙ্গিকার।

প্রথমেই আমরা জেনে নিই দেহের অভ্যন্তরে কী কী ঘটে এবং তার গুরুত্ব কতটুকু। আমাদের অবশ্যই জানা দরকার রাতে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে শরীরের অভ্যন্তরে ধারাবাহিকভাবে কিছু কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটতে থাকে যেগুলির মধ্যে বিভিন্ন র্অগান থেকে শরীরে সৃষ্ট বর্জ্য বা বিষ নির্গমণ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বিষ নির্গমণের কার্যক্রম যথাযত পালনের সুযোগ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নিজের, অন্য কারও নয়। সুস্থ জীবনপ্রণালী, স্বাস্থবান্ধব খাদ্যাভাস এবং দুচিন্তাহীন জীবনই লিভারসহ সমস্ত অর্গান সুস্থ রাখার উত্তম উপায়।
নিরাময়:
১. ঘুমের বড়ি খেয়ে অনিদ্রা লাঘব কোন সমাধান নয়। এটা সাময়িক ঘুম দিতে পারে কিন্তু দেহের অভ্যন্তরে অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষমতা হ্রাস করে। তাছাড়া ঘুমের পিল খাওয়া একবার অভ্যাসে পরিণত হলে এর ডোজ বাড়তে থাকে এ অবস্থায় শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে- যেমন ঠিকমত হজম না হওয়া, চামড়ার উপর র‌্যাশ দেখা দেওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, শ্বাসতন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়া, কিডনি, লিভার এক কার্যক্ষমতার উপর চাপের সৃষ্টি করে নানারকম রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রথমেই ঘুমের সময় নির্ধারণ করতে হবে। ঘুম না আসলেও প্রতি রাতে নির্ধারিত সময়ে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে বিছানায় যেতে হবে এবং ভোরে নির্ধারিত সময়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে। এটা করতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক ঘুম হবে। মনে রাখতে হবে, শেষ রাতের ৪ ঘন্টা অপেক্ষা মধ্যরাতের পূর্বে ২ ঘন্টা গভীর ঘুম দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রথম রাতে অফিসিয়াল কাজ কিংবা টিভি দেখে মধ্যরাতের পরে ঘুমাতে যারা অভ্যস্ত তাদের দেহ সুস্থ থাকে না।

২. গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্রমাগত অনিদ্রায় ভোগে এবং ঘুমের পিল খায় তাদের দেহে প্রয়োজনীয় ভিটামিন (বি কমপ্লেক্স, সি এবং ডি ভিটামিন) এবং মিনারেল (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম এবং জিঙ্ক) এর ঘাটতি দেখা দেয়, এবং ঘুম আসার ম্যাকানিজম এর কার্যকারিতা হ্রাস পায়। ফলে দেহের স্বাভাবিক কার্য্যক্রম ব্যাহত হয়। একটা সাধারণ ব্যালেন্স ডায়েটকে কিছুটা পরিবর্তন করে শরীরের উপযোগী করে খাওয়া শুরু করলে কিছু দিনের মধ্যেই অনিদ্রার রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এজন্যে খাবারের মধ্যে অবশ্যই সাদা ময়দা এবং এর দ্বারা প্রস্তুত খাবার, সাদা চিনি দিয়ে যে কোন খাবার, চা, কফি, চকলেট, কোলাপানীয়, মদজাতীয় পানীয়, তৈলাক্ত এবং তেলে ভাজা খাবার, প্রিজারভেটিভ এবং রং দেওয়া খাবার এবং বেশী লবণাক্ত খাবার মেনু থেকে বাদ দিতে হবে। রিফাইন চাল বাদ দিয়ে লাল চালের ভাত মাড় না ফেলে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. উচু কিংবা দুটো বালিশে শোয়া যাবেনা, মানুষের ঘাড় থেকে কাঁথ পর্যন্ত দুরত্ব যতখানি বালিশের উচ্চতা ততখানি এবং নরম আরামদায়ক হলে ভাল হয়। সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে ঘুমন্ত মানুষের মাথা উচু বালিশের কারণে যে কাঁধ থেকে বাঁকা হয়ে বেশী উচু না হয়। বেশী উচু হলে রক্ত চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।

৪. বিছানার শুয়ে থাকার পর যদি ঘুম না আসতে চায় তবে বিছানা ছেড়ে উঠে ঘরের মধ্যে পায়চারী করুন, লো ভলিয়মে পছন্দের মিউজিক শুনুন, পছন্দের বই পড়ুন তন্দ্র আসলে আবার বিছনায় শুয়ে পরুন।

৫. রাতে খাবার ৮টার পূর্বেই শেষ করে আধাঘন্টা পায়চারী করেন। গল্পগুজব করে কাটিয়ে দিন ২ঘন্টা। রাতে খাবার অবশ্যই হালকা এবং সহজপাচ্য হতে হবে। শুতে যাবার পূর্বে ১কাপ গরম দুধ ও ১০-১৫টি কিসমিস খেয়ে ভারমত দাঁত ব্রাশ করে বিছনায় রাত ১০টার মধ্যে ঘুমতে যেতে হবে।

