ক্যান্সার

0
66

ক্যান্সার কি ?
ক্যান্সার একটি ভয়াবহ মরণঘাতি রোগ। এরোগ হয়ে মানুষ যতনা মরে তার চেয়ে বেশী মরে ভয়ে, যখন সে জানতে পারে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। আজও পর্যন্ত ক্যান্সার রোগ হওয়ার কারণ জানা যায়নি। “যখন কোন একটি কোষ অজানা কারণে অনিয়ন্ত্রিত এবং অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত করে যে রোগের সৃষ্টি হয় তাকে ক্যান্সার বলে”। একবার ক্যান্সার হলে তার কোন এনসার নাই এই প্রতিপাদ্যটি এখন পর্যন্ত প্রযোজ্য। কারণ আজ পর্যন্ত যুক্তিযুক্ত ক্যান্সার নিরাময়ের যোগ্য কোন ঔষধ আবিস্কার হয়নি। তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক চিকিৎসা বাদে যে সকল চিকিৎসা করা হয় তা এতই ব্যয়বহুল যে বাঁচার গ্যারান্টি না থাকলেও ফতুর হওয়ার নিশ্চিত গ্যারান্টি আছে।

ক্যান্সার কিভাবে হয় ?
মানব দেহে লক্ষ কোটি কোষ আছে যার মধ্যে থেকে প্রতিদিন অবিরাম ভাবে অসংখ্য কোষ ধ্বংস হচ্ছে আবার নতুন নতুন কোষ তৈরী হয়ে ঐ শূণ্যস্থান পূরণ করছে। কোষের ধ্বংস এবং সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াটি শরীরের কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রত প্লিহা দ্বারা সংগঠিত হয় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত কোষগুলি রক্তে মিশ্রিত হয়ে কিডনির মাধ্যমে প্র¯্রাবের সঙ্গে দেহে থেকে বের হয়ে যায়। এটি সয়ংক্রিয় এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যখন কোন কারণে নতুন কোষ সৃষ্টি থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত কোষের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় তখন ধ্বংসপ্রাপ্ত কোষের বর্জ সর্ম্পূণভাবে দেহ থেকে বের হতে না পারলে দেহের মধ্যে যেখানে সেখানে টক্সিন (বিষ) আকারে জমতে থাকে।
এই প্রক্রিয়া বহুদিন যাবত চলতে থাকলে দেহে যে কোন একটি কোষ আক্রান্ত হয়ে টিউমার কোষে রূপান্তরিত হয়। এখান থেকে ক্যান্সারের যাত্রা শুরু হলেও এর প্রকাশ হয় অনেক সময় পরে, এমন কি বহুবছর লাগে। ক্যান্সার প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই আক্রান্ত কোষটাকে ভাল টিউমার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। তবে একবার প্রকাশ পেলে প্রাকৃতিক (পথ্য জাতীয় খাদ্য ও আকুপ্রেসার) চিকিৎসা ছাড়া ক্যান্সার দমন করার ব্যবস্থা খুবই সীমিত।
ধরণ :
শিশুদের মধ্যে সাদা কণিকার বিভিন্ন ক্যান্সার, লসিকা গ্রন্থির ক্যান্সার, কিডনির টিউমার, চোখের ভেতর টিউমার, এমন কি ব্রেইন টিউমার হতে পারে। মহিলাদের যৌন অরগান যেমন – স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় প্রভৃতি স্থানে ক্যান্সার হতে পারে। পুরুষদের বয়স হলে প্রোস্টেড ও অন্ডকোষ ক্যান্সার হবার সম্ভবনা থাকে যদি অতীতে অবিরামভাবে প্রাকৃতিক নিয়ম ভঙ্গ করে থাকে।
পুরুষ ও মহিলাদের শরীরের অভ্যন্তারে যে অরগানে ক্যান্সার জাতীয় টিউমার হয়ে থাকে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে ফুসফুস, পাকস্থলী, বৃহতঅন্ত ও লিভার। এছাড়া অনেক সময় কিডনি, প্যানক্রিয়াস, জ্হিবা, স্বরযন্ত্র, গলানালী, খাদ্য নালী এবং চামড়ার নানান জায়গায় ক্যান্সার দেখা দেয়। ক্যান্সার হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে তবে অজানা কারণে দূর্বলতা একটি প্রধান লক্ষণ।
