সাইনাসের সমস্যার সমাধানে আকুপ্রেসার

0
150

সাইনাসের সমস্যায় যারা ভুগছেন, সবসময় ঠান্ডা থেকে নাক বন্ধ, প্রচন্ড মাথা ব্যথা, নাকের দুধারে ব্যথার প্রকোপের কারণে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, দেহে জ্বর ভাব এবং  দুর্বল অনুভূত হয়। অনেক সময় কোন ঔষধে ব্যথা কামানো যায় না, এই তীব্র ব্যথা নিয়ে ঘুমও হয় না তখন মানুষের জীবন হয়ে উঠে দূর্বিসহ। এই সাইনাস থেকে একটু সচেতন হলে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ভোগান্তী থেকে যারা মুক্তি চান তারা এই লেখাটি পড়ে উপকৃত হবেন। 

প্রশ্ন : সাইনাস জিনিসটি কী এবং এর কাজ কী?
উত্তর: সাইনাসের আসলে কোনো কাজ নেই। কেন যে এটা মানুষের শরীরে আছে সেটা আমরা জানি না। গবেষকরা অনেক মাথা ঘামিয়েও এর কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। তবে এটা হলো আমাদের নাকের চার দিকে কিছু বায়ু প্রকোষ্ঠ থাকে যেগুলোর মধ্যে একটা ঝিল্লি থাকে। যেই ঝিল্লি নাকের সঙ্গে সংযুক্ত। তাই নাকের কোনো সমস্যা হলে এটা অনেক ক্ষেত্রে সাইনাসের দিকে চলে যায়।
তাই দেখা যায়, নাকে যাদের সমস্যা রয়েছে তাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাইনাসের সমস্যা হয়। নাকের এবং সাইনাসের সমস্যাকে সাধারণত আমরা আলাদা করতে পারি না। সাইনাসগুলোর কাজের ক্ষেত্রে অনেকে বলে, এটা মাথাকে হালকা করে। অনেকে বলে, এটা তাপ প্রতিরোধে কাজ করে।
এর সমস্যা খুব প্রচলিত এবং কষ্টদায়ক। আমাদের ঢাকা শহরে এখন যে রকম দূষণ, এর থেকে এই সমস্যা অনেকটাই হয়।
আমরা যে রোগীগুলো পাই, এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ নাক সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে আসে। যাদের নাকে সমস্যা থাকে তাদের অনেকেই দেখা যায় রোগটা সাইনাসের দিকে চলে যায়।

কী ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায় এ রোগে?
উত্তর : নাকের সমস্যা ছাড়া সাইনাসের সমস্যা সাধারণত হয় না। আর নাকে যেসব সমস্যা থাকে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না। হাঁচি হয়, কাশি হয়। গলার মধ্যে ঢোক গিলতে সমস্যা হয়। নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। এগুলো হলো নাকের সমস্যা। এরপরে যখন সাইনাসে চলে যায় তখন মাথায় ব্যথা হয়।

নাকের সমস্যা যদি সমাধান করা না হয়, সেটি ধীরে ধীরে সাইনাসের সমস্যার দিকে যায়…
উত্তর : নাকে যে ব্লকেজ থাকে, সেটা পরবর্তী সময়ে সাইনাসের দিকে যায়। নাক থেকে কানে চলে যেতে পারে। নাক থেকে গলাতে চলে যেতে পারে। নাকে সমস্যা থাকলে অনেক সময় দেখা যায় শ্বাসকষ্ট হয়তো ভালো হয় না। এরপর যখন সাইনাসের সমস্যা হবে, রোগী অভিযোগ করবে মাথা ব্যথা নিয়ে। সাইনাসের কারণে কপালে, গালের দিকে, চোখের গোড়ায় ব্যথা হতে পারে। সর্দির সমস্যা তো থাকেই।
মাথাব্যথা সাধারণত তিনটা বা চারটা কারণে হয়। মস্তিষ্কের সমস্যায়, দুশ্চিন্তার কারণে, অনেকের চোখের জন্য মাথা ব্যথা করে, আর নাকের সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হয়।
আগে দেখতে হবে মাথাব্যথার শুরুটা কোথা থেকে হলো। এ ছাড়া সাইনাসের ব্যথার সাথে জ্বর থাকে। হয় বেশি জ্বর থাকে বা রাতে গা গরম গরম থাকে। চোখের সমস্যা হলে সাধারণত জ্বর থাকে না। মস্তিষ্কের সমস্যাতেও সাধারণত জ্বর থাকে না।

