কিডনি সু্স্থ রাখার উপায়, অসুস্থ কিডনির সুস্থ করার উপায়।

0
589

কিডনি মানব দেহের ফিল্টার

মানুষের দেহে মটরশুটি বিচির মতো দেখতে ছোট দুটি কিডনি থাকে যার অবস্থান পিঠের নিচের দিকে এর আয়তন লম্বায় ১০ সি.এম (৪”) চওড়ায় ৬.৪ সি.এম (২.৫৬”)। কিডনি দেহের জন্য একটি অপরিহার্য অর্গান যা অনেক ধরনের কাজ করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রক্ত থেকে ইউরিয়া, বাড়তি মিনারেল, লবণ, টক্্িরন এবং অন্যান্য তরল বর্জ আলাদা করে দেয়াএ প্রতিটি মানুষ দেহে দুইটি কিডনি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। কেউ যদি একটা কিডনি নিয়ে জন্ম নেয় অথবা কোনো কারণে যদি একটা কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় তারপরও একটি কিডনি শরীর পরিচালনায় অসুবিধা হয় না।

[ File # csp5576624, License # 1631883 ] Licensed through http://www.canstockphoto.com in accordance with the End User License Agreement (http://www.canstockphoto.com/legal.php) (c) Can Stock Photo Inc. / megija

প্রয়োজনের তুলনায় শরীরের বাড়তি পানি প্রসাবের মাধ্যমে কিডনি বের করে দেয়। এর পাশাপাশি কিডনি শরীরের এমন কিছু বিরল ও অতীব প্রয়োজনীয় কাজ করে থাকে, যা না হলে শরীরকে কিছুতেই সুস্থ রাখা সম্ভব হতো না। যেমনঃ-

১. দৈনদিন খাবার হজম প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে রক্তে যে-সব টক্সিন চলে আসে তার সিংহভাগই ইউরিক এসিড এবং ইউরিয়া। কিডনি এগুলিকে নিঃসরণের মাধ্যমে শরীরকে টক্সিন মুক্ত করে। এই নিঃসরণ প্রক্রিয়া সবসময় চলতে থাকে বলেই রক্ত সবসময় দেহের জন্য কার্যকর অবস্থায় থাকে।

২. শরীর পরিচালনার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির চাহিদা না থাকলে শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করতে থাকবে যা দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিডনি শরীরের প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ সবসময় ঠিক রাখে। এছাড়া প্রতিদিন বা প্রতিমুহুর্ত রক্তে কতটুকু পানি থাকা প্রয়োজন সেটা সবসময় নিশ্চিত করে কিডনি। রক্তে পানির পরিমাণ কখনও বেশি হলে তা বের করে দেয় আবার ঘাটতি হলে অন্যান্য অর্গান থেকে পানি শোষণ করে রক্তে পানির চাহিদা পূরণ করে। দেহে পানির চাহিদা পরিমাণের ভারসাম্য রক্ষা করে কিডনি।

৩. একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানির প্রয়োজন। পিপাসাবোধ হওয়ার পূর্বেই নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পানিপান করতে হবে। একবারে বেশি করে পানিপান করলে অন্ত্রের ভিতর দিয়ে রক্তে পৌঁছে রক্তকে প্রয়োজনের অধিক পাতলা করে ফেলে এবং অতিরিক্ত পানিকে কিডনী অধিক পরিশ্রমের দ্বারা ইউরিন ব্লাডারে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া খাদ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণটাকেও পানির সঙ্গে প্রসাবের থলিতে পাঠিয়ে দেবে এবং রক্তে লবণের প্রয়োজনীয় মাত্রা ঠিক রাখবে ।

৪. কিডনি রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ যদি কোনো সময় রক্তের চাপ কমে যায় তখন কিডনি এক ধরনের এনজাইম নিঃসরণ করে থাকে যাকে বলা হয় বেনিন। এই বেনিন রক্তের আমিষকে প্রয়োজনমতো একধরনের হরমোনে রুপান্তরিত করে, ঐ হরমন রক্তের লবণ এবং পানি শোষণ করে লবণের প্রয়োজনীয় মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের চাপ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলেই কেবল বেনিন নামক এনজাইম নিঃসরন করতে পারে না ফলে রক্তের নিম্নচাপ নামক উপসর্গ দেখা দিতে থাকবে।

