লাল চালের ভাত কেন খাবো

0
322

শত শত বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদা তথা পূর্বপুরুষদের পরিবেশ বান্ধব দেশীয় ঢেকি ছাঁটা আউশ এবং আমন চালই ছিলো প্রধান খাদ্য। তখন রোগ বালাই ছিল অত্যান্ত কম। সিংহভাগ মানুষ ছিল স্বাস্থ্যবান, বিবেকবান, ধর্মপরায়ণ, অল্পে সন্তুষ্টি, বিনয়ী, অতিথি পরায়ন, শ্রদ্ধাবোধ, ভালবাসা ও মায়া মমতার মত মানবিক গুণে গুণান্বিত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্যের যোগান বাড়াতে ৫০ দশকের পর থেকে কৃষিবিজ্ঞানের কল্যাণে নানা জাতের উচ্চফলনশীল ইরি ধানের উৎপাদন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের জন্য পুষ্টিকর আউস এবং আমন ধানের ফলন কমতে থাকে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন এতই কম যে, বাজারে এই চাল খুঁজে পাওয়া যায় না। উচ্চফলনশীল ধানের কল্যাণে আমরা খাদ্যে সয়ংসর্ম্পূণ হয়েছি বটে বিনিময়ে পেয়েছি পুষ্টির দূভিক্ষ।

ফলে আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছি এবং হচ্ছি। কোষ্ঠকাঠিণ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এ্যাসিডিটি, ওবেসিটি, কিডনি এবং লিভার সংক্রান্ত রোগ এখন ঘরে ঘরে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ মেশিনে মিলিং করা সাদা পরিশোধিত চালের আবরণে লেগে থাকা নানা ধরণের মিনারেল নি:চিহ্ন হয়ে এনার্জি বর্ধনকারী নিরেট শ্বেতসারে (Carbohydrate)রূপান্তরিত হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য।

পুষ্টি বিবেচনায় লাল এবং সাদা চাল (পরিমাণ ১ কাপ)
লাল ভাতের ক্যালোরী সাদা ভাতের প্রায় সমান, যা দেহে এনার্জি প্রদান করে থাকে।
খাদ্যে আঁশ : সাদা ভাতে আছে ০.৬ গ্রাম পক্ষান্তরে লালভাতে আছে ৩.৫ গ্রাম, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং এর (Glysomic Index)কম বিধায় সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
ক্যালসিয়াম : সাদা ভাতে লেস মাত্র নেই, লালভাতে ৬০ এমজি এর উপরে থাকে যা হাড়, দাঁত মজবুত রাখে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে মাংসপেশীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহকে রোগ বালাই আরগ্য করার প্রক্রিয়াকে উজ্জবিত করে।
আয়রন : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে ৩.৪ এমজি থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করে, চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্লান্তি দূর করে।
ম্যাগনেসিয়াম : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে থাকে ২৭২ এমজি, যা স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে, হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে এবং ভিটামিন বি এবং ই এর কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
ফসফরাস : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাতে থাকে ৫০০ এমজি, যা চুলের বৃদ্ধি, হৃদপিন্ড এবং কিডনির কার্যক্রম ঠিক রাখে, দেহে এসিড এবং এ্যালকালাইন এর ভারসাম্য রক্ষা করে।
পটাসিয়াম : সাদা ভাতে শূণ্য। লাল ভাত থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৫০৯ এমজি, যা দেহের পানির ভারসাম্যতা রক্ষা করে। মাংসপেশীর সংকোচন সহজ করে, মেয়েদের হরমোনের সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
সোডিয়াম : সাদা ভাতের চাইতে লাল ভাতে বেশি থাকে যা, দেহের পানি ভারসাম্য রক্ষা করে স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
জিঙ্ক : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে পাওয়া যায় ৩.৮ এমজি যা, চুল ও চামড়ার স্বাস্থ্য সুন্দর রাখে। ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে নিরাময় হয়, সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। গর্ভধারণ এবং পুরুষত্ব স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
কপার : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে সামান্য পরিমাণে থাকে ০.৫ এমজি যা খাদ্য হতে প্রাপ্ত লৌহ কে হিমোগ্লোবিনে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এছাড়া শরীরে ভিটামিন সি এর ব্যবহার নিশ্চিত করে।
ম্যাঙ্গানিজ : সাদা ভাতে শূণ্য। লালভাতে থাকে ৭.৯ এমজি যা স্নায়ু এবং মস্তিস্কে পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে, এছাড়া চর্বি এবং আমিষ হজম করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
এবার আপনি বেছে নিন আপনি কোন চালের ভাত খাবেন ?
শহীদ আহমেদ
প্রধান নির্বাহী, ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার

SHARE

LEAVE A REPLY