মহিলাদের ক্যান্সার :
স্তন ক্যান্সার : হলে যত আগে চিহ্নিত করা যায় ততই মঙ্গলজনক। স্তন ক্যান্সার বগলের নিচের গ্লান্ডে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশী। এজন্য ছড়ানোর পূর্বেই সনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন পর্যন্ত স্তন ক্যান্সার হওয়ার কোন সুর্নিদিষ্ট কারণ পাওয়া যায় নাই। তবে বাস্তব কেসষ্টাডির মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব্য কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ – পারিবারিক ইতিহাস, ১২ বছর বয়সের পূর্বেই মাসিক শুরু হওয়া, দেরীতে মনোপজ বা মাসিক বন্ধ হওয়া, ত্রিশ বছর বয়সের পরে প্রথম সন্তান নেওয়া, অবিবাহিত নিঃসন্তান থাকা, শিশুকে বুকের দুধ না পান করানো, চর্বিজাতীয় খাবারে অভ্যস্থ, মদ জাতীয় পানীয় নিয়মিত পানে, দেহের ওজন অতিরিক্ত হলে ও অতিরিক্ত ভাঁজা পোড়া তেল মসল্লাযুক্ত খাবার বেশী খাওয়ার প্রবণতা বেশী তাদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে।
লক্ষণ :
প্রধান লক্ষণ বুকে চাকা, শক্ত দলা দলাভাব এবং স্তনের চামড়ায় রং পরিবর্তন হওয়া। স্তনের বোটা দিয়ে দুধ বা রক্তক্ষরণ হওয়া, মাসিকের গোলযোগ, সাদা¯্রাব বেশী হওয়া এবং সেই সাথে ব্যথা ও জ্বর জ্বর অনুভুত হওয়া।
প্রতিকার :
আধুনিক চিকিৎসায় স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, তারপরও সম্পূর্ণ রোগ আরোগ্যের নিশ্চিত গ্যারান্টি নাই। শল্য চিকিৎসা এবং কেমো থ্যারাপির সাহায্যে চিকিৎসা নেওয়ার পরও সময়ের ব্যবধানে আবার ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাকৃতিক চিকিৎসা ( খাদ্য বিধি ) এবং আকুপ্রেসার চিকিৎসা গ্রহন করলে কয়েক মাসের মধ্যে যে কোন স্তন ক্যান্সার সর্ম্পূণ নিরাময় সম্ভব।
জরায়ু ক্যান্সার :
জরায়ু ক্যান্সার দুধরণের ১. সারভিক্স ক্যান্সার ২. এন্ডেমেট্রিয়াম ক্যান্সার। আমাদের দেশে মহিলাদের সারভিক্স ক্যান্সারে বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। জরায়ু মুখে ক্যান্সার হলে সেখানে ঘা হয় এবং তা অনেক সময় নিয়ে সামনে পেছনে এবং তলপেটে দুপাশে ছড়িয়ে যেতে থাকে। যেসব কারণে স্তন ক্যান্সারের উল্লেখ করা হয়েছে ঠিক ঐসব কারণের জন্যও জরায়ু ক্যান্সার হয়ে থাকে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মাসিকের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের লাগাতারভাবে উত্তেজনার প্রভাবে অনেক সময় জরায়ুর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
লক্ষন :
প্রধান লক্ষন অস্বাভাবিক রক্তস্রাব। মনোপোজের সময় বা আগে দুটো মাসিকের মাঝে অনিয়মিত রক্তস্রাব দেখা দেয়। অল্প বয়সে একটানা অনিয়মিত রক্তস্রাব হলে এবং র্দূগন্ধযুক্ত সাদাস্রাব হয়ে থাকলে। তাছাড়া ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে রোগীর ওজন কমে যেতে থাকবে।
প্রতিকার :
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে যে সেব চিকিৎসা দেওয়া হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এক্সটেনডেড টোটাল হিস্টেরেকটামি, র‌্যাডিকাল হিস্টেকটমি, রেডিও থেরাপী, শল্য চিকিৎসা, রেডিও থেরাপী এবং যুগ্মভাবে কেমো থেরাপী ইত্যাদি। এই সব চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। সব থেকে বড় কথা এই চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময়ের গ্যারান্টি নাই। তবে খাদ্য বিধি এবং আকুপ্রেসার নিয়মিত গ্রহন করলে জরায়ু ক্যান্সার ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যেই নিরাময় সম্ভব।
