পায়ে পানি আসার বিভিন্ন কারণ ও প্রতিকার

0
84

দুই পা ফুলে যাওয়া বা পায়ে পানি আসা খুবই মারাত্মক রোগের লক্ষণ। এরকম লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অঙ্গের যেমন হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি, খাদ্যনালির কাজের ব্যাঘাত ঘটলে পায়ে ও শরীরে পানি আসে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি)। গুরুতর এই সমস্যায় পায়ের শিরায় জমাট বাঁধা রক্ত শরীরের অন্য কোনো বড় রক্তনালিতে আটকে গিয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের রোজকার চলাফেরায় পায়ের মাংসপেশির সংকোচনের ফলে পা থেকে শিরার মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে প্রতিনিয়ত বাহিত হয়। দীর্ঘদিন, এমনকি দীর্ঘ সময় (যেমন একটানা দীর্ঘ বিমানযাত্রা) নড়াচড়া না করার ফলে শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে এ বিপত্তি ঘটে। 

শরীরে ও পায়ে পানি আসার কয়েকটি কারণ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

হৃৎপিণ্ডের সমস্যা : হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা কমে গেলে, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত (IHD), হৃদযন্ত্রের ভাল্বের সমস্যা হলে হার্টের মাংসপেশির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে পায়ে, পেটে, বুকে পানি আসে। এসব রোগীর বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

লিভারের সমস্যা : লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে, পরে পায়ে ও বুকে পানি জমে যায়। হেপাটাইটিস ভাইরাস বি ও সি, অতিরিক্ত মদপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভারের সিরোসিস হয়। এসব রোগীর খাবারে অরুচি, হলুদ প্রস্রাব, রক্তবমির লক্ষণ থাকে।

কিডনির সমস্যা : নেফ্রোটিক সিনড্রোম, নেফ্রাইটিস ও কিডনি বিকল হলে প্রথমে মুখে, পরে পায়ে ও বুকে পানি আসে। এসব রোগীর বেশি বেশি প্রস্রাব, বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি, প্রস্রাব ফেনা ফেনা, প্রস্রাবের রং ঘন সরিষার তেলের মতো, কম প্রস্রাব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকে। রক্তে আমিষের মাত্রা কমে গেলে, পরিমিত খাবার না খেলে, হজম না হলে, খাদ্যনালি থেকে আমিষ বের হয়ে গেলে, কিডনি দিয়ে আমিষ বেরিয়ে গেলে, আমিষ শরীরে তৈরি না হলে রক্তে আমিষের মাত্রা কমে যায়। রক্তে আমিষ কমে গেলে পায়ে, পেটে ও বুকে পানি আসে।

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা : থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা শরীরে কমে গেলে পায়ে পানি আসে। এ রোগে রোগীর গলগণ্ড, শীত শীত লাগা, মোটা হয়ে যাওয়া, মাসিকের সময় রক্ত বেশি যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

ওষুধের কারণে পা ফুলে যাওয়া : ব্যথার ওষুধ যেমন-ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপরোঙ্নে, আইবুপ্রোফেন, ইটোরিকক্সি খেলে পায়ে পানি আসে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার যেমন- নিফেডিপিন, অ্যামলোডিপিন খেলে পানি আসতে পারে।


এই পা ফোলো সমস্যার জন্য সহজ সমাধান রয়েছে প্রাকৃতিক চিকিৎসায় যা খুবই সহজ এবং কার্যকর। পা ফোলর জন্য কোন টেস্টের প্রয়োজন হবেনা। উপরে উল্লেখ করা কারণগুলোর সাথে পা ফোলার সমস্যা জড়িত তারপরও আপনি আকুপ্রেসারের মাধ্যেমে এই সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

  পা ফোলার জন্য আকুপ্রেসার হল

foot-massageএকটি টেনিস বল নিন, পায়ের তলা সেই বল দিয়ে চারিদিকে প্রেস করুন। দুপায়ে ৫ মিনিট করে সকালে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানের আগে ১০ মিনিট টেনিস বল পায়ের তলায় যতটুকু চাপ দেয়া সম্ভব সেই ভাবে চাপ দিয়ে আকুপ্রেসার করুন।পায়ের তলার চারপাশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শরীরের ভর দিন, এভাবই প্রতিদিন নিয়মিত আকুপেসার করুন।

আশাকরি ৬ দিনের মধ্যে আপনার পা ফোলা কমে যাবে। আকুপ্রেসার করার সময় চেয়ারে বসে শরীরের ভার টেনিস বলের উপর রাখুন যতটুকু ভার দেয়া সম্ভব।
এমন ছোট চিকিৎসায় অবহেলা না করে নিয়মিত আকুপ্রেসার করুন আশাকরি আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

কয়েকটি বিষয় মনে রাখা অতি জরুরি:

* যাঁরা দীর্ঘদিন শুয়ে আছেন, পক্ষাঘাত বা পা ভাঙা রোগী, তাঁদের প্রতিদিন নিয়ম করে খানিকটা হাঁটাচলা করা উচিত। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিয়ে যথাসম্ভব উঠে বসা, একটু হাঁটা, বিছানা থেকে নেমে অন্য চেয়ারে বসা, বাথরুম বা খাওয়ার ঘরে অন্তত হেঁটে যাওয়া ইত্যাদি অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে।

* প্লাস্টার থাকা বা অন্য কারণে বিছানা থেকে না নামতে পারলে পায়ের মাংসপেশি ও আঙুল নাড়াচাড়ার ব্যায়াম করতে পারেন। পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের রোগীরা নিয়মিত ফিজিওিথেরাপি নেবেন।

* অস্ত্রোপচারের পর এখন দীর্ঘদিন শুয়ে থাকার নিয়ম নেই। চিকিৎসকের পরামর্শে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া উচিত।

* দীর্ঘ যাত্রায়, বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিমানযাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি করুন, পা নাড়ান, পায়ের ব্যায়াম করুন এবং যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন।

শুধু মাত্র আকুপ্রেসার থেরাপী নেয়ার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন :
IMG_5843
আলমগীর আলম
আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ
ন্যাচারোপ্যথী সেন্টার
83 নয়া পল্টন, ফ্লাট বি -7, গাজীনীড়, জোনাকি সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি। মোবাইল – 01611010011

SHARE

LEAVE A REPLY