আদার জুসের বিস্ময়কর উপকারিতা এবং সাবধাবনতা

0
833
Organic Ginger Ale Soda in a Glass with Lemon and Lime

আমরা সাধারনত আদা রান্নায় মশলা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও আদা আমরা অনেকে কাঁচাও খেয়ে থাকি। আদাতে আছে শারীরিক ক্রিয়াকালাপ ঠিক রাখার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন, ম্যাঙ্গানিজ ও তামা। এছাড়াও এতে আরও রয়েছে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ। আর এই আদা দিয়ে তৈরি জুস আমাদের জন্য কতটা উপকারি তা হয়তবা আমাদের অনেকরই অজানা। এখন আপনাদের জন্য আদার জুস তৈরির পদ্ধতি এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে নিম্নে দেয়া হল: 

আদার জুস তৈরির পদ্ধতি:
আদাকে ছোটো ছোটো কিউব বা ফালি করতে হবে। এরপর এতে কিছু পানি যোগ করতে হবে এবং এটা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করতে হবে। ব্লেন্ড শেষ হলেই তৈরি হয়ে যাবে আদার জুস এবং আপনি এটি খুব সহজেই পান করতে পারবেন। যদি এই জুস পান করতে কঠিন হয়ে যাই সেক্ষেত্রে আপনি এই জুসের সাথে সামান্য পরিমানে চিনি মেশাতে পারেন।

আদার জুসের উপকারিতা:

  • আদা ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী সেল ধ্বংস করতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আদা স্তন ক্যান্সারের সেলের বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে।

  • আদা অবিলম্বে মানুষের রক্ত তরল এবং রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে। আপনি আদার জুসের সাথে মধু মেশাতে পারেন এটাকে সুস্বাদ করার জন্য।

  • আদা বিভিন্ন রকমের ব্যাথা নিরাময় করতে সাহায্য করে এবং মায়গ্রেনসের ব্যাথা প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

  • আদা হজমের জন্য সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। আদার জুস বা রস বিভিন্ন হজম সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে থাকে। ইহা পাকস্থলী থেকে খাদ্য প্রক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করে।

  • আরথ্রাইটিস এর মতো রোগের ক্ষেত্রেও ব্যাথানাশক হিসেবে কাজ করে আদার জুস বা রস।

  • আদা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে। ইহা খারাপ কোলেস্টেরল কমায়।

  • আদার রস বা জুস শরীরকে শীতল করে।

  • আপনি যদি লম্বা এবং উজ্জ্বল চুল পেতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিদিন আদার রস পান করা উচিত। আপনি ভালো ফলাফলের জন্য ইহা মাথার ত্বকেও প্রয়োগ করতে পারেন। আদা আপনার চুলের জন্য ভালো কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে। এছাড়াও ইহা খুশকি কমাতে সাহায্য করে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে।

  • আদার রস বা জুস ব্রন কমাতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে ব্রন উঠা প্রতিরোধ করে।

  • আদার জুসের রয়েছে অসাধারণ নিরাময় ক্ষমতা এবং অনেক উপকারিতা।

    প্রবাদ আছে ‘আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা’ প্রতিদিন আদার রস খাওয়ার অভ্যস গড়তে পারলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, সেই সাথে এ্যাসিডির সমস্যা সমাধানে খুবই কার্যকর। আর এ্যাসিডিটি দূর হলে ভাল ঘুম হবে আর ভাল ঘুম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে রোগ যত জটিল বা কঠিনই হউক না নিরাময় হয়ে যাবে। কোন ঔষধ প্রয়োজন হবেনা।
    এত সুবিধা পেয়েও কি আদার রস খাওয়ার চেষ্টা করবেন না ।

    আদা অনেকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
    শরীরের নানা রোগ উপশমে আদার উপকারিতা অপরিসীম। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও, আর্থারাইটিস, মাইগ্রেন, কাশি, ডায়েরিয়া, গ্যাস, কনস্টিপেশন, হার্টের সমস্যা, ডায়বেটিস, হাই-কোলেস্টেরলের মতো বিবিধ রোগ প্রতিরোধে আদার জুড়ি মেলা ভার। এমনকি ক্যান্সারের কোষবৃদ্ধিতেও বাধ সাধে মাটির নীচের এই ফসল। রোগ প্রতিরোধে আদার উপকারিতার কথা মাথায় রেখে, বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতেও আদা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, আদার গুণ জানার পরই যদি কেউ মুড়ি-মুড়কির মতো আদা খেতে শুরু করেন, তাহলেও সমূহ বিপদ। কারণ আদা যেমন অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পরম বন্ধু, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা শরীরের চরম শত্রুও বটে। তাই আদার গুণাগুণ জানার পাশাপাশি, এটা জানাটাও অত্যন্ত জরুরি যে, কারা আদার ধার-পাশ দিয়েও যাবেন না। কারা আদা এড়িয়ে চলবেন?

    ১.
    অন্তঃসত্ত্বারা : আদা শরীরে কড়া উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। সেজন্য অন্তঃসত্ত্বারা আদা খেলে, প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষত প্রেগন্যান্সির শেষ সপ্তাহগুলিতে তো আদা নৈব নৈব চ।

    ২. যারা ওজন বাড়াতে চান : যারা রোগা হতে চান তাদের জন্য আদা বিশেষ উপকারী হলেও, যারা শীর্ণকায়, ওজন বাড়াতে উত্‍‌সাহী তাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ আদা খিদে কমায়। এছাড়াও শরীরের চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা বিশেষ সহায়ক। সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, আদা তাদের কোনো কাজে আসবে না।

    ৩. ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ খান : আদা ডায়বেটিসের লেভেল কমাতে কার্যকরী হলেও, যারা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ডায়েট চার্ট থেকে চিরতরে ডিলিট করে দিতে হবে আদাকে। একই কথা প্রযোজ্য উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদেরও অবশ্যই আদাকে এড়িয়ে চলা উচিত। 

ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার 83, নয়া পল্টন, গাজী নীড়, ফ্লাট বি-7, জোনাকী সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি।

SHARE

LEAVE A REPLY