পেটের যত পীড়া নিজের হাতেই গড়া

0
265

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের যে-কেনো একটা ঔষধের দোকানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ দেখা যাবে অনবরত লোক আসছে এবং বিনা প্রেসক্রিপশনে ঔষধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ঔষধ বিক্রেতা বিরামহীনভাবে ঔষধ বিক্রি করে যাচ্ছে। যদি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তবে দেখা যাবে বিক্রিত ঔষধগুলি বেশির ভাগই পেটের পীড়ার কারণে বিক্রি হচ্ছে যার সিংহ ভাগ হচ্ছে গ্যাসের ঔষধ।

বর্তমান প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮০% কোনো না কোনো পেটের পীড়ায় ভুগছেন। যেমন:অজীর্ণ, গ্যাস, এসিডিটি, কোষ্টবদ্ধতা, পেটের ব্যথা, উদরাময়, পেটের জ্বালাপোড়া, আমাশয়, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি। পেটের পীড়ার ঔষধ যোগান দিতে বর্তমানে অসংখ্য ঔষধ কোম্পানি দিন রাত পেটের পীড়ার ঔষধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে জনসাধারণ পেটের পীড়ার ঔষধও ছাড়েনি, পেটের পীড়াও সারেনি। একজন ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভকে বলতে শুনা গেছে, বাংলাদেশের জনগোষ্টী বছরে প্রায় ২,০০০ (দুই হাজার) কোটি টাকার শুধু পেটের পীড়ার ঔষধ খেয়ে থাকেন। এর একাধিক কারণ আছে। যেমন:অজ্ঞতা, বদাভ্যাস, ফাস্ট ফুডের দিকে ধাবিত লালসা, ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর ব্যবহার, ভুনা-ভানি, ভাজাভুজি এবং অধিক তেল-মশলা যুক্ত খাবার খাওয়া।

পেটের পীড়া কী ? আমরা খাদ্য হিসাবে যা গ্রহণ করি তা এক জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় হজম হয় এবং তা থেকে শরীরের জন্য উপযোগী নানাপ্রকার উপাদান/খাদ্যরস গ্রহণ করতে পারলেই কেবল সুস্থ থাকা যায়। হজম প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে কোনো বিঘ্ন ঘটলে নানারকম সংকেত পাওয়া যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
0 খাওয়ার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভার ভার অনুভব করা।
0 ব্যথা অনুভব করা
0 টক ঢেঁকুর উঠা
0 পায়খানা না হওয়া
0 পাতলা পায়খানা হওয়া
0 পেটে গ্যাস উৎপন্ন হওয়া
0 হজম না হওয়া
0 পাকস্থলীর বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া
0 বমি হওয়া ইত্যাদি।

পীড়ার কারণ: সাধারণত পেটে পীড়া দুই কারণে হয়ে থাকে । প্রথমত, অভ্যন্তরীণ: যেমন: হজমপ্রক্রিয়ায় কোথাও কোনো বিপত্তি অথবা অনিয়ম ঘটলে। দ্বিতীয়ত, বাহ্যিক কারণে যেমন: অস্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিকচাপ, বেশি পরিমাণে চা, কফি, মদ্যপান, ধূমপান এবং ঔষধ সেবন। এছাড়া পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিয়ার (হেলিকোবেকটার পাইলরি) দ্বারা ইনফেকশন হলে। বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন: মাংস, মাছ, ভাত, ডাল এবং সবজি একসংঙ্গে খেলেও পেটের পীড়া হতে পারে। তবে প্রধান কারণ ধারাবাহিকভাবে অম্লধর্মী (তালিকা সংযুক্ত) খাবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেলে পাকস্থলীর পাচকরস নিসরণের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অম্ল (এসিড) ঊৎপন্ন হয়। ক্ষারধর্মী (অ্যালকালাইন) (তালিকা সংযুক্ত) খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে সৃষ্ট অম্লকে কমিয়ে স্বাভাবিক করতে না পারলে এর মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে এবং একসময় দেখা যায়, রোগী কিছু খেলেই অম্লএর (এসিডিক) জন্য অত্যন্ত কষ্ট পায়।

