পান্তাভাত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর পরিপূরক।

0
429

দেহ নামক সুপার মেশিন পরিচালনার জন্য যে কয়টি ভিটামিনের প্রয়োজন হয় তার মধ্যে সাতটি ভিটামিন বি- ভিটামিন, B1, B2, B3, B5, B6, B9, এবং B12 উল্লেখযোগ্য। প্রত্যেকটা বি-ভিটামিনের পৃথক ভূমিকা থাকলেও এরা দলবদ্ধভাবে কাজ করে থাকে। 

B1 -ভিটামিন স্নায়ুর কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করে এবং খাদ্যহজম করতে সহয়তা করে। এর অনুপস্থিতির কারণে স্নায়ুর দূর্বলতা, হজমের গোলযোগ, ওজন কমে যাওয়া, হার্টের দূর্বলতা এবং ডায়েবেটিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। 

B2 – ভিটামিন দেহের বৃদ্ধি, চোখ, নখ এবং চুলের ভাল রাখার জন্য জরুরী, B2 এর অভাবে গা-হাত পা জ্বালা পোড়া অনুভূত হওয়া এবং মুখ ফাটা ও চামড়া কুচকে যেতে পারে।

B3 – শরীরের সর্বস্তরে তরল পদার্থের গতি প্রকৃতি সাবলিল রাখতে সাহায্য করে, যা স্নায়ুর নেটওর্য়াকের কার্যকারিতার জন্য অতীব জরুরী, ই৩ ঘাটতি ডায়রিয়া, রক্তশূণ্যতা এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

B5 – চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখে এবং সব ধরনের চর্মরোগ হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করে থাকে। B5 – রক্তের লাল অংশ এবং শরীরের বিভিন্ন অ্যরগানের প্রয়োজনীয় এ্যনজাইম উৎপাদন করতে সাহায্য করে থাকে। B5 – ভিটামিনের ঘাটতির কারণে রক্তশূণ্যতা অবসন্নতা এবং শারীরিক দূর্বলতা দূর করে। 

B6 – খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে চর্বি এবং প্রোটিন হজম হতে সাহায্য করে। B6 – রক্তশূণ্যতা, চামড়ার রং বদলে যাওয়া, কিডনির পাথর হওয়ার প্রবণতা রুখে দেয়।

B9 – মাংস পেশীর কোষ বৃদ্ধি এবং এর ক্ষয় পূরণ করে থাকে এবং প্রোটিন হজম করতে সাহায্য করে।

B12 – রক্তের লাল অংশ এবং এনজাইম উৎপাদনের জন্যে অতীব জরুরি। একধরনের রক্তশূণ্যতা, আহারে অনীহা, শরীরের তরল পদার্থের চলাচল দুর্বল হওয়া এবং ক্রমাগত ক্লান্তবোধ থেকে রক্ষা করে।

এই সব অতীব জরুরী বি-ভিটামিন খাদ্য-উপাদন থেকে শরীর সংগ্রহ করে থাকে। উল্লেখযোগ্য খাদ্যদ্রব্য যেমন – ভূষিসমেত গমের আটা, ঢেঁকিছাঁটা অথবা লাল চাল, খোঁসাসহ ডাল, মটরশুটি, দুধ, ডিম, কলা, আপেল, পনির, টমেটো, বাদাম, সূর্য্যমূখীর বীজ, কলিজা, সয়াবিন দানা ইত্যাদি। এছাড়া অতি সহজেই এবং কম খরচে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরী করে নিয়মিত গ্রহন করলে বি- ভিটামিনের প্রতিদিনের চাহিদা নিশ্চিত করা যায়।

১. সন্ধ্যায় দেশী লালচালের (ঢেঁকি ছাঁটা হলে উত্তম) মাড় না ফেলা ভাত পরিমাণ মত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সারারাত আস্তে আস্তে মজে যাবে এবং তৈরী হয়ে যাবে বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ জীবন্ত খাবার। গ্রাম বাংলায় এর নাম পান্তাভাত। শহুরে মানুষেরা ঘটা করে পহেলা বৈশাখে এটা শখ করে ইলিশমাছ ভাজা সহকারে খেয়ে থাকেন। সকালের নাস্তায় লবণছাড়া এই পান্তাভাত পানি সমেত কাঁচা পেয়াজ এবং মরিচ সহ খেলেই পান্তাভাতে তৈরী হওয়া ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শরীর সম্পূর্ণ গ্রহন করতে পারে, যা ল্যাবের তৈরী করা সিনথেটিক বি-কমপ্লেক্স পারেনা। অপ্রচলিত হলেও জন্ডিস হলে টোকটা ঔষধ হিসেবে লবণ ছাড়া পান্তা দিনে তিনবার  শুধু কাঁচা পেয়াজ সহ আহার করলে এবং বিশ্রামে থাকলে এক দুই সপ্তাহের মধ্যেই জন্ডিসের প্রকোপ বহুলাংসে কমে যায় এবং তিন সপ্তাহের মধ্যেই নিমূর্ল হয়।

২. লবণ ছাড়া ভূষিসমেত গমের আটা মেখে এক/দু ঘন্টা ঢেকে রেখে রুটি বানালে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স পাওয়া যাবে। 

আমরা জেনেছি বি-ভিটামিন গুলি দলবদ্ধ হয়ে থাকে এবং কাজও করে দলবদ্ধভাবে। 

এই অতীব জরুরী ভিটামিনের অভাব হলে প্রথম উপসর্গ যা দেখা দেয় তাহলো – জিহ্বার উপর ছোট ছোট স্বাদ কুড়ির কার্য্যকারিতা কমে বা নষ্ট হয়ে যাবে ফলে কোন খাবারের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। তখনই বুঝতে হবে বি-ভিটামিনে অভাব হয়েছে। দেহের সিস্টেমের আরক্ষ হবার পূর্বেই পান্তাভাত অথবা পান্তাভাতের পানি এবং পূর্বের রাতের মাখান আঁটার রুটি খাওয়া শুরু করলেই বি-ভিটামিনের অভাব দূর হবে, এবং সম্ভব্য ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে। এছাড়া আহারে প্রচুর পরিমাণে স্যালাড জাতীয় সবজি যেমন গাঁজর, পেয়াজ, মুলা, রসুন, কাঁচা মরিচ, কাঁচা গোল আলু (খোসা সহ) রাখতে হবে।

এই বি-ভিটামিনের আরো একটি বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট হলো এরা দেহে ২৪ঘন্টার বেশী অবস্থান করেনা। কোন সময় এই ভিটামিন বেশী পরিমাণে দেহে প্রবেশ করলেও শরীরে যতটুকু পরিমাণ দরকার ততটুকুই শরীর গ্রহন করবে বাড়তি সবটুকু প্রস্্রাবের মাধ্যমে বেড়িয়ে যাবে। অতএব প্রতিদিনই বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মাত্র বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত পান্তাভাতের পানি এবং খামির করা গমের রুটি খেলেই বেশীরভার রোগের আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে।

SA1

শহীদ আহমেদ
সি ই ও
ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
83. নয়া পল্টন, ফ্লাট বি -7, জোনাকী সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি।

SHARE

LEAVE A REPLY