৬. শোয়ার পূর্বে মোবাইলে বেশিক্ষণ আলাপ, শুয়ে শুয়ে টিভি দেখা বা বই পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭. শোয়ার পূর্বে বিছানায় সুখ আসনে বসে ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে ১০ মিনিট গভীরভাবে লম্বা নিঃশ্বাস নিবেন এবং ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছেড়ে দিবেন। এটা নিদ্রা আসতে সহয়তা করবে।

৮. ঘুমের পূর্বে মাথায় ম্যাসেজ করতে পারলে ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়বে এতে ঘুম আসবে।

৯. তৃতীয় নয়ন বলে পরিচিত পিনিয়িাল গ্রন্থি মাথার পিছোনে ব্রেণের মাঝখানে এর অবস্থান। রাতে ঘুম আসার জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটনিন নামক এক ধরণের হরমোন নিঃস্বরণ করে। এটা রক্তে মিশলেই মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। এই পিনিয়াল গ্রন্থি অন্ধকারে বেশী সক্রিয় হয়। আলো থাকলে মেলাটেনিন নিঃস্বরণ সাধারণত করে না তাই ঘুমানোর পূর্বে ঘরটা অন্ধকার করে নিলে ভাল নয়ত জিরো পাওয়ারের রঙ্গিন বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা যেতে পারে।

১০. দেহ সুস্থ্য এবং সবল রাখতে সকালের নাস্তা বিশেষ ভূমিকা রাখে। সাধারণত রাত ৮ টায় রাতের খাবার শেষ করে সকাল ৭:৩০টার মধ্যে ভালোমতো সুষম নাস্তা করা জরুরি। তবে যারা অসুস্থ তারা সকাল ৬:৩০ মিনিটের মধ্যে নাস্তা করলে সুফল পাবে। অভ্যাসগতভাবে যারা অধিক রাত অবদি জেগে থাকে এবং দেরি করে ঘুম থেকে উঠে তাদের উপযুক্ত শরীরবৃত্তের নির্দিষ্ট কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে বিঘ্নিত  হয় এবং বিশেষ করে বিষ/বর্জ্য নির্গমণের প্রক্রিয়া দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

১১. নিয়মিত স্বাস্থ্য চর্চা যেমন ভোরে হাঁটা কিংবা যোগ ব্যায়াম, রাতে নি:শ্বাস নিয়ন্ত্রনের ব্যায়াম এবং রাতের খাওয়ার পর ১৫/২০ মি: হাটলে অনিদ্রা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কাজ থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গরম পানিতে পা দুটি ডুবিয়ে ১৫ মি: থাকলে শরীরের অবসাদ অনেকটা কমে যায়।

১২. রাতে শোয়ার পূর্বে দুই পায়ের তলায় রসুন তেল কিছুক্ষণ মালিশ করে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে ঘুমাতে গেলে ভাল ঘুম হয়। .

অনিদ্রায় আকুপ্রেসার
অনিদ্রায় আকুপ্রেসার অনেক কার্যকর একটি পদ্ধতি, যারা অনিদ্রা জনিত রোগে ভুগছেন কিংবা ঔষধের আশ্রয়ে ঘুমতে যান তাদের জন্য আকুপ্রেসার করা জরুরী। রাতে ঘুমাবার পূর্বে ১০ মিনিট ফুট রোলার পায়ে ঘষতে হবে তারপর হাতের আঙ্গুলের প্রতিটি ফাঁেক আস্তে আস্তে চাপ দিতে হবে। প্রতিদিন দুবেলা দুই হাতে ১০ মিনিট আকুপ্রেসার করুন। আকুপ্রেসার করার পদ্ধতী হচ্ছে প্রথমে দুহাত একটু ঘষে নিন, তারপর আকুপ্রেসার করুন, আশাকরি ঘুম এসে যাবে। ছবিতে আকুপ্রেসার পয়েন্টগুলো নার্ভ হিসেবে দেওয়া আছে, সেগুলো চাপ দিন, নিয়মিত আকুপ্রেসার করলে অনিদ্রাজণিত সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আকুপ্রেসার সবসময় খালি পেটে করতে হয়, খাওয়ার পর পর আকুপ্রেসার ও করা যাবে না ঘুমাতেও যাওয়া যাবে না।

Basic CMYK
Basic CMYK

এছাড়া চেষ্টা করতে হবে যেন সবসময় প্রফুল্ল চিত্তে টেনশনমুক্ত দিন অতিবাহিত করা যায়। যদিও বর্তমান সময়ে এটা বেশ কঠিন তবুও চেষ্টা করতে কোন ক্ষতি নেই। হয়ত চেষ্টা করতে করতে মনের এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণ এমনিতেই এসে যাবে।

এর জন্য গুরুত্বর্পূণ বিষয় জানা প্রয়োজন ঃ
১. সন্ধ্যা ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাপক লসিকাগ্রন্থির বর্জ্য বা বিষত্যাগ করার সময়। এই সময়টা কোনো কাজ না করে বিশ্রামে থাকলে অথবা মৃদুগানের সুর শোনা অবস্থায় মগ্ন থাকলে বর্জ্য ত্যাগ করা সহজতর হয় এবং লসিকাগ্রন্থি সবল থাকে।

২. রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত লিভারের বর্জ্য এবং বিষত্যাগ করার সময়। এই সময় গভীর ঘুমে থাকা প্রয়োজন। জেগে থাকলে লিভারের বিষ সম্পূর্ন বের হতে পারবে না। পরবর্তিতে এই জমে থাকা বিষ লিভারের কার্যক্ষমতা বিগ্নিত করে। এই জন্যই দেখা যায় যাদের রাত্র জাগরণের অভ্যাস আছে তাদের হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং সহজেই রোগআক্রান্ত হয়ে থাকে।

৩. রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গলব্লাডারে সারাদিনের জমে যাওয়া বিষ র্নিগত হাওয়ার সময়। এই সময়টা ঘুমিয়ে থাকা গলব্লাডারকে সুস্থ রাখার জন্য জরুরি।

৪. ভোর ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফুসফুস থেকে বর্জ্য র্নিগমণের আদর্শ সময়। ফুসফুসে জমে থাকা কফ বা এইজাতীয় আঠালো ধরনের কিছু তরল পদার্থ ফুসফুস থেকে বেরিয়ে গলার কাছাকাছি চলে আসে। অনেককেই ভোরে গলাখাকারি দিয়ে ঘন থুতু ফেলতে দেখা যায়। এছাড়া অ্যাজমা, হাঁপানী রোগীদের প্রায় সময় দেখা যায়, শেষ রাতে অনেক কাশির উদ্রেক হয়।

৫. সকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোলন থেকে বর্জ্য এবং মল নির্গমণের সময়। পরিষ্কারভাবে মল বের হাওয়ার জন্য প্রস্তুতি হিসাবে ঘুম থেকে উঠে বাসিমুখে ২ গ্লাস বিষুদ্ধ পানিপান করে কিছুক্ষণ বসে থাকলে মলের বেগ অনুভূত হবে। পরিষ্কার না হাওয়া পর্যন্ত অপন মুদ্রার আসনে বাথরুমে বসে থাকার অভ্যাস করবেন। প্রতিদিন নিয়মিত পেট বা কোলন পরিষ্কার হলে ধরে নিতে পারেন আপনি সুস্থতার পথেই আছেন।

৬. এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত হাড়ের মজ্জা থেকে রক্তের লৌহকণিকা উৎপাদিত হয়। শরীরের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ না থাকলে রক্ত উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে তাই এই সময় গভীর ঘুমের প্রয়োজন। দেখা যায়, যারা বেশি রাত্রি জাগরণ করার অভ্যাস আছে তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। আমরা জানি, রক্তে হিমোগ্লোবিন সমস্ত শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

৭. সকাল ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত শরীর সারা দিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করার জন্য উদগ্রীবভাবে প্রস্তুত থাকে। এই সময় সব ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য (অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ, গম, কোয়েলের ডিম, ফল, দুধ, টকদই, ঢেঁকিছাঁটা চাল, চিড়া, যব, আখের গুড় ইত্যাদি) গ্রহণ করা উচিত।

প্রাকৃতিক ভাবে ঘুম আসার জন্য নিন্মের ঔষধীগুণ সম্পন্ন পথ্যখাদ্য গ্রহন করলে অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে পারেন যেমন : –

১. যে কোন কারণে বা মানসিক দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না অথবা তন্দ্র আসার মূহুর্তে চমকে উঠে ঘুম ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রে তুলসী পাতা এক টেবিল চামচ অথবা শুকনা আধা চা-চামচ ৩ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ হলে তা নামিয়ে ছেঁেক সামান্য দুধ মিশিয়ে সকাল সন্ধ্যা পান করলে অনিদ্রা জণিত সমস্যা দূর হবে।
২. রাতে শোবার পূবে কাঁচা অথবা শুকনা আমলকি দুধে বেঁটে কপালে লাগালে ঘুম আসবে।
৩. শুকনো মেহেদী ফুলের বালিশে শুলে ফুলের সৌরভে ঘুম আসে। আগেকার দিনে রাজা বাদশাহগণ ঘুমের জন্য এই বালিশের ব্যবহার করতেন।
৪. অনিদ্রা অথবা অল্প নিদ্রার রোগীদের জন্য মোক্ষম ঔষুধ দিনে একবার একটা মাঝারি সাইজের ডালিমের রস ও ঘৃতকাঞ্চন এর রস এক টেবিল চামচ মিশিয়ে সকাল বিকাল পান করলে ঘুম আসবে।
৫. কুলেখাড়া ( কাঁটা নটে) শাকের শিকড়ের রস ৩/৪ চাচামচ অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে সন্ধ্যার পর খাওয়ালে সুনিদ্রা হয়।

AALAMআলমগীর আলম
আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ
ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
৮৩. নয়া পল্টন, ফ্লাট – বি ৭ (গাজীনীড়), ঢাকা
মোবাইল – ০১৬১১০১০০১১

LEAVE A REPLY