প্রাথমিক করণীয় : 
পৃথিবীতে যত প্রকার পেটের পীড়ার ঔষধ যেমন: এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী, কবিরাজী থাকুক না কেন উপবাস হচ্ছে পেটের পীড়ার আরোগ্যলাভের শ্রেষ্ঠ ঔষধ। যে-কোনো পেটের পীড়ায় মাত্র একদিন শুধু লেবু পানি পানে উপবাস করলেই বেশির ভাগ পেটের পীড়া দমন হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে যদি কলেরা, ডায়রিয়া অথবা রক্তআমাশয়ে আক্রান্ত হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া শ্রেয়। এছাড়া যে-কোনো পেটের পীড়ায় লেবুপানি পান উপবাস করলেই ভালো থাকা যায়। তবে সাত্ত্বিক (সচেতন) খাবার যেমন: সবজি, ফল, শস্যদানা, দুধ ও বিচিজাতীয় খাদ্য কিছুদিন খাওয়া অব্যাহত রাখলে এবং সপ্তাহে একদিন লেবুপানি পানে উপবাস করলে পুরাতন যে-কোনো পেটের পীড়া সেরে যায়। এর সাথে শেষের অধ্যায়ে দেখানো আকুপ্রেসার বিন্দুগুলিতো নিয়মিত দিনে তিনবার চাপ দিলে আরোগ্যলাভের সময় বহুলাংশে কমে আসে এবং সারাজীবন দেহটাকে সুস্থ রাখা যায়।

অম্ল বা অম্লতা ( Acidic)
কী এবং লক্ষণ:
গ্রহণকৃত খাদ্য পরিপাক হয়ে ক্ষারজাতীয় পদার্থে না হয়ে অম্লজাতীয় পদার্থে পরিণত হয়। দিনের পর দিন যদি খাদ্যের পরিশিষ্ট অম্লজাতীয় হতে থাকে তবেই অম্লরোগ আক্রান্ত হবে। ধীরে ধীরে রোগীর পেটব্যথা, গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠবদ্ধতা, চুকাঢেঁকুর, বমি বমি ভাব ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেবে।

প্রতিকার :
অম্লত্বের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমত একদিন শুধু লেবুপানি পানে উপবাস করতে হবে। এরপর কয়েকদিন অম্লধর্মী খাবার (তালিকা সংযুক্ত) সম্পূর্ণ বর্জন করে শুধু ক্ষারধর্মী Alkaline খাবার (তালিকা সংযুক্ত) খেলে অম্লত্ব নিরাময় হবে। এছাড়া অম্লত্বের লক্ষণ দেখা দিলে নিন্মেবর্ণিত খাদ্য- ঔষধ প্রয়োগ করলে অম্লত্ব Acicity নিরাময় সম্ভব হবে।

করণীয় :
১. ছোট একটুকরা আখের গুড় (অবশ্যই ভেজালমুক্ত হতে হবে) মুখের মধ্যে রাখতে হবে এবং মাঝে মাঝে চুষতে হবে। শেষ হলে আবার একটুকরা মুখে দিতে হবে যতক্ষণ না অ্যাসিডিটি বন্ধ হয়।

২. কচি ডাবের পানি দিনে ৩/৪ বার পান করতে হবে।

৩. প্রতি ঘণ্টায় অধিক পরিমাণ তরমুজ /শশা খেলে অ্যাসিডিটি নিরাময় হয়।

৪. হরিতকির রস ( ১-২ চা চামচ) খাবারের পরে খেলে অ্যাসিডিটি রোধ করা যায়। হরিতকির রসের সংঙ্গে সমপরিমাণ আমলকীর রস মিশিয়ে পান করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়।

৫. সুদূর অতীতকাল থেকে একটা নিয়ম চলে আসছে যে, খাওয়ার পরে একটুকরা হরিতকি ফল মুখে রাখলে অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৬. দুপুর এবং রাতে খাওয়ার পর একটা লং মুখে রাখলে অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৭. একগ্লাস ঘোল এবং সংঙ্গে আধা চা চামচ মেথির পেস্ট মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি কমে যায়।

৮. একটা হরিতকির রসের সংঙ্গে সমপরিমাণ আখের গুড় খেয়ে একগ্লাস পানি পান করলে অ্যাসিডিটি কমে যায়।

ঢেঁকুর তোলা (Belching)

দুই টেবিলচামচ জোয়ান এবং সমপরিমাণ শুকনা আদা পাউডার করে সামান্য বিট লবন মিশিয়ে সেখান থেকে এক চা চামচ নিয়ে এককাপ গরম পানিতে মিশিয়ে একঘণ্টা পরপর খেতে হবে, যতক্ষণ না ঢেকুর বন্ধ হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)

কী ?

