প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়েবেটিকস চিকিৎসা

2
28347

ডায়বেটিক কি?
শরীরে পুষ্টির ভারসাম্যতা বিঘ্নিত অবস্থা চলতে থাকলে একটা পর্যায় প্যানক্রিয়াস অর্থাৎ অগ্নাশয় থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। ফলশ্রুতিতে শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেড, ফ্যাট এবং প্রোটিনের মেটাবলিজম অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ব্যহৃত হয়। তখন শরীর গ্লুকোজের শক্তিকে রূপান্তরিত করতে পারে না ফলে রক্তে জমা হয়। যখন প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন তা কিডনীর মাধ্যমে প্রসাবে উপচে পড়তে শুরু করে। প্রসাবে গ্লুকোজের মাত্রা প্রকাশ পাওয়া অবস্থাকে ডায়বেটিক বলে। রক্তে গ্লুকোজ আসে চিনি এবং অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাদ্য থেকে সরাসরি আর ভাত, আলু, রুটি অর্থাৎ শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য থেকে আসে বিপাকের মাধ্যমে।

লক্ষণ :
রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে অস্পষ্ট দৃষ্টি, পিপাসা বৃদ্ধি, ক্ষুধা বৃদ্ধি, ঘন ঘন বিবর্ণ প্রসাব, ওজন কমে যাওয়া, হাত ও পায়ের মাংস পেশী ব্যাথা হওয়া, শরীরের যে কোন ক্ষত নিরাময় হতে সময় বেশী লাগা, চামড়ার রং বদলে যাওয়া, চেহারার লাবণ্য কমে যাওয়া এবং খুব ক্লান্ত লাগা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিবে। এছাড়া রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনি, চোখের সুস্থ্যতা এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হওয়ার উপসর্গ দেখা দেবে।

ডায়বেটিক এর ধরণ :
ডায়বেটিক তখন দেখা দেবে যখন শরীর একেবারেই ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারবে না অথবা করলেও তা যত সামান্য। এ অবস্থায় অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে জমা থাকবে এবং প্রচন্ড পিপাসা হবে এবং ঘন ঘন প্রসাবের চাপ অনুভূত হবে।

টাইপ-১
এই ডায়বেটিকে আক্রান্ত হলে হঠাৎ করে শরীরের ওজন কমে যাবে, ক্ষুধা বেড়ে যাবে, দৃষ্টি ঝাপসা হয় যেতে পারে, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হারাতে থাকবে, হাতপায়র পেশী অবশ অথবা ব্যাথা হতে পারে। ঠিক এবং সময়মত এর চিকিৎসা না করালে ভয়ঙ্কর সব রোগ হতে পারে যেমন কিডনী, লিভার, চোখ এর কার্যক্ষমতা হারাতে পারে। নার্ভাস সিষ্টেম স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এটাকে ভয়ঙ্কর ডায়বেটিক হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। এই রোগটা যে কোন বয়সের ছেলে মেয়েদের এমনকি বাচ্চাদেরও হতে পারে। টাইপ-১ ডায়বেটিক হলে অবশ্যই ঔষধ (পিল অথবা ইনজেকশন) গ্রহণ করে এটাকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে এবং এটাও খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্তে প্রয়োজনের তুলনায় গ্লুকোজ কমে না যায়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশী হওয়া যেমন খারাপ আবার মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলেও শরীরে নানারকম প্রতিক্রিড়া দেখা দেবে যেমন মাথা ব্যাথা, ক্ষুধা, হাত পা কাঁপা দুর্বল এবং প্রচুর ঘাম বের হওয়া। এই অবস্থায় ঔষধের বদলে চিনির শরবত অথবা কোন ধরনের মিষ্টি খেয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায় আনলে বিপদ কেটে যাবে।

টাইপ-২
এ ধরনের ডায়বেটিক অনেকটা ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পায়। তাই সাধারণত বয়স্ক লোকদের মধ্যে দেখা দেয়। অবশ্য যুবক এবং মধ্য বয়সীদের দেখা দিতে পারে যদি তারা অলস জীবন যাপনে অভ্যস্থ এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্য দ্রব্য বেশী পরিমাণে গ্রহনে অভ্যস্থ হয়।

টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়বেটিক এর উপর্সগ প্রায় একই রকম টাইপ-২ ডায়াবেটিকে হঠাৎ করে শরীরের ওজন কমে যায় না এবং শরীরের কমনীয়তা নষ্ট হয় না। নিয়মিত ব্যায়াম এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রিত করলে সহজেই টাইপ-২ ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

টাইপ-৩
২০০৫ সালে এটা আবিষ্কৃত হয়ছে। ব্রেন থেকে ইনসুলিন উৎপাদন করার সংকেত দেওয়া বন্ধ হলেই কেবল এই ধরণের ডায়বেটিক হয়ে থাকে। পুঙ্খানুপুরূপে এই ডায়বেটিক হওয়ার কারণ সমুহ উৎঘাটিত হয় নাই। তবে গবেষকগণ সন্দেহ করেছেন এটার সঙ্গে আলঝেইমার রোগের সঙ্গে জেনেটিক সম্পর্ক আছে।

গর্ভ সংক্রান্ত ডায়বেটিক
এই রোগ গর্ভধারিনী মহিলাদের হয়ে থাকে। ঠিকমত নিয়ন্ত্রন না করলে মা এবং বাচ্চার স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটা সাধারণত গর্ভধারনের ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহ পরে দেখা দেয়। বাচ্চা হওয়ার পর এই ডায়বেটিক সেরে যায় এবং জীবনের পরবর্তী সময় এটা আর নাও দেখা দিতে পারে। আবার অন্য কোন কারণে দেখা দিতে পারে।

গর্ভসংক্রান্ত ডায়বেটিক এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ সমুহ:

*       ২৫ বৎসর বয়সের র্উধে
*       পরিবারে যদি ডায়বেটিকস এর ইতিহাস থাকে
*        পূর্বে জন্ম দেওয়া সন্তানের ওজন যদি ৯ পাউন্ডের বেশী হয়
*        শরীরের ওজন অতিরিক্ত হলে
*        জাতিগতভাবে কাল রং এর মেয়েদের মধ্যে এই রোগ বেশী দেখা যায়।

ডায়বেটিক প্রতিরোধের উপায়:

Word cloud concept illustration of diabetes condition

টাইপ-১ ডায়বেটিক পারিবারিকভাবে রক্ত সম্পর্ক নিকট আত্মীয়র মধ্যে থেকে আসে এবং শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে তবে এটাকে প্রতিরোধ করা খুবই দুরহ্য। গবেষণায় দেখা গেছে বাচ্চাদের খাবারে যদি পরিমানে ভিটামিন ডি থাকে তাহলে টাইপ-১ ডায়বেটিকের আক্রমণ অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরামর্শ দেওয়া হয়, বাচ্চারা যেন যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ পান করে, তাহলে যা টাইপ-১ ডায়বেটিক এর প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করবে। প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষায় গবেষকগণ দেখেছেন বাবা মায়ের টাইপ-১ ডায়বেটিক থাকলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
টাইপ-২ ডায়বেটিক প্রতিরোধযোগ্য। জীবন প্রণালীতে খাদ্যের মেনু বদল এবং নিয়মিত ব্যায়াম করে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই রোগে কোন রকম ঔষধ এর প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৪৫ মিনিট জোরে হাটলে এবং খাদ্যে প্রচুর ফল এবং সবজি রাখলে সহজেই ভাল থাকা যায়। এছাড়া দিনে তিন বার খাওয়ার পরিবর্তে ছয়বারে অল্প অল্প করে খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান সহজে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

টাইপ-২ ডায়বেটিক রোগীদের সম্ভাব্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট :

*  বয়স ৪৫ বা তার উপরে
*   উচ্চতার তুলনায় শরীর ওজন অনেক বেশী
*  অলস প্রকৃতির। কায়িক পরিশ্রম বিমুখ থাকার প্রবণতা
*   পিতা মাতার ডায়বেটিক থাকলে
*  মেয়েদের ক্ষেত্রে পূর্বে ৯ পাউন্ডের বেশী ওজনের বাচ্চা জন্ম দিলে
*  গর্ভধারনের ২৪ সপ্তাহ পরে যদি কারও ডায়বেটিক দেখা দেয় তা টাইপ-২ হিসাবে গণ্য হবে
*   উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
* রক্তে যদি লিপিড এর মাত্রা ৩৫ এর নিচে থাকে এবং ট্রাইগ্লিসেরাইড এর মাত্রা ২৫০ এর উপরে থাকে।