0 ক্যান্সার অধ্যায়ে শেষের দিকে সব রকম ক্যান্সারের জন্য একটি খাদ্য বিধি দেওয়া হয়েছে এই খাদ্য বিধি অনুসরণ করলে এবং নিয়মিত আকুপ্রেসার চিকিৎসা গ্রহন করলে এই মরণব্যধি রোগ থেকে অবশ্যই মুক্তি সম্ভব।
ফুসফুসে ক্যান্সার :
ফুসফুসে ক্যান্সার একটি জটিল এবং কঠিন রোগ, প্রচিলত চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই রোগ অনিরাময় যোগ্য তবুও আধুনিক চিকিৎসায় রেডিও থেরাপী, কেমোথেরাপী, শল্য চিকিৎসা দ্বারা চিকিৎসা দিয়ে থাকে, যা অনেক ব্যয় বহুল এবং নানান র্পাশ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভরা। কিন্তু প্রাকৃতিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই কঠিন ও জটিল রোগে চিকিৎসা রয়েছে। যা পরিক্ষিত এবং র্পাশ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার কারণ :
তামাক সেবন ফুসফুসের ক্যান্সার সহ বিভিন্ন ক্যান্সারের অন্যতম মৌল কারণ। তবে তামাক ছাড়াও অন্যান্য কারণেও ক্যান্সার হতে পাবে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো বংশগত কারণ, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু দূষণ, গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া, খাদ্যে বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া, পেশাগত ঝুঁকি যেমন – সিলিকন, এজবেস্টস প্রভৃতি ধাতব শিল্পে কাজ করা ইত্যাদি। অনেক সময় অতিরিক্তি অ্যালকোহল গ্রহনের ফলেও ক্যান্সার হতে পারে। শ্বাসনালী ও ফুসফুস ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন – স্তন, কিডনি, জরায়ু, ওভারি, অন্ডকোষ, থাইরয়েড, যৌনাঙ্গ, হাড়, পায়ুপথ, অন্ত্র, যকৃত, মস্তিষ্কসহ নানা স্থানে ক্যান্সার হতে পারে। উল্লেখিত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসহ ফুসফুসে ক্যান্সারের জন্য প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত অরান্না খাদ্য গ্রহন ও অ্যাকুপ্রেসারের মাধ্যমে রোগ নিরাময় সম্ভব। যদিও প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই রোগ অনিরাময় যোগ্য কিন্তু প্রকৃতির কাছে এমন কিছু গুণাগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ রয়েছে যার দ্বারা এই অনিরাময়যোগ্য রোগও নির্মূল করা সম্ভব। ফুসফুসের ক্যান্সার হয়েছে এবং তা প্রাকৃতিক চিকিৎসা দ্বারা আরোগ্য লাভ করে স্বাভাবিক এবং সুস্থ জীবন যাপন করছেন এমন উদাহারণ অনেক আছে।
শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সাধারণ ও স্থানীয় লক্ষণ
সাধারণ লক্ষণ সমূহ : জ্বর, ক্ষুদামন্দা, বমি বমি ভাব, ওজন হ্রাস, শারীরিক দূর্বলতা ও ক্লান্তিবোধ।
স্থানীয় লক্ষণ সমূহ : ফুসফুসে ক্যান্সারের প্রাথমিক সাধারণ লক্ষণ কাশি। অনু জীবানুর সংস্পর্শে এলে কাশি হলুদ হয়। ধুমপায়ীরা সাধারণত যে ঢংয়ে কাশি দেয় তার থেকে কাশির ঢং আলাদা মনে হলে সেটাকে ফুসফুসের ক্যান্সার বলে সন্দেহ করা যায়। ধুমপায়ীদের কাশির সাথে রক্তক্ষরণ হলে ফুসফুসের ক্যান্সার বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বক্ষ আবরণীতে বেশী করে পানি জমলে অথবা বড় আকারের টিউমারের কারণে শ্বাস কষ্ট হলেও ফুসফুসের ক্যান্সার বলে সন্দেহ করা হয়ে থাকে। টিউমারজনিত কারনে সংঙ্কুচিত শ্বাসনালী থেকে খসখসে আওয়াজ বের হলে ক্যান্সার বলে সন্দেহ করা যেতে পারে।
