ঠান্ডা লাগা থেকে সেরে উঠতে যা করতে হবে, আকুপ্রেসার খুব কার্যকর।

0
79

আবহাওয়া বদলানোর সময় এটি। ধীরে ধীরে শীতের পরশ পড়তে শুরু করেছে। সারাদিন না হলেও রাতের দিকে হালকা আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে। দিন যত যাবে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা পরিবর্তন হবে। আর এই সময়টাই হঠাৎ করে ঠান্ডা লাগা, সর্দি, জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়।তাই এই সময়টায় বিশেষভাবে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। যারা বছরের প্রায় সব সময় ঠান্ডা লাগার সমস্যায় ভোগেন, তারা এই সময়ে বিশেষভাবে সাবধান থাকবেন।
একবার ঠান্ডা লাগলে সাধারণত কয়েকদিনের আগে সারতে চায় না। নাক বন্ধ, নাক-চোখ দিয়ে জল পড়া, নাক সুড়সুড় করা, চোখ জ্বালা করা, গা ব্যথা ইত্য়াদি নানা সমস্যা এসে উপস্থিত হয়। তাই সাবধান থাকা ছা়ড়া উপায় নেই। তাই এই সময়ে অনেক বেশি করে পানি খাবেন। বাইরের খাবার নয়, ঘরের খাবারেই বেশি মনোনিবেশ করুন। তবে যদি এরমধ্যেও ঠান্ডা লেগে যায়, তাহলে কি করবেন তা জেনে নিন।

আকুপ্রেসার 

মৌসুমী ঠান্ডায় আকুপ্রেসার খুব কার্যকর, যারা এই ঠান্ডায় ভুগছেন তাদের জন্য আকুপ্রেসার খুব দ্রুতই সমাধান দিতে ম্যাজিক বুলেটের মত কাজ করে।
মৌসুমী  ঠান্ডার জন্য আকুপ্রেসার করার নিয়ম হল, হাতের সব কটি আঙ্গুলের টগায় ৫০ টি করে চাপ দিয়ে ছবিতে দেয়া  পয়েন্টে ২০০ বার করে আকুপ্রেসার করবেন, প্রতিদিন তিন বেলা খাওয়ার আগে চাপ দিন। আশাকরি মৌসুমী ঠান্ডায় মুক্তি পাবেন।
শিশুদের বেলায় আস্তে আস্তে চাপ দিবেন এবং নাকের দুপাশে একটু সরিষা তৈল দিয়ে আলতো মালিশ করে দিলে নাক দিয়ে মিউকাস বেড়িয়ে যাবে, শিশু স্বস্তি পাবে।
গরম পানীয় : ঠান্ডা লাগা কমাতে গরম পানীয় যেমন নানা ধরনের চায়ে চুমুক দিন। এতে যেমন গলার উপকার পাবেন তেমন ঠান্ডা লাগার ফলে হওয়া ক্লান্তি থেকেও রেহাই পাবেন।
গরম পানিতে গোসল: ঠান্ডা লাগলে গরম পানিতে গোসল করুন। এতে আরাম পাবেন। খুব তাড়াতাড়ি ঠান্ডা লাগা কাটিয়ে উঠবেন আপনি।
গার্গল করা: ঠান্ডা লেগে গলা খুসখুস করা, গলা ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি হয়েই থাকে। গার্গল করলে এইসময়ে উপকার হয়। এছাড়া গলা ও নাকের সংযোগস্থলে আটকে থাকা সর্দিকেও টেনে বের করা সম্ভব
আদা: সর্দি-কাশিতে এই ঘরোয়া টোটকা বহুদিন ধরেই প্রচলিত। আদার টুকরো মুখে পুরে রাখলে বা তা দিয়ে চা খেলে সর্দি-কাশি কমানো সম্ভব।
স্যুপ খান: গরম গরম স্যুপ সর্দি লাগা অবস্থায় দারুণ স্বস্তি দেয়।
বাড়তি বালিশ : ঠান্ডা লেগে থাকলে ভালো ঘুম হয় না। নাক বন্ধ থাকায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই সময়ে একটা অতিরিক্ত বালিশ মাথায় নিয়ে খানিকটা উঁচু হয়ে শুয়ে দেখতে পারেন। ঘাড়ে ব্যথার সমস্যা না থাকলে এই টোটকা কাজে দেবে।
সর্দি ভিতরে টানবেন না : অনেকেই নাক টেনে বা কাশতে কাশতে সর্দিকে ভিতরে টেনে নেন। এমন হলে বারবার থুথু ফেলে তা বাইরে বের করে দিন।
মৌসুমি টক ফল খান : এই সময় মৌসুমি টক ফল পাওয়া যায়, তার মধ্যে আমড়া, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, বাতাবী লেবু, আনারস ইত্যাদি ফলগুলো সকালে নাস্তা খাওয়ার 2/3 ঘন্টা পর পেট ভরে এই মৌসুমি ফল খান, তাতে শরীরে ভিটামিন সি এর ভারসাম্য রক্ষা পাবে সেই সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে ঠান্ডার প্রকোপ কমাবে।
সর্তকতা:  ঠান্ডা লাগার জন্য খাবার আধিক্য বেশি দায়ি, সেই সাথে শরীরে তাপ সৃষ্টি করে এমন খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ ।
দুধ এড়িয়ে চলুন : ঠান্ডা লেগে থাকলে দুধ বা ডেয়ারি জাতীয় পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। দুধ শরীরে মিউকাস বাড়িয়ে তোলে। যা ঠান্ডা লাগলে আরও বেশি সমস্য়ার সৃষ্টি করে।
IMG_5843
আলমগীর আলম
ভাইস চেয়ারম্যান
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার

83 নয়াপল্টন, ফ্লাট বি-7, জোনাকি সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি। ঢাকা।

SHARE

LEAVE A REPLY