ডায়বেটিক এর চিকিৎসা:

সত্যি কথা বলতে ডায়বেটিক সম্পূর্ণভাবে নির্মুল করার কোন ঔষধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই। অর্থাৎ এই রোগ একবার হলে সারা জীবন আপনার সঙ্গী হয় থাকবে। তবে ডায়বেটিকের অজস্র ঔষধ পাওয়া যায়। অ্যালোপ্যাথিক, কবিরাজী, ইউনানী, অ্যাকিউপ্রেসার, হোমিও থেকে শুরু করে নানা রকম গ্রাম্য টোটকা ঔষধ।

এইসব ঔষধ সেবন করলে ডায়বেটিকের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় মাত্র, সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রন রাখতে একটা সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করার জন্যে চাই-

  •  শরীরের সঠিক ওজন

  •  পুষ্টিকর খাদ্য

  •  নিয়মিত ভেষজ ঔষধ

  •  ব্যায়াম

  •  শৃঙ্খলিত জীবন যাপন

  •  আকুপ্রেসার অনুশীলন

  •  ডায়বেটিক সর্ম্পকির্ত জ্ঞান / শিক্ষা

শরীরের সঠিক ওজন

ওভারওয়েট বলে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়। এর মানে প্রয়োজনারিক্ত ওজন। সোজা কথায় খুব বেশী মোটা হলে বলা হয় ওভারওয়েট। ডায়বেটিকের ক্ষেত্রে বেশী ওজন একটা মহা সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারলে ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণসহ অন্য অনেক অসুখের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়, যেমন-

  •  হার্টে অসুখ এবং ষ্ট্রোক হবার সম্ভাবনা কমে যায়

  • ব্লাড প্রেশার কমে যায়

  • রক্তে লিপিড প্রোফাইল এর ভারসাম্যতা বজায় থাকে। অর্থাৎ কোলেষ্টরেল এবং ট্রাইগ্লিসেরাইডের পরিমাণ কমে যায়

  • অনেক সহজে চলাফেরা করা যায়। (কারও শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে ৩ কেজি বেশী হয় তাহলে কার্যত তিনি সর্বক্ষন দুহাতে বাজার ভর্তি থলে বইছেন ধরা যায়) ।

কিভাবে জানা যাবে শরীরের ওজন কতটা থাকা স্বাভাবিক।

একটি পদ্ধতি আছে যা দিয়ে আপনি আপনার সঠিক ওজন স্বাভাবিক আছে কিনা জানা যাবে। এটা খুবই সহজ। শুধু একটা ফিতে দিয় মাজার মাপ বার করে দেখতে হবে। মেয়েদের বেলায় যদি কোমরের মাপ ৩২” কম হয় তবে বুঝবেন শরীরের ওজন সঠিক আছে। পুরুষের ক্ষেত্রে ৩৭” কম হলে সঠিক হিসাবে ধরে নেওয়া যায়।

সঠিক ঔষধ ও পথ্য

যেকোন ডায়বেটিক রোগাক্রান্ত রোগী খাদ্য নিয়ে চিন্তিত নয় এমন লোক পাওয়া যাবে না। কারণ খাদ্যের উপর রক্ত শর্করা মাত্রা নির্ভর করে অনেকখানি। ডায়বেটিকে খাদ্য চিকিৎসার একটা অপরিহার্য অংশ। আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। সাধারণ খাবার কিছুটা অদল বদল করে এবং কিছু বিধি নিষেধ মেনে আর পাঁচজনের মতই স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য খাওযা যেতে পারে। কিন্তু এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা মতে তা নয়। এলোপ্যাথিক ডাক্তারগণ নির্দেশ শ্বেতসার খাদ্য খুব কম করে খেতে হবে এবং প্রোটিন বিশেষ করে প্রাণীজ প্রোটিন খেতে বাধা নেই। মাটির তলায় উৎপাদিত সমস্ত খাদ্যবস্তু বর্জন করতে বলে থাকেন, এমনকি মিষ্টি ফল, মধু খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেন। অপর দিকে প্রাকৃতিক চিকিৎসার বিধান বিপরীত। প্রাকৃতিক চিকিৎসা মতে সাধরণের প্রাণীজ প্রোটিন খাদ্য বাদ দিয়ে স্বাভাবিক অভ্যাসমত ভাত, ডাল, রুাটি সবজিধরণের মিষ্টি ফল (পাঁকা বেল বাদে) এবং মধু খাওয়া যাবে। মাটির নিচে জন্মায় এমন খাদ্যগুলো যেমন আলু, মুলা, বিট, গাজঁর, লাল আলু, শাকালু, পেয়াঁজ, রসুন ইত্যাদি স্যালাদ হিসেবে খেতে হবে। মাটির তলায় উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য ডায়েবেটিক রোগী কখনওই রান্না করে খেতে পারবেনা। ওটা খেলেই রক্তে সুগার মাত্রা বেড়ে যাবে পক্ষান্তরে স্যালাদ হিসেবে খেলে ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