কোষ্ঠকাঠিন্য / কোষ্ঠবদ্ধতা বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ রোগ। প্রতিদিন একবার পেট পরিষ্কার হলে ভালো আবার দুইদিনে একবার সুন্দরভাবে পেট পরিষ্কার হলেও চলে। তবে সপ্তাহে চারবারের কম এবং মল যদি শক্ত হয় তবে ধরে নেয়া যায় কোষ্ঠকাঠিন্য।

লক্ষণ: পায়খানা পরিষ্কার না হওয়া, মল শক্ত ও শুকনো ধরনের হওয়া, অতিকষ্টে সামান্য মল নির্গত হওয়া, খিদে কম হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা, অবসাদ ও ক্লান্তিভাব আসা, মাথাধরা বা ঘোরা, পেটে বায়ুজমা ও পেটফাঁপা, জিব অপরিষ্কার থাকা, চোখের নিচে কালো দাগ হওয়া, মুখম-লে ছোট ছোট ব্রনের মতো হওয়া, মাঝে মাঝে ডায়রিয়া হওয়ার পর কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, পায়ের পিছনের দিকের শিরাগুলি ফুলে দৃশ্যমান হওয়া ইত্যাদি।

কারণ: প্রধান কারণ প্রয়োজনের তুলনায় অমøধর্মী (তালিকা সংযুক্ত) খাবার বেশি পরিমাণ গ্রহণ এবং অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা, চা কফি, উগ্র মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা, ভাজাপোড়া খাবার বেশি খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম না করা, মানসিক টেনশনে থাকা, অনিদ্রা বা রাত্রি জাগরণ করা, বিভিন্ন ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়া, লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, আঁশজাতীয় খাবার না খাওয়া, নিয়মিত রিফাইন্ড চালের ভাত এবং ময়দার তৈরি খাবার খাওয়া, কম পানিপান, খাওয়ার মাঝে মাঝে পানিপান, শারীরিক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি।

করনীয়: কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের প্রধান উপাদান খাদ্য। খাদ্য হতে হবে সাধারণ এবং প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত। যেমন: ঢেঁকিছাটা চাল, ভূষিসমেত আটা, মধু, গুড়, ডাল, সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, দুধ এবং দই। এই ধরনের খাদ্য ভালোমতো চিবিয়ে রস করে খেলে দ্রুত আরোগ্য হতে সাহায্য করে। দ্রুত খাদ্যগ্রহণ এবং অসময়ে খাদ্যগ্রহণ বর্জন করতে হবে। চিনি এবং চিনির তৈরি সমস্ত খাবার খাদ্যের তালিকা থেকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। কারণ চিনি শরীর থেকে বি-ভিটামিনের মাত্রা কমিয়ে দেয় যা ক্ষুদ্রান্তের পরিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। সাধারণত পাকাকলা ও কাঁঠাল ছাড়া সবধরনের ফল কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাকা বেল এবং শুকনো বেল চমৎকার খাদ্য- ঔষধ।

প্রতিকার: জোলাবজাতীয় ঔষধ খেয়ে পেট পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা ভালো; কারণ এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। পরে জোলাবজাতীয় ঔষধের সাহায্য ছাড়া পেট পরিষ্কার হতে চায় না। এখানে কিছু তথ্য দেয়া হল। যদিও ভালো হতে সময় লাগবে, তবে এতে স¤পূর্ণ সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১. ঘুম থেকে উঠে একগ্লাস কুসুমগরম পানিতে এক চা চামচ লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

২. ঘুম থেকে উঠেই খালিপেটে দুইগ্লাস দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরে চারগ্লাস পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৩. ৬-৮ টা খেজুর পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে কচলে বিচি ফেলে দিয়ে পানিটা খালিপেটে খেতে হবে।

৪. প্রতিদিন ২৫০-৩০০ গ্রাম আঙ্গুর খেতে হবে। যদি আঙ্গুর না পাওয়া যায় তবে ১৫-২০টা কিসমিস ২৪-৪৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঐ কিসমিসগুলি পানিসহকারে খেতে হবে।