৫. রক্তে লবণের মাত্রা কম বা বেশি হলে উচ্চরক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ দেখা দেয়ঃ নিম্নচাপ দেখা দিলে মাথা ঘুরতে থাকবে তখন বুঝতে হবে রক্তে লবণের ঘাটতি রয়েছে। লবণপানি বা লবণ মিশ্রিত সরবত পান করলে অল্প সময়ের মধ্যে রক্তের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

৬. পক্ষান্তরে, রক্তে লবণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে উচ্চরক্তচাপ নামক উপসর্গ দেখা দেয়। উচ্চরক্তচাপ দেখা দিলে ঘাঁড়ে ব্যথা অনুভব হয় এবং শরীরে অস্থিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতির উদ্ভব হলে কিছুদিন লবণ বর্জন করলে উচ্চরক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। রক্তে PH (Power of hydrogen ) এর মাত্রা ৭.৪ এর উপরে অথবা নিচে গেলে দেহে অশুভ বার্তা বয়ে আনে। বিরল গুণের অধিকারী কিডনি, এসিডিক হয়ে যাওয়া রক্তের হাইড্রোজেন আয়নের পরমাণু সরিয়ে রক্তের PH এর মাত্রা স্বাভাবিক করে দেয়।

৭. গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর অভাবে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, গ্রহণ করতে পারে না। আর্শ্চাযের বিষয়, কিডনি খাদ্যের মধ্যেকার ভিটামিন ডি সক্রিয় করে ক্যালসিয়াম গৃহীত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করে হাঁড়ের গঠন সংরক্ষণে ভূমকা রাখে।

৮. কিডনি শরীরের প্রয়োজনীয় অনেকগুলি হরমোন নিঃসরণ করে যার মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি হরমোন হাঁড়ের মজ্জা থেকে রক্তের লাল কনিকা উৎপাদন করতে সাহায্য করে। রক্তে এই লাল কনিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ শরীরের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন রক্তের লাল কণিকার মাধ্যমেই সমস্ত কোষে কোষে পৌঁছে যায়।

৯. কিডনির প্রধান কাজের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ, এটি সব সময় সতর্ক থাকে। যখনই রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা কমে যায় সাথে সাথে ঐ বিশেষ হরমোন উৎপাদন করতে থাকে যতক্ষণ না হাড়ের মজ্জা থেকে উৎপাদিত লাল কণিকার ঘাটতি পূরণ হয়। শরীর পরিচালনার জন্য কিডনী সব সময় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই কিডনীর সুস্থতা,কর্মক্ষমতা দক্ষতা শরীরের জন্যে কতটা প্রয়োজনীয় তা সহজেই অনুমেয়।

সংক্ষেপে কিডনির যে-সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে :

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত লোকের সংখ্যা কোটির উপর ছাড়িয়ে গেছে। সঙ্গত কারণগুলি মধ্যে প্রধান এবং একমাত্র কারণ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী, ক্যামিক্যাল মিশ্রিত ফলমূল, মাছ এবং রাসায়নিক খাদ্য দ্বারা মোটাতাজা করা মাংস। এছাড়া অজ্ঞতা, অসচেনতা এবং ভালোমানের খাদ্যদ্রবের দুষ্প্রাপ্যতা।

গবেষণায় দেখা গেছে, শোধিত শ্বেতসার, (চিনি বা ময়দা) অধিক পরিমান মাছ, মাংস কিডনির জন্য ক্ষতিকর, যদি না খাবারের মধ্যে একটা বড় অংশ প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফল, শাকসবজি এবং দুধ না থাকে। নানা রকম রঙিনফল এবং সবজি দ্বারা কিডনি সুস্থ রাখা যায়। আর এভাবেই কিডনি সমস্যার সমাধান করা যায়।

যে কারণ গুলো কিডনির স্বক্ষমতা নষ্ট করে।

১. প্রস্রাব আটকে রাখা
২. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
৩. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
৪. সংক্রমণ জনিত রোগের দ্রুত চিকিৎসা না করা
৫. মাছ, মাংস বেশী খাওয়া
৬. প্রয়োজনের তুলনা বেশী কিংবা কম খাওয়া
৭. অতিরিক্ত ঔষধ খাওয়াই এর পার্শপ্রতিক্রিয়াূ
৮. অতিরিক্ত মদ খাওয়া
৯. পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া

কিডনি সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলে :

পাকা লাল মরিচঃ
আধাকাপ লাল মরিচে একগ্রাম লবণ ৮৮ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ১০ গ্রাম ফসফরাস আছে। এই মরিচে পটাসিয়াম সামান্য কিন্তু এতে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি- ৬ ছাড়াও ফলিক এসিড আছে যা শরীরের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এছাড়া এতে লাইকোপেন নামক একধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে। কিডনি রোগীর খাবারে লাল মরিচ রাখলে এবং নিয়মিত খেলে কিডনির সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়। এটা তরকারীর সাথে খাওয়া যেতে পারে অথবা সামান্য সিদ্ধ করে ভর্তা করেও খাওয়া যাবে। ডিম মামলেটের মধ্যে দেয়া যাবে। মোটকথা কাঁচা মরিচের বদলে পাকা লালমরিচ খেলে কিডনী ভাল থাকবে।

বাঁধাকপি এবং ফুলকপিঃ

যদিও বাঁধাকপি এবং ফুলকপি শীতকালীন ক্রুসিফেরাস গ্র“পের সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোক্যামিক্যাল যা দেহের সৃষ্ট ফ্রি র‌্যাডিক্যাল শরীরের কোনো ক্ষতি করার পূর্বেই ধ্বংস করে ফেলে এবং কয়েক রকম ফ্রি র‌্যাডিক্যাল আছে যা ক্যান্সার কোষগুলিকে নিস্ক্রিয় করতে পারে। এছাড়া এই সবজিতে ভিটামিন কে, সি, বি-৬ এবং ফলিক এসিড আছে। পটাসিয়ামের পরিমাণ সামান্য আছে বলেই এটা কিডনির খাবারের মেনুতে রাখা যায়।

রসুনঃ

এক কোয়া রসুনে এক মিলিগ্রাম লবণ, ১২ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৪ মিলিগ্রাম ফসফরাস আছে। নিয়মিত রসুন খেলে দাঁতের গোড়ায় পাথর হয় না এবং রক্তে কোলোস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটা ডায়ালসিস রোগীর খাবারের মেনুতে রাখা যায়।

পেঁয়াজঃ

আধাকাপ পেঁয়াজে ৩ মিলিগ্রাম লবণ, ১১৬ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস আছে। এতে কয়েক রকম ফাইটোক্যামিক্যাল আছে যা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, এর মধ্যে ক্রোমিয়াম নামক মিনারেল আছে যার ফলে শ্বেতসার, চর্বি এবং আমিষ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য হজম হতে সাহায্য করে। কিডনির রোগীদের খাদ্য তালিকায় নানা রঙের পেঁয়াজ ব্যবহার করা যায়।

আপেলঃ

মাঝারি ধরনের আপেলে লবণ নাই শুধু ১৫৮ মিলি পটাসিয়াম এবং ১০ মিলি ফসফরাস আছে। প্রবাদ আছে প্রতিদিন একটা আপেল খেলে ডাক্তারকে দূরে রাখা যায়। এই প্রবাদকে মনে রেখে প্রতিদিন একটা আপেল খাওয়া উচিত। এটা রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। এছাড়া যে-কোনো ধরনের ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে। যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়া আপেল খেতে পারে। বিশেষ করে আপেল থেকে তৈরি ভিনেগার (Apple Seeder Vinegar)  কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।

করমচা :

আধাকাপ করমচার জুসে আছে ৩ মিলিগ্রাম লবণ, ২২ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস আধাকাপ শুকনা করমচায় আছে ২ মিলিগ্রাম লবণ, ২৪ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৫ মিলিগ্রাম ফসফরাস। উগ্র ঝাজযুক্ত টকজাতীয় ফল, করমচা খেলে মুত্রথলিতে কোনোরকমের ক্ষত বা ইনফেকশন হতে দেয় না এবং ক্ষতিকর রোগ জীবাণু থেকে মুত্রনালীকে রক্ষা করে। এছাড়া পাকস্থলিকেও জীবাণুগঠিত ক্ষত হতে রক্ষা করে। করমচার বিরল গুণের মধ্যে প্রধান, এটা দেহকে ক্যান্সার এবং হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ ঋতুর ফল হিসাবে করমচা কিডনি রোগের পথ্য হিসাবে একটি উৎকৃষ্ট ফল।