ডায়বেটিক রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ভেষজ লতা-পাতা ছাল বাকল এবং আকুপ্রেসার দ্বারা এই রোগ সম্পূর্ণ রূপে নিয়ন্ত্রণ সহ নিরাময় করা সম্ভব। আমাদের আশেপাশে প্রকৃতিতে অফুরন্ত ভেষজ ঔষুধীগুণ সম্পন্ন খাদ্যদ্রব্য রয়েছে যার দ্বারা অতি সহজেই এই রোগ সর্ম্পূণ রূপে বশে রাখতে পারি।

যেমন :-
১.     দুইমাস ১ কোয়া রসুন গরম ভাতের সাথে খেলে এই রোগের উপশম হয়।
২.     ২০-২৫ টি নিম পাতা ও ৭-৮টি গোল মরিচ সকালে খালি পেঁটে চিবিয়ে খেয়ে পানি পান করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৩.  আতা ফলের গাছের ছালের রস ৪-৫ চা চামচ প্রতিদিন সকালে একটানা ৫ সপ্তাহে পান করে প্রেসার ও রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি সুগার পূর্বের তুলনায় অনেক কম হয় তাহলে রস কমিয়ে ১ চাচামচ করে খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে।
৪.  খুব বেশী সুগার থাকলে আতা গাছের ছালের রস খাওয়ার ৩০মিনিট পর বাঁশপাঁতার রস ৫-৬ চাচামচ খেতে হবে।
৫.  ডায়েবেটিক রোগী সপ্তাহে ২ দিন কাঁচা যজ্ঞডুমুরের রস ৫-৬ চাচামচ খালি পেটে সকালে পান করলে ভাল ফল পাবেন।
৬.  প্রতিদিন সকালে কালজাম পাতার রস ২চাচামচ পান করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৭.  কচি পেয়ারা অথবা কচি পেয়ারা পাতা থেতো করে ১কাপ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে পান করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৮.  সপ্তাহে ২-৩ দিন কচি আমের পাতার রস ১ টেবিল চামচ সকালে খেলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
৯.  দুটা ভেন্ডি মাঝখান থেকে চিরে এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে তা সকালে চিপে তা থেকে রস বের করে ভেন্ডি ফেলে দিয়ে সেই পানি পান করলে ইনসুলিনের কাজ করে, সুগার স্বাভাবিক থাকে।
১০.  কচি করলার রস ১ কাপ সকালে খেলে ডায়েবেটিকের আদর্শ খাবার।
১১.  মেথি পাউডার ১ চাচামচ, জাম বিচি পাউডার আধা চাচামচ সাথে মধু মিশিয়ে পান করলে খুবই ভাল ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও কলা গাছের থোড়ের কাঁচা রস ( একেবারে গোড়ার দিকে) খাওয়া সুগার রোগীর জন্য খুবই উপকারী।
১২.  গম ছোলা, সায়াবিন, যব এক সঙ্গে চাকিতে ভাঙ্গিয়ে ভুষি না চেলে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা রুটি, ঘরে পাতা টক দই ও রান্না সবজি (আলু, মুলা, বিট, গাঁজর) নিয়মিত খেলে ডায়েবেটিক রুগীদের আদর্শ খাবার।
১৩. রান্নার জন্য সবজীর মধ্যে বেগুন, করলা, লাউ, পটল, তেলাকুচা, মেথী শাক, কাচা কলা, থানকুনি, বেথো, সজিনা, কাঁচা পেঁেপ, মোচা, থোড়, চাল কুমঁড়া ডায়েবেটিক রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিধি নিষেধ :