৫. যষ্ঠিমধুর কয়েকটা ছোট টুকরা সারাদিনে চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

৬. এককাপ গরম দুধে ২/৩ চা চামচ ইসবগুলের ভূষি রাতে শোয়ার পূর্বে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৭. আধাকাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৮. রাতে শোয়ার পূর্বে একটা পাকাকলা অথবা পাকাপেঁপে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৯. নির্ধারিত সময়ে খাবার খেতে হবে। সকালে নাস্তা খাওয়ার আধাঘণ্টা পূর্বে এবং রাতে শোয়ার আধাঘণ্টা পূর্বে একগ্লাস কুসুমগরম পানিপানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

১০. একগ্লাস লাউয়ের রস একটু বিটলবণ মিশিয়ে কিছুদিন খেলে পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ সেরে যায়।

১১. তুলসি গাছের বীজ, পাতা, ফুল, ডাল এবং শিকড় ১২ ঘণ্টা একগ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে এই পানি ছেঁকে নিয়ে তিনগ্রাম জয়ফলের পাউডার মিশিয়ে খালিপেটে খেলে কোষ্ঠবদ্ধতা সেরে যায় এবং নিয়মিত পেট পরিষ্কার হয়।

বহুল প্রচলিত এবং পরীক্ষিত পথ্য হচ্ছে পাকাবেলের সরবত অথবা বেলশুট এবং সোনাপাতা ভেজানো পানি সকালে খালিপেটে পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয়।

উদরাময় কি (Diarrhoea):
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পাতলা বা তরল মল হওয়াকে অস্বাভাবিক হিসাবে ধরা হয়। যদি দিনে তিন / চারবার পাতলা দুর্গন্ধযুক্ত পায়খানা হয় তবে একে ডায়রিয়া বা উদরাময় হিসাবে ধরা হয়।

লক্ষণ:
0 অনবরত অধিক পরিমাণে তরল মল নির্গত হয়, মাথঘোরা, বমি বমি ভাব থাকা।
0 পেটে ব্যথা, জোরে গড় গড় শব্দ তরল বাহ্যে, বমি বমি ভাব
0 হঠাৎ মলত্যাগের বেগ আসে, তোড়ে মল নির্গত হয়।
0 মলে পঁচা দুর্গন্ধ, বায়ু নিসরণেও দুর্গন্ধ থাকে।
0 হড়হড়ে শ্লেষ্মাযুক্ত, মলত্যাগের পর মলদ্বারে ভীষণ জ্বালা।
0 অরুচি, ক্ষুধামন্দা, ঘনঘন পায়খানা, অমøঢেঁকুর ওঠা ইত্যাদি।

কারণ : আহারের অত্যাচার উদরাময়ের প্রধান কারণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অধিক হারে ভাজাভুজি এবং গুড়–পাক খাদ্য আহার করা, অমøধর্মী খাবার অধিক পরিমাণে খাওয়া, এছাড়া ভেজাল এবং ভাসি খাবার খেলেও উদরাময় হতে পারে।

প্রতিকার:

১. সবরকমের শক্ত খাবার বন্ধ করতে হবে।

২. সমপরিমাণ আদা, জিরা এবং দারুচিনিচুর্ণ মধুসহ ক্বাথ (পেস্ট) বানিয়ে রাখতে হবে। এই পেস্ট এক চা চামচ করে দিনে তিনবার খেতে হবে।

৩. এক চা চামচ জিরা একগ্লাস পানিতে ফুটাতে হবে। এর মধ্যে এক চা চামচ ধনেপাতার রস এবং একটু লবণ মিশিয়ে দিনে দুইবার আহারের পর খেতে হবে।

৪. চিনি এবং দুধ ছাড়া এককাপ ঘন কালো গরম চা পান করতে হবে।

৫. একটা আপেল চামড়া ছাড়িয়ে ফালি ফালি করে কেটে ২০ মিনিট প্লেটের উপর রেখে দিলে যখন রং বাদামি (ব্রাউন) হয়ে যাবে তখন খেতে হবে।

৬. বেলশুটের পাউডার এক চা চামচ গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার পান করতে হবে।

৭. তিন কোয়া রসুনকুচি দুধে ফুটিয়ে রাতে শোয়ার পূর্বে এককাপ খেতে হবে।

৮. ২-৩ চা চামচ ধনে সারারাত ভিজিয়ে সকালে পানিটা ছেঁকে নিয়ে টকদইয়ের ঘোলে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৯. সিকি চা চামচ ছোট এলাচগুঁড়া পাতলা চায়ের লিকারে ফুটিয়ে পান করতে হবে।

