আকুপ্রেসার কি ?

0
248

 pla2মানুষ প্রকৃতির সন্তান, এই প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির মধ্যে থেকেই প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করে বাচঁর অদম্য আকাঙ্খা মানুষকে বর্তমান অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। মানুষ তার প্রয়োজনে গাছপালা, লতাপাতা, লতা গুল্ম, ফলমুল নিজের করে নিয়েছে, সেই সাথে তার আহারের জন্য ফলমূল আসুখ বিসুখের জন্য নানান লতাপাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছে। প্রকৃতির নানান খোয়ালে নানান আঞ্চলিকতায় স্বাদ ভিন্নতার কারণে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট ভিন্নতায় তার গঠন এবং কাঠামোগত কারণের ও একটি স্বতন্ত্রতা সৃষ্টি করেছে।

ভারতবর্ষে ছয়হাজার বছর আগে আজকের আধুনিক আকুপ্রেসার প্রচলন ছিলো, মণি ঋষিগণ তাদের রোগ নিরাময়ের জন্য এক গোপন বিদ্যা হিসেবে নিজের কাছে রাখতো, মণিঋষির ভক্তকুল অসুস্থ্য হলে আকুপ্রেসারের মাধ্যেমে রোগ নিরাময় করতেন, সেই সাথে খাদ্যের প্রতুলতা এবং পথ্যের প্রাপ্তির জন্য ভক্তের থাকার স্থল বদলের নির্দেশ দিতেন, সেই আলোকে ভক্ত তার জন্য উপযোগী স্থান এবং উপযোগী পথ্য যেখানে আছে সেখানেই থাকতেন। পরবর্তীকালে এই আকুপ্রেসার শ্রীলংকায় যেয়ে আকুপাংচার নামধারণ করে চীনের ব্যপক পরিচিতি পায়। আকুপ্রেসার বিভিন্ন জাতির কাছে বিভিন্ন নামে প্রসার পায়।

2পদ্ধতীগতভাবে আকুপ্রেসার হলো একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসা পদ্ধতি, এই চিকিৎসা পদ্ধতি জানা থাকলে নিজেই নিজের শরীরের অবস্থা জানা এবং অসুস্থ হলে তা থেকে নিরাময়ের জন্য এর চাইতে সহজ এবং পরিপূর্ণ পদ্ধতি পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। যা মানুষের জন্য সৃষ্টার দেয়া এক অন্যান্য স্বাস্থ্য রক্ষা পদ্ধতি। হাতের এবং পায়ের বিশেষ পয়েন্টে চাপ দিয়ে জানা যায় বর্তমান শরীরের কি অবস্থা এবং কোন জটিল বা জন্মগত রোগও আকুপ্রেসার দিয়ে নিরাময় সম্ভব।

3এই চিকিৎসা পদ্ধতি শরীরে অবস্থিত বহুমাইল বিস্তিৃত স্নায়ু দ্বারা যোগাযোগ ব্যবস্থায় জৈব বিদ্যুৎ তৈরী করার মাধ্যমে কাজ করে। মানুষের শরীরে রক্তের ধীর গতি এবং বিদ্যুত সঞ্চলানে বাধাই রোগ। মানবদেহ এ্ক আশ্চর্য সুপার কম্পিউটার এর প্রতিটি অঙ্গ একে অপরের সাথে মিলে মিশে শরীরটাকে ঠিক রাখার জন্য অবিরাম কাজ করে থাকে। এই যন্ত্রগুলো নিরলস ভাবে কাজ করে তা শত বছরেরও বেশী টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এই আশ্চর্য কম্পিউটারটি চালানোর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো সূষম বিদ্যুৎ যা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ ঠিক থাকে। তা না থাকলেই শরীরে নানান জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং রোগের উৎপত্তি শুরু হয় যা জীবনের প্রাণহানীর মূল কারণ।

1এই চিকিৎসার সুবিধার দিকগুলোর অন্যতম হচ্ছে এটা নিজে নিজেই করা যায়, কঠিন থেকে কঠিনতম রোগও নিরাময় করা যায় সেই জন্য প্রথমে জানা প্রয়োজন কিভাবে তা করতে হয় এবং কোথায় চাপ দিতে হয়, আধুনিক বিশ্বের অনেক সুবিধা প্রদানের দিক ‘ইন্টারনেট’ আর এই ইন্টানেটে রয়েছে অনেক অনেক সাইড যা আকুপ্রেসার, রিফ্রেক্সোলজি, সুজোক, জোন থেরাপী ইত্যাদি নামে প্রেসার নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতী। এখানে থেকে শিখে নেয়া যায় সহজেই, তবে শরীর বিদ্যা জানা জরুরী।

4আমরা এখানে আকুপ্রেসারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবো, আমরা যে বিষয়গুলো জানাবো তা আমরা বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যেমে মানুষের কাছে সুফলতা এনেছে এমন বিষয়গুলোই তুলে ধরবো । আকুপ্রেসার কোন তাত্ত্বিক বিষয় না সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ ভিত্তিক এবং অনুশীলন নির্ভর। যেহেতু আকুপ্রেসার আমাদের স্নায়ুর মাঝে জৈববিদুৎ পরিচালনায় কাজ করে সেহেতু বিষয়টি ভালভাবে জেনে এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

আশাকরি আমাদের এই সাইডটি আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার করবে।

IMG20160718130523

আলমগীর আলম
আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ
ভাইস চেয়ারম্যান
ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
83. নয়া পল্টন, ফ্লাট – বি- 7, লিফট -6 (গাজীনীড়) জোনাকি সিনেমা হলের বিপরীতে মসজিদ গলি। মোবাইল : 01611010011

SHARE

LEAVE A REPLY