খাওয়ার একটা নিদিষ্ট সময় থাকতে হবে। সব সময় পরিমাণমত সুষম খাদ্য খেতে হবে। কোন সময় বেশী অথবা কম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দিন রাত্রির প্রধান আহার মোটামুটি তিনবারে ভাগ করে একই খাবার না খেয়ে খাদ্যের পরিমান ঠিক রেখে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেতে হবে। প্রধান তিনবার আহারের মাঝে অল্প অল্প পানি পান করে যেতে হবে। সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে বেশী খাবার যেন না হয় যাতে আপনার ইনসুলিন প্রয়োজন হয়,  আবার খাদ্য যাতে কম না হয় যাতে হাইপো হয়।
* ফ্যাটের পরিমান কমাতে হবে। ভাজা খাবার খাওয়া যাবে বা। মাখন তোলা দুধ খাওয়া যাবে।
* আঁশ সমৃদ্ধ খাবার বেশী খাবেন। ভাত, আলু, রুটি ইত্যাদি শ্বেতসার জাতীয় খাবার হিসাব করে খেতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার শরীরে শ্বেতসার শোষনের হার কমিয়ে দেয় ফলে রক্তে শর্করা পরিমাণ তেমন বাড়তে পারে না।
* চিনি এবং চিনি দিয়ে তৈরি যেকোন খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।
* শরীরে ওজন উচ্চতা অনুযায়ী ঠিক রাখতে হবে। ওজন কম বা বেশী হলে ডায়বেটিকের জন্য খারাপ। কম থাকলে বাড়ান এবং বেশী থাকলে কমান। কেননা শরীরের ওজন যদি ঠিক থাকে তবে ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রন করা অনেক সহজ হয়।
*  লবণ ডায়বেটিকের জন্য ভাল নয়। লবণ খাওয়ার মাত্রা কমাতে হবে। চেষ্টা করতে হবে সারাদিন লবণ খাওয়া যেন চার গ্রামের বেশী না হয়।
* মদ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এতে ক্যালরির সংখ্যা বেশী থাকে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে খাদ্যের ক্যালরির সংখ্যা যোগ হয় প্রয়োজনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
* বাজারের স্পেশাল ডায়বেটিক খাবার এড়িয়ে চলুন। বাজারে অনেক ধরণের ডায়বেটিক খাবার পাওয়া যায়ঃ ডায়বেটিক সন্দেশ, জ্যাম, জেলী, বিস্কুট ইত্যাদি। যদিও এইসব খাবারের গায়ে লেখা থাকে ডায়বেটিকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নির্ভয় খেতে পারেন তবুও খাওয়া উচিত নয়। বৃটিশ ডায়বেটিক এসোসিয়শনের বক্তব্য অনুযায়ী  বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বাজারের ডায়বেটিক খাবারে উপকার বলে কিছু নেই। এইসব খাবার বিক্রি বন্ধ হওয়া উচিত।
* সাধারণ পরামর্শ হচ্ছে, ডায়বেটিকে তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী একটা নিদিষ্ট মান বজায় রেখে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। কোন ধরণের অনশন, উপবাস বা রোজা করবার পূর্বে প্রথমেই জানতে হবে আপনি কোন টাইপের ডায়বেটিক রোগী। টাইপ-১ হলে অবশ্যই উপবাস বা রোজা বর্জনীয়। না খেয়ে থাকলে হাইপো হবার সম্ভাবনা থাকে।

হারবাল ঔষধ:
৫০০০ হাজার বছর পূর্ব হতে বিভিন্ন রোগে গ্যানোডার্মা লুসিডিয়াম নামক এক ধরনের ঔষধী মাসরুম ব্যবহার হয় আসলেও আমাদের দেশে এর পরিচিতি একেবারেই নগণ্য। চীন, জাপান, ভারত সহ প্রায় সকল পশ্চিমা দেশে ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্যপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। আনন্দের বিষয় আমাদের দেশে বর্তমানে গ্যানোডার্মা লুসিডিয়াম, চা হিসাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এই চা নিয়মিত সকাল এবং বিকালে এক কাপ করে খেলে ডায়বেটিক ছাড়াও হেপাটাইটিস এ, বি এবং সি, হৃদরোগ, প্যারালাইস, পাইলস সহ অন্যান্য ডি জেনারেটিক রোগ নিরাময় হয়। এই চা সম্পূর্ণ অরগানিক এবং প্রাকৃতিক। এটা পান করলে কোন রকম পার্শপ্রতিক্রিয়া হয় না।  নিয়মিত তিনবার আহারের সময় ২টা করে স্পিরিলুনা টেবলেট খেলে ডায়েবেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ব্যায়াম ও আকুপ্রেসার