ফুসফুসের ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়লে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো : বক্ষ আবরণীতে ব্যাথা, ঘাড় ও বাহুতে ব্যাথা, জন্ডিস, হাড়ে ব্যাথা, ঘাড়ের উপরিভাগে অবস্থিত লার্ভগ্রন্থি আক্রান্ত হলে চোখের সমস্যা হতে পারে। বামদিকে অবস্থিত বাকযন্ত্রের স্নায়ুতে চাপের কারণে কন্ঠস্বর ভারী হতে পারে। বুকে অবস্থিত সুপিরিয়র ভ্যানাক্যাভা নামক শিরায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে শরীরের উপরিভাগ ফুলে যাবে। খাদ্যনালী আক্রান্ত হওয়ার কারণে খাওয়ার সময় খাদ্যনালীতে ব্যাথা অনুভুত হয়। ফুসফুসের ক্যান্সার মস্তিষ্কের কোষে ছড়িয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিফলন ঘটতে পারে। যেমন হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি।
বর্তমানে গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে ক্যান্সার কোষ অম্ল (এসিডিক) পরিবেশে শক্তিশালী হয় এবং অপ্রতিরোধ্য ভাবে বাড়তে থাকে। পক্ষান্তরে ক্ষার (এ্যালকেলাইন) পরিবেশে এই কোষের বৃদ্ধি থমকে যায় আর বাড়তে পারে না। ক্যান্সার একটা জীবন্ত কোষ এবং এটি প্রধানত পুষ্টি গ্রহন করে প্রোটিন খাদ্য দ্রব্য (মাছ-মাংস, ডাল, বীজ জাতীয় খাদ্য দ্রব্য) থেকে।
অতএব যে কোন ধরনের ক্যান্সার রোগীকে প্রথমেই তার দেহ খাদ্যের মাধ্যমে (এসিড) থেকে ক্ষার (এ্যালকেলাইন) অবস্থায় আনতে হবে এবং সমস্ত রকমের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য দ্রব্য বর্জন করতে হবে। রান্না খাবার বন্ধ করে সবুজ পাতার রস, ফল এবং ফলের রস, অঙ্কুরিত শস্য দানার সাথে নানা রকম রঙিন সবজি সালাদ করে খেতে হবে।
লবণ, তেল, চিনি, চিনি দ্বারা প্রস্তত সব ধরনের খাবার, সাদা ময়দা, সাদা চাল ইত্যাদি ছয় মাসের জন্য বর্জন করতে হবে। নিয়মিত ভাবে সকালে নিম পাতার রস ১ টেবিল চামচ + ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের রস + ৭ টি গোল মরিচের পাউডার মিশিয়ে ভোরে খালি পেটে পান করে দিন শুরু করতে হবে। এর ১ ঘন্টা পর সবুজ পাতার রস সম পরিমান পানি মিশিয়ে ১ কাপ পান করতে হবে। এই ভাবে ২ ঘন্টা পর পর সবুজ পাতার (কলা পাতা, কচি গম চারা, দূর্বা, থানকুনি, পাথরকুচি, পুদিনা, কারী পাতা, তুলসি পাতা, পালং, মুলা শাক, সরিষা শাক ইত্যাদি আলাদা বা কয়েক রকম মিশিয়ে) রস মাঝারি ধরনের ১ গ্লাসে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত পান করে যেতে হবে। এর পর ৭ টা থেকে রাত ৮ টার মধ্যে মূল জাতীয় সবজির (মুলা, গাঁজর, বীট, আলু) সালাদ খেতে হবে।
এই নিয়মে ১০ দিন খাওয়ার পর
0 নাস্তায়- কাঁচা সালাদ (শসা, গাজর, মুলা, আলু, পাতাকপি ইত্যাদি) + কাঁচা পেঁয়াজ + কাঁচা মরিচ + মুড়ি।
0 দুপুরে- লাল চালের ভাত + নানা রকমের সবজি সেদ্ধ + সালাদ ।
0 দুপুরে খাবারের ১ ঘন্টা পূর্বে যে কোন ১ টি টক ফলের রস সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পান করতে হবে ।
0 বিকেলে- ১ কাপ আঙ্গুরের রস সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পান করতে হবে।
0 রাতে- লাল চালের ভাত + সালাদ ( মুলা, কপি, গাজর, বীট, সালাদ পাতা ইত্যাদি; (শসা সালাদে দেওয়া যাবে না ) ।