১০. আদার রস নাভির চারপাশে মালিশ করতে হবে।

১১. জায়ফলের বিচির পাউডার ( সিকি চা চামচ) পাকা কলার ভিতরে ঢুকিয়ে খেতে হবে।

১২. শুধু লেবুর রস এবং লবণ মিশিয়ে চেটে চেটে খেতে হবে।

১৩. ৭-৮ টা কচি পেয়ারার পাতা এককাপ গরম পানিতে সিদ্ধ করে একটু লবণ দিয়ে খেতে হবে।

১৪. এক চা চামচ মেথিদানা না চিবিয়ে একটেবিল চামচ টকদইসহ গিলে খেলে সাথে সাথে দাস্ত বন্ধ হবে।

১৫. ভাতের মাড়, জিরা এবং বিটলবণ দিয়ে খেলে দাস্ত ভালো হয়।

১৬. একটেবিল চামচ আদার রস এবং সামন্য লবণ এক ঘণ্টা পরপর খেতে হবে।

১৭. শুধু দই, ঘোল, ভাত এবং পাকাকলা ছাড়া অন্য কোনো খাবার না খেলে দাস্ত ভালো হয়।

১৮. প্রচুর পানি পান করতে হবে, সাথে চিনি বা গুড় এবং একটুখানি লবণ মিশিয়ে।

পেটের ব্যথা:

প্রতিকার

১. আধাকাপ গরম পানিতে একচামচ ঘরে বানানো ঘি এবং একচামচ চিনি মিশিয়ে পান করলে পেটের ব্যথা কমে যায়।

২. একচিমটি হিং এক চা চামচ ঘরে বানানো ঘিসহ খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৩. আধাকাপ পুদিনা পাতার রস, এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ লেবুর রস একচিমটি বিটলবণসহ পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

৪. এক চা চামচ জোয়ান একচিমটি লবণ গরম পানি দিয়ে পান করলে ব্যথা ভালো হয়।

৫. এক চা চামচ হিং পানি দিয়ে ক্বাথ (পেস্ট) বানিয়ে নাভির চারপাশে মলমের মতো প্রলেপ দিলে ভালো হয়।

৬. জোয়ান লেবুর রসে মাখিয়ে রোদে ভালো করে শুকিয়ে বোতলে ভরে রাখলে পেটের যে-কোনো সমস্যা যেমন: বদহজম, গ্যাস, ব্যথা দেখা দিলে এক চা চামচ এককাপ পানি দিয়ে খেলে ভাল হয়।

নাভির চারপাশে ব্যথা:
সমপরিমাণ জোয়ান ও শুকনাআদা পাউডার করে সামান্য বিটলবণ মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রাখতে হবে। সেই চূর্ণ থেকে এক চা চামচ এককাপ গরমপানিসহ পান করলে ব্যথা নিরাময় হয়।

পেটের জ্বালা:
এক চা চামচ মেথি পাউডার একগ্লাস ঘোলের সংঙ্গে মিশিয়ে কয়েকদিন পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

খাওয়ার পর পেট ভারী ভারী লাগা:
সিকি চামচ জিরা চূর্ণ এবং একচিমটি গোলমরিচ চূর্ণ একগ্লাস ঘোলের সংঙ্গে দিনে দুই ার কয়েকদিন পান করলে ভারবোধ দূর হয়।

রক্তপায়খানা:
১. একটেবিল চামচ আনার ফুলের রস মিছরির সাথে মিশিয়ে দিনে দুইবার খাওয়ালে রক্তপায়খানা বন্ধ হবে।

২. সমপরিমাণ তুলসিপাতা এবং জিরা পাউডার ও একচিমটি বিটলবণ দিয়ে ঘোল খেলে রক্তপায়খানা বন্ধ হয়ে যায়।

৩. ১০ গ্রাম তুলসি বীজ এককাপ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে বেটে ছেঁকে দুধ অথবা পানি দিয়ে খেলে রক্তপায়খানা বন্ধ হয়।

বমি (Vomitting):

১. দুইটা লং থেতলে এককাপ পানিতে ফুটাতে হবে। পানি অর্ধেক হলে মিছরি মিশিয়ে খাওয়ালে বমি বন্ধ হবে।