ব্যায়াম  ডায়বেটিক এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে। সাধারণত আমরা জানি নিয়মিত ব্যায়াম মাংসপেশীর জড়তা দূর করে। রক্ত চলাচল নির্বিগ্নে হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। ডায়বেটিক থাকলে ব্যায়াম ঔষধের মত কাজ করে। ব্যায়াম অনেক রকম আছে, যেমন- হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাতার কাটা, বল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলা, স্কিপিং করা, সিড়ি ভাঙ্গা থেকে শুরু করে জিমনাসিয়ামে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যায়াম করা। হাটা ছাড়া অন্য যেকোন ব্যায়াম ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়। তবে নিয়মিত সকালে হাঁটা ডায়বেটিকের জন্য উত্তম। সাধারণত ডাক্তাররা সপ্তাহে ২-৩ ঘন্টা ব্যায়াম করার কথা বলে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ব্যায়াম অথবা হাটলে টাইপ-২ ডাডবেটিক নিয়ন্ত্রনে থাকে। যদি অন্য রোগ থেকে থাকে তবে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যায়াম করা উচিৎ।

ডায়েবেটিক নিয়ে যারা দুর্শ্চিন্তায় আছেন তাঁদর জন্য আকুপ্রসোর চিকিৎসা এক ম্যাজিক। ডায়েবেটিক প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি অনিরাময় রোগ হলেও আকুপ্রসোরে এই রোগ নিরাময় যোগ্য।

ডায়েবেটিক রোগ হওয়ার জন্য শরীরের অগ্ন্যাশয় Pancreas দায়ী। এটি একটি পাচক গ্রন্থি। তাছাড়া ইনসুলিন উৎপান্ন করার জন্য একে অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিও বলে। এর নির্গত রস, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত পদার্থের পাচনে সাহায্য করে। এতে উৎপান্ন হওয়া ‘ইনসুলিন’ রক্তের শর্করার সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। Pancreas কার্যকর থাকলে শরীর সচল ও সজীব থাকে।

Pancreas দূর্বল হলে, যখন শরীরের উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়, তখন এই অংশটি ‘ইনসুলিন’ সৃষ্টির গতি কমিয়ে দেয়। যার ফলে শরীরের অগ্ন্যাশয়  গ্রন্থি ক্রমশ ধীরগতি হয়ে পরে, ইনসুলিন উৎপান্ন বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে, শরীরে শর্করার সঠিক মাত্রায় থাকেনা সেই অবস্থাকে ডায়েবেটিক বলা হয়।

এই রোগটি হওযার জন্য অনিয়মিত, অপরিমিত খাওয়া, দূর্শ্চিন্তা, দ্রুত খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস ছাড়াও রক্তচাপ, হজম প্রক্রিয়া অর্কাযকর ডায়েবেটিক হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণসমুহ।

আকুপ্রসোর দ্বারা ডায়েবেটিক চিকিৎসা করা কতগুলো সহজ পদ্ধতি রয়েছে, সেই সব পদ্ধতি নিয়মিত করলে এবং সাথে খাদ্যভাস পরিবর্তন করে ­উল্লখেতি খাদ্য গ্রহন করলে ডায়েবেটিক শুধু নিয়ন্ত্রিতই হবেনা নিমূর্ল করা সম্ভব।

diabetis-acu-pointপ্রথম ধাপে আকুপ্রসোর করার জন্য হাতের নির্দিষ্ট পয়েন্ট গুলো জেনে নিতে হবে। সেই পয়েন্টগুলোতে প্রথম ছয়দিন তিন বেলা আকুপ্রসোর করতে হবে। প্রথম ধাপে হাতে সব আঙ্গুলের উপরি ভাগে দুই মিনিট ম্যাসেজ করতে হবে। তার পর আমাদের পচনতন্ত্রের সমস্ত পয়েন্ট হাততের তালুতে প্রতিটায় ১০০ করে চাপ দিতে হবে। হাতের পয়েন্টগুলোতে প্রচুর ব্যথা পাবেন। ক্রমান্বয়ে সেই ব্যথাগুলো কমে যাবে।