প্রতিদিন অন্তত ৩ বার ১ কাপ করে গম চারার রস, ১ বার সকালে নিম পাতার রস পান করতে হবে। দিনে নিয়মিত বিরতিতে সারা দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই শরীরের ক্যান্সারের এর বাহ্যিক আলামত বিলুপ্ত হতে থাকবে এবং ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যেই ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যাবে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার :
কেন পাকস্থলীর ক্যান্সার হয় তার নিশ্চিত কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যাদের পাকস্থলীতে হেলিকোবেকটার পাইলারী নামক এক বিশেষ জীবানু বসবাস করে তাদের পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়ে থাকে। নানা কারণে এবং শরীর বিরুদ্ধ খাদ্য গ্রহনের ফলে পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা হতে পারে। ঘা হলেই ক্যান্সার হয়না যদি হেলিকোবেকটার পাইলারী দ্বারা আক্রান্ত না হয়। এছাড়া ধুমপায়ী, অধিক লবণ খাওয়ার প্রবণতা, লবণে সংরক্ষিত খাবার যেমন : নোনা ইলিশ, খাবারের প্রোটিনের অধিক্য থাকা প্রাকৃতিক স্বাস্থবিধি না মানাকে পাকস্থলীর ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভব্য কারণ হিসেবে ধরা হয়।
উপর্সগ :
প্রাথমিক পর্যায়ে ওজন কমে যাবে, পেট ব্যথা বমিবমি ভাব, রক্তবমি, পায়খানার কাল রং, খাবারে অনীহা, বারবার ঢেঁকুর উঠা ইত্যাদি। অনেক সময় এই সব উপসর্গের সাথে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। জন্ডিস হলে বুঝতে হবে ক্যান্সার লিভার পর্যন্ত ছড়িয়েছে।
চিকিৎসা :
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতীতে চিকিৎসা একই ধরণের (শল্য চিকিৎসা, কেমো, রেডিও থেরাপী) দেওয়া হয়। রোগ মুক্ত হয়না। কিছুদিন জ্বালা যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে মাত্র। তবে প্রকৃতিক চিকিৎসায় (খাদ্যবিধি ও আকুপ্রেসার) জ্বালা যন্ত্রণা অস্বস্থি থেকে মুক্ত হয়ে ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ কারক খাদ্য:
বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে চরম উন্নতি সত্ত্বেও ক্যান্সার প্রতিরোধ কিংবা প্রতিহত করার উপযুক্ত চিকিৎসা বা এন্টিক্যান্সার ড্রাগ আবিস্কার হয়নি। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধে পথ্যখাদ্যকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ভাবা হচ্ছে। গবেষণায় দেখতে পাচ্ছি ক্যান্সার বৃদ্ধি ও হ্রাস খাদ্যদ্বারা করা যায়।
ক্যান্সারের কোষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট হচ্ছে ধীরে ধীরে বহু সময় নিয়ে বাড়তে থাকে। রোগ সনাক্ত হলেও চিকিৎসার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। গবেষণায় জানা গেছে বিশেষ কিছু খাবার খেলে বিভিন্ন স্তরে ক্যান্সার বৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠে, তাহচ্ছে এন্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্য উপাদান যা কিছু কিছু ভিটামিন ও খনিজ খাদ্য দ্রব্যে পাওয়া যায়। সেগুলো অসীম ক্ষমতা বলে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে নষ্ট করে দেহকে ক্যান্সার হতে রক্ষা করে। যেমন গমের ভূসি পাকস্থলীর ক্যান্সারের সৃষ্টিকারী কোষগুলিকে চুপসে নিস্ক্রিয় করে দেয়।