কালোজামঃ

আধাকাপ জামে আছে ৪ মিলিগ্রাম লবণ, ৬৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস। কালোজাম একটি উচ্চমানসম্মত এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোক্যামিক্যাল সমৃদ্ধ ফল। এতে ভিটামিন এবং ম্যাঙ্গানিজ আছে। হাঁড়ের স্বাস্থ ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। দেহের জন্য উপযুক্ত ক্যামিক্যাল আছে যা মস্তিষ্ককে নানাভাবে রক্ষা করে এবং বার্ধক্য রোধ করে। নানাভাবে খাওয়া গেলেও কালোজামের জুস খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি যে-কোনো বয়সের লোকের জন্য খাওয়ার উপযোগী।

লাল আঙ্গুরঃ

আধাকাপ লাল আঙ্গুরে আছে ১ মিলিগ্রাম লবণ, ৮৮ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৪ মিলিগ্রাম ফসফরাস। লাল আঙ্গুরে ফ্লাডোলয়েড নামক একধরনের ক্যামিক্যাল আছে যার কারণে এটাকে লাল দেখা যায়। ফ্লাডোলয়েড হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে এবং দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না ফলে রক্ত চলাচলের গতিকে স্বাভাবিক পর্যায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধ করার বিরল গুণের অধিকারী এই লাল আঙ্গুর। নিয়মিত এই লাল আঙ্গুর গ্রহণ করলে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কিডনি রোগগ্রস্থ হলে একে সারিয়ে তোলে।

ডিমের সাদা অংশঃ

২টি ডিমের সাদা অংশে আছে ৭ মিলিগ্রাম আমিষ, ১১০ মিলিগ্রাম লবণ, ১০৮ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ১০ মিলিগ্রাম ফসফরাস। ডিমের সাদা অংশ একটি নির্ভেজাল খাঁটি আমিষ যার মধ্যে প্রায় সবগুলি জরুরি এমাইনো এসিড বিদ্যমান। শরীরে ৮ প্রকার জরুরি এমাইনো এসিডের প্রয়োজন হয়। কিডনি রোগীদের জন্য ডিমের সাদা অংশ আমিষের প্রয়োজন মেটাতে পারে যেটা মাছ ও মাংস হতে উৎকৃষ্ট। এক্ষেত্রে কোয়েল পাখির পরিপূর্ণ সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার সর্বত্তম।

আমাদের অবশ্যই জানা দরকার রাত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শরীরের অভ্যন্তরে ধারাবাহিকভাবে কিছু কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটতে থাকে যেগুলির মধ্যে বিভিন্ন অর্গান শরীরে সৃষ্ট বর্জ বা বিষ নির্গমন উল্লেখ্যযোগ্য। এই বিষ নির্গমনের কার্যক্রম যথাযথ পালনের সুযোগ সৃষ্টি করার দায়িত্ব আপনারই, অন্যকারও নয়। সুস্থ জীবন প্রণালী স্বাস্থ্য বান্ধব খাদ্যাভাস এবং দুচিন্তাহীন জীবনই কিডনিসহ সমস্ত অর্গান সুস্থ রাখার উত্তম উপায়।

কিডনীকে সচল ও সবল রাখার উপায় :

১। এক গ্লাস পানি একবারে ঢকঢক করে পান না করে মুখ ভরে একঢোক পানি আস্তে আস্তে পান করতে হবে। একবারে পান করলে কিডনির উপর প্রবল চাপ পড়ে।

২। সূর্যের আলো সরাসরি শরীরে লাগালে চামড়ার কোষের মধ্যে একধরনের রাসায়নিক ক্রিয়ার দ্বারা ভিটামিন ডি তৈরি করে। ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হাঁড়ের ক্ষয় পূরণ করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং শরীরে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে যা কিডনির জন্য অতীব প্রয়োজন। সারাদিন মাত্র ১৫ মিনিট রোদে থাকলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন শরীরে তৈরি হবে এবং কিডনি অতিরিক্ত কাজ করা থেকে রেহাই পাবে। ভিটামিন ডি এর মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় কমে গেলে কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং হৃদরোগ সহ অনেক রোগ হতে পারে।

৩। সবজি এবং ফলের রস কিডনিকে সচল রাখতে সহায়তা করে এবং রোগাগ্রস্থ হলে ফলের রস পান করলে শরীর ভালো হয়ে যায়। ফলের রসের মধ্যে তরমুজ, জাম, করমচা, সেলারি পারসলে, শসা, গাজর, বিট উল্লেখযোগ্য। ফলের রস খাবার জন্য কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই। যখন খুশি তখনই ফল বা সবজি খাওয়া যেতে পারে। তবে ভরাপেটে খাওয়া যাবে না। ফল বা সবজির রসে ৫০ ভাগ রস এবং ৫০ ভাগ পানি মিশিয়ে পান করতে হবে। পটাসিয়ামের পরিমাণ রক্তে যদি বেশি থাকে তবে পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফল সীমিত মাত্রায় খেতে হবে।