২. এক চা চামচ তুলসি পাতার রস, চিনি,একচিমটি করে এলাচগুড়া এবং লংয়েরগুড়া মিশিয়ে খেলে বমি ভালো হয়। তা ছাড়া তুলসির রস, মধ ুএবং লেবুর রস খেলেও বমি বন্ধ হয়।

৩. দারুচিনি গুড়া তুলসির রসে ক্বাথ(পেস্ট) করে খেলে বমি বন্ধ হয়।

৪. তুলসির রস, আদার রস এবং মধু সমপরিমাণ মিশিয়ে পান করলে বমি বন্ধ হয়।

গ্যাস (Flatulence)
১. আধা চা চামচ জোয়ান পাউডার, একচিমটি বিট লবণ, আধাকাপ দইসহকারে দুপুরের খাবারের পর খেতে হবে কমপক্ষে ১-২ সপ্তাহ।

২. দুইকোয়া রসুন হালকা কামড়ে খেলে, একটা বিচি ছাড়া মনাক্কা গিলে খেলে দ্রুত গ্যাস কমে যাবে।

ক্ষুধামন্দা:

আধা চা চামচ আদাকুচি সামান্য বিটলবণসহযোগে খাবারের আধাঘণ্টা পূর্বে খেলে ক্ষুধা মন্দা দূর হয়। এটা ৮ থেকে ১০ দিন খেতে হবে।

আমাশয় (Dysentry):

প্রথমে রোগীর পেটে ব্যথা হবে। হজমশক্তি কমে যাবে এবং পেটে গ্যাস হবে। বারবার পায়খানার বেগ আসবে কিšু‘ ভালোমতো পায়খানা হবে না, কিšু‘ মিউকাস আসবে। শেষের দিকে কিছু রক্তও দেখা দিতে পারে। সাধারণত বেশি মশলাযুক্ত, ভাজাভুজি খাবার, শুকনা মরিচ দিয়ে মাসকলায়ের ডাল, তৈলাক্ত খাবার এবং মাছ মাংস নিয়মিত বেশি পরিমাণ খেলে ডিসেন্ট্রি বা আমাশয় হয়ে থাকে।

প্রতিকার:

১. আমাশয় শুরু হলে প্রথমেই সবধরনের খাবার যেমন: ভাত, রুটি, মাছ, মাংস , তেঁতুল, পাকাআম, ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার শাকসবজি, ডাল, চা, কফি এবং ভাজাজাতীয় খাবার স¤পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. এক চা চামচ মিষ্টি জিরার গুড়া আধাচামচ চিনিসহ দিনে তিনবার খেতে হবে।

৩. দিনে দুইবার কালো চা দুধ ছাড়া খেলে ঘন ঘন পায়খানার বেগ বন্ধ হয়ে যাবে।

৪. আনারসের জুস খেলেও ডিসেন্ট্রি কমে যায়।

৫. ডিসেন্ট্রি একটু ভালো হলে বা দ্বিতীয় দিন কাঁচাকলা ও থানকুনির ঝোল দিয়ে নরম ভাত খাওয়ার পর একগ্লাস ঘোলের সাথে এক চা চামচ আদার রস মিশিয়ে পান করতে হবে।

৬. শুকনা তুলসি পাতারগুঁড়া, একচিমটি বিটলবল এককাপ দইয়ের সংঙ্গে খেলে ডিসেন্ট্রি ভালো হয়।

৭. সমপরিমাণ তুলসিপাতা, গোলমরিচ, জোয়ান, রসুন, বিটলবণ এবং খাঁটি কর্পুর একসংঙ্গে গুঁড়ো করে ছোট ছোট মটরের দানার মতো বড়ি ডিসেন্ট্রির কার্যকরী ঔষধ। দিনে ৩ বার দুইটা করে খাওয়াতে হবে।

৮. ১০ গ্রাম তুলসি বীজ দ্বিগুন পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে পিষে ছেঁকে ঐ পানিটা সকালে খালিপেটে একবার পান করলে রক্ত আমাশয় সেরে যায়।

৯. অজীর্ণের কারণে যদি ডায়রিয়া হয় তাহলে সিকি চামচ জয়ফলের পাউডার একটা পাকাকলার মধ্যে দিয়ে খেতে হবে।

অজীর্ণ:

১. ৫/৬ টুকরা দারুচিনি একগ্লাস পানিতে ফুটাতে হবে। ছেঁকে নিয়ে এর মধ্যে একচিমটি গোলমরিচের পাউডার এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে এর থেকে একটেবিলচামচ খাওয়ার আধাঘণ্টা পর খেলে অজীর্ণ এবং পেটে গ্যাস হবে না।

২. সিকি চা চামচ গোলমরিচের পাউডার, সিকি চা চামচ জিরার পাউডার, একগ্লাস ঘোলের সংঙ্গে দিনে দুইবার পান করলে অজীর্ণ কমে যায়।

৩. খাবার ভালোমতো চিবিয়ে রস করে খেতে হবে এবং কিছুটা ক্ষুধা থাকতে খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

৪. এক চা চামচ আদার কুচি এককাপ ফুটানো পানিতে ১০ মিনিট ঢেকে রাখার পর ছেঁকে নিয়ে দুইবার খেলে অজীর্ণ সেরে যায়।

৫. ১০ গ্রাম তুলসি পাতার রস পাঁচ গ্রাম মধু এবং পাঁচগ্রাম গোলমরিচের পাউডার ক্বাথ (পেস্ট) করে খেলে অজীর্ণ নিরাময় হয়।

৬. সমপরিমাণ তুলসি পাতার রস, শুকনা আদা পাউডার এবং দ্বিগুন পরিমাণ পুরানো আঁখের গুড় ভালোভাবে ম- করে ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে ঐ বড়ি দিনে তিনবার খেলে অজীর্ণ সহ পেটের যাবতীয় রোগ নিরাময় হয়।

৭. আধাচামচ জেয়ান খাওয়ার আধাঘণ্টা পর খেলে অজীর্ণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৮. ১০০ গ্রাম মিষ্টি জিরার পাউডার, সমপরিমাণ জোয়ান এবং চিনি পাউডার ভালোমতো মিশিয়ে একটা বোতলে সংরক্ষণ করবেন। এক চা চামচ এই পাউডার খাওয়ার পর খেলে অজীর্ণসহ অনেক ধরনের পেটের পীড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৯. অজীর্ণ থেকে রক্ষা পেতে এককাপ গরম পানিতে দুই চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু আহারের পর সপ্তাহখানেক খেতে হবে।

উপরে পথ্যগুলো সঠিক উপায়ে প্রয়োগ করলে পেটের স্থায়ী সমস্যা, ক্ষণিকের সমস্যা শুধু নিরাময় না নির্মূল হয়ে যাবে, খাদ্য এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমার শরীরের ভালমন্দ জানান দেবেই, ভাল খাবার আনন্দ দেবে, খারাপ খাবার শরীরের সমস্যা তৈরী করতে বাধ্য। এই খাদ্য পথ্য ছাড়াও আকুপ্রেসার দ্বারা পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর করা সম্ভব, সেই জন্য আপনার প্রয়োজন পরবে একটি আকুপ্রেসার রোলার এবং হাতের কিছু পয়েন্ট। আকুপ্রেসার ফুট রোলার এখন ঢাকায় গড়ে উঠা অনেক দোকানয়েই পাওয়া যায়, সেখান থেকে সংগ্রহ করুন ।

506আকুপ্রেসার রোলার করার নিয়ম
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে 10 মিনিট পায়ে যত চাপ দেয়া যায় সহ্য করার মত, তেমনি রোল করতে থাকুন পায়ের আঙ্গুল থেকে গোড়ালির শেষ মাথা পর্যন্ত। রাতে ঘুমাবার আগেও এমননি ভাবে 10 মিনিট আকুপ্রেসার রোলার দ্বারা ফুট রোলার করুন।
আর হাতের অনেক নির্দিষ্ট পয়েন্ট আছে যার দ্বারা স্থীয়াভাবে পেটের অনেক সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব সেই জন্য সরাসরি দেখা করে আকুপ্রেসার এবং খাদ্য তালিকা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করলে কোন অসুখই থাকবে না ।

যারা খাদ্য তালিকা এবং আকুপ্রেসার থেরাপী নিতে চান তারা যোগাযোগ করুন.
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
83 নয়া পল্টন, গাজীনীড়, ফ্লাট – বি- 7, জোনাকী সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি।

SHARE

LEAVE A REPLY