সাইনাসের সমস্যায় চিকিৎসা কি হয়?
উত্তর : নাকের সমস্যার একটি বড় কারণ দূষণ। ধুলাবালুর কারণে সমস্যা হয়। বাইরের ধুলাবালুকে আমরা হয়তো কিছু করতে পারি না। তবে বাসার যেটা সেটা পরিষ্কার করতে হবে। বাসার ময়লাটাকে আমরা হয়তো এড়িয়ে যাই। দেখবেন কার্পেট রেখে দিয়েছে। সোফার মধ্যে হয়তো ধুলা জমে রয়েছে। ধুলার মধ্যে মাইট থাকে। এগুলো থেকে যে লালা, বর্জ্য বের হয় এর কারণে সমস্যা তৈরি করে। এগুলো এলার্জেন।
অনেক রোগীকে দেখবেন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ধরে থাকে বা হাঁচি হয়। এর কারণ লেপ তোশক কম্বলের মাইট থাকা।
কার্পেট, সোফা যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এ ছাড়া লেপ তোশককে যদি রোদে দেওয়া হয়, তবে ভালো হয়। মাইটকে মারা সম্ভব নয়। এগুলো দূর করতে নিজেদের সচেতন থাকতে হবে।

সাইনাসের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে জটিলতা কতটুকু হতে পারে?
উত্তর : জ্বর জ্বর থাকবে। একধরনের দুর্বলতা থাকবে। সাইনাসের আশপাশে চোখ, মস্তিষ্ক এগুলো আছে। সংক্রমণ হলে এসব জায়গায় চলে যেতে পারে। তবে এগুলো তেমন হয় না। সাইনাসে মাথা ভারী ভারী লাগে। শরীর দুর্বল লাগবে। কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হবে।

সাধারণ ওষুধে কি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়?
উত্তর : ধুলাবালু থেকে দূরে থাকতে হবে। নাকে কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। নাকে যে ফোলাটা হয়েছে, সেটা যদি কমিয়ে দিতে পারি। তাহলে পথটা খুলে যাবে। একবার যদি নাকের পথটা খুলে যায় তখন সাইনাসের পথটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই আগে নাকের পথকে খুলতে হবে। এ জন্য মেডিসিন দেওয়া হয়। মেডিসিনেই সুস্থ হয়ে যায়। তবে ঔষধ বিকল্প চিকিৎসা অত্যান্ত কার্যকর।

সার্জারি পর্যন্ত কি যাওয়ার দরকার পড়ে?
উত্তর : সার্জারি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দরকার হয় না। মাঝে মাঝে দরকার হয়। দরকার হলে করতে হবে। সার্জারি হলো শরীরকে ভালো করার জন্য। উন্নতি করার জন্য ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করার কোনো মানে হয় না। আর সার্জারি এখন বেশ সহজ হয়ে গেছে, মৃত্যুর কোনো কারণই নেই।
সাইনাসের সমস্যা যাদের রয়েছে তারা অবশ্যই জানবেন, যে একবার এর যন্ত্রণা শুরু হলে সেটা সহ্য করা এক কথায় অসম্ভব। বহু মানুষ সাইনাসে দিনের পর দিন কষ্ট পাচ্ছেন।
বিশেষত, যাদের অ্যালার্জি রয়েছে। অনেক কিছুই চেষ্টা করেছেন। একবার এই ৩০ সেকেন্ডের টোটকা ট্রাই করে দেখুন। উপকার পাবেন।

যা করতে হবে:
১. জিভের ডগা দিয়ে মুখের তালুতে চাপ দিন। এক কথায় উপরের দিকে ঠেলুন। তবে খুব বেশি জোরে ঠেলার চেষ্টা করবেন না।

২. হাতের বুড়ো আঙুল দুই ভ্রু-র মাঝে রাখুন।
৩. হাল্কা হাল্কা করে চাপ দিয়ে নাকের দিকে নামান। খুব জোরে চাপ দেবেন না। ৩০ সেকেন্ড ধরে এটা করে যান।
৪. Finger-Tips-and-Nailsআঙ্গুলের ডগায় বা উপরি ভাগে আস্থে আস্তে চাপ দিন এবং নখ বরাবর খাড়াখাড়িভাবে চাপ দিন এতে আঙ্গুলের ডগায় তীব্র ব্যথা অনুভব করবেন প্রতিদিন খালি পেটে তিন বেলা, প্রতিটি আঙ্গুলে দুমিনিট করে আকুপ্রেসার করুন।

এটা করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দেখবেন নাক খুলে গিয়েছে। নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে না। আসলে নাকের উপরের দিকে থাকা ভোমার হাড় এতে নড়াচড়া করে। তাতে সাইনাসে জমে থাকা শ্লেষ্মা নীচের দিকে নেমে আসে। এর সঙ্গে রোজকার খাবারের তালিকায় একটু রসুন এবং প্রচুন পানি খান। এতেও বেশ উপকার পাবেন।

আকুপ্রেসারের পরামশ দিয়েছেন আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম, যারা সাইনাসের সমস্যায় র্জজরিত তারা সরাসরি পরামশ নিতে পারেন।

যোগাযোগ
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
83, নয়াপল্টন, গাজীনীড়, ফ্লাট – বি -7, জোনাকী সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি, ঢাকা।

SHARE

LEAVE A REPLY