টানা ছদিন আকুপ্রেসার করার পর একদিন বিরতি দেবেন।

দ্বিতীয় ধাপে খেয়াল করতে হবে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের কারণে হজম শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা, যদি প্রতিদিন সকালে পেট পরিস্কার হয় এবং সেই সাথে মলে কোন দূর্গন্ধ না থাকে তাহলে বুঝতে হবে হজম শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, সঠিক পথে এগুচ্ছেন। আপনার হাতের ও পায়ের নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে ব্যথা কমে যাবে।

পূণরায় আরোও ছয়দিনের প্রস্তুতি নিন। এই ছয়দিনে আগের মতই খাদ্য খাবেন সেই সাথে আকুপ্রসোর প্রয়োগ করবেন।  যদি কোন কারণে আপনার হাত পয়েন্টে ব্যাথা না কমে থাকে তাহলে সেই পয়েন্টগুলোতেও নিয়মিত চাপ দিতে হবে।

নিয়মিতভাবে দ্বিতীয় ধাপে ছয়দিন আকুপ্রসোর করে নিজের ফলাফল নিজেই পরীক্ষা করুন Pancreas সক্রিয় হয়ে উঠবে, Pancreas  তার কাজটি করলে শরীরে ইনসুলিন তৈরী হবে, কৃত্রিমভাবে বাহির থেকে ইনসুলিন পূশ করতে হবেনা। এবার ডায়েবেটিক পরিক্ষা করে দেখুন, পরীক্ষায় সূগারের মাত্রা কমবে। এই নিয়মে নিজের চিকিৎসা নিজেই করুন এবং সুস্থ থাকুন। আপনি ধাপে ধাপে ইনসুলিন নেয়া ছাড়তে পারবেন সেই সাথে ঔষধ খাওয়াও ছাড়তে পারবেন।

কেউ যদি ডায়েবেটিক এর সাথে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাঁদের ক্ষেত্রে আকুপ্রসোর করার নিয়মটি একটু ভিন্ন হবে। সেই সাথে খাদ্যে লবণ খাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে এবং হাতের উপরিভাগে প্রতিটি আঙ্গুলের ফাঁকে কব্জি পর্যন্ত ৫ মিনিট আকুপ্রসোর করতে হবে।

যদি আপনার ডায়েবেটিক না কমে তাহলে খুজেঁ দেখুন কোথাও অনিয়ম হয়েছে।

খ্যাদ্যাভাস ও আকুপ্রসোর এর মাধ্যমে ডায়েবেটিক নির্মূল সম্ভব, এখানে কোন ধরণের ঔষধের প্রয়োজন পড়েনা, সেই সাথে নিজের চিকিৎসাটি নিজেই করা সম্ভব।

চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করুন
ন্যাচারোপ্যথি সেন্টার
83 নয়া পল্টন, ফ্লাট বি- 7,  গাজী নীড়, জোনাকি সিনেমা হলের বিপরীতের মসজিদ গলি, ঢাকা

শহীদ অাহমেদ,খাদ্য পথ্য বিশেষজ্ঞ -01715118889
আলমগীর আলম,আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ – 01611010011

 

SHARE

2 COMMENTS

  1. গায়নূরা প্রোকাম্বেন্স গাছের পাতা নিয়মিত খেলে কি ডায়াবেটিক সারে?

    • এটা একটি উপায় মাত্র, ডায়েবেটিসের জন্য খাদ্যভাস এবং জীবনধারা পরিবর্তনই হচ্ছে প্রধান উপায় সুস্থতার জন্য, উপলক্ষ্য না খুঁজে খাদ্যভাস এবং জীবনধারা পরিবর্তন করে ডায়েবেটিস থেকে মুক্ত থাকুন। আমাদের সাইডে এই বিষয়ে বিস্তর আলোচনা আছে তা দেখে নিন এবং সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ

LEAVE A REPLY