১৭টি জাতিগোষ্ঠির উপর ১৭০ বার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সম্প্রতি একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে যে, র্পায্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজী আহারে অভ্যাস্ত মানুষদের ক্যান্সার হবার সম্ভবনা প্রায় শূণ্য আর যে মানুষগুলো খুব কমই ফলমূল, শাকশবজী গ্রহন করেন তাদের ক্যান্সারের সম্ভবনা প্রবল। এই সব লোকেদের সাধারণত ফুসফুস, পাকস্থলী, স্তনে, মূখ, জরায়ু ও প্রোষ্ট্রেট ক্যান্সার হতে পারে।
ফল ও সবজীতে শরীরে বিষরোধক উপাদান যা ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে তার নাম বিটা-কেরোটিন, যা গাড় সবুজ হলুদ, লাল এবং কমলা রং এর শাকসবজী যেমন ঃ গাঁজর, মিষ্টি আলু, ব্রকুলি, বিট এবং পালং ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। শুকনো ফলের মধ্যে খোবানী এবং খরমুজা বিটা কেরোটিন সমৃদ্ধ ফল।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে যে সব ফলমুলের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিহত করার ক্ষমতাধারী রাসায়নিক উপাদান আছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য টমেটো যার মধ্যে রয়েছে ‘লাইকোপেন’ নামক এক যৌগ উপাদান যার কারণে এর রং লাল এবং এই লাইকোপেনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ক্রিয়া করার ক্ষমতা আছে। এই লাইকোপেল টমাটো ছাড়া তরমুজ ও খোবানীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, সে হিসেবে ক্যান্সারের ঔষধী পথ্য হিসেবে এই সব খাদ্যদ্রব্য নিয়মিত খাওয়া উচিত।
ইটালীর এক গবেষণায় জানা গেছে যে, খুব গাঢ় রংয়ের সবুজ পাতা এবং শাকসবজী নানান ধরণের ক্যান্সার হবার আশংকাকে নষ্ট করে দেয়। পালং, বাঁধাকপি, লেটুস সহ যত বেশী সবুজ পাতা তত বেশী তাদের মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকবে এবং এগুলি গ্রহণে অভ্যাস্থদের ক্যান্সার রোগ হবেনা। তাইতো দেখা যায় গ্রামে বসবাসকারী মানুষের মাঝে ক্যান্সার খুব কম দেখা য়ায় কারণ তারা শাকসবজী আহারে অভ্যাস্ত।
পেয়াঁজ, রসুন ক্যান্সারের তীব্র প্রতিরোধক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বহু গবেষণার ফল থেকে জানা যায় রসুন পেয়াঁজের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান এলিয়াম এবং সালফার আছে, নিয়মিত বেশী প্ররিমাণে গ্রহন করলে বৃহতন্ত্র, পাকস্থলী, ফুসফুস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারেনা।
সাইট্রাস জাতীয় ফল, লেবু, কমলা, আঙ্গুর যত সম্ভব ততই খাওয়া উচিত। লেবু জাতীয় ফলগুলো সার্বিকভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধক। এতে রয়েছে কতকগুলি প্রাকৃতিক উপাদান যেমন: কেরিটিনয়েড, ফ্লোবোনয়েড ইত্যাদি। এই উপাদানগুলো স্বতন্ত্রভাবেই প্রাণী দেহেই উৎপান্ন ক্যান্সার আত্রান্ত কোষগুলির বৃদ্ধি নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম। বিশেষ পরীক্ষা থেকে জানা যায় যারা লেবু জাতীয় ফল নিয়মিত গ্রহন করে তাদের প্যাংক্রিয়াসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনাকে নষ্ট করে দিতে পার।
ক্রশের মত চারপাতার সবজী যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রুকলি, সবিসা-রাই শাখ এবং শালগম ইত্যাদিতে এমন কতগুলো এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে যেগুলি স্তন, পাকস্থলী এবং বৃহতন্ত্রের ক্যান্সার হবার আশঙ্কা ৭০ভাগ কমিয়ে দিতে পারে। মৌসুমের সময় এই শাকসবজী যতটা পারা যায় খাওয়া উচিত।