৪। প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম, আকুপ্রেসার অথবা জোরে জোরে হাঁটা শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। ব্যায়াম ও আকুপ্রেসার করলে শুধু কিডনিই ভালো থাকে না অন্য অনেক উপকার পাওয়া যায় যেমন:

রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
উচ্চরক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।
কালেস্টরেল কমায়।
রক্তের সঞ্চালন গতি বাড়ে।
শরীরের পানিধারণ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
টেনশনমুক্ত এবং মেজাজ ফুরফুরে থাকে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ব্যায়াম বলতে শুধু হাঁটা না, আরও অনেক রকম ব্যায়াম করা যায় । যেমন: সাঁতার, ধীরলয়ে দৌড়ান যে-কোন খেলা। যেমন: টেনিস, ব্যাডমিন্টন, নাচা, সাইক্লিং ইত্যাদি। আর আকুপ্রেসার করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পয়েন্ট জেনে।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, যে কোনো ব্যায়াম করার সময় যদি আনন্দ পাওয়া যায় তবে মন এবং দেহ উভয়ে এর জন্য উপকারী হবে। শরীর ভালো রাখার জন্য সপ্তাহে ৪ দিন প্রতিদিন ৩০-৬০ মিনিট মধ্যম গতিতে ব্যায়ম বা হাঁটলেই যথেষ্ট। কোনোক্রমেই এমন ব্যায়াম করা যাবে না যাতে আপনার হাপ ধরে যায় অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ঐ ধরনের কঠিন ব্যায়াম করলে কিডনি ক্রিটিনাইন বেড়ে যেতে পারে।

৫। কিডনির কার্যক্রম বিনষ্ট হওয়ার প্রধান কারণের মধ্যে অন্যতম হলো ডায়াবেটিস। কিডনি ভালো রাখতে অথবা কিডনি রোগ সারাতে রক্তে চিনির পরিমাণ অবশ্য অবশ্যই, নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। যেভাবেই হোক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারলে কিডনি খারাপের দিকে যেতে থাকবে।

৬। উচ্চরক্তচাপও আরেকটি কারণ হিসাবে বিবেচিত। কিডনি দৈনিক প্রায় ১৫০-১৮০ লিটার রক্ত পরিশোধিত করে। রক্তের চাপ বেশি হলে কিডনির কার্যক্রম অতিরিক্ত বেড়ে যায়। প্রাকৃতিক অথবা এলোপ্যাথিক যেটাই হোক না কেন চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

কিডনী পরিষ্কার রাখা এবং পরিষ্কার করার নিয়ম :
খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন যদি গরু, ছাগল, মুরগির মাংস এবং মাছ থাকে তাহলে আমিষের বর্জ্য ফিল্টার করতে কিডনিকে চাপের মধ্যে পড়তে হয়। এই চাপ নিয়মিত দিতে থাকলে একসময় কিডনি দুর্বল হয়ে রোগাগ্রস্ত হতে পারে বা এর আয়তন বেড়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে খাবার মেনুতে সবজি, ফল এবং টাটকা সালাদ সংযোজন করতে হবে। সবজি এবং ফল প্রাকৃতিকভাবে কিডনি পরিষ্কার করার উপাদান আছে। কিডনি সাফ করার সবজি এবং ফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য –

ফল: শুকনা ফলঃ
(Almond) বাদাম এবং চিলগোজা খেলে দুর্বল কিডনি সবল হবে।

তাজা ফল
১. নিয়মিত ড্রাগন ফলের রস খেলে দুর্বল কিডনি সবল হয়ে উঠবে।
২. আম কিডনির জন্য অনেক উপকারী। আম খেলে কিডনি কখনই দুর্বল হবে না।
৩. প্রতিদিন খালি পেটে ৬০- ১০০ গ্রাম তাঁজা পাঁকা আনারস খেলে কিডনির পাথর বেরিয়ে যায়।
৪. কচি ডাবের পানি কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
৫. ২০০ মি.লি পানিতে একটেবিল চামচ আধা ভাঙ্গা তরমুজের বিচি ১০ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পানিটা দিনে একবার পর পর তিন দিন পান করলে কিডনি পরিষ্কার হবে।
৬. এককাপ গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস এক চা চামচ মধু মিশিয়ে সকালে নাস্তা খাওয়ার পূর্বে নিয়মিত পান করলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়।
৭. খালি পেটে সকালে এককাপ কালো চা (দুধ চিনি ছাড়া) পান করতে হবে।