সয়বিনের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ ধরণের রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। স্তন ক্যান্সারের প্রতিকারে যে ড্রাগ ট্যামোক্সিকেন দেওয়া হয় ঠিক একই চরিত্রের উপাদান রয়েছে সয়াবিনে। যদি কোন মহিলা ৫০গ্রাম সয়াবিন বীজ প্রতিদিন নিয়মিত খায় তবে শুধু স্তন ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং তার রক্তের কোলেস্ট্রেরেল কমে স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।
সাদা, কালো, লাল রংয়ের শুটি, বরবটিতে ক্যান্সারের প্রতিহতকারী উপাদান রয়েছে। গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যারা প্রতি সপ্তাহে তিনদিন এই শুটি জাতীয় সবজী খায় তাদের ৪০ শতাংশ প্যাংক্রিয়াসের ক্যান্সারের আশঙ্কা কম হয়ে থাকে।
যারা দুধ খায় তাদের জন্য সুসংবাদ এই যে, ফ্যাটমুক্ত অথবা খুব কম ফ্যাট যুক্ত দুধে যে ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লেবিন এবং ভিটামিন এ,সি এবং ডি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকে এবং ক্যান্সার প্রতিহত করে। ইউ এস ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এর দেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধকারী খাদ্য তালিকায় দেওয়া হয়েছে খুব কম চর্বিযুক্ত ও কম ক্যালোরীর খাবার, প্রচুর ছিবড়ে বা আশযুক্ত খাবার নানা দরণের পুষ্টিগুণসম্পন্ন টাটকা ফলমূল, শাকসবজী, খোসাসহ গোটা শস্য, সীম জাতীয় খাদ্য, বীজ ও বাদাম জাতীয় খাদ্য। আমাদের দেশে মৌসুমি ভিক্তিক যত প্রকার ফলমুল, শাকসবজী পাওয়া যায় পৃথিবীতে অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী তাই দিয়ে অনায়েসে ক্যান্সার হবার সম্ভনা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।
আকুপ্রেসারের মাধ্যমে চিকিৎসা :
যারা ক্যান্সোরের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য আকুপ্রেসার অনেক কার্যকর, আকুপ্রেসার করার আগে রোগীকে কঠিন শপথ করতে হবে যে এই চিকিৎসায় যা যা করণীয় তা শতভাগ করতে হবে আর যা যা নিষেধ করতে বলা হবে বা শতভাগ বর্জন করতে হবে। ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার দীর্ঘদিন বেশ কয়েকজন ক্যান্সার রোগীর প্রাকৃতিক চিকিৎসা করে দেখেছে যে, প্রাকৃতিক নিয়মে ক্যান্সার নির্মূল হয় এবং কোন ধরণের উপসগং ছাড়াই সুস্থ থাকা যায়। যা শুধু রোগের ভাল হওয়ার ক্ষেত্রই নয় পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য গোচ্ছিত অর্থও সুরক্ষা হয়।
আমাদের শরীর এমন সয়ংক্রিয় পদ্ধতি আছে যে নিজেই প্রাকৃতিক ভাবে নিজেকে সুস্থ্য করার ক্ষমতা রাখে। সেক্ষেত্রে তাকে সব ধরনের বিষ (টক্সিন) মুক্ত হতে হবে। আকুপ্রেসার করার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ আকুপ্রেসাররিষ্ট বা প্রশিক্ষিত লোক দ্বারা প্রেসার নেয়া উত্তম। এই জটিল ও কঠিন রোগের জন্য কম করে হলেও ছমাস আকুপ্রেসার করে যেতে হবে।
আশাকরি সঠিক উপায়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রন ও নির্দেশিত খাদ্য গ্রহন করে আকুপ্রেসার করলে কঠিন ও জটিল রোগ, ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

SHARE

LEAVE A REPLY