** শরীরের ওজন যত কেজি তত আউন্স পানি প্রতিদিন প্রয়োজন। যেমন: শরীরের ওজন ৮০ কেজি পানির প্রয়োজন ৮০ আউন্স= ৮-১০ গ্লাস।

আকুপ্রেসারের মাধ্যেমে কিডনি সুস্থ রাখার উপায়।

আকুপ্রেসারের মাধ্যমে কিডনি সুস্থ রাখা এক কার্যকর প্রাকৃতিক পদ্ধতী। এই আকুপ্রেসার দ্বারা কিডনি জটিল ও কঠিন রোগে রোগক্রান্ত নিরাময় করা যায়। প্রয়োজন হবে স্বাস্থ্য বিধি জানা এবং আকুপ্রেসার পয়েন্টগুলো ভালভাবে জেনে নেওয়া এক্ষেত্রে নিজে নিজের চিকিৎসা করা সম্ভব তবে একজন অভিজ্ঞা আকুপ্রেসারিষ্ট দ্বারা থেরাপী নিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। তবে সুস্থ অবস্থায় নিয়মিত কিডনির আকুপ্রেসার করলে রোগ হওয়ার সম্ভবনা থাকেনা বললেই চলে।

আকুপ্রেসার দ্বারা কিডনির চিকিৎসা করতে হলে কিডনিকে দ্রুত কার্যকর রূপে আনা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে দুটি কাজ করা জরুরি যেমন :

১. কালো চাঃ প্রতিদিন সকালে প্রথমে এককাপ কালো চা খেতে হবে, কালো তৈরী করার নিয়ম হলো এক কাপ পানিতে দুচামচ চা পাতা দিয়ে জ্বাল দিয়ে অর্ধেক করতে হবে, তা ছেঁেক সেই অর্ধেক কাপ চায়ের সাথে আরো আধা কাপ পানি মিশিয়ে পান করতে হবে। এই চায়ে কোন দুধ, চিনি, মধু ব্যবহার করা যাবেনা। এই চা খেতে খুব তিতা হবে। অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই একটু পর ঠিক হয়ে যাবে। এভাবে নিয়মিত দুই সপ্তাহ খেলে চা পান করলে কিডনি স্বক্রিয় হয়ে উঠবে।

২. রূপার পানিঃ ৬০গ্রাম বিশুদ্ধ রূপা, আট গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে দুই গ্লাসে কমিয়ে আনতে হবে। এই রূপার পানি সারাদিন পান করতে হবে, এই পানি চার সপ্তাহ পান করলে কিডনি কার্যকারিতা ফিরে আসবে এবং আকুপ্রেসারের মাধ্যমে রোগ সেরে উঠবে।

Basic CMYK

চিত্রে দেয়া ক্রমনুসারে প্রতিটি পয়েণ্টে প্রতিদিন দুইশো করে চাপ দিতে হবে তিন বেলা খালি পেটে। এতে কিডনির নানান রোগ প্রাকৃতিক ভাবে ঠিক হয় যাবে এবং সুস্থ থাকবে সেই সাথে অবশ্যই খাদ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং লবণ খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। আকুপ্রেসারের মাধ্যমে কিডনি সুস্থ্য রাখার অনেক নজির রয়েছে। এই চিকিৎসায় কোন প্রকার ঔষধ ব্যতিরিকে কিডনি সুস্থ রাখায়। কিডনি সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিতভাবে আকুপ্রেসার করে যেতে হবে। তাতে কোন ধরণের ডায়ালায়েসিস করার প্রয়োজন হবেনা। এবং জটিল ও কঠিন কিডনির রোগীও সুস্থ হবেন কোন ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে।

 

IMG_5843আলমগীর আলম
ভাইস চেয়ারম্যান
ন্যচারোপ্যাথি সেন্টার
83. নয়া পল্টন, গাজী নীড়, বি -৭, জোনাকী সিনেমার হলের বিপরীতে মসজিদ গলি।
মোবাইল : 01611010011

SHARE

LEAVE A REPLY